📄 শাওয়াল মাসের পালনীয়
প্রথম পর্ব: শাওয়াল মাসের সিয়াম
আবূ আইয়ূব আনসারি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমাদান মাসে সিয়াম পালন করল, তারপর শাওয়াল মাসের ছয়টি দিন তার অনুগামী করল, সে যেন সারা বছর সিয়াম পালন করল।’ [৩৪২]
রমাদানের সিয়াম দশ মাস সিয়ামের সমতুল্য। আর (শাওয়ালের) ছয়দিনের সিয়াম দুই মাস সিয়ামের সমান। রমাদানে সিয়াম পালনের পর পুনরায় সিয়াম পালন করতে পারাটা রমাদানের সিয়াম কবুল হওয়ার নিদর্শন।
দ্বিতীয় পর্ব: হাজ্জের আলোচনা
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা।' প্রশ্ন করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।' প্রশ্ন করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, 'মাকবুল হাজ্জ।' [৩৪৭]
হাজ্জে মাবরূরের প্রতিদান কেবল জান্নাত। [৩৬০] যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হাজ্জ করল এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকল, সে ওইদিনের মতো (নিষ্পাপ) হয়ে ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। [৩৬২]
তৃতীয় পর্ব : ওজরের কারণে বদলি হাজ্জ ও উমরাহ
দরিদ্র লোকেরা নবি ﷺ-এর কাছে এসে অভিযোগ করলেন যে বিত্তবানরা অনেক সাওয়াব লুটে নিচ্ছেন। নবি ﷺ তাঁদের আমল বাতলে দিলেন। [৩৭৩] রমাদান মাসে উমরাহ পালন করা নবি ﷺ-এর সঙ্গে একটি হাজ্জ করার সমান। [৩৯৬] যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে বসে আল্লাহর যিকর করবে এবং এরপর দু'রাকাআত সালাত আদায় করবে, তার জন্য একটি হাজ্জ ও উমরাহ পালনের সাওয়াব হবে। [৩৯৭]
টিকাঃ
[৩৪২] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৬৪
[৩৪৭] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮৩
[৩৬০] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৪৯
[৩৬২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৫২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৫০
[৩৭৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৮৪৩
[৩৯৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১২৫৬
[৩৯৭] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং ৫৮৬
📄 যুল-ক্বা'দাহ মাসে পালনীয়
ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন, জনৈক সাহাবি অতিরিক্ত সিয়াম পালনের ফলে শুকিয়ে গিয়েছিলেন। নবি ﷺ তাঁকে দেখে বললেন, ‘কে তোমাকে বলেছে নিজেকে (এভাবে) কষ্ট দিতে?’ এরপর নবিজি ﷺ তাঁকে প্রতি মাসে তিনদিন এবং সম্মানিত মাসগুলিতে সিয়াম পালনের পরামর্শ দিলেন। [৩৯৮]
শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমনভাবে নিজেকে কষ্ট দিয়ে ইবাদাত করতে শারীয়াত আদেশ করেনি। আল্লাহর নবি ﷺ যে চারটি মাসকে সম্মানিত বলেছেন, যুল-কাদাহ তার অন্যতম। নবি ﷺ হাজ্জের সাথে যে উমরাহ পালন করেছিলেন, সেটা বাদে প্রতিটি উমরাহ-ই তিনি যুলকাদাহ মাসে আদায় করেন। [৪০০]
টিকাঃ
[৩৯৮] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ২০৩২৩
[৪০০] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৯৭৪-১৯৮০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৫৯
📄 যুল-হিজ্জাহ মাসে করণীয়
প্রথম পর্ব: প্রথম দশকের গুরুত্ব
