📘 জীবনকে কাজে লাগান > 📄 পরিশিষ্ট : তাওবার আলোচনা

📄 পরিশিষ্ট : তাওবার আলোচনা


মৃত্যুর আগেই তাওবা করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাওবা সারা জীবনের আমল। ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেছেন, ‘রূহ কণ্ঠাগত না হওয়া পর্যন্ত, বান্দার তাওবা আল্লাহ অবশ্যই কবুল করে থাকেন।’ [৫১৩] আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ অবশ্যই সেসব লোকের তাওবা কবুল করেন, যারা মন্দ কাজ অজ্ঞতাবশত করে এরপর অনতিবিলম্বে তাওবা করে নেয়।’ [৫১৪]

‘অজ্ঞতাবশত’ মন্দ কাজ করার অর্থ হলো আল্লাহর অবাধ্য হওয়া, কারণ আল্লাহর অবাধ্য ব্যক্তি মাত্রই মূর্খ। আর ‘অনতিবিলম্বে’ বলতে মৃত্যুর পূর্বেই উদ্দেশ্য। মৃত্যু এসে গেলে এবং দৃশ্যপট উন্মোচিত হয়ে গেলে তখন আর তাওবা কোনো কাজে আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাওবা তাদের জন্য নয় যারা সারাজীবন মন্দ কাজ করে। অবশেষে তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে সে বলে, আমি এখন তাওবা করছি।’ [৫১৫]

মৃত্যুর আগেই তাওবা এবং নেক আমলের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো তোমাদের কাছে আযাব আসার আগেই।’ [৫১৮] কবরে থাকা মৃত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা এটাই—কিছু সময়ের জন্য যেন তাদেরকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় যাতে তারা তাওবা করতে পারে।

তাওবার ক্ষেত্রে মানুষের ভিন্নতা দেখা যায়। কারও কারও খাঁটি তাওবা করার সুযোগই হয় না। আবার কেউ কেউ আমৃত্যু গুনাহে লিপ্ত থেকেও শেষ সময়ে এসে তাওবা করার সুযোগ পায়। নবি ﷺ বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দার কল্যাণ চাইলে তাকে মধুমিশ্রিত করে দেন।’ এর অর্থ হলো মৃত্যুর আগে তাকে কোনো ভালো কাজ করার সুযোগ দেন এবং এ অবস্থাতেই তাকে তুলে নেন। [৫২২]

মুমিনের উচিত সর্বাবস্থায় তাওবা করতে থাকা। বার্ধক্যে উপনীত হওয়া ব্যক্তি হলো প্রসবের অপেক্ষারত নারীর মতো, যার সময় পূর্ণ হয়ে গেছে। সুতরাং তাওবা করুন। মৃত্যুর পালা আসার আগেই আল্লাহর দুয়ারে ধর্ণা দিন। সাইয়িদুল ইসতিগফার সকাল-সন্ধ্যায় পাঠকারী সে দিন মারা গেলে জান্নাতী হবে। [৫২৮]

টিকাঃ
[৫১৩] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৫৩৭; আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৬৪০৮
[৫১৪] সূরা নিসা, ৪: ১৭
[৫১৫] সূরা নিসা, ৪: ১৮
[৫১৬] সূরা ওয়াকিআ, ৫৬: ৮৩-৮৫
[৫১৭] সূরা কিয়ামাহ, ৭৫: ২৬
[৫১৮] সূরা যুমার, ৩৯ : ৫৪-৫৬
[৫১৯] সূরা মুমিনূন, ২৩: ৯৯-১০০
[৫২০] সূরা মুনাফিকূন, ৬৩: ১০-১১
[৫২১] সূরা সাবা, ৩৪: ৫৪
[৫২২] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ২১৯৪৯
[৫২৩] সূরা নিসা, ৪: ৭৭-৭৮
[৫২৪] সূরা কাহফ, ১৮: ২৯
[৫২৫] সূরা যুমার, ৩৯ : ৫৩
[৫২৬] সূরা মুমিন, ৪০: ১৮
[৫২৭] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১১
[৫২৮] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৬৩০৬
[৫২৯] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৪৩০
[৫৩০] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00