📄 দ্বিতীয় পর্ব : রমাদানে দান এবং তিলাওয়াতের ফযিলত
ইবনু আব্বাস বলেছেন, 'দানশীলতায় রাসূলুল্লাহ ছিলেন অগ্রগামী। রমাদানে তাঁর দান আরও বেশি বেড়ে যেত, যখন জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। রমাদানের প্রতি রাতেই জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন পাঠ করতেন। জিবরীলের সাথে সাক্ষাতের সময় রাসূলুল্লাহ হতেন কল্যাণবাহী বাতাস থেকেও বেশি দানশীল।' [২৬০]
নবি -এর উদারতা
আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিগতভাবেই নবি-কে সর্বাধিক পরিপূর্ণ এবং উত্তম গুণ দান করেছিলেন। নবি ছিলেন সর্বাপেক্ষা উদার। তাঁর উদারতা সবধরনের দানশীলতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর যেমন উদারতা ছিল, তেমনি মালের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন মুক্তহস্ত।
নবি -এর দানশীলতা সম্পর্কে আনাস বলেছেন, ইসলাম গ্রহণ করার পর নবি -এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই প্রদান করতেন। এক ব্যক্তি নবি -এর কাছে এলে তাকে তিনি এত বেশি ছাগল দিলেন, যা দিয়ে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ হয়ে যাবে। সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া বলেছেন, 'আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ আমাকে অনেক দান করলেন। তিনি আমার দৃষ্টিতে ছিলেন সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি। অথচ আমাকে লাগাতার দিতে দিতে আমার দৃষ্টিতে তিনি সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তি হয়ে গেলেন।' [২৬৭]
নবিজির দানশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার কিছু উপকারিতা
১. সময়ের মর্যাদা এবং তাতে আমলের সাওয়াব বৃদ্ধি পাওয়া।
২. রোজাদার, ইবাদাতগুজার এবং আল্লাহর যিকরকারীকে ইবাদাতের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।
৩. রমাদান এমন একটি মাস যাতে আল্লাহ বান্দাকে রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।
৪. সিয়াম এবং সাদাকাহ একসাথে হলে জান্নাত লাভ আবশ্যক হয়ে যায়। [২৭৪]
৫. সিয়াম এবং সাদাকাহ একসাথে হলে, তা গুনাহের কাফফারা হওয়ার জন্য অধিক কার্যকর।
৬. সাদাকার দ্বারা সিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা হয়।
৭. সিয়াম পালনকারী নিজে ইফতার করার সময় অপর রোজাদারকে ইফতার করানো শারীয়াতসম্মত।
নিশিতে কুরআন তিলাওয়াত
রমাদান মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা মুসতাহাব হওয়ার প্রমাণ হাদীসে পাওয়া যায়। ফাতেমা বলেছেন, নবি তাঁকে জানিয়েছিলেন, জিবরীল প্রতি বছর তাঁকে একবার কুরআন পড়ে শোনাতেন। আর ইন্তেকালের বছর দুবার পড়ে শুনিয়েছিলেন। [২৭৬]
নবি -এর সাথে সালাত আদায় করেছিলেন হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু। যাতে নবি পর্যায়ক্রমে সূরা বাকারাহ, সূরা নিসা এবং সূরা আলি ইমরান তিলাওয়াত করেন। প্রতিটি ভীতিসংক্রান্ত আয়াতে থেমে থেমে তিনি দুআ করছিলেন।[২৮০]
আদর্শ কুরআন-পাঠকের পরিচয়
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ কুরআনের পাঠককে চেনার সাতটি উপায় বলেছেন। সেগুলো হচ্ছে: ১. মানুষ যখন ঘুমায় তখন তার রাত কাটে বিনিদ্র, ২. মানুষ যখন সিয়ামহীন থাকে তখন তার দিন হয় সিয়ামপূর্ণ, ৩. মানুষ যখন হাসাহাসি করে তখন সে কাঁদে, ৪. মানুষ যখন মেলামেশা করে তখন সে নির্জনতা অবলম্বন করে, ৫. মানুষ গল্পগুজব করলে সে থাকে নীরব, ৬. মানুষ অহংকার করলে সে বিনয়ী হয় এবং ৭. মানুষের আনন্দ ফুর্তির সময় সে থাকে বিষণ্ণ।
টিকাঃ
[২৬০] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৩৮৩
[২৬১] সূরা বাকারাহ, ২: ১৮৬
[২৬২] হাকিম, আল মুসতাদরাক, হাদীস নং: ৪২২১
[২৬৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৬০
[২৬৪] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩০৭; সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২৯০৮
[২৬৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩১২
[২৬৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩১২
[২৬৭] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩১৩
[২৬৮] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২৮২১
[২৬৯] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২২৯৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩১৪
[২৭০] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১২৭৭
[২৭১] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৫৯৬
[২৭২] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৮০৭
[২৭৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১২৮৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৯২৩
