📄 জিন হওয়ার পদ্ধতি
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী (রঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ بِالْمَدِينَةِ جِنَّا قَدْ أَسْلَمُوا فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْ هَذَا الْعَوَامِ شَيْئًا فَأَذَنُوهُ ثَلَاثًا ، فَإِنْ بَدَالَكُمْ فَاقْتُلُوهُ
মদীনায় যে সকল জ্বিন ছিল তারা মুসলমান হয়ে গেছে। এবার থেকে তোমরা ওদের মধ্যে কাউকে দেখলে তিনবার সতর্ক করে দেবে, তা সত্ত্বেও যদি সামনে আসে, তবে তাকে কতল করে দেবে। (২)
টিকাঃ
(২) মুসলিম শরীফ, কিতাবুস্ সালাম, হাদীস নং ১৩৯, ১৪০। সুনানে আবু দাউদ শরীফ, কিতাবুল আদাব, বাব ১৬১। মুআত্তায়ে ঈমাম মালিক, কিতাবুল ইস্তিযান, হাদীস নং ৩৩। মুসনাদে ইমাম আহমাদ, ৩: ১২।
📄 জিনদের আকৃতি বদলের রহস্য
কাযী আবূ ইয়াল্লা হাম্বালী (রহঃ) বলেছেনঃ শয়তানদের এমন কোনও এখতিয়ার নেই যে তারা নিজেদের রূপ বদলাবে এবং অন্যান্য রূপ ধারণ করবে; অবশ্য একথা ঠিক যে আল্লাহ তা'আলা ওদেরকে কিছু বিশেষ কথা ও কাজ জানিয়ে দিয়েছেন, ফলে ওরা যখন সেই বিশেষ কথা ও কাজের প্রয়োগ ঘটায় তখন আল্লাহ ওদেরকে এক আকৃতি থেকে আরেক আকৃতিতে বদলে দেন।
সুতরাং 'শয়তান (ও জ্বিন) নিজের আকৃতি বদলাতে সক্ষম' বলার অর্থ, শয়তান (ও জ্বিন) তাদের জন্য নির্দিষ্ট বিশেষ কথা ও কাজের প্রয়োগ ঘটাতে সক্ষম, যার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে এক আকৃতি থেকে অন্য আকৃতিতে রূপান্তরিত করে দেন। এবং ওদের প্রকৃতিতে এই প্রক্রিয়া চলমান থাকে।
কিন্তু স্বয়ং নিজে থেকে নিজেকে বিভিন্ন আকৃতিতে প্রকাশ করা জ্বিন ও শয়তানদের পক্ষে অসম্ভব। কেননা নিজস্ব আকৃতি থেকে অন্য কোনও আকৃতিতে নিজেকে রূপান্তরিত করা মানে নিজের সৃষ্টির মূল উপাদান তথা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও বদলে দেওয়া। জ্বিন ও শয়তানদের পক্ষে এটা কীভাবে সম্ভব?
কাযী আবূ ইয়াল্লা আরও বলেছেনঃ ফিরিস্তাদের বিভিন্ন রূপধারণের ক্ষেত্রেও ওই একই কথা প্রযোজ্য। ইবলীসের সম্পর্কে বলা হয় যে, সে 'সুরাকাহ্' (নামক এক ব্যক্তি)-র রূপ ধরে বের হয়েছে এবং হযরত জিব্রাঈল (আঃ)-এর সম্পর্কে বর্ণনা আছে যে, তিনি দিহইয়া কালবী (নামক এক সাহাবী)-র রূপ ধরে আসতেন। এগুলো ওই অবস্থার সাথেই সম্পৃক্ত, যে কথা আমি উল্লেখ করেছি। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা এমন এক বাণীকে ওদের আওতাধীন করে দিয়েছেন যা উচ্চারণ করলে আল্লাহ্ ওদেরকে এক আকৃতি থেকে অন্য আকৃতিতে বদলে দেন।
📄 যাদুকর জিন ‘গাইলান’
একবার হযরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর সামনে 'গইলান' এর কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বলেনঃ কারও এই ক্ষমতা নেই যে সে আল্লাহর সৃষ্টি করা আকৃতি বদলে দিতে পারবে, কিন্তু মানবসমাজের জাদুকরদের মতো জ্বিনদেরও জাদুকর হয়, ওদের দেখলে আযান দেবে। (৩)
হযরত আবদুল্লাহ বিন উবাইদ বিন উমাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে 'গইলান'-এর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন: هُمْ سَحَرَةُ الْجِنِ- ওরা হলো জাদুকর জ্বিন। (৪)
টিকাঃ
(৩) আল্-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক, পৃষ্ঠা ৪৩০।
(৪) মাকায়িদুশ্ শায়তান, হাদীস নং ২। মাসায়িবুল ইনসান মিন মাকায়িদুশ শায়ত্বান, ইবনে মুফলিজ মুকাদ্দাসী, পৃষ্ঠা ২। আকামুল মারজান পৃষ্ঠা ৩৩।
📄 গাইলান দেখলে মানুষ কী করবে
হযরত সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেছেনঃ امِرْنَا إِذَا رَأَيْنَا الْغَيْلَانَ أَنْ تُنَادِي بِالصَّلوةِ আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আমরা গইলান দেখলে যেন আযান দিই। (৬)
টিকাঃ
(৬) মাকায়িদুশ শায়তান, হাদীস নং ১০, সনদ যঈফ, আকামুল মারজান, ৩৩, ৩৪।