📘 জীবনকে কাজে লাগান > 📄 প্রথম পর্ব : সিয়ামের ফযিলত

📄 প্রথম পর্ব : সিয়ামের ফযিলত


আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন,

كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ، وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ

'আদম-সন্তানের প্রতিটি কাজই দশ থেকে সাত শ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। আল্লাহ বলেন, কিন্তু সিয়াম ব্যতীত। কেননা তা আমার জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেবো। সে আমার সন্তুষ্টির জন্য খাহেশাত এবং পানাহার ত্যাগ করে। রোজাদারের জন্য দুটি খুশির সময় রয়েছে। প্রথমটি যখন সে ইফতার করে এবং অপরটি যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। রোজাদারের মুখে যে গন্ধ হয়, আল্লাহর কাছে তা মিশকের চেয়েও উত্তম।'[২৪০]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'আদম-সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য; একমাত্র সিয়াম ছাড়া। সিয়াম আমার জন্য।' [২৪১] বুখারির বর্ণনাতে এসেছে, 'প্রত্যেক আমলেরই কাফফারা আছে। সিয়াম আমার জন্য, তাই আমিই এর প্রতিদান দেব।' [২৪২]

সিয়াম এসেছে সবর তথা ধৈর্য থেকে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّبِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ

'সবরকারীদেরকে তাদের প্রতিদান কোনো রকম হিসাব ছাড়াই পূর্ণরূপে দেওয়া হবে।' [২৪৩]

সবরের প্রকার
সবর তিন প্রকার : ১. আল্লাহর হুকুম পালনে সবর, ২. আল্লাহর হারামকৃত জিনিস থেকে বিরত থাকার সবর এবং ৩. আল্লাহর ফয়সালাকৃত কষ্টের ব্যাপারে সবর। সিয়ামের মধ্যে এ তিন ধরনের সবরই পাওয়া যায়। আল্লাহর হুকুম সিয়াম পালনে সবর করতে হয়। সিয়াম পালনকারীকে আল্লাহর নিষিদ্ধ খাহেশাত পূরণ থেকে বিরত থেকে সবর করতে হয়। আরও সবর করতে হয় ক্ষুধা-পিপাসার যন্ত্রণা এবং দৈহিক-মানসিক দুর্বলতার কষ্ট স্বীকার করে। ইবাদাতের কারণে সৃষ্ট এই কষ্টের বিনিময়েও সাওয়াব মিলবে। যেমন মুজাহিদদের কষ্ট প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,

ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَا وَلَا نَصَبٌ وَلَا مَخْمَصَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَطَئُونَ مَوْطِئًا يَغِيظُ الْكُفَّارَ وَلَا يَنَالُونَ مِنْ عَدُةٍ نَّيْلًا إِلَّا كُতিবَ لَهُم بِهِ، عَمَلٌ صَالِحٌ إِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ

'কারণ আল্লাহর পথে তাদের তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধায় ক্লিষ্ট হওয়া তাদের স্পর্শ করে আর তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফিরদের মনে ক্রোধের উদ্রেক করে এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়, তার প্রতিটির পরিবর্তে তাদের জন্য নেক আমল লিখিত হয়। নিশ্চয়ই সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল আল্লাহ বিনষ্ট করেন না।' [২৪৪]

আমলের সাওয়াব বেশ কিছু কারণে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। যেমন, কাজটি সংঘটিত হওয়ার স্থান মর্যাদাময় হওয়া। যেমন, হারাম শরিফের মর্যাদা। এ কারণেই মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন নববিতে সালাত আদায়ের সাওয়াব অনেক বেশি। এটি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। নবি বলেছেন,

صَلَاةُ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاةٍ فِيمَا سِوَاهُ، إِلَّا المَسْجِدَ الحَرَامَ

'আমার এ মাসজিদে এক রাকআত সালাত আদায় করা অন্য মাসজিদে এক হাজার রাকআত সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম; তবে মাসজিদুল হারাম ছাড়া।' [২৪৫]

সময়ের মর্যাদার কারণে আমলের সাওয়াব বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। যেমন রমাদান মাস পুরোটা এবং যুলহিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ দিন। আল্লাহর কাছে আমলকারীর মর্যাদা, নৈকট্য এবং তাকওয়ার মতো আরও এমন অনেক কারণেই সাওয়াব বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। যেমন এ উম্মাতের সাওয়াব পূর্ববর্তী অন্যান্য উম্মাতের চেয়ে অনেক বেশি। তারা দ্বিগুণ করে সাওয়াব লাভ করে।

সিয়ামকে আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করার কারণ
আল্লাহ কেবল সিয়ামকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন; অন্য কোনো আমলের ক্ষেত্রে এমনটা করেননি। এর কারণ হিসেবে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি ব্যাখ্যা চমৎকার।

