📄 নবীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী শয়তান নিহত হয়
হযরত আব্বাস বিন আমির বিন রবীআহ্ (রাঃ) বলেছেন: আমরা (মহানবীর মাধ্যমে প্রচারিত) ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে মক্কায় ছিলাম। সেই সময় মক্কার এক পাহাড়ে এক অদৃশ্য ঘোষক মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে এবং (কাফির সম্প্রদায়কে) ক্ষেপিয়ে তোলে। নবীজী বলেন-'ও হচ্ছে শয়তান। এবং যে শয়তানই কোনও নবীর বিরুদ্ধে জনগণকে বিদ্রোহে প্ররোচিত করেছে, তাকেই আল্লাহ কতল করে দিয়েছেন। ফের কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন-আল্লাহ তা'আলা ওকে এক শক্তিশালী জ্বিনের হাতে কতল করিয়েছেন। যার নাম সাজ্জাহ্। আমি ওর নাম রেখেছি আব্দুল্লাহ। সন্ধ্যা হতে আমরা সেই আগের জায়গায় এক অদৃশ্য কণ্ঠ থেকে শুনতে পেলাম এই কবিতাঃ
نَحْنُ قَتَلْنَا مُشعرًا لما طَغَى وَاسْتَكْبَرًا - وَصَفَرَ الْحَقِّ وَسَن الْمُنْكَرَا بِشَتْمَةِ نَبِيِّنَا الْمُظَفَرًا
'মুহর'কে আমরা খুন করেছি চরম সীমা পেরিয়ে যেতে চেয়েছে সে পাপের প্রসার এবং সত্য মিটিয়ে দিতে মোদের সফল নবীর নামে. যা তা কথা রটিয়ে দিয়ে। (৩২)
সূরা ইয়াসীনের ফায়দা
আবদুল্লাহ (পূর্বনাম সাজ্জাহ্, এক জ্বিন সাহাবী) বলেছেন-আমি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ
مَا مِنْ مَرِيضٍ يُقرأُ عِنْدَهُ سُورَةُ يس إِلَّا مَاتَ رَيَّانًا وَأُدْخِلَ قَبْرَهُ رَيَّانًا وَحُشِرَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَيَّانًا
যে রুগির কাছে সূরা ইয়াসীন পড়া হয়, মৃত্যুকালে সে পিপাসামুক্ত থাকবে, আপন কবরেও পিপাসামুক্ত থাকবে এবং কিয়ামতের দিনেও সে পিপাসামুক্ত থাকবে। (৩৩)
টিকাঃ
(৩২) কিতাবু মাক্কাহ্ ফাকিহী।
(৩৩) রুবাইয়্যাত, আবূ বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আশ্ শাফিঈ।
📄 চাশ্ত্ নামাযের দরখাস্ত
আবদুল্লাহ সাজ্জাহ (জ্বিন সাহাবী) বলেছেনঃ আমি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ
مَا مِنْ رَجُلٍ كَانَ يُصَلِّى صَلوةَ الضُّحى ثُمَّ تَرَكَهَا إِلَّا عَرَجَتْ إِلَى اللهِ تَعَالَى عَزَّ وَجَلَّ فَقَالَتْ يَارَبِّ إِنَّ فُلَانَا حَفِظَنِي فَاحْفَظْهُ وَإِنَّ فُلَانَا ضَيْعَنِي فَضَيِّعَهُ
যে ব্যক্তি চাশতের নামায পড়তে থাকে তারপর ছেড়ে দেয়, তো সেই নামায আল্লাহর কাছে গিয়ে বলে- হে প্রভু! অমুক ব্যক্তি আমাকে হিফাযত করেছে, আপনিও ওকে হিফাযত করুন এবং (পরে) ওই ব্যক্তি আমার ক্ষতি করেছে, আপনিও ওর ক্ষতি করুন। (৩৪)
টিকাঃ
(৩৪) আবূ বকর আশ্ শাফিঈ, ফী রুবাইয়াহ্। কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ২১৫২৬। মুসনাদ আল-ফিরদাউস, দাইলামী, ৪: ২১, হাদীস নং ৬০৬০। যারুল ফিরদাউস, ৪: ১১। তাবাতুস্ সাহাবা, ১: ২৩৮, হাদীস ২৪৯৯।
📄 সূরা আন্ নজমে নবীজী ﷺ সাথে সাজদা করেছে জিন
বর্ণনা করেছেন হযরত উসমান বিন সালিহঃ আমাকে উমার নামে এক জ্বিন সাহাবী বলেছেন- আমি নবীজীর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি সূরা আন্-নাজম তিলাওয়াত করেন এবং (ওই সূরার শেষে সাজদা থাকায়) তিনি সাজদা করেন। আমিও তাঁর সাথে সাজদা করি। (৩৫)
টিকাঃ
(৩৫) তবারানী কাবীর।
📄 সূরা হজ্জে নবীজীর সাথে দুই সাজদা করেছে জিন
বর্ণনায় হযরত উসমান বিন সালিহঃ উমর বিন তুলাকু নামের জ্বিন সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি- আপনি কি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দর্শনলাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন? তিনি বলেন-হ্যাঁ, আমি তাঁর থেকে বাইয়াতও পেয়েছি। ইসলামও কবুল করেছি। এবং তাঁর পিছনে ফজরের নামাযও পড়েছি। তিনি (এই নামাযে) সূরা হাজ্জ তিলাওয়াত করেছেন এবং তাতে দু'টি (তেলাওয়াছের) সাজদা দিয়েছেন। (৩৬)
টিকাঃ
(৩৬) কামিল, ইবনে আদী।