📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 মুহাদ্দিসের সাথে এক জিনের সাক্ষাতের বিস্ময়কর ঘটনা

📄 মুহাদ্দিসের সাথে এক জিনের সাক্ষাতের বিস্ময়কর ঘটনা


বর্ণনায় হযরত আবূ ইদ্রীসের পিতাঃ হযরত অহাব ও হাসান বস্ত্রী (রহঃ) হজ্জের মওসূমে মসজিদে খইফ-এ মিলিত হতেন। একবার কিছু লোক আচমকা পড়ে যায় এবং তাদের চোখে ঘুম জড়িয়ে যায়। ওই দুই হযরাত (অহাব ও হাসান বস্ত্রী)-এর কাছে দু'জন লোক এমনি বসেছিল, যারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল। এমন সময় এক ছোট্ট মতো পাখি সামনে এসে হযরত অহাবের এক পাশে মজলিসে বসে গেল এবং সালাম জানাল। হযরত অহাব তার সালামের জবাব দিলেন এবং বুঝতে পারলেন যে ও এক জ্বিন। তারপর সে তাঁর দিকে ফিরে হাদীস বয়ান করতে লাগল। হযরত অহাব জানতে চাইলেন, ওহে যুবক তুমি কে? সে বলল, আমি একজন মুসলমান জ্বিন। প্রশ্ন করা হল, এখানে তোমার কী দরকার? সে বলল, আপনারা কি এটা ভালো মনে করেন না যে, আমরা আপনাদের মজলিসে বসি এবং আপনাদের থেকে ইল্ম হাসিল করি। আমাদের মধ্যে তো আপনাদের সূত্রে পাওয়া ইল্ল্ম বর্ণনাকারী অনেক রয়েছে। আমরা আপনাদের সাথে নামায, জেহাদ, রুগির দেখভাল, জানাযা, হজ্জ, উমরাহ্ প্রভৃতি বহু কাজে অংশ নিয়ে থাকি। আমরা আপনাদের থেকে ইল্ম অর্জন করি এবং আপনাদের কোরআন পাঠও শুনি। হযরত অহাব প্রশ্ন করেন, আচ্ছা, তোমাদের জ্বিনদের মধ্যে কোন রাবী (হাদীস বর্ণনাকারী) সবার সেরা? সে হযরত হাসান বসরী (রহঃ)-এর দিকে ইশara করে বলল, এই শাইখের রাবী। ইতোমধ্যে হযরত অহাবকে 'একটু অন্য দিকে মনোযোগী হতে দেখে হযরত হাসন বাসরী (রহঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন হে আবূ আবদুল্লাহ্! আপনি কার সাথে কথা বলছেন? তিনি বলেন, এই মজলিসের হাজির থাকা কোনও এক ব্যক্তির সাথে। সেই জ্বিনটি চলে যাবার পর হযরত অহাব (রহঃ) জ্বিনের ঘটনাটি বললেন এবং তিনি আরও বললেন, আমি এক জ্বিনের সাথে প্রতি বছর হজ্জের সময় সাক্ষাৎ করি। ও আমাকে প্রশ্ন করে। আমি উত্তর দিই। এক বছরে তাওয়াফরত অবস্থায় ওর সাথে আমার (প্রথম) দেখা হয়। 'তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর মাসজিদুল হারামের এক কোণে আমরা উভয়ে বসে যাই। আমি ওকে বলি, আমাকে তোমার হাত দেখাও। তো সে তার হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়। তা ছিল বিড়ালের থাবার মতো। তাতে লোমও ছিল। তারপর আমি নিজের হাত তার কাঁধ পর্যন্ত নিয়ে যেতে ডানার স্থানটি অনুভব করি। ফলে আমি ঝট করে নিজের হাত সরিয়ে নিই। তারপর দু'জনে কিছুক্ষণ কথাবার্তায় মশগুল থাকি। পরে ও আমাকে বলল, হে আবু আবদুল্লাহ! আপনিও আপনার হাত আমাকে দেখান। যেমন আমি আপনাকে আমার হাত দেখিয়েছি। আমি ওকে নিজের হাত দেখাতে ও এত জোরে মর্দন করল যে, আমার চেঁচিয়ে ওঠার উপক্রম হল। তারপর সে হাসতে লাগল। (এই ঘটনার পর থেকে) প্রতি বছর হজ্জের মওসূমে আমি ওর সাথে সাক্ষাৎ করতাম। এবারের হজ্জে ওর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। আমার ধারণা, সে মারা গেছে। হযরত অহাব (রহঃ) সেই জ্বিনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমাদের জন্য কোন্ জিহাদ উত্তম? সে বলেছিল, আমাদের নিজেদের মধ্যে একে অপরের সাথে জিহাদ সর্বোত্তম। (১৮)