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যাতে আমল করা আল্লাহর কাছে যুলহিজ্জাহ মাসের এই দশ দিনের নেক আমল থেকে বেশি প্রিয়।’ সাহাবিরা বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর পথে জিহাদ করা কি এর থেকে প্রিয় নয়?’ নবি ﷺ বললেন, ‘না, আল্লাহর পথে জিহাদও এর থেকে প্রিয় নয়। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বেরিয়ে পড়ে এবং দুটির কিছু নিয়ে আর ফিরে না-আসে, তবে ভিন্ন কথা।’ [৪০৪]
প্রথম পরিচ্ছেদ: এ দশকের আমলের ফযিলত
উপর্যুক্ত হাদীসটি থেকে এটা বোঝা যায়, অন্য যে-কোনো দিনের চেয়ে এ দশদিনের আমল আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। আর আল্লাহর কাছে যেটা প্রিয়, সেটা শ্রেষ্ঠ। এটাই স্বাভাবিক। এ দশদিন সব ধরনের নেক আমলের সাওয়াব বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই দশকের কিছু আমল নিম্নরূপ:
১. সিয়াম পালন করা: উম্মুল মুমিনীন হাফসা বলেছেন, ‘নবি ﷺ চারটি আমল কখনও ছাড়েননি। (ক) আশূরার সিয়াম, (খ) যুলহিজ্জাহর দশ দিনের সিয়াম, (গ) প্রতি মাসে তিনদিন সিয়াম এবং (ঘ) ফজরের আগে দু’ রাকাআত।’ [৪০৮]
২. রাত জেগে ইবাদাত করা: এই দশকে রাত জেগে ইবাদাত করা মুসতাহাব। যুলহিজ্জাহ শুরু হলে সাঈদ ইবনু জুবাইর একরকম সাধ্যাতীত অধ্যবসায় করতেন।
৩. বেশি বেশি যিকর: এই দিনগুলোতে বেশি বেশি যিকর করা মুসতাহাব। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং নির্দিষ্ট দিনগুলিতে তারা যেন আল্লাহর নাম স্মরণ করে।’ [৪১১] অধিকাংশ আলিমের মতে এই নির্দিষ্ট দিনগুলি হলো যুলহিজ্জাহর দশ দিন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই দশকের ফযিলত
এই দশকের একটি শ্রেষ্ঠত্ব হলো, আল্লাহ তাআলা সামষ্টিকভাবে এই দশকের এবং বিশেষভাবে এর বিভিন্ন অংশের শপথ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শপথ ফজরের। শপথ দশ রাতের।’ [৪১৪] বিশুদ্ধ মতানুসারে এখানে দশ রাত বলে যুলহিজ্জাহর দশরাত উদ্দেশ্য। আরেকটি শ্রেষ্ঠত্ব হলো, এই দশক হাজ্জের নির্দিষ্ট মাসগুলোর শেষাংশ। যে সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, ‘হাজ্জের নির্ধারিত কয়েকটি মাস আছে।’ [৪১৫]
এই দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব হলো, এ দিনগুলিতেই আল্লাহ তাআলা তাঁর নামে চতুষ্পদ প্রাণী জবাই করতে আদেশ দিয়েছেন। হাজিদের পাশাপাশি সাধারণ লোকেরা যিকর এবং কুরবানির মাধ্যমে হাজিদের সাথে শরিক হয়। নবি ﷺ সর্বোত্তম হাজ্জের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে, ‘(যাতে) উচ্চস্বরে তালবিয়াহ ও তাকবীর পাঠ করা এবং কুরবানি দেওয়া (হয়)।’ [৪১৭]
দ্বিতীয় পর্ব: আরাফাহ এবং কুরবানির দিনের ফযিলত
আরাফা হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির দিন। এদিন আরাফায় অবস্থানকারী এবং অনুপস্থিত মুসলমানদেরকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। হাজ্জ পূর্ণ হয় আরাফার দিনে আরাফায় অবস্থান করার মাধ্যমে। নবি ﷺ বলেছেন, ‘হাজ্জ হলো আরাফায় অবস্থানের নাম’। [৪২৯] এর পরবর্তী দিনটি হলো কুরবানির ঈদ বা ঈদুল আযহা। ঈদ দুটির মাঝে এটিই বড় এবং উত্তম।
আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব:
১. এ দিনেই দ্বীন এবং নিয়ামাত পরিপূর্ণ হয়েছিল।
২. আল্লাহ তাআলা কুরআনে জোড় এবং বেজোড়ের শপথ করেছেন। এ দিনটি হলো জোড় তারিখ।
৩. আরাফার দিনটি সর্বোত্তম দিন। নবি ﷺ বলেছেন, ‘আরাফার দিনটি সর্বোত্তম দিন।’ [৪৩৭]
৪. এ দিনটিতে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। [৪৩৮]
আরাফার দিনে করণীয়:
