📄 জিন মানুষের যৌথ মিলনজাত সন্তানের নাম কী
আল্লামা সাআলাবী (রহঃ) বলেছেনঃ মানুষ ও জ্বিনের যৌথ মিলনজাত বাচ্চাকে বলা হয় 'খুন্নাস'। (৬)
টিকাঃ
(৬) ফিকাতুল লুগাহ, আস্-সাআলাবী।
📄 জিনের সঙ্গমে মহিলার গোসল
আবুল মাআলী ইবনুল মানজা হামবালী (রহঃ) বলেছেনঃ যদি কোনও মহিলা বলে যে, তার কাছে জ্বিন আসে যেমন স্বামী আসে স্ত্রীর কাছে, তবে তার পক্ষে গোসল করা আব্যশিক হয় না। কতিপয় হানাফী আলেমও এরকম বলেন। কেননা এক্ষেত্রে গোসল আবশ্যিক হওয়ার শর্ত অনুপস্থিত, আর তা হল লিঙ্গপ্রবেশ ও বীর্যস্খলন। (৭)
আল্লামা বরুদ্দীন শিবলী (রহঃ) বলেছেনঃ কথাটা আপত্তিকর। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহিলার প্রতি গোসল জরুরী হওয়া উচিত। কেননা 'লিঙ্গপ্রবেশ' না ঘটলে মহিলাটি জানতে পারত না যে জ্বিন তার সাথে পুরুষের মতো সহবাস করছে।
টিকাঃ
(৭) শারহুল্ হিদায়াহ, আবুল মা'আলী ইবনুল মানজা হাম্বালী (রহঃ)।
📄 রানী বিলকীসের মা ছিল জিন
কথিত আছে: বিলকীসের মা-বাপের মধ্যে একজন ছিল জ্বিন। ইবনুল কালবী বলেছেন, বিলকীসের বাপ জ্বিনদের মেয়েকে বিয়ে করেছিল, যার নাম ছিল 'রেহানা বিনতে সুকুন' এরই গর্ভে বিলকীসের জন্ম হয়, এর নাম রাখা হয় 'বিলকিমাহ্'। বর্ণিত আছে যে বিলকীসের পায়ের সামনের অংশ ছিল চতুষ্পদ। পশুদের খুরের মতো এবং তার গোড়ালিতে লোমও ছিল। হযরত সুলাইমান (আঃ) তাকে বিয়ে করেছিলেন এবং শয়তানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তোমরা গোসলখানা ও লোম-বিন্নাশক পাউডার বানাও। (৮)
আমি (আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ)) বলছি-- হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
------- اَحدَ اَبَوَيْ بِلْقِيسَ كَانَ جِنِّيّا
বিল্কীসের পিতা-মাতার মধ্যে একজন ছিল জ্বিন। (৯)
হযরত মুজাহিদ (রহঃ) বলেনঃ সাবার রানী (বিলকীস)-এর মা ছিল জ্বিন। (১০)
হযরত যুবাইর বিন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেনঃ বিলকীসের 'মা ফারিআহ্' ছিল জ্বিন ।(১১)
হযরত ইবনে জুরাইজ (রহঃ) বলেনঃ বিলকীসের মা ছিল 'বিলফানাহ্'। (১২)
হযরত উসমান বিন হাযির (রহঃ) বলেনঃ বিলকীসের মা ছিল জ্বিনদের অন্তর্গত এবং তার নাম ছিল 'বিলকিমাহ্ বিনতে সাইসান'। (১৩)
ইবনে আসাকির (রহঃ) একজন জ্বিনকে এ মর্মে প্রশ্ন করেন যে সাবার রানী বিলকীসের মা-বাপের মধ্যে কোনও একজন জ্বিন ছিল কি? জ্বিনটি উত্তর দেয়, জ্বিনরা বাচ্চা দেয় না। অর্থাৎ মানুষ মহিলা জ্বিন পুরুষের মিলনে গর্ভবতী হয় না। (১৪)
টিকাঃ
(৮) ইবনুল কালবী।
(৯) কিতাবুল উযমাহ্, আবূ আশ্-শাঈখ, ইবনে মারদুইয়াহ্। ইবনে আসাকির মীযানুল-ইইতিদাল, ৩১৪৩। কান্যুল উম্মাল, ২৯১৬। কামিল, ইবনে আদী, ১২০৯।
(১০) ইবনে আবী শাঈবাহ। ইবনুল মুনযির।
(১১) ইবনে আবী হাতিম।
(১২) ইবনে আবী হাতিম।
(১৩) হাকীম, তিরমিযী। নাওয়াদিরুল উসূল। ইবনে মারদুইয়াহ।
(১৪) ইবনে আসাকির।
📄 মানুষের মধ্যে জিনের মিশাল
হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ فِيكُمْ مُغْرَبِينَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا الْمُغْرَبُونَ ؟ قَالَ الَّذِينَ يَشْتَرِكُ فِيهِمُ الْجِنُّ
নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে মুগ্রবীন আছে। নিবেদন করা হল, হে আল্লাহর রসূল! মুগ্রবীন কারা? তিনি বললেন- যেসব মানুষের মধ্যে জ্বিনেরা মিশে থাকে। (১৫)
ইবনে আসীর (রহঃ) বলেছেনঃ ওদের মধ্যে অন্য (প্রজাতির) নির্যাসও শামিল হয়ে যাবার কিংবা দূরবর্তী বংশধারায় জন্মানের কারণে ওদেরকে 'মুগ্রবীন' বলা হয়েছে। (১৬)
এও বলা হয়েছে যে, মানুষের মধ্যে জ্বিনের মিশাল থাকলে জ্বিন মানুষকে ব্যভিচারের প্ররোচনা দেয়। এই বিষয়ে আল্লাহর বাণী হলঃ (ওহে শয়তান) তুই শরীক হয়ে বা মানুষের সম্পদে ও সন্তানে। (১৭)
টিকাঃ
(১৫) হাকীম, তিরমিযী। নাওয়াদিরুল উসূল। কানযুল উম্মাল, ১৬: ৪৫৪, হাদীস নং ৪৪৯০০।
(১৬) নাহাইয়াহ্, ইবনুল আসীর, ৩: ৩৪৯।
(১৭) সূরাহ্ বানী ইস্রাঈল, আয়াত ৬৪।