📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 এক সাহাবী জিনের লাশ মৃত্যুর ঘটনা

📄 এক সাহাবী জিনের লাশ মৃত্যুর ঘটনা


হযরত কাসীর বিন আব্দুল্লাহ আবূ হাশিম তাজী (রহঃ) বলেছেন: আমরা হযরত আবূ রিজা আতারদ্দী (রহঃ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাস করি যে, আপনার কাছে সেই জ্বিনদের কোনও খবর আছে কি, যারা মহানবী (সাঃ)-এর হাতে বায়য়াত (দীক্ষা বা আনুগত্যের শপথ) গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করেছিল? এ প্রশ্ন শুনে তিনি মৃদু হাসলেন এবং বললেন, আমি সেই কথা বলছি, যা আমি খোদ দেখেছি এবং শুনেছি। ঘটনা হল এই যে, আমরা এক সফরে ছিলাম। পথিমধ্যে পানি পাওয়া যায়- এমন এক জায়গায় আমরা যাত্রাবিরতি দিলাম এবং নিজেদের তাঁবু ফেললাম। দুপুরে আমি আরাম করার জন্য আমার তাঁবুতে চলে গেছি। এমন সময় দেখি তাঁবুর বাইরে একটি সাপ ছটফট করছে। আমি পানি পাত্র দিয়ে তার গায়ে ছিটিয়ে দিলে সে শান্ত হল। যখন আসরের নামায আদায় করি তখন সাপটি মারা গেল। আমি আমার থলে থেকে একটা সাদা কাপড় বের করে সাপটিকে জড়াই এবং গর্ত খুঁড়ে তাতে দাফন করে দেই। তারপর বাকি দিন ও রাত আমরা সফর চালু রাখি। পরের দিন বেলা বাড়লে আমরা এক পানির জায়গায় যাত্রাবিরতি দিই এবং তাঁবু ফেলি। তারপর দুপুরে যখন আমি আরাম করছি এমন সময় (বহুলোকের কণ্ঠ) দু'বার আসসালামু আলাইকুম এর আওয়াজ শুনলাম। ওই সালামদাতারা এক, দশ, একশ হাজার ছিল না বরং ছিল তার চেয়েও বেশি। আমি উদের ওদ্দেশে জিজ্ঞাসা করলাম, 'তোমরা কারা?' ওরা বলল, 'আমরা জ্বিন। আল্লাহ আপনাকে বরকত দিন। আপনি আমাদের এমন একটি কাজ করে দিয়েছেন, যার প্রতিদান দেবার সাধ্য আমাদের নেই।' আমি জানতে চাইলাম, 'আমি তোমাদের কী কাজ করে দিয়েছি?' ওরা বলল, 'যে সাপটি আপনার সামনে ইন্তেকাল করেছেন তিনি ছিলেন সেইসব শেষ জ্বিনদের অন্তর্গত যাঁরা মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বায়আতের সৌভাগ্য হাসিল করেছিলেন। (৪)

টিকাঃ
(৪) ইবনে আবিদ দুনইয়া, ৩৫, পৃষ্ঠা ৩৯। হিলইয়া, আবু নুআইম, ২:৩০৪। দালায়িলুন নুবুয়ত, আবু নুআইম ইস্পাহানী, ২: ১২৭।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 মহানবীর (সাঃ) কাছে এসেছিল জিনদের কয়েকটি প্রতিনিধি দল

📄 মহানবীর (সাঃ) কাছে এসেছিল জিনদের কয়েকটি প্রতিনিধি দল


আকামুল মার্জ্জানের গ্রন্থকার ইমাম শিবলী (রহঃ) বলেছেন, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, হিজরতের পর মক্কা ও মদীনায় মহানবী (সাঃ)-এর কাছে জ্বিনদের প্রতিনিধিদল কয়েকবার এসেছিল।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 আসমান থেকে শয়তানদের তথ্য চৃনি বন্ধ হলো কবে থেকে

