📄 বিশ্বনবীর (সাঃ) সঙ্গে নাসীবাইনের জিন প্রতিনিধিদের मुलाকাত
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন : (একবার) আহলে সুফফার লোকদের মধ্যে সকলকে কেউ না কেউ খাওয়ানোর জন্য নিয়ে গেছে। থেকে গেছি আমি একা। আমাকে কেউ নিয়ে যায়নি। আমি মসজিদে বসেছিলাম। এমন সময় জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) এলেন। তাঁর হাতে ছিল খেজুরের ছড়ি। তা দিয়ে তিনি আমার বুকে (মৃদু) আঘাত করলেন এবং বললেন, 'আমার সাথে চলো।' এর পরে তিনি রওয়ানা হলেন। আমিও তাঁর সঙ্গী হলাম। যেতে যেতে আমরা 'বাকীয়ে গকুদ্' পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। ওখানে তিনি নিজের ছড়ি দিয়ে একটা রেখা টানলেন এবং বললেন, 'এর মধ্যে বসে যাও, আমি না ফিরে আসা পর্যন্ত এখানেই থাকবে।' এরপর তিনি চলতে শুরু করলেন। আমি তাঁকে খেজুর-ঝাড়ের ভিতর দিয়ে দেখতে থাকলাম। শেষ পর্যন্ত একটা কালো কুয়াশা ছেয়ে যেতে আমার ও তাঁর যোগাযোগ কেটে গেল। আমি (নিজের জায়গায় বসেই) শুনতে পাচ্ছিলাম, নবীজী তাঁর ছড়ি ঠুকছিলেন এবং বলছিলেন, 'বসে যাও, বসে যাও।' অবশেষে সকাল হতে শুরু হ'ল। কুয়াশা উঠতে লাগল। 'ওরা' চলে গেল এবং মহানবী (সাঃ) আমার কাছে এলেন। বললেন, 'তুমি যদি ওই বৃত্ত থেকে, আমি নিরাপত্তা দেবার পরও, বের হতে, তবে ও (জ্বিন)-দের মধ্যে কেউ তোমাকে উঠিয়ে নিয়ে যেত। আচ্ছা, তুমি কিছু দেখেছিলে কি?' আমি নিবেদন করলাম, 'আমি কিছু কালো মানুষকে ধুলোমলিন সাদা পোশাকে দেখেছি।' তিনি বললেন, 'ও ছিল নাসীবাইনের জ্বিনদের প্রতিনিধি দল। ওরা আমার কাছে সফর-কালীন পাথেয় চেয়েছে। আমি ওদের (বলে) দিয়েছি, সবরকমের হাড় এবং গোবর ও নাদি।' আমি আরয করলাম, 'ওগুলো ওদের কী' কাজে লাগবে?' নবীজী বললেন, 'ওরা যে হাড়ই পাবে, তাতে সে রকমই মাংস পাবে, যে রকম মাংস হাড়টি খাওয়ার সময় ছিল এবং ওরা যে গোবর পাবে, তাতে ওরা সেই আনাজ পাবে, যা থেকে ওই গোবর হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যেন হাড় দিয়ে এস্তেন্জা না করে। (৬)
টিকাঃ
(৬) ইবনে জারীর। তাফসীর ত্ববারী। আবু নুআইম। নাসুর, রাইয়াহ্, ১: ১৪৫। তাফসীর ইবনে কাসীর, ৭ঃ ২৮২।
📄 বিশ্বনবী কর্তৃক জিনদের সামনে সূরা রহমান তিলাওয়াত
হযরত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত: জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) একবার সাহাবীগণের কাছে এলেন। এবং ওঁদের সামনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সূরা আর-রাহমান আবৃত্তি করলেন। সাহাবীগণ চুপচাপ রইলেন। নবীজী বললেন, 'তোমরা নীরব হয়ে গেছ কেন? আমি এই সূরাটি লাইলাতুল জ্বিনে (বা জ্বিন-রজনীতে) জ্বিনদের সামনে পড়লে ওরা তোমাদের চাইতে বেশি ভালো জবাব দিয়েছে। যখন আমি আল্লাহর বাণী فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?-পর্যন্ত পৌঁছেছি, তখন ওরা বলেছে, 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার কোনও নিয়ামতকে অস্বীকার করতে পারি না। সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য।' (৭)
টিকাঃ
(৭) সুনানে তিরমিযী, তাফসীর, সূরা ৫৫। দালায়িলুন নুবুয়াতয়াত, বাইহাকী, ২ঃ ২৩২, ১৭, ৪৭৩। দুরুল মানসুর, ৬: ১৪০। কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ২৮২৩, ৪১৪৬। মুস্তাদ্রক হাকিম, ২:৪৭৩। আশ্শুক্র, ইবনে আবিদ দুনয়া, হাদীস নং ৩৭। তাহযীব তারীখ দামিক, ইবনে আসাকির, ২ঃ ২০৪; ৫ঃ ৩৯৭। মীযান আল্ ইইতিদীল, ২৯১৮। যাদুল মাইয়াস্সার, ৮: ১১২। তাফসীর ইবনে কাসীর, ৭:২৮৫।
