📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 দুই নবীর প্রতি ঈমান আনয়নকারী জিন সাহাবী

📄 দুই নবীর প্রতি ঈমান আনয়নকারী জিন সাহাবী


হযরত সাহল বিন আব্দুল্লাহ্ তাস্তারী (রহঃ) বলেছেন- আমি 'আদ' সম্প্রদায়ের কোনও এক এলাকায় গিয়েছিলাম। ওখানে একটা গুহা দেখেছি, যেটি খনন করা হয়েছিল। সেই গুহার মাঝখানে ছিল পাথরের এক মহল, যাতে জ্বিনরা থাকত। তাতে আমি প্রবেশ করে দেখলাম, এক দৈত্যাকার বৃদ্ধ কা'বার দিকে মুখ করে নামায পড়ছেন। তাঁর গায়ে ছিল চকচকে এক পশমের জুব্বা। তাঁর বিশালকায় চেহারা আমাকে খুব বেশি অবাক করেনি, যত করেছে তাঁর জুব্বার উজ্জ্বলতা ও সজীবতা। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি আমার সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন- 'হে সাহল, পোশাককে শরীর পুরানো করে না বরং পোশাককে পুরানো করে পাপের দুর্গন্ধ আর হারাম খাদ্য। এই জুব্বা আমি সাতশ' বছর ধরে পরেছি। এটি পরে আমি হযরত ঈসা (আঃ) ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং ওঁদের প্রতি ঈমান এনেছি।' আমি জিজ্ঞাসা করলাম- 'আপনি কে?' তিনি বললেন- 'আমি সেই ব্যক্তি (জ্বিন)-দের অন্তর্গত, যাঁদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল কোরআনের (সূরাহ্ জ্বিনের) এই আয়াতঃ
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ
বলুন, প্রত্যাদেশের মাধ্যমে আমি অবগত হয়েছি যে, জ্বিনদের একটি দল কোরআন পাঠ শ্রবণ করেছে...।' (১২)

টিকাঃ
(১২) সিফাতুস সফওয়াহ্, ইবনে জাওযী (রহঃ)।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 জান্নাতে জিনদের বিয়ে

📄 জান্নাতে জিনদের বিয়ে


মু'মিন জ্বিনরা জান্নাতে বিয়ে-শাদীও করবে কি না, এ সম্পর্কে কোন হাদীস আমি পাইনি। কিন্তু জ্বিনদের জান্নাতে প্রবেশের স্বপক্ষে প্রমাণ দেওয়া হয়েছে কোরআন পাকের এই আয়াত দিয়ে:
لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ -
ইতোপূর্বে ও (স্বর্গসুন্দরী)-দের স্পর্শ করেনি কোনও মানুষ অথবা জ্বিন। (১৩)
সুতরাং জ্বিনরা যদি জান্নাতে প্রবেশ করে, তাহলে ওদের পুরুষরাই সেইরকমই বিয়ে করবে, যে রকম বিয়ে করবে মানুষরা। কিন্তু মানুষ যেমন ডাগর-নয়না স্বর্গসুন্দরী (হুরুন ঈন)-দের বিয়ে করবে, তেমনই জ্বিন মহিলাদেরও বিয়ে করবে, অথচ মুমিন জ্বিনরা বিয়ে করবে শুধু হুরুন ঈন ও জ্বিন মহিলাদের (মানব মহিলাদের সঙ্গে নয়)। কেননা, জান্নাতে কোনও মানবী স্বামীহারা থাকবে না। অবশ্য জ্বিনের সাথে মানুষের এবং মানুষের সাথে জ্বিনের বিয়ে একটি বিতর্কিত বিষয়।

টিকাঃ
(১৩) সূরা আর-রাহমান, আয়াত ৫৬।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 জিনদের প্রতি যুলুম করা হারাম

📄 জিনদের প্রতি যুলুম করা হারাম


জ্বিনের প্রতি মানুষের এবং মানুষের প্রতি জ্বিনের, অর্থাৎ একে অপরের প্রতি জুলুম-অত্যাচার করা হারাম। হাদীসে আছে:
يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلَا تَظَالَمُوا
হে আমার বান্দারা, আমি স্বয়ং নিজের উপরেও জুলুমকে হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও করেছি, সুতরাং তোমরা একে অন্যের প্রতি জুলুম করো না। (১৪)
আর এ কথা তো আমরা জানি যে, যে ব্যক্তি জুলুম-অত্যাচার করে, তাকে সতর্ক করা এবং যথাসাধ্য প্রতিরোধ করা জরুরী।

টিকাঃ
(১৪) তাগলীকুত তাত্মীক, ইবনে হাজার ৬০, ৫৬০। তারগীব ও তারহীব, ২:৪৭৫। আহাফুস্ সাদাহ, ৫:৬০। আহাফুস্ সন্নিয়াহ্, ২৯৪। তাহযীব তারীখ দামিক, ইবনে আসাকির, ৭৪ ২০৫। আযাকারে ইমাম নাওবী, হাদীস নং ৩৬৭। মিশ্কাত শরীফ, হাদীস ২৩২৬। যাদুল মাইয়াস্সার, ৩ঃ৩৭০।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 দুষ্ট জিন তাড়ানোর পদ্ধতি

📄 দুষ্ট জিন তাড়ানোর পদ্ধতি


আমাদের শায়খের কাছে যখন কোনও মৃগী (জ্বিনে-ধরা) রুগীকে আনা হত, তাকে তিনি মৃগীর বয়ান শোনাতেন এবং 'সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ'-সূচক কথা বলতেন। এর দ্বারা সেই জ্বিন যদি আয়ত্তে আসত এবং মৃগীর রুগীকে ছেড়ে যেত, তাহলে তিনি তার থেকে প্রতিশ্রুতি নিতেন যে, সে আর কখনও আসবে না। কিন্তু সহজ কথায় কোনও জ্বিন যদি ছাড়তে না চাইত, তখন তিনি তাকে না-ছাড়া পর্যন্ত মারতে থাকতেন। বাহ্যত মার পড়ে মৃগী রুগির গায়ে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আঘাত লাগে সেই জ্বিনের, যার কারণে মৃগী হয়। এই কারণে কষ্টবোধ করে ও চিৎকার করে এবং মৃগী রুগিকে, জ্ঞান ফিরার পর মার খাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে সে কিছুই বলতে পারে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00