📄 লেবু থাকা ঘরে জিনরা প্রবেশ করে না
কাযী (আলী বিন হাসান বিন হুসাইন) খঙ্গর জীবনীতে আছেঃ জ্বিনরা তাঁর কাছে যাতায়াত করত। একসময় বেশ কিছুদিন ওরা আসেনি। তো ক্বাযী সাহেব ওদের কাছে তার (অতদিন দেরি করে আসার) কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। ওরা বলল- আপনার বাড়িতে লেবু ছিল বলে আসিনি। কেননা, যে বাড়িতে লেবু থাকে, তাতে আমরা ঢুকি না। (১৬)
টিকাঃ
(১৬) তারজুমাতুল কাযী আল্ খলঈ।
কাযী (আলী বিন হাসান বিন হুসাইন) খঙ্গর জীবনীতে আছেঃ জ্বিনরা তাঁর কাছে যাতায়াত করত। একসময় বেশ কিছুদিন ওরা আসেনি। তো ক্বাযী সাহেব ওদের কাছে তার (অতদিন দেরি করে আসার) কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। ওরা বলল- আপনার বাড়িতে লেবু ছিল বলে আসিনি। কেননা, যে বাড়িতে লেবু থাকে, তাতে আমরা ঢুকি না। (১৬)
টিকাঃ
(১৬) তারজুমাতুল কাযী আল্ খলঈ।
📄 নবীজীর নামে জিনের সালাম
বর্ণনায় হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এক ব্যক্তি খইবার থেকে আসছিল। দু'জন তার পিছু নিল। ওই দু'জনের পিছনে লেগে গেল অন্য একজন। সবার পিছনে যে ছিল সে খালি বলছিল- তোমরা দু'জন ফিরে এসো! তোমরা দু'জন ফিরে এসো! শেষ পর্যন্ত সেই দু'জনকে সে ধরে ফেলল। তারপর প্রথম ব্যক্তির সঙ্গে মিলল এবং বলল এরা দু'জন শয়তান। আমি এদের পিছু নিয়ে শেষ পর্যন্ত তোমার থেকে এদেরকে হটিয়ে দিয়েছি। তুমি যখন রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে হাজির হবে, তাঁকে আমার সালাম বলবে এবং নিবেদন করবে যে, আমরা সদাকা জমা করার কাজে লেগে আছি। সম্পূর্ণ হয়ে গেলে আমরা সেগুলি তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেব। লোকটি মদীনায় পৌঁছানোর পর নবীজীর কাছে উপস্থিত হল এবং তাঁকে ওই ঘটনা শোনাল। তখন থেকে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) একা একা (বনজঙ্গল, মরুভূমি জাতীয় পথে) সফর করতে নিষেধ করে দেন। (কেননা এর ফলে মানুষের পক্ষে গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ার, বিপদে পড়ার এবং জ্বিন শয়তানদের অনিষ্টের শিকার হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। (১৭)
টিকাঃ
(১৭) মুসনাদে আহমাদ, ১: ২৭৮,২৯৯। দালায়িলুন নুবুউঅত, ইমাম বাইহাকী, ৭:১১২।
বর্ণনায় হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এক ব্যক্তি খইবার থেকে আসছিল। দু'জন তার পিছু নিল। ওই দু'জনের পিছনে লেগে গেল অন্য একজন। সবার পিছনে যে ছিল সে খালি বলছিল- তোমরা দু'জন ফিরে এসো! তোমরা দু'জন ফিরে এসো! শেষ পর্যন্ত সেই দু'জনকে সে ধরে ফেলল। তারপর প্রথম ব্যক্তির সঙ্গে মিলল এবং বলল এরা দু'জন শয়তান। আমি এদের পিছু নিয়ে শেষ পর্যন্ত তোমার থেকে এদেরকে হটিয়ে দিয়েছি। তুমি যখন রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে হাজির হবে, তাঁকে আমার সালাম বলবে এবং নিবেদন করবে