📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 সূরা হজ্জে নবীজীর সাথে দুই সাজদা করেছে জিন

📄 সূরা হজ্জে নবীজীর সাথে দুই সাজদা করেছে জিন


বর্ণনায় হযরত উসমান বিন সালিহঃ উমর বিন তুলাকু নামের জ্বিন সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি- আপনি কি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দর্শনলাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন? তিনি বলেন-হ্যাঁ, আমি তাঁর থেকে বাইয়াতও পেয়েছি। ইসলামও কবুল করেছি। এবং তাঁর পিছনে ফজরের নামাযও পড়েছি। তিনি (এই নামাযে) সূরা হাজ্জ তিলাওয়াত করেছেন এবং তাতে দু'টি (তেলাওয়াছের) সাজদা দিয়েছেন। (৩৬)

টিকাঃ
(৩৬) কামিল, ইবনে আদী।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 এক জিন সাহাবীর মৃত্যু হয়েছে ২১৯ হিজরীতে

📄 এক জিন সাহাবীর মৃত্যু হয়েছে ২১৯ হিজরীতে


হাফিয ইবনে হাজার আস্কালানী (রহঃ) বলেছেন: হযরত উসমান বিন সালিহ, (জ্বিন সাহাবী) ২১৯ হিজরীতে ইন্তিকাল করেছেন। কোনও জ্বিন যদি তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করে, তবে তার সত্যায়ন করা হবে। সুতরাং যে সহীহ্ হাদীসে বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ইন্তিকালের একশ' বছর পর পৃথিবীর বুকে কোনও ব্যক্তি (সাহাবী) জীবিত থাকবে না- একথা কেবল মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, জ্বিনদের সম্পর্কে নয়। (৩৭)

টিকাঃ
(৩৭) আল্ আসাবাহ্, ইবনে হাজার আস্কালানী (রহঃ)।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 সাপরূপী জিন নিহত হলে ‘কিসাস’ নেই

📄 সাপরূপী জিন নিহত হলে ‘কিসাস’ নেই


প্রথম ঘটনাঃ নূরুদ্দীন আলী বিন মুহাম্মদ (মৃত ৮১ হিজরী) এর সম্পর্কে কথিত আছে যে, একবার তাঁর সামনে এক বিশালকায় অজগর বের হয়েছিল। তা দেখে তিনি ভয় পান এবং সেটাকে মেরে ফেলেন। অমনই তাঁকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং তিনি পরিবার-পরিজনদের থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁকে রাখা হয় জ্বিনদের সাথে। অবশেষে তাঁকে পেশ করা হয় জ্বিনদের কাযীর কাছে। এবং নিহতের ওয়ারিস তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করতে তিনি তা অস্বীকার করেন। (অর্থাৎ, তিনি কোনও জ্বিনকে হত্যা করেননি)। তখন কাযী সেই ওয়ারিস জ্বিনকে জিজ্ঞাসা করেন, নিহত কোন্ আকৃতিতে ছিল? বলা হয়, সে ছিল অজগরের আকারে। কাযী তাঁর পাশে বসে থাকা ব্যক্তির দিকে মনোযোগী হলেন। তিনি বললেন-আমি জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি-
مَنْ تَزَيَّالَكُمْ فَاقْتُلُوهُ
তোমাদের সামনে যে তার আকৃতি পাল্টে আসবে, তাকে তোমরা হত্যা করবে। (৩৮)
সুতরাং জ্বিন কাযী তাঁকে ছেড়ে দেবার হুকুম দিলেন। এবং তিনি বাড়ি ফিরে এলেন। (৩৯)
প্রসঙ্গত, অন্য এক বর্ণনায় হাদীসের ভাষা আছে এইঃ
مَنْ تَزَيَّا بِغَيْرِ زِيِّهِ فَقُتِلَ فَدَمُهُ هَدْرٌ
যে তার আকৃতি পাল্টে অন্য কোনও আকৃতি ধারণ করে, তাকে কতল করা হলে, তার খুন মাফ। (৪০)