📄 শয়তানের প্রপৌত্রের বিস্ময়কর ঘটনা
হযরত উমর (রাঃ)-এর বর্ণনা: আমরা জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর সাথে 'তিহামা'র পাহাড়গুলির মধ্যে একটি পাহাড়ে বসেছিলাম। এমন সময় হাতে লাঠি নিয়ে এক বৃদ্ধ আমাদের সামনে এল এবং রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সালাম জানাল। তিনি সালামের জবাব দিয়ে তার ভাষাতেই তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কে? 'সে বলল, 'আমি হামাহ্ বিন হাইম বিন লাকীস বিন ইবলীস।' নবীজী বললেন, 'তোমার আর ইবলীসের মধ্যে তাহলে শুধু দুই পুরুষের ব্যবধান। আচ্ছা, তুমি কত যুগ পার করেছ? সে বলল, 'আমি দুনিয়ার আয়ু শেষ করে ফেলেছি। কেবল সামান্য কিছু বাকি আছে। কাবীল যখন হাবিলকে হত্যা করেছিল সেই সময় আমি ছিলাম কয়েক বছরের বাচ্ছা। কথা বুঝতে পারতাম। ছোট ছোট পাহাড়ে, টিলায় লাফালাফি করতাম। খাবার খারাপ করে দিতাম। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিঁড়ে ফেলার হুকুম দিতাম...।' সেই সময় জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, 'বিচ্ছেদ সৃষ্টিকারী বৃদ্ধ এবং অলসতা সৃষ্টিকারী যুবকের কাজ বড় জঘন্য।' (সেই আগন্তুক বৃদ্ধ) অমন বলে উঠল, আমাকে এ বিষয়ে মাফ করুন।
আমি আল্লাহর কাছে তওবা করেছি। আমি হযরত নূহ (আঃ)-এর সাথে তাঁর মসজিদে সেইসব লোকের সাথে ছিলাম যারা তাঁর কওমের মধ্য থেকে তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল। আমি সকল সময় হযরত নূহকে, আপন সম্প্রদায়কে দ্বীনের দাওয়াত দেবার জন্য তিরস্কার করতাম। শেষ পর্যন্ত তিনি স্বয়ং কেঁদে ফেললেন এবং আমাকেও কাঁদিয়ে ছাড়েন। তিনি বলেন, (যদি আমি তোমার কথা শুনে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া ছেড়ে দেই) তাহলে লজ্জিত অবস্থায় পতিত লোকদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।' আমি নিবেদন করেছিলাম, 'হে নূহ, আমি হলাম তাদের একজন, যারা কাবীল বিন আদম কর্তৃক ভাগ্যবান শহীদ হাবীলের হত্যাকার্যে শরীক ছিল। আপনি কি মনে করেন, আল্লাহ্র দরবারে আমার তওবা কবুল হবে?' তিনি বলেন, 'ওহে হামাহ্, পুণ্যের সঙ্কল্প কর এবং দুঃখ-অনুতাপে ভেঙে পড়ার আগে সৎকাজে লেগে যাও। আল্লাহ তাআলা আমার উপর যা অবতীর্ণ করেছেন, তাতে আমি পড়েছি, যে ব্যক্তি পুরোপুরি দ্বীনদারীর সাথে আল্লাহ্র পথে ফিরে আসে- তাওবা করে, আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবুল করেন। ওঠো, উযূ করে দু'রাআত নামায পড়ো।' সুতরাং তখনই আমি হযরত নূহের নির্দেশ অনুযায়ী আমল শুরু করি। অতঃপর তিনি আমাকে ডেকে বললেন, 'মাথা তোলো। তোমার তাওবা (কবুল হওয়ার খবর) আসমান থেকে নাযিল হয়েছে।' সুতারাং আমি আল্লাহর ওয়াস্তে এক বছর যাবৎ সাজদায় পড়ে থাকলাম। আমি হযরত হুদ (আঃ)-এর সাথেও সাজদায় শরীক ছিলাম, যখন তিনি আপন সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে সাজদা করেছিলেন। তাঁকে আমি তাঁর (অজ্ঞ) সম্প্রদায়কে (বারবার) দ্বীনের দাওয়াত দেবার জন্য ভর্ৎসনা করতাম। শেষ পর্যন্ত আপন কওমের কথা ভেবে তিনিও কাঁদেন এবং আমাকে কাঁদান। আমি হযরত