যে, আমরা সদাকা জমা করার কাজে লেগে আছি। সম্পূর্ণ হয়ে গেলে আমরা সেগুলি তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেব। লোকটি মদীনায় পৌঁছানোর পর নবীজীর কাছে উপস্থিত হল এবং তাঁকে ওই ঘটনা শোনাল। তখন থেকে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) একা একা (বনজঙ্গল, মরুভূমি জাতীয় পথে) সফর করতে নিষেধ করে দেন। (কেননা এর ফলে মানুষের পক্ষে গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ার, বিপদে পড়ার এবং জ্বিন শয়তানদের অনিষ্টের শিকার হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। (১৭)
টিকাঃ
(১৭) মুসনাদে আহমাদ, ১: ২৭৮,২৯৯। দালায়িলুন নুবুউঅত, ইমাম বাইহাকী, ৭:১১২।
📄 মুহাদ্দিসের সাথে এক জিনের সাক্ষাতের বিস্ময়কর ঘটনা
বর্ণনায় হযরত আবূ ইদ্রীসের পিতাঃ হযরত অহাব ও হাসান বস্ত্রী (রহঃ) হজ্জের মওসূমে মসজিদে খইফ-এ মিলিত হতেন। একবার কিছু লোক আচমকা পড়ে যায় এবং তাদের চোখে ঘুম জড়িয়ে যায়। ওই দুই হযরাত (অহাব ও হাসান বস্ত্রী)-এর কাছে দু'জন লোক এমনি বসেছিল, যারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল। এমন সময় এক ছোট্ট মতো পাখি সামনে এসে হযরত অহাবের এক পাশে মজলিসে বসে গেল এবং সালাম জানাল। হযরত অহাব তার সালামের জবাব দিলেন এবং বুঝতে পারলেন যে ও এক জ্বিন। তারপর সে তাঁর দিকে ফিরে হাদীস বয়ান করতে লাগল। হযরত অহাব জানতে চাইলেন, ওহে যুবক তুমি কে? সে বলল, আমি একজন মুসলমান জ্বিন। প্রশ্ন করা হল, এখানে তোমার কী দরকার? সে বলল, আপনারা কি এটা ভালো মনে করেন না যে, আমরা আপনাদের মজলিসে বসি এবং আপনাদের থেকে ইল্ম হাসিল করি। আমাদের মধ্যে তো আপনাদের সূত্রে পাওয়া ইল্ল্ম বর্ণনাকারী অনেক রয়েছে। আমরা আপনাদের সাথে নামায, জেহাদ, রুগির দেখভাল, জানাযা, হজ্জ, উমরাহ্ প্রভৃতি বহু কাজে অংশ নিয়ে থাকি। আমরা আপনাদের থেকে ইল্ম অর্জন করি এবং আপনাদের কোরআন পাঠও শুনি। হযরত অহাব প্রশ্ন করেন, আচ্ছা, তোমাদের জ্বিনদের মধ্যে কোন রাবী (হাদীস বর্ণনাকারী) সবার সেরা? সে হযরত হাসান বসরী (রহঃ)-এর দিকে ইশara করে বলল, এই শাইখের রাবী। ইতোমধ্যে হযরত অহাবকে 'একটু অন্য দিকে মনোযোগী হতে দেখে হযরত হাসন বাসরী (রহঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন হে আবূ আবদুল্লাহ্! আপনি কার সাথে কথা বলছেন? তিনি বলেন, এই মজলিসের হাজির থাকা কোনও এক ব্যক্তির সাথে। সেই জ্বিনটি চলে যাবার পর হযরত অহাব (রহঃ) জ্বিনের ঘটনাটি বললেন এবং তিনি আরও বললেন, আমি এক জ্বিনের সাথে প্রতি বছর হজ্জের সময় সাক্ষাৎ করি। ও আমাকে প্রশ্ন করে। আমি উত্তর দিই। এক বছরে তাওয়াফরত অবস্থায় ওর সাথে আমার (প্রথম) দেখা হয়। 'তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর মাসজিদুল হারামের এক কোণে আমরা উভয়ে বসে যাই। আমি ওকে বলি, আমাকে তোমার হাত দেখাও। তো সে তার হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়। তা ছিল বিড়ালের থাবার মতো। তাতে লোমও ছিল। তারপর আমি নিজের হাত তার কাঁধ পর্যন্ত নিয়ে যেতে ডানার স্থানটি অনুভব করি। ফলে আমি ঝট করে নিজের হাত সরিয়ে নিই। তারপর দু'জনে কিছুক্ষণ কথাবার্তায় মশগুল থাকি। পরে ও আমাকে বলল, হে আবু আবদুল্লাহ! আপনিও আপনার হাত আমাকে দেখান। যেমন আমি আপনাকে আমার হাত দেখিয়েছি। আমি ওকে নিজের হাত দেখাতে ও এত জোরে মর্দন করল যে, আমার চেঁচিয়ে ওঠার উপক্রম হল। তারপর সে হাসতে লাগল। (এই ঘটনার পর থেকে) প্রতি বছর হজ্জের মওসূমে আমি ওর সাথে সাক্ষাৎ করতাম। এবারের হজ্জে ওর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। আমার ধারণা, সে মারা গেছে। হযরত অহাব (রহঃ) সেই জ্বিনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমাদের জন্য কোন্ জিহাদ উত্তম? সে বলেছিল, আমাদের নিজেদের মধ্যে একে অপরের সাথে জিহাদ সর্বোত্তম। (১৮)
টিকাঃ
(১৮) ইবনে আবিদ দুনয়া।
বর্ণনায় হযরত আবূ ইদ্রীসের পিতাঃ হযরত অহাব ও হাসান বস্ত্রী (রহঃ) হজ্জের মওসূমে মসজিদে খইফ-এ মিলিত হতেন। একবার কিছু লোক আচমকা পড়ে যায় এবং তাদের চোখে ঘুম জড়িয়ে যায়। ওই দুই হযরাত (অহাব ও হাসান বস্ত্রী)-এর কাছে দু'জন লোক এমনি বসেছিল, যারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল। এমন সময় এক ছোট্ট মতো পাখি সামনে এসে হযরত অহাবের এক পাশে মজলিসে বসে গেল এবং সালাম জানাল। হযরত অহাব তার সালামের জবাব দিলেন এবং বুঝতে পারলেন যে ও এক জ্বিন। তারপর সে তাঁর দিকে ফিরে হাদীস বয়ান করতে লাগল। হযরত অহাব জানতে চাইলেন, ওহে যুবক তুমি কে? সে বলল, আমি একজন মুসলমান জ্বিন। প্রশ্ন করা হল, এখানে তোমার কী দরকার? সে বলল, আপনারা কি এটা ভালো মনে করেন না যে, আমরা আপনাদের মজলিসে বসি এবং আপনাদের থেকে ইল্ম হাসিল করি। আমাদের মধ্যে তো আপনাদের সূত্রে পাওয়া ইল্ল্ম বর্ণনাকারী অনেক রয়েছে। আমরা আপনাদের সাথে নামায, জেহাদ, রুগির দেখভাল, জানাযা, হজ্জ, উমরাহ্ প্রভৃতি বহু কাজে অংশ নিয়ে থাকি। আমরা আপনাদের থেকে ইল্ম অর্জন করি এবং আপনাদের কোরআন পাঠও শুনি। হযরত অহাব প্রশ্ন করেন, আচ্ছা, তোমাদের জ্বিনদের মধ্যে কোন রাবী (হাদীস বর্ণনাকারী) সবার সেরা? সে হযরত হাসান বসরী (রহঃ)-এর দিকে ইশara করে বলল, এই শাইখের রাবী। ইতোমধ্যে হযরত অহাবকে 'একটু অন্য দিকে মনোযোগী হতে দেখে হযরত হাসন বাসরী (রহঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন হে আবূ আবদুল্লাহ্! আপনি কার সাথে কথা বলছেন? তিনি বলেন, এই মজলিসের হাজির থাকা কোনও এক ব্যক্তির সাথে। সেই জ্বিনটি চলে যাবার পর হযরত অহাব (রহঃ) জ্বিনের ঘটনাটি বললেন এবং তিনি আরও বললেন, আমি এক জ্বিনের সাথে প্রতি বছর হজ্জের সময় সাক্ষাৎ করি। ও আমাকে প্রশ্ন করে। আমি উত্তর দিই। এক বছরে তাওয়াফরত অবস্থায় ওর সাথে আমার (প্রথম) দেখা হয়। 'তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর মাসজিদুল হারামের এক কোণে আমরা উভয়ে বসে যাই। আমি ওকে বলি, আমাকে তোমার হাত দেখাও। তো সে তার হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়। তা ছিল বিড়ালের থাবার মতো। তাতে লোমও ছিল। তারপর আমি নিজের হাত তার কাঁধ পর্যন্ত নিয়ে যেতে ডানার স্থানটি অনুভব করি। ফলে আমি ঝট করে নিজের হাত সরিয়ে নিই। তারপর দু'জনে কিছুক্ষণ কথাবার্তায় মশগুল থাকি। পরে ও আমাকে বলল, হে আবু আবদুল্লাহ! আপনিও আপনার হাত আমাকে দেখান। যেমন আমি আপনাকে আমার হাত দেখিয়েছি। আমি ওকে নিজের হাত দেখাতে ও এত জোরে মর্দন করল যে, আমার চেঁচিয়ে ওঠার উপক্রম হল। তারপর সে হাসতে লাগল। (এই ঘটনার পর থেকে) প্রতি বছর হজ্জের মওসূমে আমি ওর সাথে সাক্ষাৎ করতাম। এবারের হজ্জে ওর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। আমার ধারণা, সে মারা গেছে। হযরত অহাব (রহঃ) সেই জ্বিনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমাদের জন্য কোন্ জিহাদ উত্তম? সে বলেছিল, আমাদের নিজেদের মধ্যে একে অপরের সাথে জিহাদ সর্বোত্তম। (১৮)
টিকাঃ
(১৮) ইবনে আবিদ দুনয়া।
📄 দুই জিনের সুসংবাদ
এক যুবক সাহাবীর বর্ণনাঃ (একবার) আমি অন্ধকার রাতে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে যাচ্ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে কুল্ ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন পড়তে শুনে বললেন, এই ব্যক্তি শিরক থেকে বেঁচে গেল। তারপর আমরা চলতে লাগলাম। ফের এক ব্যক্তিকে কুল্ হুওয়াল্লা-হু আহাদ পড়তে শুনে নবীজী বললেন, এই ব্যক্তিকে মাগফিরাত করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সওয়ারী পশুকে রুখে দিলাম যে, একটু দেখে নিই ওই ব্যক্তিটি কে। কিন্তু ডাইনে-বামে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলাম না। (১৯)
টিকাঃ
(১৯) বাইহাকী, দালায়িলুন্ নুবুউঅত, ৭:৮৬। মুসনাদে আহমাদ, ৪: ৬৪, ৬৫; ৫: ৩৭৬, ৩৭৮। দূররে মান্নুর, ৬:৪০৫।
এক যুবক সাহাবীর বর্ণনাঃ (একবার) আমি অন্ধকার রাতে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে যাচ্ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে কুল্ ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন পড়তে শুনে বললেন, এই ব্যক্তি শিরক থেকে বেঁচে গেল। তারপর আমরা চলতে লাগলাম। ফের এক ব্যক্তিকে কুল্ হুওয়াল্লা-হু আহাদ পড়তে শুনে নবীজী বললেন, এই ব্যক্তিকে মাগফিরাত করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সওয়ারী পশুকে রুখে দিলাম যে, একটু দেখে নিই ওই ব্যক্তিটি কে। কিন্তু ডাইনে-বামে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলাম না। (১৯)
টিকাঃ
(১৯) বাইহাকী, দালায়িলুন্ নুবুউঅত, ৭:৮৬। মুসনাদে আহমাদ, ৪: ৬৪, ৬৫; ৫: ৩৭৬, ৩৭৮। দূররে মান্নুর, ৬:৪০৫।