📄 হানাফী মাযহাব
হানাফী ইমামদের মধ্যে হযরত শায়খ জামালুদ্দীন সাজিস্তানী (রহঃ) বলেছেন : জাতিগত পার্থক্যের কারণে মানুষ, জ্বিন তথা সামুদ্রিক মানুষের সাথে বিয়ে করা জায়েয নয়। (৪)
টিকাঃ
(৪) মুনিয়াতুল মুফতী, শাইখ জামালুদ্দীন সাজিস্তানী।
📄 কাযীউল কুযাহ্ শারফুদ্দীন বারিযী হানাফী (রহঃ)
ক্বাযীউল কুযযাহ্ শারফুদ্দীন বারিযী (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসিত মাসআরাগুলির মধ্যে শায়খ জালালুদ্দীন আসুবী উল্লেখ করেছেন : সম্ভাব্য ক্ষেত্রে যদি কোনও মানুষ জ্বিন মহিলাকে বিয়ে করার সঙ্কল্প করে, তবে কাজটি তার জন্য বৈধ হবে না নিষিদ্ধ হবে? কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন :
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا
এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর একটি নিদর্শন এই যে- তিনি তোমাদের (শান্তির) জন্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন। (৫)
অতঃপর ইমাম বারিযী (রহঃ) সৌজন্যস্বরূপ বলেন: আল্লাহ তা'আলা স্ত্রীদেরকে মানবগোষ্ঠীর মধ্য থেকেই সৃষ্টি করেছেন, যাতে মানুষ শান্তি পায়। সুতরাং আমরা যদি জ্বিন-মানুষের বিয়েকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিই, যেমনটি ইবনে ইউনুসের বরাত দিয়ে 'শারহুল ওয়াজাইয' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তাহলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেবে। যেমন:
(১)- জ্বিনকে (পুরুষ হোক অথবা স্ত্রী) বাড়িতে থাকতে অভ্যস্ত করে তোলা যাবে কি না?
(২)- মানুষ স্বামীর পক্ষে আকৃতি বদলাতে সক্ষম-এমন জ্বিন স্ত্রীকে মানুষের আকৃতি ছাড়া অন্য আকৃতি অবলম্বনে বাধা দেওয়া কি বৈধ হবে? (কেননা বাধা দিলে স্ত্রীর অধিকার নষ্ট হবে এবং বাধা না দিলে স্বামীর মনে ঘৃণা জন্মাবে।
(৩)- বিয়ে শুদ্ধ হবার শর্তাবলীর মধ্যে 'অলী' বা অভিভাবকের অনুমতি সম্পর্কে এবং বিয়ে অশুদ্ধ হবার বিষয়াবলী থেকে মুক্ত হবার ক্ষেত্রে জ্বিন মহিলার প্রতি আস্থা রাখা যেতে পারে কি না?
(৪)- মানুষ যদি বিয়ে শুদ্ধ হবার বিষয়ে জ্বিনদের কাযীর অনুমোদন আছে কি না?
(৫)- মানুষ যদি তার জ্বিন স্ত্রীকে অপছন্দনীয় আকৃতিতে (বা অন্য কোন রূপে) দেখে এবং সেই স্ত্রী দাবি করে যে সে তারই স্ত্রী- তাহলে তখন সেই মহিলার কথা বিশ্বাস করা এবং তার সাথে যৌনমিলন করা বৈধ হবে কি না?
(৬)- মানুষ স্বামীর ঘাড়ে এই দায়িত্ব কি চাপবে যে তাকে তার জ্বিন স্ত্রীর খোরাক, যেমন হাড় প্রভৃতি, সম্ভব হোক বা না হোক যোগাড় করে দিতে হবে?