১. সিয়াম পালন করা। নবি ﷺ বলেছেন, ‘আরাফার দিনের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী বছর এবং পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।’ [৪৪০]
২. ক্ষমা এবং মুক্তির জন্য বেশি বেশি দুআ করা। নবি ﷺ বলেছেন, ‘সর্বোত্তম দুআ হলো আরাফা দিনের দুআ।’ [৪৪২]
৩. একনিষ্ঠভাবে সততার সঙ্গে বেশি বেশি কালিমা পড়া।
তৃতীয় পর্ব: তাশরীকের দিনগুলো সম্পর্কে
নুবায়শা আল-হুযালি থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেছেন, ‘তাশরীকের দিনগুলি পানাহার করা এবং আল্লাহর যিকর করার দিন।’ [৪৪৫] তাশরীকের দিনগুলি হলো ঈদের পরবর্তী তিনদিন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নির্দিষ্ট দিনগুলিতে তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো।’ [৪৪৭] এই নির্দিষ্ট দিনগুলি হলো তাশরীকের দিন।
তাশরীকের দিনগুলিতে যিকর-আযকার:
১. ফরয সালাতের পরে তাকবীর বলা।
২. কুরবানির পশু জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম নেওয়া এবং তাকবীর বলা।
৩. পানাহারের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা।
৪. সাধারণভাবে আল্লাহ তাআলার যিকর করা।
চতুর্থ পর্ব: বছরের পড়ন্ত বেলা
জাবির থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেছেন, ‘তোমরা মৃত্যু কামনা কোরো না। কারণ মৃত্যুর প্রথম ছোবল বড় ভয়াবহ। আসল সৌভাগ্য হলো বান্দার আয়ু দীর্ঘ হওয়া এবং আল্লাহ তাঁকে একাগ্রতা দান করা।’ [৪৭১] দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হওয়ার কারণে মৃত্যু কামনা করা নিষিদ্ধ। নবি ﷺ বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে ভালো লোক হলে নেক আমল বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ পাবে। পক্ষান্তরে মন্দ লোক হলে সে লজ্জিত হয়ে তাওবা করার সুযোগ লাভ করবে।’ [৪৭৬]
টিকাঃ
[৪০৪] তিরমিজি, আসসুনান, হাদীস নং: ৭৫৭; আবূ দাউদ, আসসুনান, হাদীস নং: ২৪৩৮
[৪০৮] নাসায়ি, আসসুনান, হাদীস নং: ২৪১৬
[৪০৯] আবূ দাউদ, আসসুনান, হাদীস নং: ২৪৩৭
[৪১০] সাঈদ ইবনু জুবাইরের জীবনী গ্রন্থ দ্রষ্টব্য।
[৪১১] সূরা হাজ্জ, ২২: ২৮
[৪১২] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৬৪৪৫
[৪১৩] সূরা ফাজর, ৮৯ : ২
[৪১৪] সূরা ফাজর, ৮৯ : ১-২
[৪১৫] সূরা বাকারাহ, ২: ১৯৭
[৪১৬] সূরা হাজ্জ, ২২: ২৭-২৮
[৪১৭] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৮২৭
[৪১৮] সূরা বাকারাহ, ২: ১৯৮-১৯৯
[৪১৯] সূরা বাকারাহ, ২: ২০০
[৪২০] আবূ দাউদ, আসসুনান, হাদীস নং: ১৮৮৮
[৪২১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৯৭৭
[৪২২] সহীহ বুখারি: ২/২০
[৪২৯] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৮৮৯
[৪৩০] সূরা আনআম, ৬: ১৬২
[৪৩১] সূরা ইউনুস, ১০: ২৬
[৪৩২] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৭৭৩, সহীহ
[৪৩৩] সূরা মায়িদাহ, ৫ : ৩
[৪৩৪] সূরা ফাতহ, ৪৮ : ২
[৪৩৫] সূরা মায়িদাহ, ৫: ৬
[৪৩৬] সূরা বুরূজ, ৮৫: ৩
[৪৩৭] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ১৯০৭৫
[৪৩৮] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৪৮
[৪৩৯] আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৭০৮৯
[৪৪০] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৬২
[৪৪১] আলমুসনাদ, হাদীস নং: ১৬৯৬
[৪৪২] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৫৮৫
[৪৪৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৪১
[৪৪৬] দারাকুতনি, আসসুনান, হাদীস নং: ২৪০৭
[৪৪৭] সূরা বাকারাহ, ২: ২০৩
