📄 জিনদের সাথে মানুষের নামায
বর্ণনায় হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) আমরা রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে (একবার) মক্কা শরীফে বসেছিলাম। তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীদের একটি দলও মওজুদ ছিল। হঠাৎ তিনি বললেন- তোমাদের মধ্য থেকে কোনও একজন আমার সাথে উঠে দাঁড়াও কিন্তু এমন কেউ উঠবে না, যার মনে সামান্য পরিমাণ দ্বিধা রয়েছে। সুতরাং আমি তাঁর সাথে উঠে দাঁড়ালাম এবং পানির একটি পাত্র নিলাম। আমার ধারণা, তাতে পানিও ছিল। অতএব আমি তাঁর সাথে রওয়ানা হয়ে গেলাম। যখন আমরা মক্কার উপকণ্ঠে পৌঁছলাম, দেখলাম, বহু সংখ্যক সাপ জড় হয়ে আছে। নবীজী আমার জন্য একটি রেখা টেনে দিলেন। এবং বললেন-আমার ফিরে আসা পর্যন্ত এখানে থাকবে। সুতরাং আমি সেখানে বসে গেলাম এবং নবীজী ওদের দিকে অগ্রসর হলেন। আমি দেখলাম, সেই সাপ (জ্বিন) গুলো নবীজীর কাছাকাছি সরে আসছিল। নবীজী ওদের সাথে রাত ভ'র কথাবার্তা বলতে থাকলেন। অবশেষে ফজরের ওয়াক্তে উযূ করলেন। যখন নামাযের জন্য দাঁড়ালেন, সেই জ্বিনদের মধ্য হতে দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে এল। এবং নিবেদন করল ইয়া রসূলাল্লাহ (সাঃ), আমরা চাই, আপনি আপনার নামাযে আমাদের ইমামত করুন। সুতরাং আমরা তাঁর পিছনে কাতার দিলাম। তিনি নামায পড়ালেন। তারপর নামায শেষ করতে আমি জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রসূল (সাঃ)! ওরা কারা? তিনি বলেন ওরা ছিল নাসীবাইনের জ্বিন। ওদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। তা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। এবং আমার কাছে সফরের পাথেয় চেয়েছিল। তো আমি ওদের সফরের পাথেয়ও দিয়েছি। আমি (ইবনে মাসউদ (রাঃ)) আরয করলাম-আপনি ওদের কী পাথেয় দিয়েছেন? তিনি বললেন-গোবর ও নাদি। ওরা যেখানেই গোবর পাবে, তাতে খেজুরের স্বাদ পাবে এবং যেখানেই কোন ও হাড় পাবে, তাতে ওরা খাবার পাবে। সেই সময় থেকে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) গোবরও হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন। (২৩)
টিকাঃ
(২৩) নাওয়াদির, ইবনে সীরনী, সূত্র তবারানী ও আবূ নুআইম। তবারানী ও আবূ নুআইম। ত্ববারানী, ১০: ৭৯। মাজমাউয যাওয়াঈদ, ৮: ৩১৩। মুস্স্নাদে আহমাদ, ১:৪৫৮। বাইহাকী, ১ঃ ৯।
বর্ণনায় হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) আমরা রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে (একবার) মক্কা শরীফে বসেছিলাম। তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীদের একটি দলও মওজুদ ছিল। হঠাৎ তিনি বললেন- তোমাদের মধ্য থেকে কোনও একজন আমার সাথে উঠে দাঁড়াও কিন্তু এমন কেউ উঠবে না, যার মনে সামান্য পরিমাণ দ্বিধা রয়েছে। সুতরাং আমি তাঁর সাথে উঠে দাঁড়ালাম এবং পানির একটি