📄 জেনেক জিনের আবেদন
হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেনঃ আমি একবার জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে একটি সাপ এল এবং তাঁর এক পাশে দাঁড়িয়ে গেল। আমি তাকে নবীজীর কাছাকাছি করে দিলাম। সাপটি নবীজীর পবিত্র কানে যেন চুপিচুপি কিছু বলতে লাগল। নবীজী বললেন, ঠিক আছে। তারপর সাপটি চলে গেল। তখন আমি নবীজীর কাছে ব্যাপারটি কী জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, ও ছিল এক জ্বিন। ও আমাকে বলে গেল, আপনি আপনার উম্মাত (মানুষ)-দের বলে দিন যে, ওরা যেন গোবর ও হাড় দিয়ে এসতেনজা না করে, কেননা ওই দুটো জিনিসে আল্লাহ আমাদের আহার্য রেখেছেন। (৬)
টিকাঃ
(৬) ইবনুল আরাবী কাথী।
📄 জিনদের খাদ্য হাড়, কয়লা, গোবর
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে জ্বিনদের এক প্রতিনিধি দল এসে বলল, হে মুহাম্মদ (সাঃ)! আপনার উম্মতরা যেন হাড়, গোবর ও কয়লা দিয়ে এসতেন্ন্জা না করে, কেননা আল্লা তা'আলা ওগুলোয় আমাদের রিযিক নির্ধারিত করে দিয়েছেন। (৭)
টিকাঃ
(৭) আবূ দাউদ, ১ঃ ৬, কিতাবুত তাহারাত, বাব ২০, সহীহ বুখারী, মানাকিবুল আন্সার, বাব ৩২।
📄 জিন দলের সাথে মহানবীর (সাঃ) সাক্ষাৎ ও খাদ্য উপহার
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: (একবার) জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) হিযরতের আগে মক্কার পার্শ্ববর্তী এলাকায় গেলেন এবং আমার জন্য একটি রেখা টেনে দিয়ে বললেন, 'আমি না আসা পর্যন্ত কারও সাথে কোনও কথা বলবে না এবং কোনও কিছু দেখে একটুও ঘাবড়াবে না।' তারপর তিনি কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বসলেন। তখন (দেখলাম) নবীজীর (সাঃ) সামনে একদল কালো মানুষ জমা হয়ে গেল। তারা যেন যিত্বর গোত্রের লোক (অর্থাৎ অত্যন্ত কালো)। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন- كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا - 'বহুসংখ্যক জ্বিন (কোরআন শোনার জন্য) নবীর কাছে ভীড় জমিয়েছে। (৮) 'এরপর নবীজীর কাছ থেকে চলে গেল। আমি শুনেছি, ওরা বলছিল, 'হে আল্লাহর রসূল (সাঃ)! আমাদের দেশ বহু দূরে। এখন আমরা রওনা হচ্ছি। আপনি আমাদের পাথেয় (স্বরূপ কিছু) দান করুন।' তখন নবীজী বলেন, 'তোমাদের খাদ্য হলো গোবর (অর্থাৎ উট, ঘোড়া, গাধা, ছাগল প্রভৃতির বিষ্ঠা)। এবং তোমরা যেসব হাড়ের কাছ থেকে যাবে, সেগুলোয় তোমাদের জন্য গোস্ত লাগানো পাবে এবং গোবর তোমাদের জন্য খেজুর হয়ে থাকবে (অর্থাৎ হাড় ও গোবর জ্বিনদের জন্য গোশ্ত খেজুরের মতো স্বাদবিশিষ্ট হবে) ওরা চলে যাবার পর আমি নবীজীকে নিবেদন করলাম, 'ওরা কারা?' নবীজী বললেন, ওরা ছিল নাসীবাইন (নামে বহু দূরের এক জায়গা)-র জ্বিন।(৯)
টিকাঃ
(৮) সূরা আল-জ্বিন, আয়াত ১৯।
(৯) দালায়িলুন নুবুউয়ত, আবু নাঈম।
📄 শয়তান খানা-পিনা করে বাঁ হাতে
হযরত ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেনঃ
إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَاكُلْ بِيَمِينِهِ وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبُ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ
তোমাদের মধ্যে যখন কেউ আহার করে তখন যেন ডান হাত দিয়ে আহার করে এবং পান করার সময় যেন ডান হাত দিয়েই পান করে-কেননা শয়তান পানাহার করে বাম হাতে।(১০)
হাফিয ইবনে আবদুল বার (রহঃ) বলেছেনঃ এই হাদীসে প্রমাণ আছে যে, শয়তান খায় এবং পানও করে।
তবে একদল আলেম এই হাদীসকে রূপক বলে অভিহিত করেছেন, অর্থাৎ শয়তান বাম হাতে খেতে পছন্দ করে এবং এর দিকে ডাক দেয়। যেমন লাল রঙের বিষয়ে বর্ণনা আছে যে, লাল রঙ শয়তানের শোভা এবং কেবল মাথায় পাগড়ি বাঁধা হলো শয়তানের পাগড়ি। অর্থাৎ টকটকে লাল কাপড় পরা এবং 'শামলা' (পাগড়ির সেই প্রান্ত যা মাথার পিছন দিকে ঝোলে) না রেখে পাগড়ি পরা শয়তানী কাজ। শয়তান এ কাজ করতে প্ররোচনা দেয়। (এই বক্তব্যে যে বর্ণনার হাওয়ালা আছে তা অত্যন্ত দুর্বল। হাদীসটি এই গ্রন্থের শেষের দিকে দেওয়া হয়েছে।)
ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: আমার কাছে ও কথার কোনও মূল্য নেই। যেখানে প্রকৃত অর্থ হওয়া সম্ভব সেখানে রূপক অর্থ নেওয়া অনর্থক।
টিকাঃ
(১০) আল্-খাদিম, যারকাশী।