[২৭৪] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ১৯৮৪
[২৭৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১০২৮
[২৭৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৪৫০।
[২৭৭] সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩: ৬
[২৭৮] সূরা বাকারাহ, ২: ১৮৫
[২৭৯] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৭২
[২৮০] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৭২
[২৮১] আবূ দাউদ, আস-সুনান, হাদীস নং: ১৩৯৮
[২৮২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৭০৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৪৬৭
[২৮৩] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৬৬২৬; হাকিম, আলমুসতাদরাক: ১/৭৪০
[২৮৪] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ২০১৬৫; সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৩৮৬
📄 তৃতীয় পর্ব : মধ্য-রমাদান এবং শেষার্ধের আলোচনা
আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ রমাদানের মধ্য দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর তিনি এমন ইতিকাফ করলেন। অবশেষে একুশের রাত এল। যে রাতের সকালে তিনি বললেন,
'যারা আমার সঙ্গে ইতিকাফ করছে, তারা যেন শেষ দশক (অবধি) ইতিকাফ করে। আমাকে এই রাত (অর্থাৎ লাইলাতুল কদর) দেখানো হয়েছিল। পরে আবার (সঠিক তারিখটি) ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আমি দেখতে পেয়েছি, ওই রাতের সকালে আমি কাদাপানির মাঝে সিজদাহ করছি। অতএব তোমরা তা শেষ দশকে এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করো।' [২৮৫]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ রমাদান মাসের প্রথম দশকে ইতিকাফ করলেন। এরপর মাঝের দশকেও একটি ছোট তাঁবুর মধ্যে তিনি ইতিকাফ করলেন। এরপর কেউ একজন এসে আমাকে বলল, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে আছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন (শেষ পর্যন্ত) ইতিকাফ করে।' [২৮৬]
বদর-যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
রমাদানের ১৭ তারিখ নবি -এর নুবুওয়াতের সূচনা হয়েছিল। এ রাতের দিনটি হলো ইয়াওমুল ফুরকান এবং দু'দলের মুখোমুখি হওয়ার দিন। মুসলিমরা ছিলেন ৩১০ জনের কিছু বেশি। তাঁদের সাথে ছিল সত্তরটির মতো উট। আল্লাহর নবির সাথে জিহাদে অংশ নিতে না পারায় কিছু দরিদ্র সাহাবি কান্নাকাটি করেছিলেন। ১৭ই রমাদানের জুমুআর সেই রাতটি নবিজি সালাত আদায়, কান্না এবং শত্রুর বিপক্ষে সাহায্য চেয়ে দুআর মধ্যে কাটিয়ে দিলেন। [২৯১]
রমাদান মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা এবং সিয়ামের মাধ্যমে খাহেশাতের অগ্নি নির্বাপিত করা হলে প্রবৃত্তির ক্ষমতা খর্ব হয়। সহীহ বুখারিতে আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'রমাদান মাস এলে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো করে দেওয়া হয় বন্ধ। আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।' [২৯৮]
ইমাম তিরমিযি এবং ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন যে, নবি বলেছেন,
'রমাদান মাসের প্রথম রাতেই শয়তান এবং দুষ্ট জিনদের শিকলবন্দি করে ফেলা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর একটি দরজাও তখন আর খোলা হয় না। (অপরদিকে) জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। এর একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে, 'হে কল্যাণকামী! সামনে অগ্রসর হও। হে পাপাচারী! থেমে যাও।' আর আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয়। (রমাদানের) প্রত্যেক রাতেই এমনটা চলতে থাকে।' [৩০০]
টিকাঃ
[২৮৫] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০২৭
[২৮৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৬৭
[২৮৭] সূরা হাশর, ৫৯: ৮
[২৮৮] সূরা হাজ্জ, ২২: ৩৯-৪০
[২৮৯] হাকিম, আল-মুসতাদরাক, হাদীস নং: ৪২৯৯
[২৯০] সূরা মায়িদা, ৪: ২৪
[২৯১] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ১০২২
[২৯২] সূরা আনফাল, ৪: ১০
[২৯৩] সূরা আনফাল, ৮: ১৭
[২৯৪] সূরা আনফাল, ৮: ৬৬
[২৯৫] সূরা আহযাব, ৩৩: ৯
[২৯৬] সূরা আহযাব, ৩৩: ২৫
[২৯৭] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৮১২
[২৯৮] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৮৯৯
[২৯৯] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১০৭৯
[৩০০] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৬৮২; ইবনু মাজাহ, আসসুনান, হাদীস নং: ১৬৪২
[৩০১] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৭৯১৭
[৩০২] সূরা কাদর, ৯৭: ৪-৫
[৩০৩] সূরা হাশর, ৫৯ : ২
📄 চতুর্থ পর্ব : রমাদানের শেষ দশকের আলোচনা