টিকাঃ
(১৮) ইবনে আবিদ দুনয়া।

বর্ণনায় হযরত আবূ ইদ্রীসের পিতাঃ হযরত অহাব ও হাসান বস্ত্রী (রহঃ) হজ্জের মওসূমে মসজিদে খইফ-এ মিলিত হতেন। একবার কিছু লোক আচমকা পড়ে যায় এবং তাদের চোখে ঘুম জড়িয়ে যায়। ওই দুই হযরাত (অহাব ও হাসান বস্ত্রী)-এর কাছে দু'জন লোক এমনি বসেছিল, যারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল। এমন সময় এক ছোট্ট মতো পাখি সামনে এসে হযরত অহাবের এক পাশে মজলিসে বসে গেল এবং সালাম জানাল। হযরত অহাব তার সালামের জবাব দিলেন এবং বুঝতে পারলেন যে ও এক জ্বিন। তারপর সে তাঁর দিকে ফিরে হাদীস বয়ান করতে লাগল। হযরত অহাব জানতে চাইলেন, ওহে যুবক তুমি কে? সে বলল, আমি একজন মুসলমান জ্বিন। প্রশ্ন করা হল, এখানে তোমার কী দরকার? সে বলল, আপনারা কি এটা ভালো মনে করেন না যে, আমরা আপনাদের মজলিসে বসি এবং আপনাদের থেকে ইল্ম হাসিল করি। আমাদের মধ্যে তো আপনাদের সূত্রে পাওয়া ইল্ল্ম বর্ণনাকারী অনেক রয়েছে। আমরা আপনাদের সাথে নামায, জেহাদ, রুগির দেখভাল, জানাযা, হজ্জ, উমরাহ্ প্রভৃতি বহু কাজে অংশ নিয়ে থাকি। আমরা আপনাদের থেকে ইল্ম অর্জন করি এবং আপনাদের কোরআন পাঠও শুনি। হযরত অহাব প্রশ্ন করেন, আচ্ছা, তোমাদের জ্বিনদের মধ্যে কোন রাবী (হাদীস বর্ণনাকারী) সবার সেরা? সে হযরত হাসান বসরী (রহঃ)-এর দিকে ইশara করে বলল, এই শাইখের রাবী। ইতোমধ্যে হযরত অহাবকে 'একটু অন্য দিকে মনোযোগী হতে দেখে হযরত হাসন বাসরী (রহঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন হে আবূ আবদুল্লাহ্! আপনি কার সাথে কথা বলছেন? তিনি বলেন, এই মজলিসের হাজির থাকা কোনও এক ব্যক্তির সাথে। সেই জ্বিনটি চলে যাবার পর হযরত অহাব (রহঃ) জ্বিনের ঘটনাটি বললেন এবং তিনি আরও বললেন, আমি এক জ্বিনের সাথে প্রতি বছর হজ্জের সময় সাক্ষাৎ করি। ও আমাকে প্রশ্ন করে। আমি উত্তর দিই। এক বছরে তাওয়াফরত অবস্থায় ওর সাথে আমার (প্রথম) দেখা হয়। 'তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর মাসজিদুল হারামের এক কোণে আমরা উভয়ে বসে যাই। আমি ওকে বলি, আমাকে তোমার হাত দেখাও। তো সে তার হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়। তা ছিল বিড়ালের থাবার মতো। তাতে লোমও ছিল। তারপর আমি নিজের হাত তার কাঁধ পর্যন্ত নিয়ে যেতে ডানার স্থানটি অনুভব করি। ফলে আমি ঝট করে নিজের হাত সরিয়ে নিই। তারপর দু'জনে কিছুক্ষণ কথাবার্তায় মশগুল থাকি। পরে ও আমাকে বলল, হে আবু আবদুল্লাহ! আপনিও আপনার হাত আমাকে দেখান। যেমন আমি আপনাকে আমার হাত দেখিয়েছি। আমি ওকে নিজের হাত দেখাতে ও এত জোরে মর্দন করল যে, আমার চেঁচিয়ে ওঠার উপক্রম হল। তারপর সে হাসতে লাগল। (এই ঘটনার পর থেকে) প্রতি বছর হজ্জের মওসূমে আমি ওর সাথে সাক্ষাৎ করতাম। এবারের হজ্জে ওর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। আমার ধারণা, সে মারা গেছে। হযরত অহাব (রহঃ) সেই জ্বিনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমাদের জন্য কোন্ জিহাদ উত্তম? সে বলেছিল, আমাদের নিজেদের মধ্যে একে অপরের সাথে জিহাদ সর্বোত্তম। (১৮)