[৪৪৮] আবূ দাউদ আসসুনান, হাদীস নং: ১৯৯৯
[৪৫০] সূরা বাকারাহ, ২: ২০৩
[৪৫১] সূরা বাকারাহ, ২: ২০৩
[৪৫২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৫২১
[৪৫৩] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৪১
[৪৫৪] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭৩৪
[৪৫৫] সূরা বাকারাহ, ২: ২০০-২০১
[৪৫৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৬৯০
[৪৫৭] সূরা নিসা, ৪: ১০৩
[৪৫৮] সূরা জুমুআ, ৬২: ১০
[৪৫৯] সূরা ইনশিরাহ, ৯৪: ৭-৮
[৪৬০] সূরা ইসরা, ১৭:৪৪
[৪৬১] সূরা নাহল, ১৬:৪৯
[৪৬২] সূরা হাজ্জ, ২২:১৮
[৪৬৩] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ১৫৬২৯
[৪৬৪] সূরা হাজ্জ, ২২: ৩৬
[৪৬৫] সূরা তুর, ৫২ : ১৯
[৪৬৬] সূরা হাক্কাহ, ৬৯ : ২৪
[৪৬৭] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২০০৩
[৪৬৮] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৫৮৩৩
[৪৬৯] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ২৮৬০
[৪৭০] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৭২৮১
[৪৭১] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ১৪৫৬৪
[৪৭২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৫৬৭১
[৪৭৩] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ২৪৭১৩
[৪৭৪] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩২৩৩
[৪৭৫] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৩১৪
[৪৭৬] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৫৬৭৩
[৪৭৭] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৬৮২
[৪৭৮] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ২৩২৯
[৪৭৯] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭২০
[৪৮০] সূরা শু'আরা, ২৬: ২০৫-২০৭
[৪৮১] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৬৪১৯
[৪৮২] ইবনু মাজাহ, আসসুনান, হাদীস নং: ৪২৩৬
📄 সৌরবর্ষের ঋতুগুলোতে করণীয়
প্রথম পর্ব: বসন্তকালের আলোচনা
আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য এ ব্যাপারে আমি সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি যে, আল্লাহ জমিনের বরকতসমূহ তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিবেন।’ জমিনের বরকত কী জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার চাকচিক্য।’ [৪৮৩] নবি ﷺ আরও বলেছেন, ‘কল্যাণ শুধু কল্যাণই বয়ে আনে। এ ধনসম্পদ তো শ্যামল সুমিষ্ট। অবশ্য বসন্ত যে সবজি উৎপাদন করে, তা ভক্ষণকারী পশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় অথবা নিকটবর্তী করে দেয়। তবে যে প্রাণী ঘাস খায়, রোদ পোহায়, জাবর কাটে, মল-মূত্র ত্যাগ করে এরপর আবার খায়, তার অবস্থা হয় ভিন্ন।’
বসন্তের সৌন্দর্য, শোভা এবং চাকচিক্যের মতোই যৌবনের পরিধিও সংক্ষিপ্ত। প্রকৃতি আমাদের আভাস দিয়ে যায়—শীতকালে সবকিছু শুকিয়ে যাওয়ার পর বসন্তকালে পুনরায় লতাপাতা গজায়, যা মৃতদের পুনরায় জীবিত করার প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ভূমিকে আপনি শুষ্ক দেখতে পান, তারপর আমি তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করলে তা শস্য শ্যামলা হয়ে আন্দোলিত ও স্ফীত হয়... এটা এ কারণে যে, আল্লাহ সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবিত করেন।’ [৪৯৭]
দ্বিতীয় পর্ব: গ্রীষ্মকালের আলোচনা
