📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 মহানবীর (সাঃ) কাছে এসেছিল জিনদের কয়েকটি প্রতিনিধি দল

📄 মহানবীর (সাঃ) কাছে এসেছিল জিনদের কয়েকটি প্রতিনিধি দল


আকামুল মার্জ্জানের গ্রন্থকার ইমাম শিবলী (রহঃ) বলেছেন, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, হিজরতের পর মক্কা ও মদীনায় মহানবী (সাঃ)-এর কাছে জ্বিনদের প্রতিনিধিদল কয়েকবার এসেছিল।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 আসমান থেকে শয়তানদের তথ্য চৃনি বন্ধ হলো কবে থেকে

📄 আসমান থেকে শয়তানদের তথ্য চৃনি বন্ধ হলো কবে থেকে


হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন:
انْطَلَقَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي طَائِفَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ عَامِدِينَ إِلى سُوقِ عِكَاظٌ وَقَدْ حِيلَ بَيْنَ الشَّيَاطِينِ وَبَيْنَ خَيْرٍ السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْهِمُ الشُّهُبُ فَرَجَعَتِ الشَّيَاطِينُ إِلَى قَوْمِهِم فَقَالُوا حِيلَ بيننا وبين خبر السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْنَا الشُّهُبُ . قَالُوا مَا حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَيْرِ السَّمَاءِ إِلَّا شَيْ حَدَثَ ، فَاضْرِبُوا مشارق الأرْضِ وَمَغَارِبَهَا فَانْظُرُوا مَا هَذَا الَّذِي حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَيْرِ السَّمَاءِ فَانْطَلَقُوا يَضْرِبُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا - فَانْصَرَفَ أُولَئِكَ النَّفَرُ الَّذِينَ تَوَجَّهُو نَحْوَتِهَا مَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِنَخْلَةٍ وَهُوَ يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ صَلوةَ الفجر . فَلَمَّا سَمِعُوا الْقُرْآنَ إِسْتَمِعُوا إِلَيْهِ فَقَالُوا هَذَا وَاللَّهِ الَّذِي حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَيْرِ السَّمَاءِ فَهُنَالِكَ لَمَّا رَجَعُوا إِلَى قَوْمِهِمْ قَالُوا : إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَأَمَنَّا بِهِ وَلَنْ تُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَداً -
জনাব রসূলুল্লাহ সা একবার তাঁর সাহাবীদের নিয়ে উকাযের বাজারের উদ্দেশে রওয়ানা হন। সেই সময় শয়তানদের সামনে আসমানে যাওয়া ও সেখান থেকে খবরাদি সংগ্রহ করে আনার কাজে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিল। এবং তাদের উপর উল্কাপিণ্ড নিক্ষিপ্ত হল। সেই শয়তানরা যখন তাদের সম্প্রদায়ের কাছে গেল, বলল : তোমাদের এবং আসমানের খবরাদি সংগ্রহের মধ্যে কোন জিনিস বাধা হতে পারে না। মনে হচ্ছে, কোনও নতুন কিছু ঘটেছে। তোমরা পৃথিবীর পূর্বে-পশ্চিমে, চতুর্দিকে ঘোরাঘুরি করো এবং দেখ যে, কোন্ জিনিস তোমাদের ও আসমানের খবর সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং তারা (বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে) পৃথিবীর পূর্বে, পশ্চিমে অনুসন্ধান করতে লাগল। তাদের মধ্যে একটি দল 'তিহামার' দিকে ঘুরতে ঘুরতে রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর দিকে এল। তিনি সেই সময় আপন সাহাবীদের নিয়ে 'নাখলা' নামক স্থানে ফজরের নামায পড়ছিলেন। জ্বিনের দলটি নবীজীর মুখে কোরআন পাক শুনে তাঁর প্রতি মনোযোগী হল। এবং বলতে লাগল: আল্লাহর কসম! এই সে বিষয়, যা তোমাদের ও আসনমানের তথ্য সংগ্রহের মধ্যে রাখা হয়েছে। এরপর তার নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলতে লাগল : হে আমাদের (জ্বিন) সম্প্রদায়! 'আমরা তো এক বিস্ময়কর কোরআন শুনেছি, যা সঠিক পথনির্দেশ করে, তাই আমরা এতে ইমান এনেছি এবং আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের সাথে কোনও শরীক স্থাপন করবো না। (৫)

টিকাঃ
(৫) বুখারী শরীফ, কিতাবুল আযান, বাব ১০৫: কিতাবুত তাফসীর, তাফসীর সূরাহ্ ৭২। সহীহ মুসলিম, কিতাবুস্ সলাহ্, হাদীস নং ১৪৯। সুনানে তিরমিযী, তাফসীর সূরাহ্ ৭২।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 বিশ্বনবীর (সাঃ) সঙ্গে নাসীবাইনের জিন প্রতিনিধিদের मुलाকাত