টিকাঃ
(১৮) ইবনে আবিদ দুনয়া।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 দুই জিনের সুসংবাদ

📄 দুই জিনের সুসংবাদ


এক যুবক সাহাবীর বর্ণনাঃ (একবার) আমি অন্ধকার রাতে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে যাচ্ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে কুল্ ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন পড়তে শুনে বললেন, এই ব্যক্তি শিরক থেকে বেঁচে গেল। তারপর আমরা চলতে লাগলাম। ফের এক ব্যক্তিকে কুল্ হুওয়াল্লা-হু আহাদ পড়তে শুনে নবীজী বললেন, এই ব্যক্তিকে মাগফিরাত করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সওয়ারী পশুকে রুখে দিলাম যে, একটু দেখে নিই ওই ব্যক্তিটি কে। কিন্তু ডাইনে-বামে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলাম না। (১৯)

টিকাঃ
(১৯) বাইহাকী, দালায়িলুন্ নুবুউঅত, ৭:৮৬। মুসনাদে আহমাদ, ৪: ৬৪, ৬৫; ৫: ৩৭৬, ৩৭৮। দূররে মান্‌নুর, ৬:৪০৫।

এক যুবক সাহাবীর বর্ণনাঃ (একবার) আমি অন্ধকার রাতে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে যাচ্ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে কুল্ ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন পড়তে শুনে বললেন, এই ব্যক্তি শিরক থেকে বেঁচে গেল। তারপর আমরা চলতে লাগলাম। ফের এক ব্যক্তিকে কুল্ হুওয়াল্লা-হু আহাদ পড়তে শুনে নবীজী বললেন, এই ব্যক্তিকে মাগফিরাত করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সওয়ারী পশুকে রুখে দিলাম যে, একটু দেখে নিই ওই ব্যক্তিটি কে। কিন্তু ডাইনে-বামে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলাম না। (১৯)

টিকাঃ
(১৯) বাইহাকী, দালায়িলুন্ নুবুউঅত, ৭:৮৬। মুসনাদে আহমাদ, ৪: ৬৪, ৬৫; ৫: ৩৭৬, ৩৭৮। দূররে মান্‌নুর, ৬:৪০৫।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 জিনদের প্রতি হজ্জ ইবরাহিমী আহ্বান

📄 জিনদের প্রতি হজ্জ ইবরাহিমী আহ্বান


বর্ণনায় হযরত সাঈদ বিন জুবাইর (রহঃ) হযরত ইব্রাহীম (আঃ) বাইতুল্লাহ্ শরীফের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে অহীর মাধ্যমে জানালেন যে, জনসমাজে হজ্জের ঘোষণা করে দাও। সুতরাং হযরত ইব্রাহীম (আঃ) জনসমাজে এ মর্মে ঘোষণা করলেন- হে জনমন্ডলী, তোমাদের পালনকর্তা এক গৃহ নির্মাণ করছেন, তোমরা তার হজ্জ করো। তাঁর এই আওয়াজ শুনে মু'মিন মানুষ ও মু'মিন জ্বিনরা বলেছিল-লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক- আমরা হাজির আছি, হে আল্লাহ আমরা হাজির। (২০)

টিকাঃ
(২০) ইবনে জারীর।

বর্ণনায় হযরত সাঈদ বিন জুবাইর (রহঃ) হযরত ইব্রাহীম (আঃ) বাইতুল্লাহ্ শরীফের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে অহীর মাধ্যমে জানালেন যে, জনসমাজে হজ্জের ঘোষণা করে দাও। সুতরাং হযরত ইব্রাহীম (আঃ) জনসমাজে এ মর্মে ঘোষণা করলেন- হে জনমন্ডলী, তোমাদের পালনকর্তা এক গৃহ নির্মাণ করছেন, তোমরা তার হজ্জ করো। তাঁর এই আওয়াজ শুনে মু'মিন মানুষ ও মু'মিন জ্বিনরা বলেছিল-লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক- আমরা হাজির আছি, হে আল্লাহ আমরা হাজির। (২০)

