📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 জিনের হাদীস বর্ণনার মানদণ্ড

📄 জিনের হাদীস বর্ণনার মানদণ্ড


হযরত উসমান বিন সালিহ (জ্বিন সাহাবী)-র হাদীসের সম্বন্ধে হাফিয 'ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেছেনঃ যে জ্বিন ওই হাদীস বর্ণনা করেছে, সে সত্যই বলেছে।' ইবনে হাজারের এই উক্তি এ কথার প্রমাণ দেয় যে, জ্বিনের হাদীস বর্ণনায় বিলম্ব করতে হবে। কেননা হাদীস বর্ণনাকারীর মধ্যে ন্যায়নীতি ও নিয়ন্ত্রণ দু'টোই শর্ত। তাই যে ব্যক্তি সাহাবী হবার দাবী করবে তার পক্ষেও ন্যায়পরায়ণ হওয়া শর্ত। আর জ্বিনদের ন্যায়-ইনসাফের কথা জানা যায় না। তাছাড়া শয়তানদের সম্পর্কে (বিভিন্ন হাদীসে) সতর্ক করা হয়েছে যে, ওরা (কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে) জনসমাজে এসে (নিজেদের তরফ থেকে মনগড়া) হাদীস বয়ান করবে। (৪৩)

টিকাঃ
(৪৩) আনবাউল গমার।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ইবলীস মিথ্যা হাদীস শোনাবে হাটে-বাজারে

📄 ইবলীস মিথ্যা হাদীস শোনাবে হাটে-বাজারে


হযরত ওয়াসিলাহ্ বিন আসক্বঅ, (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَطُوفَ إِبْلِيسُ فِي الْأَسْوَاقِ وَيَقُولُ حَدَّثَنِي فُلَانُ ابْنُ فُلَانٍ بِكَذَا وَكَذَا
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত ঘটবে না যতক্ষণ না ইবলীস হাটে-বাজারে ঘুরে ঘুরে বলবে 'অমুকের পুত্র অমুক আমাকে বর্ণনা করেছেন এই এই হাদীস। (৪৪)

টিকাঃ
(৪৪) ইবনে আদী, কামিল, ১ঃ৫৯,৯৭। বাইহাকী দালায়িলুন নুবুঅত ৬:১৫৫।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 শয়তান মানুষের রূপ ধরে দ্বীন ইসলামে অশান্তি ছড়াবে

📄 শয়তান মানুষের রূপ ধরে দ্বীন ইসলামে অশান্তি ছড়াবে


হযরত আবদুল্লাহ্ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
يُوشِكُ أَنْ تَظهَرَ فِيكُمْ شَيَاطِينُ كَانَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ أَوْ ثَقَهَا فِي الْبَحْرِ يُصَلُّونَ مَعَكُمْ فِي مَسَاجِدِكُمْ وَيَقْرَءُ وَنَ مَعَكُمُ الْقُرْآنَ وَيُجَادِلُونَكُمْ فِي الدِّينِ وَإِنَّهُمْ لَشَيَاطِينُ فِي صُورَةِ الْإِنْسَانِ - -
হযরত দাউদের পুত্র সুলাইমান (আঃ) শয়তানদেরকে সমুদ্রে নিযুক্ত করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই জামানা নিকটবর্তী, যাতে শয়তানরা তোমাদের মধ্যে প্রকাশ পাবে। তোমাদের সাথে তোমাদের মসজিদে নামায পড়বে। তোমাদের সাথে কোরআন পাঠ করবে এবং তোমাদের সাথে দ্বীনে ইসলামের বিষয়ে ঝগড়া-দ্বন্দ্ব করবে। সাবধান! ওরা হবে মানুষরূপী শয়তান। (৪৫)

টিকাঃ
(৪৫) তবারানী। জামিই কাবীর, সুয়ূতী ১৪ ১০১৯। কানযুল উম্মাল, ১০: ২৯১২৬। দালায়িলুন্ নুবুঅত, বাইহাকী, ৬:৫৫০।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 উপরোক্ত বর্ণনার অতিরিক্ত বিবরণ

📄 উপরোক্ত বর্ণনার অতিরিক্ত বিবরণ


হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ أَوْثَقَ شَيَا طِيْنَ فِي الْبَحْرِ فَإِذَا كَانَتْ سَنَةٌ
خَمْسُ وَثَلَاثِينَ وَمِائَةٍ خَرَجُو فِي صُورِ النَّاسِ وَأَبْشَارِهِمْ فِي الْمَجَالِسِ وَالْمَسَاجِدِ وَنَازَعُوهُمُ الْقُرْآنَ وَالْحَدِيثَ
হযরত সুলাইমান বিন দাউদ (আঃ) শয়তানদেরকে সমুদ্রে অন্তরীন করে দিয়েছিলেন। ১৩৫ সাল হলে ওই শয়তানরা মানুষের আকার আকৃতিতে মসজিদে ও মজলিসে প্রকাশ পাবে এবং মসজিদ-মাদ্রাসার লোকদের সাথে কোরআন-হাদীস নিয়ে দ্বন্দ্ব বিবাদ করবে। (৪৬)

হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
যে শয়তানগুলোকে হযরত দাউদের পুত্র হযরত সুলাইমান (আঃ) সমুদ্রের দ্বীপপুঞ্জে বন্দী করে রেখেছিলেন, তারা বের হবে। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ ইরাকের দিকে মুখ করবে ও ইরাকবাসীদের সাথে কোরআন নিয়ে অশান্তি ছড়াবে এবং ১০ শতাংশ শয়তান যাবে সিরিয়ার দিকে। (৪৭)

টিকাঃ
(৪৬) সিরাযী, ফিল্-আলকাব। জামিই কাবীর, সূয়ূতী, ۱۴ ۱۰۱۹। কানযুল উম্মাল, ১০ঃ ২৯১২৭।
(৪৭) কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ২৯১২৮, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২১৩ (সূত্রঃ আকীলী, ইবনে আদী, আল ইবানাহ্, আবু নাসর, সানজারী, ইবনে আসাকির, ইবনে জাওযী ফীল মাউযুআত)। আকীলী ফীয় যুআফা, ২: ২১৩। ইবনে আদী, ৪: ১৪০৩। তানিয়াতুশ্ শারইয়াহ, ১৪ ৩১৩। ফাওয়াইদে মাজমুআহ্, ৫০৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00