দ্বিতীয় ঘটনাঃ একবার এক ব্যক্তি ভ্রমণ করতে বেরিয়েছিল তার এক সাথীকে নিয়ে। রাস্তায় লোকটি তার সাথীকে কোনও এক কাজে পাঠায়। সে ফিরতে দেরি করে। সারা রাত কেটে যায়। অবশেষে যখন সে আসে, তখন তার পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য ছিল না। লোকটি তার সেই সাথীর সাথে কথা বলল। কিন্তু সে উত্তর দিল যথেষ্ট দেরি করার পর। লোকটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার এমন অবস্থা কেমন করে হল? সে বলল, আমি এক পোড়ো বাড়িতে পেশাব করতে ঢুকেছিলাম। ওখানে একটা সাপ দেখতে পেয়ে সেটাকে আমি মেরে ফেলি। সাপটাকে মেরে ফেলার পর আমাকে কেউ ধরে যমীনে নামিয়ে নিয়ে গেল। তারপর একটি দল আমাকে ঘিরে ধরল। তারা বলতে লাগল, 'এই ব্যক্তি অমুককে হত্যা করেছে। আমরাও একে খুন করব।' কোনও একজন বলল, 'একে শাইখের কাছে নিয়ে চলো।' সুতরাং ওরা আমাকে শাইখের কাছে নিয়ে গেল। শাইখের ছিল খুব সুন্দর আকার-আকৃতি। সাদা, লম্বা দাড়ি। তারা আমাকে দাঁড় করিয়ে দেবার পর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'ব্যাপার কী?' তারা তখন মামলা পেশ করল। শাইখ জিজ্ঞাসা করলেন, 'সে কোন্ আকৃতিকে বের হয়েছিল?' ওরা বলল, 'সাপের আকৃতিতে।' তখন শাইখ বললেন, 'আমি জনাব রসূলুল্লাহ, (সাঃ)-এর থেকে শুনেছি, তিনি লাইলাতুল জ্বিনে (বা জ্বিন-রজনীতে) আমাদের বলেছিলেনঃ
مَنْ تَصَوَّرَ مِنْكُمْ فِي صُورَةٍ غَيْرِ صُورَتِهِ فَقُتِلَ فَلَا شَيْ عَلَى قَاتِلِهِ
তোমাদের মধ্যে যে আপন আকৃতি বদলে অন্য কোনও আকৃতি অবলম্বন করে, তারপর' নিহত হয়, তাহলে তার হত্যাকারীর ক্ষেত্রে (মৃত্যুদণ্ড বা প্রতিশোধ গ্রহণের আইন প্রভৃতি) কিছুই প্রযোজ্য হবে না। (৪১)
অতএব, একে ছেড়ে দাও।' তাই ওরা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। (৪২)

টিকাঃ
(৩৮) আবাউল গমার, ইবনে হাজার। ফাতহুল বারী, ২১!
(৩৯) আনবাউল গমার, ইবনে হাজার।
(৪০) আস্ত্রারুল মারফুআহ্, ৩৩৮। তাযকিরাতুল মাউযূআত-১৫৮।
(৪১) তাল্লীকুত তাঅলীক, ইবনে হাজার আস্কালানী। ফাহুল বারী। তাহযীবে তারীখে দামিল্ক, ইবনে আসাকির, ৪: ১৫৫।
(৪২) তারীখে ইবনে আসাকির।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 জিনের হাদীস বর্ণনার মানদণ্ড

📄 জিনের হাদীস বর্ণনার মানদণ্ড


হযরত উসমান বিন সালিহ (জ্বিন সাহাবী)-র হাদীসের সম্বন্ধে হাফিয 'ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেছেনঃ যে জ্বিন ওই হাদীস বর্ণনা করেছে, সে সত্যই বলেছে।' ইবনে হাজারের এই উক্তি এ কথার প্রমাণ দেয় যে, জ্বিনের হাদীস বর্ণনায় বিলম্ব করতে হবে। কেননা হাদীস বর্ণনাকারীর মধ্যে ন্যায়নীতি ও নিয়ন্ত্রণ দু'টোই শর্ত। তাই যে ব্যক্তি সাহাবী হবার দাবী করবে তার পক্ষেও ন্যায়পরায়ণ হওয়া শর্ত। আর জ্বিনদের ন্যায়-ইনসাফের কথা জানা যায় না। তাছাড়া শয়তানদের সম্পর্কে (বিভিন্ন হাদীসে) সতর্ক করা হয়েছে যে, ওরা (কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে) জনসমাজে এসে (নিজেদের তরফ থেকে মনগড়া) হাদীস বয়ান করবে। (৪৩)

টিকাঃ
(৪৩) আনবাউল গমার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00