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেছেন, ‘জাহান্নামের আগুন আল্লাহর কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলল, ইয়া রব! আমার একাংশ আরেকাংশকে খেয়ে ফেলছে। আল্লাহ তখন তাকে দুটি নিঃশ্বাসের অনুমতি দিলেন। একটি নিঃশ্বাস শীতকালে এবং আরেকটি নিঃশ্বাস গ্রীষ্মকালে। এ কারণেই তোমরা গ্রীষ্মের প্রখরতা ও (শীতে) ঠান্ডার তীব্রতা অনুভব করে থাকো।’ [৫০০]
গ্রীষ্মকালে গরম স্মরণ করিয়ে দেয় জাহান্নামের উত্তাপের কথা। দুনিয়ার আগুনকে আল্লাহ তাআলা আখিরাতের আগুনের নিদর্শন বানিয়েছেন। সালাফদের অনেকেই আগুন দেখলে জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদতেন। উমার বলতেন, ‘জাহান্নামকে বেশি বেশি স্মরণ করো। কারণ তার উত্তাপ খুব ভয়ানক, গভীরতা অনেক বেশি।’
তৃতীয় পর্ব: শীতকালের আলোচনা
আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত আছে, নবি ﷺ বলেছেন, ‘শীতকাল মুমিনের জন্য বসন্ত।’ [৫০৩] এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় তাতে সিয়াম এবং রাত দীর্ঘ হওয়ায় তাতে কিয়াম করা সহজ হয়। শীতঋতু মুমিনের জন্য বসন্তকাল কারণ মুমিন ব্যক্তি তখন নির্বিঘ্নে ইবাদাত করতে পারে। শীতকালে কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে ওজু করা মর্যাদা বুলন্দ করে এবং গুনাহ মিটিয়ে দেয়। নবি ﷺ বলেছেন, ‘অসুবিধা এবং কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে ওজু করা... এটাই হলো রিবাত।’ [৫০৫]
শীতকালের একটা বিশেষত্ব হলো, এর মাধ্যমে জাহান্নামের হিমশীতল অবস্থার কথা স্মরণ হয় এবং তা থেকে পানাহ চাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সেখানে তারা কোনো শীতল (অবস্থা) ও পানীয় আস্বাদন করবে না, ফুটন্ত পানি ও গাসসাক ছাড়া।’ [৫১০] গাসসাক হলো অত্যন্ত তীব্র ঠান্ডা বা দুর্গন্ধযুক্ত পচা জিনিস।
টিকাঃ
[৪৮৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৬৪২৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১০৫২
[৪৮৪] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৯৬১
[৪৮৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২২৯৬
[৪৮৬] সূরা আদিয়াত, ১০০ : ৮
[৪৮৭] সূরা বাকারাহ, ২: ১৮০
[৪৮৮] সূরা সোয়াদ, ৩৮: ৩২
[৪৮৯] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৪৭২
[৪৯০] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭৪২
[৪৯১] সূরা আলি ইমরান, ৩:১৪
[৪৯২] সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭: ১২
[৪৯৩] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১০৫৪
[৪৯৪] সূরা কাহফ, ১৮: ৪৫
[৪৯৫] সূরা ইউনুস, ১০:২৪
[৪৯৬] সূরা হাদীদ, ৫৭:২০
[৪৯৭] সূরা হাজ্জ, ২২:৫-৭
[৪৯৮] সূরা কাফ, ৫০:৯-১১
[৪৯৯] সূরা আ'রাফ, ৭: ৫৭
[৫০০] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৬১৮; সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৫৩৭
[৫০১] সূরা ওয়াকিয়া, ৫৬: ৭৩
[৫০২] সূরা আ'রাফ, ৭:৫০
[৫০৩] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ১১৭১৬
[৫০৪] বায়হাকি, আসসুনানুল কুবরা, হাদীস নং: ৮৪৫৬
[৫০৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৫১
[৫০৬] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩২৩৫
[৫০৭] সূরা নাহল, ১৬: ৫
[৫০৮] সূরা নাহল, ১৬:৮০
[৫০৯] সূরা ইনসান, ৭৬: ১৩
[৫১০] সূরা নাবা, ৭৮: ২৪-২৫
[৫১১] সূরা সোয়াদ, ৩৮: ৫৭
[৫১২] শরীর থেকে বের হয়ে আসা রক্ত, পুঁজ বা অত্যন্ত চরম ঠান্ডা জিনিস।