📘 জীবনকে কাজে লাগান > 📄 তৃতীয় পর্ব : ওজরের কারণে বদলি হাজ্জ ও উমরাহ

📄 তৃতীয় পর্ব : ওজরের কারণে বদলি হাজ্জ ও উমরাহ


আবূ হুরায়রা বলেছেন, দরিদ্র লোকেরা নবি ﷺ-এর কাছে এসে বললেন, ‘বিত্তবান লোকেরা তো সম্পদের মাধ্যমে উঁচু মর্যাদা এবং স্থায়ী নিয়ামাত লাভ করছেন। তারা আমাদের মতো সালাত আদায় করছেন এবং সিয়াম পালন করছেন। আবার বাড়তি অর্থের মাধ্যমে হাজ্জ, উমরাহ, জিহাদ এবং সাদাকাহ করে থাকেন, (যা আমরা পারি না)।’ এ কথা শুনে নবি বললেন,
‘আমি কি তোমাদেরকে এমন আমলের কথা বলব, যা করলে নেক কাজে যারা তোমাদের অগ্রগামী হয়ে গেছে তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছতে পারবে এবং পরবর্তীরা তোমাদের স্তরে পৌঁছতে পারবে না? (এটা করলে) নিজেদের মধ্যে তোমরাই সেরা থাকবে, তবে এ ধরনের আমল যারা করবে তাদের কথা ভিন্ন। তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার করে সুবহানাল্লাহ, আলহামদু-লিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পড়বে।’ [৩৭৩]

ইসলামে সম্পদের বিধান
আল্লাহর আনুগত্য এবং নৈকট্য অর্জনের কাজে সম্পদ ব্যয় করলে, সেটা আল্লাহর কাছে পৌঁছার মাধ্যম হয়। সচ্ছল সাহাবিরা এই সুযোগ গ্রহণ করতেন। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করেছিলেন। উসমান ইবনু আফফান তাবুক যুদ্ধের জন্য তিন শ উট এবং এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করেছিলেন। [৩৮৩]

অসচ্ছল সাহাবিদের দুঃখবোধ
দরিদ্র সাহাবিরা এসব মহৎ কাজে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপে কাঁদতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদেরও কোনো অপরাধ নেই যারা আপনার কাছে বাহনের জন্য এলে আপনি বলেছিলেন, “আমি তো তোমাদের জন্য কোনো বাহন পাচ্ছি না।” তখন তারা ফিরে গেল, আর সে-সময় তাদের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল এ দুঃখে যে, ব্যয় বহন করার মতো কোনো কিছু তাদের ছিল না।’ [৩৮৭]

এক অনন্য নিয়ামাত
অপারগতার কারণে দরিদ্র সাহাবিদের আফসোস দেখে নবি তাঁদের জন্য সহজ আমল বাতলে দিয়েছিলেন—সালাতের পর যিকর করা। নবি বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে অবহিত করব না, যেটা তোমাদের জন্য আল্লাহর পথে সোনা-রূপা ব্যয় করার চেয়েও কল্যাণকর? সেটা হলো আল্লাহর যিকর।’ [৩৯৪]

জিহাদে অংশগ্রহণ করতে না-পারা মহিলা এবং দুর্বল লোকেরা নবিজির কাছে এলে তিনি তাঁদের জানিয়েছিলেন, ‘রমাদানে একটি উমরাহ পালন করা আমার সাথে একটি হাজ্জ করার সমান।’ [৩৯৬] তেমনি জামাআতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকর করে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলে একটি পূর্ণাঙ্গ হাজ্জ ও উমরাহর সাওয়াব পাওয়া যায়। [৩৯৭]

টিকাঃ
[৩৭২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২৮৯৩
[৩৭৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৮৪৩
[৩৭৪] সূরা বাকারাহ, ২: ২৭৪
[৩৭৫] সূরা ফাতির, ৩৫: ২৯-৩০
[৩৭৬] সূরা মুনাফিকূন, ৬৩: ৯-১০
[৩৭৭] সূরা হাক্কাহ, ৬৯ : ২৮-২৯
[৩৭৮] আহমাদ, আলমামুসনাদ, হাদীস নং: ১৭৭৬৩
[৩৭৯] সূরা লাইল, ৯২ : ১৭-২১
[৩৮০] হাকিম, আলমুসতাদরাক, হাদীস নং: ৩৯৪২
[৩৮১] আবূ দাউদ, আসসুনান, হাদীস নং: ১৬৭৮
[৩৮২] হাদীসটি একাধিক কিতাবে বর্ণিত।
[৩৮৩] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৯০০
[৩৮৪] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৭০১
[৩৮৫] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৭৪৯
[৩৮৬] হাকিম, আলমুস্তদরাক, হাদীস নং: ৫৩৫৬
[৩৮৭] সূরা তাওবাহ, ৯: ৯১-৯২
[৩৮৮] সূরা বাকারাহ, ২: ১৪৮
[৩৮৯] সূরা আলি ইমরান, ৩: ১৩৩
[৩৯০] সূরা মুতাফফিফীন, ৮৩ : ২৬
[৩৯১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮১৫
[৩৯২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৭২৩২
[৩৯৩] ইবনু মাজাহ, আসসুনান, হাদীস নং: ৪২২৮
[৩৯৪] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৩৭৭
[৩৯৫] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৭৮২
[৩৯৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১২৫৬
[৩৯৭] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং ৫৮৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00