টিকাঃ
(২০) ইবনে জারীর।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 এক ভয়ঙ্কর ঘটনা

📄 এক ভয়ঙ্কর ঘটনা


বর্ণনায় হযরত ইবনে আক্বীল (রহঃ) আমাদের একটি বাড়ি ছিল। তাতে যখনই কোনও লোক থাকত, সকালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যেত। একবার মরক্কোর এক লোক এল। 'ঘরটি সে পছন্দ করে ভাড়ায় নিল। তারপর রাত কাটাল। সকালে দেখা গেল, সে পুরোপুরি বহাল তবিয়তেই রয়েছে। তার কিছুই হয়নি। তা দেখে প্রতিবেশীরা অবাক হল। লোকটি বেশ কিছুকাল ওই ঘরে থাকল। তারপর অন্য কোথাও চলে গেল। ওকে ওই ঘরে নিরাপদে থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করলে ও বলেছিল-আমি যখন ওই ঘরে (প্রথম দিন) রাতে থাকি, তখন ইশার নামায পড়েছি, কোরআন পাক থেকে কিছু পড়েছি। এমন সময় হঠাৎ দেখি, এক যুবক কুঁয়ো থেকে উপরে উঠছে। সে আমাকে সালাম দিল। আমি তাকে দেখে ভয় পেলাম। সে বলল, ভয় পেও না। আমাকেও কিছু কোরআন পাক শেখাও। অতএব আমি তাকে কোরআন শেখাতে শুরু করে দিই। পরে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, এই ঘরের রহস্যটা কী? সে বলে, আমরা মুসলমান জ্বিন। আমরা কোরআন পাঠও করি, নামাযও পড়ি। কিন্তু এই ঘরে বেশিরভাগ সময়ে বদমাশ লোকেরা থাকে, যারা মদপানের মজলিস বসায়। তাই আমরা ওদের গলা টিপে দিই। আমি তাকে বললাম, রাতের বেলা আমি তোমাকে ভয় পাই। তুমি দিনের বেলায় আসবে। সে বলল, খুব ভাল। তারপর থেকে সে দিনের বেলা কুঁয়ো থেকে বের হত। একবার সে কোরআন পাক পড়ছিল। এমন সময় বাইরে এক ওঝা এল এবং আওয়াজ দিয়ে বলল, আমি সাপে কাটা, বদনজর লাগা ও জ্বিনে ধরার ফুঁক দিই গো! ওকথা শুনে জ্বিনটি বলল ও আবার কে? আমি বললাম, ও হল ঝাড়ফুঁককারী, ওঝা। সে বলল, ওকে ডাকো। আমি উঠে গিয়ে তাকে ডেকে আনলাম। এসে দেখলাম, সেই জ্বিনটি বিরাট বড় সাপ হয়ে ঘরের (ভিতরের) ছাদে উঠে রয়েছে। ওঝা এসে ঝাড়ফুঁক করতে সাপটি ঝটপট করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত ঘরের মেঝেয় পড়ে গেল। তখন তাকে ধরে ঝাঁপিতে ভরে নেবার জন্য ওঝা উঠল। কিন্তু আমি তাকে মানা করলাম। সে বলল, 'তুমি আমাকে আমার শিকার ধরতে মানা করেছ।' আমি তাকে একটি স্বর্ণমুদ্রা (আশ্রাফী) দিতে সে চলে গেল। তখন সেই অজগর নড়াচড়া করল এবং জ্বিনের রূপে প্রকাশ পেল। কিন্তু সে তখন দুর্বলতার দরুন হলদে হয়ে গিয়েছিল। আমি তাকে বললাম, তোমার কী হয়েছে? সে বলল, ওই ওঝা আমাকে পাক ইসমের মাধ্যমে শেষ করে ফেলেছে। আমি বাঁচব বলে আর বিশ্বাস হচ্ছে না। যদি তুমি এই কুঁয়ো থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পাও, তবে এখান থেকে চলে যেও। সেই রাতেই আমি (কুঁয়োর ভিতর থেকে) এই আওয়াজ শুনলাম, তুমি এবার দূরে চলে যাও।
(বর্ণনাকারী) ইবনে আকীল (রহঃ) বলেন, তারপর থেকে ওই ঘরে লোক থাকা বন্ধ হয়ে গেছে। (২১)

