📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত যাহ্হাক (রহঃ)-এর মত

📄 হযরত যাহ্হাক (রহঃ)-এর মত


হযরত যাহ্হাক্ (রহঃ)-কে জ্বিনদের সম্পর্কে এ-মর্মে প্রশ্ন করা হয় যে, জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর আগমনের পূর্বে জ্বিনদের মধ্য থেকে কেউ নবী হয়েছে কি না?
তিনি বলেন- তুমি কি আল্লাহর এই কালাম শোননি: يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ
হে জ্বিন ও মানবগোষ্ঠী! তোমাদের কাছে কি তোমার মধ্য হতে কোনও রসূল আসেনি?'
এই আয়াতে আল্লাহ্ মানুষ ও জ্বিন সম্প্রদায়ের রসূলদের কথা বলেছেন। (৪)
হযরত ইবনে জুরাইয বলেছেন, হযরত যাহ্হাক (রহঃ)-এর মতানুসারী আলেমগণ বলেছেন: আল্লাহ বলেছেন যে, জ্বিনদের মধ্যেও রসূল হয়েছে, যাদের রসূল বানিয়ে পাঠানো হয়েছিল জ্বিনদের উদ্দেশে।
এঁদের মতে, যদি একথা ঠিক হয় যে, মানবজাতির রসূল বলতে প্রকৃতই মানবীয় রসূল বোঝায়, তাহলে এর দ্বারা এও জানা যায় যে, জ্বিনজাতির রসূলও রয়েছে।

টিকাঃ
(৪) ইবনে জারীর।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 আল্লামা ইবনে হাযম (রহঃ)-এর মত

📄 আল্লামা ইবনে হাযম (রহঃ)-এর মত


আল্লামা ইবনে হাম্ (রহঃ) বলেছেন: হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগে মানুষের মধ্য হতে কোনও নবী জ্বিনদের প্রতি প্রেরিত হননি, কেননা, জ্বিনজাতি মানব সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।
কেননা রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: (পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে) প্রত্যেক নবীকে কোনও-না-কোনও বিশেষ কওমের কাছে পাঠানো হত। (৫)
ইবনে হাযম (রহঃ) আরও বলেছেন: একথা তো আমরা নিশ্চিতরূপে জানি যে ওদের সতর্ক বা ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং আল্লাহর এই বাণী (তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে কি কোনও রসূল আসেনি?) থেকেও পরিষ্কার যে, ওদের মধ্যে নবীগণের আগমন ঘটেছে।

টিকাঃ
(৫) বাক্যটি একটি হাদীসের অংশ। হাদীসটি বর্ণিত আছে এইসব কিতাবে : বুখারী, কিতাবুত্ তাইয়াম্মুম, বাব ১; কিতাবুস্ সলাহ, ৫৬, জিহাদ, বাব ১২২; তা’বীরেরুর্‌ রুউইয়া, ‘বাব ১১; আল্, ইইতিসাম বাব ১। মুসলিম, মাসজিদ, হাদীস নং ৩, ৫, ৭, ৮। তিরমিযী, কিতাবুস্ সিয়ার, বাব ৫। দারিমী, কিতাবুস্ সিয়ার, বাব ২৮। সুনানে নাসায়ী, কিতাবুল গুল্, বাব ২৬; আল্-জিহাদ, বাব ১। মুসনাদ আহমাদ, ১:৩০১: ২: ২২২, ২৬৪. ২৬৮, ৩১৪, ৩৯৬, ৪১২, ৪৫৫, ৫০১, ৩: ৩০৪; ৪:৪৪১৬, ৫: ১৬২. ২৪৮. ২৫৬। বায়হাকী, ১: ২১২, ২৪৪৩৩। তাগলীকুত তাঅলীকু, ২৫৪। আহফুস্ সাদাহ, ১:৪৮৮, ৪৮৯। ফাতহুল বারী, ১:৪৩৬, ৪৩৯, ৫৩৩। তাফসীর ইবনে কাসীর, ২: ২০, ১১২, ২৮১; ৩: ৪৯০; ৪ঃ ৩৪

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর তাফসীর

📄 হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর তাফসীর


'আকামুল মারজান'-এর গ্রন্থকার বলেছেন: হযরত যাহ্হাকের মতের সমর্থন রয়েছে হযরত আব্বাস (রাঃ) কৃত আল্লাহর এই বাণী وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ
(যমীন সপ্তাকাশের অনুরূপ)-র তাফসীরে। অর্থাৎ- যমীনও সাতটি। প্রতিটি যমীনে তোমাদের নবীর মতো একজন নবী আছেন। আদমের মতো এক আদম আছেন। নূহের মতো এক নূহ্ আছেন। ইব্রাহীমের মতো আছেন ইবরাহীম এবং ঈসার মতো ঈসা। (৬)
অধিকাংশ আলেম এর ব্যাখ্যা করেছেন এই রকম : ওরা ছিল কতিপয় জ্বিন। ওরা আল্লাহর তরফ থেকে রসূল ছিল না। কিন্তু আল্লাহ ওদের যমীনের বুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এবং ওরা মানুষের মধ্য থেকে আবির্ভূত আল্লাহর রসূলদের বাণী ও পথ-নির্দেশনা শুনেছে। তারপর আপন জ্বিন সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে তাদেরকে সতর্ক করেছে।

টিকাঃ
(৬) ইবনে জ্বারীর। ইবনে আবী হাতিম। হাকিম, সিহাহ্। শুআবুল ঈমান, বায়হাকী। মুস্তাদ্রক হাকিম, ২:৪৯৩।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 আল্লামা শিবলী (রহঃ) ও ইমাম কালবী (রহঃ)

📄 আল্লামা শিবলী (রহঃ) ও ইমাম কালবী (রহঃ)


আমি (আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ)) বলছি, আল্লামা শিবলী (রহঃ) ও ইমাম কালুবী (রহঃ) বলেছেন : হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমনের পূর্বে নবীগণ প্রেরিত হতেন মানব সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রেরিত হয়েছেন জ্বিন ও ইনসান উভয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে। (৭)

আল্লামা যামাখশারী (রহঃ) বলেছেন : এই কথায় ইমাম যাহ্হাকের সমর্থন নেই যে, জ্বিনদের থেকেও রসূল হয়েছে, বরং এর অর্থ এই যে, মানব সম্প্রদায়ের রসূল ওদের মধ্যে বিশেষ কিছু জ্বিনকে বিশেষভাবে নির্দেশ দিতেন, গোটা জ্বিন সম্প্রদায়কে সম্বোধন করতেন না। যেমন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কাছে কিছু জ্বিন হাজির হলে তিনি তাদের সামনে ইসলামের কথা পেশ করেছেন। অর্থাৎ জ্বিনরা সরাসরি অথবা কিছু কিছু মুমিন মানুষের মাধ্যমে নবী-রসূলদের কথা শুনত। (৮)

টিকাঃ
(৭) শিবলী, ফী ফাতাওয়া। কালুবী, ফী মাহিকাতুয যামাখশরী।
(৮) তাফসীরে কাশশাফ্, যামাখশারী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00