📘 জীবনকে কাজে লাগান > 📄 প্রথম পর্ব : শাওয়াল মাসের সিয়াম

📄 প্রথম পর্ব : শাওয়াল মাসের সিয়াম


আবূ আইয়ূব আনসারি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমাদান মাসে সিয়াম পালন করল, তারপর শাওয়াল মাসের ছয়টি দিন তার অনুগামী করল (অর্থাৎ ৬টি সিয়াম পালন করল), সে যেন সারা বছর সিয়াম পালন করল।’ [৩৪২]

ছয়টি সিয়াম পালনের পদ্ধতি
শাওয়াল মাসের ছয়টি সিয়াম মুসতাহাব। যারা এই মতের পক্ষে, তারা সিয়াম পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনটি বক্তব্য দিয়েছেন।
১. মাসের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে ছয়টি সিয়াম পালন করা। ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং শাফিয়ি এ মতের প্রবক্তা।
২. এই সিয়াম পালন করা যাবে পুরো মাসের যে-কোনো সময়। এক সাথেও করা যাবে আবার আলাদাভাবেও করা যাবে। ইমাম ওয়াকি এবং ইমাম আহমাদ এ মত পোষণ করেছেন।
৩. ইয়াওমুল ফিতরের পরপরই সিয়াম পালন করা যাবে না। কারণ সেগুলো পানাহারের দিন। বরং আইয়ামে বীয-এর সাথে মিলিয়ে, তার আগের তিনদিন অথবা পরের তিনদিন সিয়াম পালন করবে। এটা মা'মার এবং আবদুর রাযযাক-এর মত। আতা থেকেও এমনটা বর্ণিত হয়েছে।

রমাদানের সিয়াম এবং তার পরে শাওয়াল মাসে ছয়টি সিয়াম পালন সারা বছর সিয়াম পালনের সমতুল্য হওয়ার কারণ হলো, প্রতিটি নেককাজের সাওয়াব দশ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সাওবান বর্ণিত আছে, নবি বলেছেন, ‘রমাদানের সিয়াম দশ মাস সিয়ামের সমতুল্য। আর (শাওয়ালের) ছয়দিনের সিয়াম দুই মাস সিয়ামের সমান। সর্বসাকুল্যে হয় গোটা বছরের সিয়াম।’

ইমাম আহমাদ, নাসায়ি এবং ইবনু হিব্বান হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ হাতিম আর রাযি বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। ইমাম আহমাদ বলেছেন, এ সংক্রান্ত হাদীসগুলির মধ্যে এ হাদীসটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ।

এই সিয়াম পালনের কিছু উপকারিতা
রমাদানের পর শাওয়াল মাসে ছয়দিন সিয়াম পালনের মাধ্যমে পূর্ণ বছর সিয়াম পালনের সাওয়াব হয়। শাওয়াল এবং শাবান মাসের সিয়াম হলো ফরয সালাতের আগে-পরে সুন্নাতে মুওয়াক্কাদার মতো। এর মাধ্যমে ফরযে হয়ে যাওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ করা হবে। কিয়ামাতের দিন ফরয আমলের ঘাটতি পূরণ করা হবে নফল আমল দ্বারা। অধিকাংশ মানুষেরই ফরয সিয়ামের ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে। যার ক্ষতিপূরণের জন্য আমলের প্রয়োজন।

রমাদানে সিয়াম পালনের পর পুনরায় সিয়াম পালন করতে পারাটা রমাদানের সিয়াম কবুল হওয়ার নিদর্শন। আল্লাহর তাআলার নীতি হলো, বান্দার কোনো আমল কবুল করলে তাকে আরেকটি আমল করার তাওফীক দেন।

রমাদানের সিয়াম পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেয়। আর ইয়াওমুল ফিতরে রোজাদারদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়ে থাকে। পুরস্কার পাওয়ার পর পুনরায় সিয়াম পালন করা হলো এই নিয়ামাতের শুকরিয়া আদায়। নবি ﷺ এত বেশি সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর পা দুটি ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলো, আল্লাহ তো আপনার সমস্ত ত্রুটি মার্জনা করে দিয়েছেন (তবুও আপনি এত ইবাদাত করেন কেন)! তিনি বললেন, ‘আমি শোকগুজার বান্দা হব না?’ [৩৪৩]

টিকাঃ
[৩৪২] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৬৪
[৩৪৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৬৪৭1
[৩৪৪] সূরা বাকারাহ, ২: ১৮৫

📘 জীবনকে কাজে লাগান > 📄 দ্বিতীয় পর্ব : হজ্জের আলোচনা

📄 দ্বিতীয় পর্ব : হজ্জের আলোচনা


আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা।’ প্রশ্ন করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘মাকবুল হাজ্জ।’ [৩৪৭]

এখানে তিনটি আমলের কথা বলা হলেও বাস্তবে আমল দুটি : ১. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা এবং ২. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।

১. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা অর্থাৎ আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, নবি-রাসূল এবং শেষ-দিবসকে দৃঢ়ভাবে সত্যায়ন করা।

২. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা এ নীতি দুটির কথা আল্লাহ একাধিক স্থানে একসাথে আলোচনা করেছেন।

জিহাদের প্রকার
সর্বোত্তম জিহাদ হলো, দুশমন কাফিরের বিপক্ষে মুমিনের জিহাদ ও আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করা। জিহাদের মাধ্যমে ঈমানের কালিমা সমুন্নত হয়, ইসলামের ভূখণ্ড হয় বর্ধিত এবং মুসলিমের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় প্রকার হলো, আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য নফসের মোকাবিলা করা। নবি ﷺ বলেছেন, ‘(প্রকৃত) মুজাহিদ তো সে, যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।’ [৩৫৩]

হাজ্জ এবং মাসজিদ আবাদের ফযিলত
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের পর সর্বোত্তম আমল হলো আল্লাহর যিকর ও ইবাদাতের মাধ্যমে মাসজিদ আবাদ করা। বিশেষভাবে মাসজিদুল হারামে গমন করা এবং তাওয়াফের মাধ্যমে আবাদ করাকে আল্লাহ এক প্রকার জিহাদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সহীহ বুখারিতে আছে, নবি-কে আয়িশা বলেছিলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! জিহাদ তো শ্রেষ্ঠ আমল। তবে কি আমরা জিহাদে অংশগ্রহণ করব না?’ উত্তরে নবি বলেছেন, ‘না, বরং (তোমাদের জন্য) সর্বোত্তম জিহাদ হলো হাজ্জে মাবরূর।’ [৩৫৯]

আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে, নবি বলেছেন, ‘হাজ্জে মাবরূরের প্রতিদান কেবল জান্নাত।’ [৩৬০] এছাড়া নবি এ-ও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হাজ্জ করল এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকল, সে ওইদিনের মতো (নিষ্পাপ) হয়ে ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।’ [৩৬২]

হাজ্জে মাবরূরের নিদর্শন
১. হাজ্জের মধ্যে নেক কাজ সম্পাদন করা। নেক কাজ হলো সচ্চরিত্র। সফরে মানবিকতা হলো পাথেয় ব্যয়, সাথিদের সাথে দ্বিমত কম করা এবং আল্লাহ নারাজ না-হন এমনভাবে হাসি-মজা করা। সফরসঙ্গীদের সাথে ভালো আচরণ করা, নফল ইবাদাত থেকেও উত্তম।
২. অশালীন ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকা। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সুতরাং হাজ্জের সময় কোনো অশালীন কাজ করবে না। না গুনাহ করবে, আর না ঝগড়াঝাঁটি করবে।’ [৩৭০]

টিকাঃ
[৩৪৭] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮৩
[৩৪৮] সূরা সফ, ৬১: ১০-১১
[৩৪৯] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৫
[৩৫০] সূরা আলি ইমরান, ৩: ১১০
[৩৫১] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৩০১০
[৩৫২] সূরা আনফাল, ৮: ৩৯
[৩৫৩] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ২৩৯৫১; তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ১৬২১
[৩৫৪] সূরা তাওবাহ, ৯ : ১৮
[৩৫৫] সূরা নূর, ২৪ : ৩৬-৩৭
[৩৫৬] সূরা বাকারাহ, ২ : ১২৫
[৩৫৭] সূরা আলি ইমরান, ৩: ৯৬-৯৭
[৩৫৮] সূরা হাজ্জ, ২২: ২৬-২৭
[৩৫৯] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৫২০
[৩৬০] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৪৯
[৩৬১] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ১৯০১০
[৩৬২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৫২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৫০
[৩৬৩] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৫৫৩
[৩৬৪] সূরা আলি ইমরান, ৩ : ১৩৪
[৩৬৫] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২৮৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭০০
[৩৬৬] সূরা বাকারাহ, ২: ১৭৭
[৩৬৭] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৮২৭
[৩৬৮] সূরা হাজ্জ, ২২: ৩৬
[৩৬৯] সূরা হাজ্জ, ২২: ৩২
[৩৭০] সূরা বাকারাহ, ২: ১৯৭
[৩৭১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৫০; সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৫২১

