📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 নামাযীর সামনে দিয়ে জিন গেলে কি হবে

📄 নামাযীর সামনে দিয়ে জিন গেলে কি হবে


নামাযীর সামনে দিয়ে কোনও জ্বিন গেলে নামায ভাঙবে কি না, এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ)-এর কয়েকটি বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) কর্তৃক উল্লেখিত এক বর্ণনায় বলা হয়েছে : এক্ষেত্রে নামায ভেঙে যাবে। কেননা জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বিধান দিয়েছেন যে, নামাযীর সামনে থেকে কালো কুকুর গেলে নামায ভেঙে যাবে এবং এর কারণস্বরূপ বলা হয়েছে, কালো কুকুর হল শয়তান।

ইমাম আহমাদের সূত্রে উল্লেখিত অন্য এক বর্ণনায় একথাও বলা হয়েছে যে, এক্ষেত্রে নামায ভাঙবে না। আর নবীজীর এই যে উক্তি- গত রাতে এক শক্তিমান জ্বিন (ইফ্রীত্ব) আমার নামায ভাঙার চেষ্টা করেছে। (২৫)-এতে এই সম্ভাবনা আছে যে, ওই জ্বিন সামনে দিয়ে গেলে নামায ভেঙে যেত এবং তা এভাবে হত যে, তাকে আটকানোর জন্য নবীজীকে এমন কাজ করতে হত যার দরুন নামায ভাঙত।
* প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হানাফী ফিকাহ্ অনুসারে, নামাযীর সামনে থেকে জ্বিন বা শয়তান গেলে মানুষের নামায ভাঙে না এবং জ্বিন নামাযীর সামনে থেকে জ্বিন গেলেও তার নামায নষ্ট হয় না। এই নামায নষ্ট হওয়া বা না-হওয়ার প্রশ্ন তখনই বিবেচ্য হবে, যখন নামাযী জানতে পারবে যে তার সামনে দিয়ে জ্বিন গিয়েছে। আর নামাযী যদি তার সামনে দিয়ে জ্বিন যাবার কথা বুঝতে না পারে, তবে ধরতে হবে যে কোনও জ্বিন যায়নি। তবে নামাযীর সামনে দিয়ে কোনও জ্বিন কিংবা মানুষ গেলে নামাযের কোনও ক্ষতি হয় না, যে যায় তার অবশ্যই গুনাহ্ হয়।

টিকাঃ
(২৫) সহীহ বুখারী, কিতাবুস সলাহ্, বাব ৭৫; আল্ আমবিয়া, বাব ৪০; তাফসীরে সূরা ৩৮। মুসলিম, মাসজিদ, হাদীস ৩৯। মুস্লাদে আহমাদ, ২ঃ২৯৮।

নামাযীর সামনে দিয়ে কোনও জ্বিন গেলে নামায ভাঙবে কি না, এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ)-এর কয়েকটি বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) কর্তৃক উল্লেখিত এক বর্ণনায় বলা হয়েছে : এক্ষেত্রে নামায ভেঙে যাবে। কেননা জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বিধান দিয়েছেন যে, নামাযীর সামনে থেকে কালো কুকুর গেলে নামায ভেঙে যাবে এবং এর কারণস্বরূপ বলা হয়েছে, কালো কুকুর হল শয়তান।

ইমাম আহমাদের সূত্রে উল্লেখিত অন্য এক বর্ণনায় একথাও বলা হয়েছে যে, এক্ষেত্রে নামায ভাঙবে না। আর নবীজীর এই যে উক্তি- গত রাতে এক শক্তিমান জ্বিন (ইফ্রীত্ব) আমার নামায ভাঙার চেষ্টা করেছে। (২৫)-এতে এই সম্ভাবনা আছে যে, ওই জ্বিন সামনে দিয়ে গেলে নামায ভেঙে যেত এবং তা এভাবে হত যে, তাকে আটকানোর জন্য নবীজীকে এমন কাজ করতে হত যার দরুন নামায ভাঙত।
* প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হানাফী ফিকাহ্ অনুসারে, নামাযীর সামনে থেকে জ্বিন বা শয়তান গেলে মানুষের নামায ভাঙে না এবং জ্বিন নামাযীর সামনে থেকে জ্বিন গেলেও তার নামায নষ্ট হয় না। এই নামায নষ্ট হওয়া বা না-হওয়ার প্রশ্ন তখনই বিবেচ্য হবে, যখন নামাযী জানতে পারবে যে তার সামনে দিয়ে জ্বিন গিয়েছে। আর নামাযী যদি তার সামনে দিয়ে জ্বিন যাবার কথা বুঝতে না পারে, তবে ধরতে হবে যে কোনও জ্বিন যায়নি। তবে নামাযীর সামনে দিয়ে কোনও জ্বিন কিংবা মানুষ গেলে নামাযের কোনও ক্ষতি হয় না, যে যায় তার অবশ্যই গুনাহ্ হয়।

টিকাঃ
(২৫) সহীহ বুখারী, কিতাবুস সলাহ্, বাব ৭৫; আল্ আমবিয়া, বাব ৪০; তাফসীরে সূরা ৩৮। মুসলিম, মাসজিদ, হাদীস ৩৯। মুস্লাদে আহমাদ, ২ঃ২৯৮।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হাদীস বর্ণনাকারী জিন