পাত্র নিলাম। আমার ধারণা, তাতে পানিও ছিল। অতএব আমি তাঁর সাথে রওয়ানা হয়ে গেলাম। যখন আমরা মক্কার উপকণ্ঠে পৌঁছলাম, দেখলাম, বহু সংখ্যক সাপ জড় হয়ে আছে। নবীজী আমার জন্য একটি রেখা টেনে দিলেন। এবং বললেন-আমার ফিরে আসা পর্যন্ত এখানে থাকবে। সুতরাং আমি সেখানে বসে গেলাম এবং নবীজী ওদের দিকে অগ্রসর হলেন। আমি দেখলাম, সেই সাপ (জ্বিন) গুলো নবীজীর কাছাকাছি সরে আসছিল। নবীজী ওদের সাথে রাত ভ'র কথাবার্তা বলতে থাকলেন। অবশেষে ফজরের ওয়াক্তে উযূ করলেন। যখন নামাযের জন্য দাঁড়ালেন, সেই জ্বিনদের মধ্য হতে দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে এল। এবং নিবেদন করল ইয়া রসূলাল্লাহ (সাঃ), আমরা চাই, আপনি আপনার নামাযে আমাদের ইমামত করুন। সুতরাং আমরা তাঁর পিছনে কাতার দিলাম। তিনি নামায পড়ালেন। তারপর নামায শেষ করতে আমি জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রসূল (সাঃ)! ওরা কারা? তিনি বলেন ওরা ছিল নাসীবাইনের জ্বিন। ওদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। তা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। এবং আমার কাছে সফরের পাথেয় চেয়েছিল। তো আমি ওদের সফরের পাথেয়ও দিয়েছি। আমি (ইবনে মাসউদ (রাঃ)) আরয করলাম-আপনি ওদের কী পাথেয় দিয়েছেন? তিনি বললেন-গোবর ও নাদি। ওরা যেখানেই গোবর পাবে, তাতে খেজুরের স্বাদ পাবে এবং যেখানেই কোন ও হাড় পাবে, তাতে ওরা খাবার পাবে। সেই সময় থেকে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) গোবরও হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন। (২৩)
টিকাঃ
(২৩) নাওয়াদির, ইবনে সীরনী, সূত্র তবারানী ও আবূ নুআইম। তবারানী ও আবূ নুআইম। ত্ববারানী, ১০: ৭৯। মাজমাউয যাওয়াঈদ, ৮: ৩১৩। মুস্স্নাদে আহমাদ, ১:৪৫৮। বাইহাকী, ১ঃ ৯।
📄 মুআয্যিনের স্বপক্ষে জিন সাক্ষ্য দেবে কিয়ামতে
হযরত ইবনে আবী স্বস্বআহ্ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাঁকে বলেছেন, আমি তোমাকে দেখেছি যে তুমি ছাগপাল চরাতে ও জনহীন প্রান্তরে থাকতে পছন্দ কর। তুমি যখন নিজের ছাগপালের মধ্যে থাকবে বিংবা কোনও জনশূন্য প্রান্তরে থাকবে, তখন যদি নামাযের আযান দাও, তবে উঁচুগলায় আযান দেবে। কেননা যতদূর পর্যন্ত জ্বিন, ইনসান ও অন্যান্য বস্তু আযানের আওয়াজ শুনবে, কিয়ামতের দিন সকলে তার সাক্ষ্য দেবে। আমি (হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)) একথা জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মুখে শুনেছি। (২৪)
টিকাঃ
(২৪) বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব ৫; বাদউল খলব্ধ, বাব ১২; আত্ তাওহীদ, বাব ৫২। নাসায়ী, আযান, বাব ১৪। ইবনে মাজা, বাব ৫। মুআত্তা মালিক, আন-নিদা লিস্সলাত, হাদীস ৫। মুস্লাদে আহমাদ, ৩:৬, ৩৫, ৪৩। মিশকাত, ৬৫৬। তাল্ল্বীসুল জ্বিয়ার, ১ : ১০৮। আযকারে নাওবী, হাদীস ৩৫। আতহাফুস সাদাহ্ ৩ঃ ৫।