সুতরাং আল্লামা বারিযী (রহঃ) বলেছেন, মানুষের জন্য জ্বিনজাতির মেয়েদেরকে বিয়ে করা জায়েয নয়, কোরআনের এই দু'টি আয়াতের মর্মার্থের কারণেঃ
وَاللهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا (৫)
আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন। (৬)
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا (২)
তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্য একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্যে হতে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন। (৭)
جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ' (জাআলা লাকুম মিন আনফুসিকুম'- অর্থাৎ- তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরই মধ্য হতে) এর ব্যাখ্যায় মুফাস্সিরগণ বলেছেন- তোমাদের স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করা হয়েছে তোমাদের (মানুষের) জাতি, তোমাদের প্রজাতি ও তোমাদের আকৃতি-প্রকৃতি বিশিষ্ট করে। যেমন কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছেঃ
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ
তোমাদের মধ্য হতে অবশ্যই তোমাদের নিকট এক মহান রসূল এসেছে। (৮)
অর্থাৎ 'তোমাদেরই মধ্য হতে' বলতে বোঝানো হয়েছে যে, তিনিও 'মানুষ'। 'আকামুল মার্জ্জান' গ্রন্থের লেখক ক্বাযী বারুদ্দীন শিবলী (রহঃ) বলেছেন : ইমাম মালিক (রহঃ)-এর সূত্রে যে বর্ণনা ইতোপূর্বে পরিবেশিত হয়েছে, সেটি মানুষের সাথে জ্বিন মহিলার বিয়ের বৈধতার প্রমাণ দিচ্ছে কিন্তু তার বিপরীতে, অর্থাৎ জ্বিন-পুরুষের সাথে মানুষ মহিলার বিয়ের বিষয়ে নেতিবাচক কথা বলছে। সুতরাং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে জ্বিনদের সাথে আদৌ কোনও বিয়ের অনুমোদন নেই এবং (অনুমোদন না থাকার) কারণে ইসলামে ফেতনা-ফাসাদের আধিক্যও হবে না।
টিকাঃ
(৫) সূরাহ্ আর-রূম, আয়াত ২১।
(৬) সূরাহ্ আন্-নাহল, আয়াত নং ৭২।
(৭) সূরাহ্ আররূম, আয়াত নং ২১।
(৮) সূরাহ আত্-তাওবাহ্, আয়াত ১২৮।
📄 যাহিদ আল-আমা (রহঃ) এর দুআ
মারূযী বুযুর্গদের শায়খ মুহারকু (রহঃ) বলেছেন, আমি হযরত যাইদ আল-আমা (রহঃ)-কে এই দু'আ বলতে শুনেছি:
اللهم ارزقني جنية اتزوجها আল্লাহ্! আমাকে একটি জ্বিনের মেয়ে দাও, আমি তাকে বিয়ে করব।
তাঁকে প্রশ্ন করা হল, 'হে আবুল হাওয়ারী! মেয়ে জ্বিন নিয়ে কি করবেন আপনি?' তিনি বললেন, 'সে আমার সফরকালে সাথে থাকবে, যেখানে আমি থাকব সেখানে ও থাকবে। (কেননা, আমি অন্ধ, যাবতীয় কঠিন কাজে সে আমার সাহায্য করবে।)
📄 জিনদের মধ্যেও ‘ফিরকা’ আছে
ঘটনা: ইমাম আ'মাশ্ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, বাজীলাহ্ গোত্রের এক বৃদ্ধ আমাদের বলেছেন: এক যুবক জ্বিন আমাদের এক মেয়ের প্রেমে পড়ে। তারপর সে আমাদের কাছে মেয়েটিকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় এবং বলে, 'আমি বিয়ে না করে ওর সঙ্গে (অবৈধ) যৌনক্রিয়া অপছন্দ করি।' সুতরাং আমরা তার সাথে মেয়েটির বিয়ে দিই। সে আমাদের সামনে আসত। আমাদের সাথে কথা বলত। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করি, 'তোমরা কি?' সে বলে, 'আমরা তোমাদের মত উম্মত। আমাদের মধ্যেও তোমাদের মতো বংশ-গোত্র রয়েছে।' আমরা জানতে চাই, 'আচ্ছা, তোমাদের মধ্যে ফির্কাও আছে কি?' সে বলে, 'হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে কাদ্রিয়া, শীআহ্, মারজিয়াহ্ প্রভৃতি সব রকমের ফির্কা রয়েছে।' আমরা প্রশ্ন করি, 'তুমি কোন্ ফিরক্কার সাথে সম্পর্ক রাখো?' সে বলে, 'আমি মারজিয়াহ্ ফিকার অন্তর্ভুক্ত। (৯)
টিকাঃ
(৯) ইত্তিবাউস সুনান অল্-আসীর, ইমাম দারিমী।