📄 জিনদের সৃষ্টি হযরত আদমের (আঃ) ২০০০ বছর আগে
হযরত আবদুল্লাহ বিন উমার বিন খা-স্ব (রাঃ) বলেছেনঃ
خُلِقَ الْجِنُّ قَبْلَ آدَمَ بِاَلْفَيْ عَامٍ
জ্বিনজাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে হযরত আদমের দু'হাজার বছর আগে। (১)
টিকাঃ
(১) আল্-মুবতাদায়ে ইসহাক বিন বশীর। কোনও কোনও আলেমের মতে, হাদীসটির রাবী আবূ হুযাইফা বিন বাশার 'যঈফ' ও 'মারূকঃ মীযান আল্-ইঅতিদাল, যাহাবী।
📄 জিনেরা পৃথিবীতে বাস করত মানুষের আগে
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ জ্বিনেরা পৃথিবীতে এবং ফিরিস্তারা আসমানে থাকত। এরাই ছিল আসমান ও যমীনের অধিবাসী। প্রত্যেক আসমানে আলাদা আলাদা ফিরিস্তারা থাকত এবং প্রত্যেক আসমানবাসীর নামায, তাস্বীহ্ ও দু'আ ছিল নির্ধারিত। প্রতিটি উপরের আসমানের বাসিন্দারা তাদের নীচের আসমানবাসীদের চেয়ে বেশি দু'আ করত, বেশি নামায ও তাস্বীহ্ পড়ত। মোটকথা আসমানে বাস করত ফিরিশ্রামণ্ডলী ও যমীনের বুকে জ্বিনজাতি। (২)
টিকাঃ
(২) এটি যহরত যাহ্হাক (রহঃ)-এর সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন জুওয়াইবার বিন্ সাঈদ আবুল কাসিম বন্ধী মুফাস্স্সির, যিনি চরম পর্যায়ের 'যঈফ' রাবীঃ তাকরীবুত তাহযীব; মীযান আল্-ইঅতিদাল।
📄 আদি জিনের আকাঙ্ক্ষা
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলছেনঃ আল্লাহ তা'আলা আবূল জিন্নাত (বা জ্বিনজাতির আদিপিতা) 'সামূম'কে আগুনের শিখা দিয়ে সৃষ্টি করার পর বলেন- তুমি কিছু কামনা করো। সে বলে- 'আমার কামনা হলো এই যে, আমরা (সবাইকে) দেখব কিন্তু আমাদের যেন কেউ না-দেখে এবং আমরা যেন পৃথিবীতে অদৃশ্য হতে পারি আর আমাদের বৃদ্ধরাও যেন যুবক হয় (তারপর মারা যায়)।' অতএব তার এই কামনা পূরণ করা হয়। এজন্য জ্বিনেরা নিজেরাতো দেখতে পায়, কিন্তু অন্যদের চোখে পড়ে না এবং মারা গেলে যমীনের মধ্যে গায়েব হয়ে যায় আর জ্বিনেদের বুড়োরাও জোয়ান হয়ে মারা যায়। (৩)
টিকাঃ
(৩) অর্থাৎ মানবশিশু শেষ বয়সে বৃদ্ধ হয়ে মারা যায় কিন্তু জ্বিনেরা মারা যায় বৃদ্ধ থেকে ফের জোয়ান হবার পর।
📄 ইবলীস পৃথিবীতে বাস করছে কবে থেকে
জুওয়াইবির ও উসমান নিজেদের সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা জ্বিনজাতিকে সৃষ্টি করার পর তাদেরকে পৃথিবীতে বসবাস করার নির্দেশ দিলেন। ওরা (এই পৃথিবীতে) আল্লাহর একান্ত অনুগত হয়ে চলতে লাগল। অবশেষে, দীর্ঘকাল কেটে যাবার পর, ওরা আল্লাহ্ অবাধ্যতা শুরু করে দিল এবং খুন-খারাবী করতে লাগল। ওদের এক বাদশাহ্ ছিল, যার নাম ছিল
ইউসুফ। তাকেও ওরা মেরে ফেলল। তখন আল্লাহ ওদের উপর দ্বিতীয় আসমানের ফিরিশতাদের এক বাহিনী পাঠালেন। ওই বাহিনীকে বলা হতো 'জ্বিন'। ওদের মধ্যে ইবলীসও ছিল। ইবলীস ছিল ৪০০০ জনের সর্দার। সে আসমান থেকে নেমে এসে যমীনের সমস্ত জ্বিন সন্তানকে খতম করল এবং বাকিদের মেরে কেটে সমুদ্রের দ্বীপগুলোর দিকে তাড়িয়ে দিল। তারপর ইবলীস তার বাহিনী সমেত এই যমীনেই থাকতে লাগল। তাদের পক্ষে আল্লাহর বিধি-বিধান মেনে চলা আসান হয়ে গেল এবং তারা পৃথিবীতে বসবাস করাকে পছন্দ করল। (৪)
মুহাম্মদ বিন ইসহাক- হযরত হাবীব রিন আবী সাবিত (৫) প্রমুখের বর্ণনাসূত্রে উল্লেখ করেছেনঃ ইবলীস (শয়তান) তার বাহিনীসহ পৃথিবীতে এসে ঠাঁই নিয়েছিল হযরত আদমের থেকে চল্লিশ বছর আগে। (৬)
টিকাঃ
(৪) তাফসীর জুওয়াইবির। তাফসীর উসমান বিন আবী শায়বাহ্।
(৫) তাবিঈ, ফকীহ্, মৃত্যুসন ১১৯ হিজরী।
(৬) তারীখ মুহাম্মদ বিন ইসহাক।