হযরত ইবনে আবী স্বস্বআহ্ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাঁকে বলেছেন, আমি তোমাকে দেখেছি যে তুমি ছাগপাল চরাতে ও জনহীন প্রান্তরে থাকতে পছন্দ কর। তুমি যখন নিজের ছাগপালের মধ্যে থাকবে বিংবা কোনও জনশূন্য প্রান্তরে থাকবে, তখন যদি নামাযের আযান দাও, তবে উঁচুগলায় আযান দেবে। কেননা যতদূর পর্যন্ত জ্বিন, ইনসান ও অন্যান্য বস্তু আযানের আওয়াজ শুনবে, কিয়ামতের দিন সকলে তার সাক্ষ্য দেবে। আমি (হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)) একথা জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মুখে শুনেছি। (২৪)
টিকাঃ
(২৪) বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব ৫; বাদউল খলব্ধ, বাব ১২; আত্ তাওহীদ, বাব ৫২। নাসায়ী, আযান, বাব ১৪। ইবনে মাজা, বাব ৫। মুআত্তা মালিক, আন-নিদা লিস্সলাত, হাদীস ৫। মুস্লাদে আহমাদ, ৩:৬, ৩৫, ৪৩। মিশকাত, ৬৫৬। তাল্ল্বীসুল জ্বিয়ার, ১ : ১০৮। আযকারে নাওবী, হাদীস ৩৫। আতহাফুস সাদাহ্ ৩ঃ ৫।
📄 নামাযীর সামনে দিয়ে জিন গেলে কি হবে
নামাযীর সামনে দিয়ে কোনও জ্বিন গেলে নামায ভাঙবে কি না, এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ)-এর কয়েকটি বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) কর্তৃক উল্লেখিত এক বর্ণনায় বলা হয়েছে : এক্ষেত্রে নামায ভেঙে যাবে। কেননা জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বিধান দিয়েছেন যে, নামাযীর সামনে থেকে কালো কুকুর গেলে নামায ভেঙে যাবে এবং এর কারণস্বরূপ বলা হয়েছে, কালো কুকুর হল শয়তান।
ইমাম আহমাদের সূত্রে উল্লেখিত অন্য এক বর্ণনায় একথাও বলা হয়েছে যে, এক্ষেত্রে নামায ভাঙবে না। আর নবীজীর এই যে উক্তি- গত রাতে এক শক্তিমান জ্বিন (ইফ্রীত্ব) আমার নামায ভাঙার চেষ্টা করেছে। (২৫)-এতে এই সম্ভাবনা আছে যে, ওই জ্বিন সামনে দিয়ে গেলে নামায ভেঙে যেত এবং তা এভাবে হত যে, তাকে আটকানোর জন্য নবীজীকে এমন কাজ করতে হত যার দরুন নামায ভাঙত।
* প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হানাফী ফিকাহ্ অনুসারে, নামাযীর সামনে থেকে জ্বিন বা শয়তান গেলে মানুষের নামায ভাঙে না এবং জ্বিন নামাযীর সামনে থেকে জ্বিন গেলেও তার নামায নষ্ট হয় না। এই নামায নষ্ট হওয়া বা না-হওয়ার প্রশ্ন তখনই বিবেচ্য হবে, যখন নামাযী জানতে পারবে যে তার সামনে দিয়ে জ্বিন গিয়েছে। আর নামাযী যদি তার সামনে দিয়ে জ্বিন যাবার কথা বুঝতে না পারে, তবে ধরতে হবে যে কোনও জ্বিন যায়নি। তবে নামাযীর সামনে দিয়ে কোনও জ্বিন কিংবা মানুষ গেলে নামাযের কোনও ক্ষতি হয় না, যে যায় তার অবশ্যই গুনাহ্ হয়।
টিকাঃ
(২৫) সহীহ বুখারী, কিতাবুস সলাহ্, বাব ৭৫; আল্ আমবিয়া, বাব ৪০; তাফসীরে সূরা ৩৮। মুসলিম, মাসজিদ, হাদীস ৩৯। মুস্লাদে আহমাদ, ২ঃ২৯৮।