টিকাঃ
(২১) কিতাবুল ফুনুন, ইবনে আকীল।

বর্ণনায় হযরত ইবনে আক্বীল (রহঃ) আমাদের একটি বাড়ি ছিল। তাতে যখনই কোনও লোক থাকত, সকালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যেত। একবার মরক্কোর এক লোক এল। 'ঘরটি সে পছন্দ করে ভাড়ায় নিল। তারপর রাত কাটাল। সকালে দেখা গেল, সে পুরোপুরি বহাল তবিয়তেই রয়েছে। তার কিছুই হয়নি। তা দেখে প্রতিবেশীরা অবাক হল। লোকটি বেশ কিছুকাল ওই ঘরে থাকল। তারপর অন্য কোথাও চলে গেল। ওকে ওই ঘরে নিরাপদে থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করলে ও বলেছিল-আমি যখন ওই ঘরে (প্রথম দিন) রাতে থাকি, তখন ইশার নামায পড়েছি, কোরআন পাক থেকে কিছু পড়েছি। এমন সময় হঠাৎ দেখি, এক যুবক কুঁয়ো থেকে উপরে উঠছে। সে আমাকে সালাম দিল। আমি তাকে দেখে ভয় পেলাম। সে বলল, ভয় পেও না। আমাকেও কিছু কোরআন পাক শেখাও। অতএব আমি তাকে কোরআন শেখাতে শুরু করে দিই। পরে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, এই ঘরের রহস্যটা কী? সে বলে, আমরা মুসলমান জ্বিন। আমরা কোরআন পাঠও করি, নামাযও পড়ি। কিন্তু এই ঘরে বেশিরভাগ সময়ে বদমাশ লোকেরা থাকে, যারা মদপানের মজলিস বসায়। তাই আমরা ওদের গলা টিপে দিই। আমি তাকে বললাম, রাতের বেলা আমি তোমাকে ভয় পাই। তুমি দিনের বেলায় আসবে। সে বলল, খুব ভাল। তারপর থেকে সে দিনের বেলা কুঁয়ো থেকে বের হত। একবার সে কোরআন পাক পড়ছিল। এমন সময় বাইরে এক ওঝা এল এবং আওয়াজ দিয়ে বলল, আমি সাপে কাটা, বদনজর লাগা ও জ্বিনে ধরার ফুঁক দিই গো! ওকথা শুনে জ্বিনটি বলল ও আবার কে? আমি বললাম, ও হল ঝাড়ফুঁককারী, ওঝা। সে বলল, ওকে ডাকো। আমি উঠে গিয়ে তাকে ডেকে আনলাম। এসে দেখলাম, সেই জ্বিনটি বিরাট বড় সাপ হয়ে ঘরের (ভিতরের) ছাদে উঠে রয়েছে। ওঝা এসে ঝাড়ফুঁক করতে সাপটি ঝটপট করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত ঘরের মেঝেয় পড়ে গেল। তখন তাকে ধরে ঝাঁপিতে ভরে নেবার জন্য ওঝা উঠল। কিন্তু আমি তাকে মানা করলাম। সে বলল, 'তুমি আমাকে আমার শিকার ধরতে মানা করেছ।' আমি তাকে একটি স্বর্ণমুদ্রা (আশ্রাফী) দিতে সে চলে গেল। তখন সেই অজগর নড়াচড়া করল এবং জ্বিনের রূপে প্রকাশ পেল। কিন্তু সে তখন দুর্বলতার দরুন হলদে হয়ে গিয়েছিল। আমি তাকে বললাম, তোমার কী হয়েছে? সে বলল, ওই ওঝা আমাকে পাক ইসমের মাধ্যমে শেষ করে ফেলেছে। আমি বাঁচব বলে আর বিশ্বাস হচ্ছে না। যদি তুমি এই কুঁয়ো থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পাও, তবে এখান থেকে চলে যেও। সেই রাতেই আমি (কুঁয়োর ভিতর থেকে) এই আওয়াজ শুনলাম, তুমি এবার দূরে চলে যাও।
(বর্ণনাকারী) ইবনে আকীল (রহঃ) বলেন, তারপর থেকে ওই ঘরে লোক থাকা বন্ধ হয়ে গেছে। (২১)

টিকাঃ
(২১) কিতাবুল ফুনুন, ইবনে আকীল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00