📄 বিশ্বনবীর (সাঃ) সঙ্গে নাসীবাইনের জিন প্রতিনিধিদের मुलाকাত


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন : (একবার) আহলে সুফফার লোকদের মধ্যে সকলকে কেউ না কেউ খাওয়ানোর জন্য নিয়ে গেছে। থেকে গেছি আমি একা। আমাকে কেউ নিয়ে যায়নি। আমি মসজিদে বসেছিলাম। এমন সময় জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) এলেন। তাঁর হাতে ছিল খেজুরের ছড়ি। তা দিয়ে তিনি আমার বুকে (মৃদু) আঘাত করলেন এবং বললেন, 'আমার সাথে চলো।' এর পরে তিনি রওয়ানা হলেন। আমিও তাঁর সঙ্গী হলাম। যেতে যেতে আমরা 'বাকীয়ে গকুদ্‌' পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। ওখানে তিনি নিজের ছড়ি দিয়ে একটা রেখা টানলেন এবং বললেন, 'এর মধ্যে বসে যাও, আমি না ফিরে আসা পর্যন্ত এখানেই থাকবে।' এরপর তিনি চলতে শুরু করলেন। আমি তাঁকে খেজুর-ঝাড়ের ভিতর দিয়ে দেখতে থাকলাম। শেষ পর্যন্ত একটা কালো কুয়াশা ছেয়ে যেতে আমার ও তাঁর যোগাযোগ কেটে গেল। আমি (নিজের জায়গায় বসেই) শুনতে পাচ্ছিলাম, নবীজী তাঁর ছড়ি ঠুকছিলেন এবং বলছিলেন, 'বসে যাও, বসে যাও।' অবশেষে সকাল হতে শুরু হ'ল। কুয়াশা উঠতে লাগল। 'ওরা' চলে গেল এবং মহানবী (সাঃ) আমার কাছে এলেন। বললেন, 'তুমি যদি ওই বৃত্ত থেকে, আমি নিরাপত্তা দেবার পরও, বের হতে, তবে ও (জ্বিন)-দের মধ্যে কেউ তোমাকে উঠিয়ে নিয়ে যেত। আচ্ছা, তুমি কিছু দেখেছিলে কি?' আমি নিবেদন করলাম, 'আমি কিছু কালো মানুষকে ধুলোমলিন সাদা পোশাকে দেখেছি।' তিনি বললেন, 'ও ছিল নাসীবাইনের জ্বিনদের প্রতিনিধি দল। ওরা আমার কাছে সফর-কালীন পাথেয় চেয়েছে। আমি ওদের (বলে) দিয়েছি, সবরকমের হাড় এবং গোবর ও নাদি।' আমি আরয করলাম, 'ওগুলো ওদের কী' কাজে লাগবে?' নবীজী বললেন, 'ওরা যে হাড়ই পাবে, তাতে সে রকমই মাংস পাবে, যে রকম মাংস হাড়টি খাওয়ার সময় ছিল এবং ওরা যে গোবর পাবে, তাতে ওরা সেই আনাজ পাবে, যা থেকে ওই গোবর হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যেন হাড় দিয়ে এস্তেন্জা না করে। (৬)

টিকাঃ
(৬) ইবনে জারীর। তাফসীর ত্ববারী। আবু নুআইম। নাসুর, রাইয়াহ্, ১: ১৪৫। তাফসীর ইবনে কাসীর, ৭ঃ ২৮২।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 বিশ্বনবী কর্তৃক জিনদের সামনে সূরা রহমান তিলাওয়াত

📄 বিশ্বনবী কর্তৃক জিনদের সামনে সূরা রহমান তিলাওয়াত


হযরত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত: জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) একবার সাহাবীগণের কাছে এলেন। এবং ওঁদের সামনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সূরা আর-রাহমান আবৃত্তি করলেন। সাহাবীগণ চুপচাপ রইলেন। নবীজী বললেন, 'তোমরা নীরব হয়ে গেছ কেন? আমি এই সূরাটি লাইলাতুল জ্বিনে (বা জ্বিন-রজনীতে) জ্বিনদের সামনে পড়লে ওরা তোমাদের চাইতে বেশি ভালো জবাব দিয়েছে। যখন আমি আল্লাহর বাণী فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?-পর্যন্ত পৌঁছেছি, তখন ওরা বলেছে, 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার কোনও নিয়ামতকে অস্বীকার করতে পারি না। সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য।' (৭)

টিকাঃ
(৭) সুনানে তিরমিযী, তাফসীর, সূরা ৫৫। দালায়িলুন নুবুয়াতয়াত, বাইহাকী, ২ঃ ২৩২, ১৭, ৪৭৩। দুরুল মানসুর, ৬: ১৪০। কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ২৮২৩, ৪১৪৬। মুস্তাদ্রক হাকিম, ২:৪৭৩। আশ্শুক্র, ইবনে আবিদ দুনয়া, হাদীস নং ৩৭। তাহযীব তারীখ দামিক, ইবনে আসাকির, ২ঃ ২০৪; ৫ঃ ৩৯৭। মীযান আল্ ইইতিদীল, ২৯১৮। যাদুল মাইয়াস্সার, ৮: ১১২। তাফসীর ইবনে কাসীর, ৭:২৮৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00