📄 হাদীস বর্ণনাকারী জিন


বর্ণনায় হযরত উবাই বিন কা'ব (রাঃ) মক্কার উদ্দেশে সফর করছিল একদল যাত্রী। একসময় তারা রাস্তা ভুলে গেল। (এবং খাদ্যপানীয় ফুরিয়ে যাবার কারণে) তাদের দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে গেল যে, তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে গেছে অথবা তারা মৃত্যুর কাছাকাছি এসে গেছে। তাই তারা কাফন পরে মৃত্যুর প্রতীক্ষায় শুয়ে পড়ল। এমন সময় এক জ্বিন গাছের ভেতর থেকে তাদের সামনে বেরিয়ে এল এবং বলল- আমি এই সম্মানিত জ্বিনদের মধ্যে অবশিষ্ট থেকে যাওয়া ব্যক্তি, যাঁরা জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর থেকে কোরআন পাঠ শুনেছিলেন। আমি নবীজীকে বলতে শুনেছি।ঃ
الْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ وَعَيْنَهُ) وَدَلِيلُهُ لَا يَخْذُلُهُ
(এক) মু'মিন (অপর) মু'মিনের ভাই ও তার দেখভালকারী, একে অপরকে অসহায় অবস্থায় না ছাড়া হল ওই সম্পর্কের দাবী।
এরপর সেই জ্বিন মরণাপন্ন যাত্রীদলকে পানি দিল এবং পথের সন্ধান জানিয়ে দিল। (২৬)

টিকাঃ
(২৬) দালায়িলুন নুবুউঅত, আবূ নুআইম, ১২৮।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 আরও এক জিনের ঘটনা

📄 আরও এক জিনের ঘটনা


মাওলানা আব্দুর রহমান বিন বিশরের বর্ণনাঃ তখন হযরত উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকাল। একদল যাত্রী হজ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল। রাস্তায় তাদের পিপাসা লাগল। তারা একটু পানির জায়গায় গিয়ে পৌঁছল। তাঁদের মধ্যে থেকে একজন বলল, তোমরা যদি এ জায়গাটি ছেড়ে এগিয়ে যাও, তো ভাল হয়। আমার ভয় হচ্ছে যে এই পানি খেলে আমাদের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া সামনেও পানি রয়েছে। সুতরাং তারা ফের চলতে শুরু করল। অবশেষে সন্ধ্যা হয়ে গেল। কিন্তু পানির কাছ পর্যন্ত পৌছতে পারল না। তখন তারা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, হায় যদি সেই কটু পানির দিকেই ফিরে যাওয়া যেত, এরপর তারা রাতভর সফর চালু রাখল। অবশেষে তারা এক বাবলা গাছের কাছে গিয়ে থামল। তখন তাদের কাছে এক কালো মোটাতাজা জওয়ান দেখা দিল। সে বলল, হে যাত্রীদল, আমি শুনেছি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُحِبَّ لِلْمُسْلِمِينَ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ وَيَكْرَهُ لِلْمُسْلِمِينَ مَا يَكْرَهُ لِنَفْسِهِ
যে ব্যক্তি আল্লাহতে ও কিয়ামত দিবসে বিশ্বাস রাখে তার উচিত মুসলমানদের জন্য তাই পছন্দ করা যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে এবং মুসলমানদের জন্য তাই অপছন্দ করা যা সে নিজের জন্য অপছন্দ করে।

অতএব, তোমরা এখান থেকে রয়াওনা হয়ে যাও। যেতে যেতে তোমরা এক টিলার কাছে পৌঁছবে, তোমরা তার ডানদিকে বাঁক নেবে। ওখানে তোমরা পানি পেয়ে যাবে।
অন্য একজন বলল, শয়তান এ ধরনের কথা বলে না, যে ধরনের কথা ও বলেছে। নিশ্চয়ই ও কোনও মু'মিন জ্বিন। সুতরাং সেই আগন্তুকের কথা মতো ওরা এগিয়ে গেল। এবং সেখানে পানিও পেল। (২৭)

টিকাঃ
(২৭) ইবনে আবিদ দুনয়া, আল্ হাওয়াতিফ (১০৪), পৃষ্ঠা ৯০।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 আরও এক হাদীস বর্ণনাকারী জিন

📄 আরও এক হাদীস বর্ণনাকারী জিন


আপন পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বানঃ কোনও এক এলাকায় সফর করছিল, তাইম গোত্রের একদল যাত্রী। পথে তাদের প্রচণ্ড পিপাসা লাগে। তখন তারা (অदृश्य থেকে) শুনতে পায় এক ঘোষকের কণ্ঠ- আমি শুনেছি, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ الْمُسْلِمَ أَخُوا الْمُسْلِمِ وَعَيْنُ الْمُسْلِمِ
মুসলমান মুসলমানের ভাই.ও তার তত্ত্বাবধায়ক। অতএব, অমুক স্থানে একটি কুয়ো আছে। তোমরা সেখানে চলে যাও এবং সেখান থেকে পানি পান করো। (২৮)

টিকাঃ
(২৮) মাকারিমুল আল্লাকু খরায়িতী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00