📄 আসমান থেকে শয়তানদের তথ্য চৃনি বন্ধ হলো কবে থেকে


হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন:
انْطَلَقَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي طَائِفَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ عَامِدِينَ إِلى سُوقِ عِكَاظٌ وَقَدْ حِيلَ بَيْنَ الشَّيَاطِينِ وَبَيْنَ خَيْرٍ السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْهِمُ الشُّهُبُ فَرَجَعَتِ الشَّيَاطِينُ إِلَى قَوْمِهِم فَقَالُوا حِيلَ بيننا وبين خبر السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْنَا الشُّهُبُ . قَالُوا مَا حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَيْرِ السَّمَاءِ إِلَّا شَيْ حَدَثَ ، فَاضْرِبُوا مشارق الأرْضِ وَمَغَارِبَهَا فَانْظُرُوا مَا هَذَا الَّذِي حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَيْرِ السَّمَاءِ فَانْطَلَقُوا يَضْرِبُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا - فَانْصَرَفَ أُولَئِكَ النَّفَرُ الَّذِينَ تَوَجَّهُو نَحْوَتِهَا مَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِنَخْلَةٍ وَهُوَ يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ صَلوةَ الفجر . فَلَمَّا سَمِعُوا الْقُرْآنَ إِسْتَمِعُوا إِلَيْهِ فَقَالُوا هَذَا وَاللَّهِ الَّذِي حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَيْرِ السَّمَاءِ فَهُنَالِكَ لَمَّا رَجَعُوا إِلَى قَوْمِهِمْ قَالُوا : إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَأَمَنَّا بِهِ وَلَنْ تُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَداً -
জনাব রসূলুল্লাহ সা একবার তাঁর সাহাবীদের নিয়ে উকাযের বাজারের উদ্দেশে রওয়ানা হন। সেই সময় শয়তানদের সামনে আসমানে যাওয়া ও সেখান থেকে খবরাদি সংগ্রহ করে আনার কাজে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিল। এবং তাদের উপর উল্কাপিণ্ড নিক্ষিপ্ত হল। সেই শয়তানরা যখন তাদের সম্প্রদায়ের কাছে গেল, বলল : তোমাদের এবং আসমানের খবরাদি সংগ্রহের মধ্যে কোন জিনিস বাধা হতে পারে না। মনে হচ্ছে, কোনও নতুন কিছু ঘটেছে। তোমরা পৃথিবীর পূর্বে-পশ্চিমে, চতুর্দিকে ঘোরাঘুরি করো এবং দেখ যে, কোন্ জিনিস তোমাদের ও আসমানের খবর সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং তারা (বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে) পৃথিবীর পূর্বে, পশ্চিমে অনুসন্ধান করতে লাগল। তাদের মধ্যে একটি দল 'তিহামার' দিকে ঘুরতে ঘুরতে রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর দিকে এল। তিনি সেই সময় আপন সাহাবীদের নিয়ে 'নাখলা' নামক স্থানে ফজরের নামায পড়ছিলেন। জ্বিনের দলটি নবীজীর মুখে কোরআন পাক শুনে তাঁর প্রতি মনোযোগী হল। এবং বলতে লাগল: আল্লাহর কসম! এই সে বিষয়, যা তোমাদের ও আসনমানের তথ্য সংগ্রহের মধ্যে রাখা হয়েছে। এরপর তার নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলতে লাগল : হে আমাদের (জ্বিন) সম্প্রদায়! 'আমরা তো এক বিস্ময়কর কোরআন শুনেছি, যা সঠিক পথনির্দেশ করে, তাই আমরা এতে ইমান এনেছি এবং আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের সাথে কোনও শরীক স্থাপন করবো না। (৫)

টিকাঃ
(৫) বুখারী শরীফ, কিতাবুল আযান, বাব ১০৫: কিতাবুত তাফসীর, তাফসীর সূরাহ্ ৭২। সহীহ মুসলিম, কিতাবুস্ সলাহ্, হাদীস নং ১৪৯। সুনানে তিরমিযী, তাফসীর সূরাহ্ ৭২।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 বিশ্বনবীর (সাঃ) সঙ্গে নাসীবাইনের জিন প্রতিনিধিদের मुलाকাত

📄 বিশ্বনবীর (সাঃ) সঙ্গে নাসীবাইনের জিন প্রতিনিধিদের मुलाকাত


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন : (একবার) আহলে সুফফার লোকদের মধ্যে সকলকে কেউ না কেউ খাওয়ানোর জন্য নিয়ে গেছে। থেকে গেছি আমি একা। আমাকে কেউ নিয়ে যায়নি। আমি মসজিদে বসেছিলাম। এমন সময় জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) এলেন। তাঁর হাতে ছিল খেজুরের ছড়ি। তা দিয়ে তিনি আমার বুকে (মৃদু) আঘাত করলেন এবং বললেন, 'আমার সাথে চলো।' এর পরে তিনি রওয়ানা হলেন। আমিও তাঁর সঙ্গী হলাম। যেতে যেতে আমরা 'বাকীয়ে গকুদ্‌' পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। ওখানে তিনি নিজের ছড়ি দিয়ে একটা রেখা টানলেন এবং বললেন, 'এর মধ্যে বসে যাও, আমি না ফিরে আসা পর্যন্ত এখানেই থাকবে।' এরপর তিনি চলতে শুরু করলেন। আমি তাঁকে খেজুর-ঝাড়ের ভিতর দিয়ে দেখতে থাকলাম। শেষ পর্যন্ত একটা কালো কুয়াশা ছেয়ে যেতে আমার ও তাঁর যোগাযোগ কেটে গেল। আমি (নিজের জায়গায় বসেই) শুনতে পাচ্ছিলাম, নবীজী তাঁর ছড়ি ঠুকছিলেন এবং বলছিলেন, 'বসে যাও, বসে যাও।' অবশেষে সকাল হতে শুরু হ'ল। কুয়াশা উঠতে লাগল। 'ওরা' চলে গেল এবং মহানবী (সাঃ) আমার কাছে এলেন। বললেন, 'তুমি যদি ওই বৃত্ত থেকে, আমি নিরাপত্তা দেবার পরও, বের হতে, তবে ও (জ্বিন)-দের মধ্যে কেউ তোমাকে উঠিয়ে নিয়ে যেত। আচ্ছা, তুমি কিছু দেখেছিলে কি?' আমি নিবেদন করলাম, 'আমি কিছু কালো মানুষকে ধুলোমলিন সাদা পোশাকে দেখেছি।' তিনি বললেন, 'ও ছিল নাসীবাইনের জ্বিনদের প্রতিনিধি দল। ওরা আমার কাছে সফর-কালীন পাথেয় চেয়েছে। আমি ওদের (বলে) দিয়েছি, সবরকমের হাড় এবং গোবর ও নাদি।' আমি আরয করলাম, 'ওগুলো ওদের কী' কাজে লাগবে?' নবীজী বললেন, 'ওরা যে হাড়ই পাবে, তাতে সে রকমই মাংস পাবে, যে রকম মাংস হাড়টি খাওয়ার সময় ছিল এবং ওরা যে গোবর পাবে, তাতে ওরা সেই আনাজ পাবে, যা থেকে ওই গোবর হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যেন হাড় দিয়ে এস্তেন্জা না করে। (৬)

টিকাঃ
(৬) ইবনে জারীর। তাফসীর ত্ববারী। আবু নুআইম। নাসুর, রাইয়াহ্, ১: ১৪৫। তাফসীর ইবনে কাসীর, ৭ঃ ২৮২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00