আয়িশা বলেছেন, 'রমাদানের শেষ দশক আসলে নবি শক্ত করে কোমর বাঁধতেন। রাতে নিজে জেগে থাকতেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।' [৩০৪] আয়িশা আরও বলেন, 'রাসূলুল্লাহ রমাদানের শেষ দশক (ইবাদাতে) এমনভাবে সচেষ্ট থাকতেন, অন্য সময়ে ততটা থাকতেন না।' [৩০৫]
নবিজির আমল
রমাদানের শেষ দশকে নবি অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি বেশি আমল করতেন। এ সময়টাতে যেসব আমল তিনি করতেন:
১. রাতে জেগে ইবাদাত করা।
২. পরিবারের লোকদের জাগিয়ে দেওয়া।
৩. নবি শক্ত করে কোমর বাঁধতেন (অর্থাৎ স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকতেন)।
৪. মাগরিব এবং ইশার সালাতের মাঝে গোসল করা।
৫. ইতিকাফ করা।
স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক করার জন্য সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াই ইতিকাফের মর্ম। উম্মাতে মুহাম্মাদীর জন্য শারীয়াত অনুমোদিত নির্জনবাস হলো মাসজিদে ইতিকাফ করা। নবি ইন্তেকাল পর্যন্ত রমাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। [৩১৩]
আল্লাহ তাআলা বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আপনি কী জানেন? লাইলাতুল কদর হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ।' [৩১৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন, 'যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদাত করে, তার পেছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।' [৩১৭]
টিকাঃ
[৩০৪] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০২৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৭৪
[৩০৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৭৫
[৩০৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৪৬
[৩০৭] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৭২১১
[৩০৮] সূরা ত্বা-হা, ২০: ১৩২
[৩০৯] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৭৪
[৩১০] সূরা বাকারাহ, ২: ১৮৭
[৩১১] সূরা আ'রাফ, ৭: ৩১
[৩১২] সূরা আ'রাফ, ৭: ২৬
[৩১৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০২৬
[৩১৪] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০৪৪
[৩১৫] সূরা কাদর, ৯৭: ১-৩
[৩১৬] মুওয়াত্তা মালিক, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩২১
[৩১৭] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৯০১
📄 পঞ্চম পর্ব : রমাদানের আখেরি সাত রাত
আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, নবি -এর কয়েকজন সাহাবিকে স্বপ্নযোগে রমাদানের শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ বললেন, 'তোমাদের দেখা তো দেখছি আমার দেখা শেষ সাত রাতের ক্ষেত্রে মিলে গেছে। অতএব যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরের সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে সন্ধান করে।' সহীহ মুসলিমে ইবনু উমার থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'তোমরা রমাদানের শেষ দশদিনে কদরের রাত তালাশ করো। তোমাদের কেউ দুর্বল বা অপারগ হয়ে পড়লে শেষ সাত রাতে যেন অলসতা না করে।' [৩১৮]
অধিকাংশ আলিমের মতে, শেষ দশকের রাতগুলিতেই লাইলাতুল কদর হয়ে থাকে। বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলিই বেশি সম্ভানাময়। উবাই ইবনু কা'ব শপথ করে ২৭ তারিখ লাইলাতুল কদর হওয়ার কথা বলতেন। ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, একজন লোক নবি -এর কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর নবি! আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। সালাতে দাঁড়িয়ে থাকা আমার জন্য কষ্টকর। এখন আপনি আমাকে এমন একটি রাতের কথা বলে দিন, যাতে আল্লাহর তাওফীকে আমি লাইলাতুল কদর পাব।' নবিজি বললেন, 'তুমি ২৭শের রাতে ইবাদাত কোরো।' [৩২২]
লাইলাতুল কদরের আমল
নবিজি -কে আয়িশা বলেছিলেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই, তবে কী দুআ করব?' নবিজি বললেন, তুমি বলবে:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
'ইয়া আল্লাহ! আপনি তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে আপনি ভালোবাসেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।' [৩২৪]
টিকাঃ
[৩১৮] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৬৫
[৩১৯] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৬৯
[৩২০] সহীহ রাবিুখ, হাদীস নং: ১২০২
[৩২১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৬২
[৩২২] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ২১৪৯
[৩২৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৯০১
[৩২৪] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৫১৩
[৩২৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৪৮৬