📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 জিনদের মধ্যে বেশি খারাপ ফিরকা ‘শীআহ্’

📄 জিনদের মধ্যে বেশি খারাপ ফিরকা ‘শীআহ্’


ইমাম আ'মাশ (রহঃ) বলেছেন: আমাদের এলাকায় বিয়ে করেছিল এক জ্বিন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, তুমি কোন্ খাদ্য খেতে বেশি পছন্দ কর? সে বলে, ভাত। আমি তাকে ভাত এনে দিলাম। দেখলাম, গ্রাস তো উঠছে কিন্তু (উঠানওয়ালা) কাউকে দেখা যাচ্ছে না। আমি বললাম, তোমাদের মধ্যে আমাদের মতো ফিরকাও আছে কি? সে বলল, জী হ্যাঁ। আমি জানতে চাইলাম, আচ্ছা তোমাদের মধ্যে রাফিযীদের অবস্থা কেমন? সে বলল, রাফিযীরা আমাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম ফিরকা। (১০)

টিকাঃ
(১০) আকামুল মারজান, পৃষ্ঠা ৬৯।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 আশ্চর্য ঘটনা

📄 আশ্চর্য ঘটনা


ইমাম আ'মাশ্ (রহঃ) বলেছেন: আমি এক জ্বিনের বিয়েতে 'কুই' নামক এক স্থানে উপস্থিত ছিলাম। বিয়েটি ছিল জ্বিনের সাথে এক মানুষের। জ্বিনদের জিজ্ঞাসা করা হ'ল, কোন খাদ্য তোমাদের বেশী পছন্দনীয়? ওরা বলল, ভাত তো লোকেরা জ্বিনদের কাছে ভাতের খাঞ্চা আনতে থাকছিল আর ভাত শেষ হতে থাকছিল কিন্তু (খানেঅলাদের) হাত দেখা যাচ্ছিল না। (১১)

টিকাঃ
(১১) হাওয়াতিফুল জ্বান অ আজায়িবু মা ইয়াকী আনিল জ্বান, ইমাম আবু বাকর খরায়িত্বী।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 খতরনাক জিন স্ত্রীর ঘটনা

📄 খতরনাক জিন স্ত্রীর ঘটনা


হযরত আবূ ইউসুফ সারুজী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন: একবার এক মহিলা মদীনা শরীফে এক ব্যক্তির কাছে এসে বলল, 'আমরা তোমাদের বসতির কাছে নেমেছি, অতএব তুমি আমাকে বিয়ে করে নাও।' তো লোকটি সেই মহিলাকে বিয়ে করল। রাত হলে সে নারীর রূপ ধরে স্বামীর কাছে আসত। একবার সেই জ্বিন মহিলাটি স্বামীর কাছে এসে বলল, 'আমরা এবার চলে যাব, অতএব তুমি আমাকে তালাক দাও।'
(পরবর্তীকালে) একবার সেই লোকটি মদীনা শহরের কোনও এক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তার নজরে পড়ল সেই জ্বিন মহিলাটি দানাশস্য বহনকারীদের থেকে রাস্তায় পড়ে থাকা দানা কুড়াচ্ছে। তা দেখে লোকটি বলল, 'আরে, তুমি এখানে দানা কুড়াচ্ছ?' একথা শুনে মহিলাটি তার দিকে চোখ তুলে তাকাল এবং বলল, 'তুমি কোন চোখ দিয়ে আমাকে দেখেছ?' লোকটি বলল, 'এই চোখ দিয়ে।' মহিলাটি তখন নিজের আঙ্গুল দিয়ে ইশara করল যার ফলে লোকটির চোখ উপড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়ল। (১২)

টিকাঃ
(১২) ইবনু আবিদ দুনইয়া।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 সুন্দরী জিন স্ত্রীর ঘটনা

📄 সুন্দরী জিন স্ত্রীর ঘটনা


আকামুল মারজ্বানের গ্রন্থকার আল্লামা বারুদ্দীন শিবলী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন: জনাব কাযীউল কুয্যাহ্ জালালুদ্দীন আহমদ বিন কাযীউল কুযযাহ্ হিসামুদ্দীন রাযী হানাফী বলেছেন:
আমার পিতা (কাযী হিসামুদ্দীন রাযী (রহঃ)) আপন পরিবার-পরিজনবর্গকে প্রাচ্য থেকে আনার জন্য আমাকে সফরে পাঠিয়ে দেন। যখন আমি 'বীরাহ' (একটি জায়গা) পার হলাম, তো বৃষ্টি আমাদের এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। আমি এক যাত্রীদলের সাথে ছিলাম। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ দেখি, কেউ আমাকে জাগাচ্ছে। জেগে উঠে দেখলাম, আমার কাছে মাঝারি উচ্চতার এক মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ ছিল একটা লম্বা-লম্বি ফাটলের মতো, যা দেখে আমি ঘাবড়ে গেলাম! সে বলল, 'তুমি ভয় পেওনা, আমি তোমার সাথে আমার চাঁদের মতো মেয়েকে বিয়ে দিতে এসেছি।' আমি ঘাবড়ে গিয়ে বললাম, 'আল্লাহ্ ভালো করুন।' তারপর দেখলাম, কিছু মানুষ আমার দিকে আসছে। তাদের আকৃতিও ওই মহিলার মতো। তাদের চোখও লম্বা ফাটলের মতো। তাদের সাথে এক ক্বাযীও ছিল এবং ছিল সাক্ষীও। সুতরাং ক্বাযী বিয়ের পয়গাম দিল এবং বিয়ে পড়িয়ে দিল, যা আমি (বাদ্য হয়ে) কবুল করলাম। এরপর ওরা চলে গেল এবং সেই মহিলা ফের আমার কাছে এল। এবার তার সাথে এক সুন্দরী মেয়েও ছিল। তার চোখও ছিল তার মায়ের মতো। মেয়েটির মা মেয়েটিকে আমার কাছে রেখে চলে গেল। ফলে আমার ভয়-ভীতি আর আশঙ্কা আরও বেড়ে গেল। আমি আমার সঙ্গীদের জাগানোর উদ্দেশ্যে কাঁকর ছুঁড়ে মারতে লাগলাম। কিন্তু ওদের মধ্যে কেউ উঠল না। তখন অনুনয়-বিনয় করে আল্লাহর দরবারে দু'আ-প্রার্থনা করতে লাগলাম। পরে, ওখান থেকে বেরিয়ে পড়ার সময় এল। আমরা রওয়ানা দিলাম। কিন্তু সেই মেয়েটি আমাকে ছাড়ছিল না (সেও সঙ্গে রইল)। এই অবস্থায় তিন দিন কেটে গেল। চারদিনের মাথায় সেই আগের মহিলাটি এল এবং বলল, 'সম্ভবত এই মেয়েকে তোমার পছন্দ হয়নি। মনে হয়, তুমি এর থেকে বিচ্ছেদ চাইছ।' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!' সে বলল, 'তবে একে তালাক দিয়ে দাও।' আমি তাকে তালাক দিলে সে চলে গেল। পরে আমি তাকে কখনও দেখিনি।
এই ঘটনা সম্পর্কে ক্বাযী শিহাব বিন ফায়যুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়, 'ক্বাযী জালালুদ্দীন আহমাদ কি ওই জ্বিন স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করেছিলেন?' উনি বলেন, 'না'। (১৩)

টিকাঃ
(১৩) আকামুল মারজান, পৃষ্ঠা ৬৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00