📘 জীবনকে কাজে লাগান > 📄 তৃতীয় পর্ব : ওজরের কারণে বদলি হাজ্জ ও উমরাহ

📄 তৃতীয় পর্ব : ওজরের কারণে বদলি হাজ্জ ও উমরাহ


আবূ হুরায়রা বলেছেন, দরিদ্র লোকেরা নবি ﷺ-এর কাছে এসে বললেন, ‘বিত্তবান লোকেরা তো সম্পদের মাধ্যমে উঁচু মর্যাদা এবং স্থায়ী নিয়ামাত লাভ করছেন। তারা আমাদের মতো সালাত আদায় করছেন এবং সিয়াম পালন করছেন। আবার বাড়তি অর্থের মাধ্যমে হাজ্জ, উমরাহ, জিহাদ এবং সাদাকাহ করে থাকেন, (যা আমরা পারি না)।’ এ কথা শুনে নবি বললেন,
‘আমি কি তোমাদেরকে এমন আমলের কথা বলব, যা করলে নেক কাজে যারা তোমাদের অগ্রগামী হয়ে গেছে তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছতে পারবে এবং পরবর্তীরা তোমাদের স্তরে পৌঁছতে পারবে না? (এটা করলে) নিজেদের মধ্যে তোমরাই সেরা থাকবে, তবে এ ধরনের আমল যারা করবে তাদের কথা ভিন্ন। তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার করে সুবহানাল্লাহ, আলহামদু-লিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পড়বে।’ [৩৭৩]

ইসলামে সম্পদের বিধান
আল্লাহর আনুগত্য এবং নৈকট্য অর্জনের কাজে সম্পদ ব্যয় করলে, সেটা আল্লাহর কাছে পৌঁছার মাধ্যম হয়। সচ্ছল সাহাবিরা এই সুযোগ গ্রহণ করতেন। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করেছিলেন। উসমান ইবনু আফফান তাবুক যুদ্ধের জন্য তিন শ উট এবং এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করেছিলেন। [৩৮৩]

অসচ্ছল সাহাবিদের দুঃখবোধ
দরিদ্র সাহাবিরা এসব মহৎ কাজে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপে কাঁদতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদেরও কোনো অপরাধ নেই যারা আপনার কাছে বাহনের জন্য এলে আপনি বলেছিলেন, “আমি তো তোমাদের জন্য কোনো বাহন পাচ্ছি না।” তখন তারা ফিরে গেল, আর সে-সময় তাদের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল এ দুঃখে যে, ব্যয় বহন করার মতো কোনো কিছু তাদের ছিল না।’ [৩৮৭]

এক অনন্য নিয়ামাত
অপারগতার কারণে দরিদ্র সাহাবিদের আফসোস দেখে নবি তাঁদের জন্য সহজ আমল বাতলে দিয়েছিলেন—সালাতের পর যিকর করা। নবি বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে অবহিত করব না, যেটা তোমাদের জন্য আল্লাহর পথে সোনা-রূপা ব্যয় করার চেয়েও কল্যাণকর? সেটা হলো আল্লাহর যিকর।’ [৩৯৪]

জিহাদে অংশগ্রহণ করতে না-পারা মহিলা এবং দুর্বল লোকেরা নবিজির কাছে এলে তিনি তাঁদের জানিয়েছিলেন, ‘রমাদানে একটি উমরাহ পালন করা আমার সাথে একটি হাজ্জ করার সমান।’ [৩৯৬] তেমনি জামাআতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকর করে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলে একটি পূর্ণাঙ্গ হাজ্জ ও উমরাহর সাওয়াব পাওয়া যায়। [৩৯৭]

টিকাঃ
[৩৭২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২৮৯৩
[৩৭৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৮৪৩
[৩৭৪] সূরা বাকারাহ, ২: ২৭৪
[৩৭৫] সূরা ফাতির, ৩৫: ২৯-৩০
[৩৭৬] সূরা মুনাফিকূন, ৬৩: ৯-১০
[৩৭৭] সূরা হাক্কাহ, ৬৯ : ২৮-২৯
[৩৭৮] আহমাদ, আলমামুসনাদ, হাদীস নং: ১৭৭৬৩
[৩৭৯] সূরা লাইল, ৯২ : ১৭-২১
[৩৮০] হাকিম, আলমুসতাদরাক, হাদীস নং: ৩৯৪২
[৩৮১] আবূ দাউদ, আসসুনান, হাদীস নং: ১৬৭৮
[৩৮২] হাদীসটি একাধিক কিতাবে বর্ণিত।
[৩৮৩] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৯০০
[৩৮৪] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৭০১
[৩৮৫] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৭৪৯
[৩৮৬] হাকিম, আলমুস্তদরাক, হাদীস নং: ৫৩৫৬
[৩৮৭] সূরা তাওবাহ, ৯: ৯১-৯২
[৩৮৮] সূরা বাকারাহ, ২: ১৪৮
[৩৮৯] সূরা আলি ইমরান, ৩: ১৩৩
[৩৯০] সূরা মুতাফফিফীন, ৮৩ : ২৬
[৩৯১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮১৫
[৩৯২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৭২৩২
[৩৯৩] ইবনু মাজাহ, আসসুনান, হাদীস নং: ৪২২৮
[৩৯৪] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৩৭৭
[৩৯৫] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৭৮২
[৩৯৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১২৫৬
[৩৯৭] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং ৫৮৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00