নামাযীর সামনে দিয়ে কোনও জ্বিন গেলে নামায ভাঙবে কি না, এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ)-এর কয়েকটি বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) কর্তৃক উল্লেখিত এক বর্ণনায় বলা হয়েছে : এক্ষেত্রে নামায ভেঙে যাবে। কেননা জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বিধান দিয়েছেন যে, নামাযীর সামনে থেকে কালো কুকুর গেলে নামায ভেঙে যাবে এবং এর কারণস্বরূপ বলা হয়েছে, কালো কুকুর হল শয়তান।
ইমাম আহমাদের সূত্রে উল্লেখিত অন্য এক বর্ণনায় একথাও বলা হয়েছে যে, এক্ষেত্রে নামায ভাঙবে না। আর নবীজীর এই যে উক্তি- গত রাতে এক শক্তিমান জ্বিন (ইফ্রীত্ব) আমার নামায ভাঙার চেষ্টা করেছে। (২৫)-এতে এই সম্ভাবনা আছে যে, ওই জ্বিন সামনে দিয়ে গেলে নামায ভেঙে যেত এবং তা এভাবে হত যে, তাকে আটকানোর জন্য নবীজীকে এমন কাজ করতে হত যার দরুন নামায ভাঙত।
* প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হানাফী ফিকাহ্ অনুসারে, নামাযীর সামনে থেকে জ্বিন বা শয়তান গেলে মানুষের নামায ভাঙে না এবং জ্বিন নামাযীর সামনে থেকে জ্বিন গেলেও তার নামায নষ্ট হয় না। এই নামায নষ্ট হওয়া বা না-হওয়ার প্রশ্ন তখনই বিবেচ্য হবে, যখন নামাযী জানতে পারবে যে তার সামনে দিয়ে জ্বিন গিয়েছে। আর নামাযী যদি তার সামনে দিয়ে জ্বিন যাবার কথা বুঝতে না পারে, তবে ধরতে হবে যে কোনও জ্বিন যায়নি। তবে নামাযীর সামনে দিয়ে কোনও জ্বিন কিংবা মানুষ গেলে নামাযের কোনও ক্ষতি হয় না, যে যায় তার অবশ্যই গুনাহ্ হয়।
টিকাঃ
(২৫) সহীহ বুখারী, কিতাবুস সলাহ্, বাব ৭৫; আল্ আমবিয়া, বাব ৪০; তাফসীরে সূরা ৩৮। মুসলিম, মাসজিদ, হাদীস ৩৯। মুস্লাদে আহমাদ, ২ঃ২৯৮।
📄 হাদীস বর্ণনাকারী জিন
বর্ণনায় হযরত উবাই বিন কা'ব (রাঃ) মক্কার উদ্দেশে সফর করছিল একদল যাত্রী। একসময় তারা রাস্তা ভুলে গেল। (এবং খাদ্যপানীয় ফুরিয়ে যাবার কারণে) তাদের দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে গেল যে, তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে গেছে অথবা তারা মৃত্যুর কাছাকাছি এসে গেছে। তাই তারা কাফন পরে মৃত্যুর প্রতীক্ষায় শুয়ে পড়ল। এমন সময় এক জ্বিন গাছের ভেতর থেকে তাদের সামনে বেরিয়ে এল এবং বলল- আমি এই সম্মানিত জ্বিনদের মধ্যে অবশিষ্ট থেকে যাওয়া ব্যক্তি, যাঁরা জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর থেকে কোরআন পাঠ শুনেছিলেন। আমি নবীজীকে বলতে শুনেছি।ঃ
الْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ وَعَيْنَهُ) وَدَلِيلُهُ لَا يَخْذُلُهُ
(এক) মু'মিন (অপর) মু'মিনের ভাই ও তার দেখভালকারী, একে অপরকে অসহায় অবস্থায় না ছাড়া হল ওই সম্পর্কের দাবী।
এরপর সেই জ্বিন মরণাপন্ন যাত্রীদলকে পানি দিল এবং পথের সন্ধান জানিয়ে দিল। (২৬)
টিকাঃ
(২৬) দালায়িলুন নুবুউঅত, আবূ নুআইম, ১২৮।