ইয়াকূব (আঃ)-এর সাথেও দেখা করতাম এবং হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর দরবারে বিশ্বস্ততার পদে আসীন ছিলাম। হযরত ইল্ইয়াস (আঃ)-এর সাথে উপত্যকায় সাক্ষাৎ করতাম এবং এখনও তাঁর সাথে দেখা করি। (৮) হযরত মূসা (আঃ)-এর সাথেও আমার মুলাকাত হয়েছিল। তিনি আমাকে তাওরাত শিখিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'যদি হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়, তবে তাঁকে আমার সালাম বলবে।' তা আমি হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং হযরত মূসা (আঃ)-এর সালামও তাঁকে জানিয়েছি। হযরত ঈসা (আঃ) আমাকে বলেছিলেন, 'হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সাথে যদি তোমার সাক্ষাৎ হয়, তবে তাঁকে আমার তরফ থেকে সালাম নিবেদন করবে।' একথা শুনে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) অশ্রু-সজল হয়ে গেলেন এবং তিনি কাঁদতে লাগলেন। তারপর বললেন, 'ঈসা (আঃ)-এর প্রতিও দুনিয়া থাকা পর্যন্ত সালাম শান্তি নেমে আসুক এবং হে হামাহ্, আমানত পৌঁছার জন্য তোমার প্রতিও সালাম।' হামাহ তখন বলে, 'হে আল্লাহ্র রসূল, আপনি আমার সাথে
তাই করুন, যা করেছিল হযরত মূসা বিন ইম্মান (আঃ)। তিনি আমাকে তাওরাত শিখিয়েছিলেন।' তো রসূল (সাঃ) তাকে শেখালেন সূরাহ্ ওয়াক্বিআহ্, সূরাহ্ মুরসালাত, সূরাহ্ আম্মা ইয়াতাসাআলুন, সূরাহ ইয়াশ্ শামশু কুবিরত্ এবং 'মুআয়াযাতাইন' (সূরাহ্ ফালাক্ব-নাস) ও কূল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। এবং বলেন, 'হে হামাহ্, আপন প্রয়োজনের কথা আমাকে বল আর আমার সাথে সাক্ষাৎ করা ছেড়ে দিও না।' হযরত উমারার (রাঃ) বলেছেন, পরে জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর পরলোকগমনের হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল। এবং তার খবর আর আমরা পেলাম না। জানিনা সে জীবিত আছে না মারা গেছে। (৯)
উল্লেখিত হাদিসটি 'যাওয়াইদুয যুহদ' গ্রন্থে। হযরত আনাস (রাঃ)-এর বাচনিক গ্রথিত করেছেন হযরত আবদুল্লাহ্ বিন ইমাম আহমাদ এবং এটি উল্লেখ করেছেন আক্কীলী (কিতাবুদ্ধ দুআফা-য়), শিরাযী (কিতাবুল আলকাবে), আবূ নূআইম (দালাইলে) তথা ইবনে মারদুইয়াহ্-ও। তাছাড়া এই বর্ণনাটি আল্লামা ফাকিহী 'কিতাবে মাক্কা'-য় উদ্ধৃত করেছেন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর বাচনিকে। হাদীসটির কয়েকটি তরক আছে, যার দরুন এটি হাসানের স্তরে পৌঁছায়। (১০)
টিকাঃ
(৮) কারও কারও মতে, হযরত ইল্লিয়াস ও হযরত খিযির এই উভয়ের রূহকে আল্লাহ্ তাঁর ইচ্ছানুসারে আকৃতি বদলানোর ক্ষমতা দিয়েছেন এবং বর্তমানেও তাঁদের রূহ্ কোনও না কোনও অলী, পুণ্যবান প্রমুখদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। (তাফসীর মাযহারী: উদ্ধৃতি, হযরত মুজাদ্দিদ আলফি সানী (রহঃ))
(৯) কিতাবুদ্ধ দ্বআফা আক্বীলী। আবূ নুআইম। বাইহাকী। দালায়িলুন্ নুবুয়াত, আবূ নুআইম আস্বাহানী, ১৩১।
(১০) আল্লামা সুয়ূতী (রহঃ)।
📄 ইবলীসের প্রপৌত্র জান্নাতে
হযরত আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ هَامَةَ بْنُ هَيْمِ بْنِ لَا قَبْسَ فِي الْجَنَّةِ
হামাহ্ বিন হাইম বিন লাকীস জান্নাতে যাবে। (১১)
টিকাঃ
(১১) কিতাবুস্ সুনান, আবু আলী বিন আশ্আস। তাযকিরাতুল মাউযুআত ১১১। লা আলী মাআহ্ ১:৯২।