প্রথম ব্যাখ্যা: সিয়ামই একমাত্র ইবাদাত, যাতে নফসের সমস্ত মৌলিক চাহিদাকে স্রেফ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বর্জন করা হয়। সিয়াম ছাড়া অন্য কোনো ইবাদাতে এমনটা পাওয়া যায় না। এ কারণেই পরের বাক্যে তিনি বলছেন, 'আমার সন্তুষ্টির জন্য সে মনের খাহেশাত এবং পানাহার ত্যাগ করে।' জনৈক সালাফ বলেছেন, 'ভবিষ্যতে প্রাপ্তির আশায় যে ব্যক্তি বর্তমানের চাহিদা বিসর্জন দেয়, তাকে অভিনন্দন।'

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা : সিয়াম একান্তই আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যকার বিষয়। তৃতীয় কেউ তা জানতে পারে না। কেননা, সিয়ামে থাকে সুপ্ত নিয়ত আর গোপনে পূরণ করা সম্ভব এমন চাহিদা বর্জন। এজন্যই বলা হয়, সাওয়াব রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও সিয়ামের সাওয়াব লেখেন না।

প্রবৃত্তিকে অবদমন করার ফযিলত
(ক) অধিক পরিমাণে পানাহার ও স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে ব্যক্তি অহঙ্কারী, অবাধ্য এবং উদাসীন হয়ে যায়। প্রবৃত্তিকে অবদমন করলে তা দূর হয়।
(খ) অন্তরকে ভাবনা এবং আল্লাহর যিকরের জন্য খালি করা।
(গ) ধনী ব্যক্তি তার ওপর আল্লাহর নিয়ামাতের পরিমাণ বুঝতে পারে।
(ঘ) শয়তান আদম-সন্তানের রক্তনালী দিয়ে চলাচল করে থাকে। সিয়ামের মাধ্যমে এ পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়।

সিয়াম পালনকারীর আনন্দের ব্যাখ্যা
নবি বলেছেন, 'সিয়াম পালনকারীর জন্য আনন্দের বিষয় দুটি। একটি আনন্দ ইফতারের সময়, আরেকটি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের সময়।' [২৪৯] ইফতারের সময় সিয়াম পালনকারীর দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। [২৫১] আর রবের সাথে সাক্ষাতের সময় আনন্দ হওয়ার কারণ হলো, তখন তার সিয়ামের সঞ্চয়কৃত সাওয়াব আল্লাহর কাছ থেকে বুঝে পাবে।

সিয়াম পালনকারীরা দুটি স্তরে বিভক্ত।
প্রথম স্তর : সেসব রোজাদার, যারা জান্নাত লাভের আশায় পানাহার এবং খায়েশাত ত্যাগ করেছে। এ স্তরের রোজাদারকে জান্নাতে তাদের ইচ্ছামতো খাবার, পানীয় এবং স্ত্রী দান করা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ

‘(তাদের বলা হবে) পানাহার করো তৃপ্তির সাথে, বিগত দিনগুলোতে তোমরা যা করেছিলে তার বিনিময়ে’।[২৫৬]

দ্বিতীয় স্তর : তারা এমন রোজাদার, যারা আল্লাহ ছাড়া সবকিছু থেকেই বিরত থাকে। তারা নিজেদের মস্তিষ্ক এবং চিন্তাশক্তিকে হেফাজত করে। তাদের ঈদ হলো আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের দিন এবং তাঁর দিদার হলো আনন্দধারা।

টিকাঃ
[২৪০] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯০৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫১।
[২৪১] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯০৪।
[২৪২] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫৩৮।
[২৪৩] সূরা যুমার, ৩৯ : ১০
[২৪৪] সূরা তাওবা, ৯: ১২০
[২৪৫] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৯৪।
[২৪৬] সূরা ইউসুফ, ১২: ৩৩
[২৪৭] সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১৯০৩।
[২৪৮] ইবনু মাজাহ, আসসুনান, হাদীস নং: ১৬৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমা, হাদীস নং: ১৯৯৭; সহীহ ইবনু হিব্বান, হাদীস নং: ৩৪৮১।
[২৪৯] সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১৯০৪।
[২৫০] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭৩৪
[২৫১] ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৭৫৩
[২৫২] সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩: ২০
[২৫৩] সূরা আলি ইমরান, ৩: ৩০
[২৫৪] সূরা যিলযাল, ৯৯ : ৭
[২৫৫] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ২০৭৩৯
[২৫৬] সূরা হাক্কাহ, ৬৯: ২৪
[২৫৭] সহীহ বুখারি, হাদীস নং ১৮৯৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৫২
[২৫৮] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ২২৮৪২
[২৫৯] সূরা আনকাবূত, ২৯ : ৫

📘 জীবনকে কাজে লাগান > 📄 দ্বিতীয় পর্ব : রমাদানে দান এবং তিলাওয়াতের ফযিলত

📄 দ্বিতীয় পর্ব : রমাদানে দান এবং তিলাওয়াতের ফযিলত


ইবনু আব্বাস বলেছেন, 'দানশীলতায় রাসূলুল্লাহ ছিলেন অগ্রগামী। রমাদানে তাঁর দান আরও বেশি বেড়ে যেত, যখন জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। রমাদানের প্রতি রাতেই জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন পাঠ করতেন। জিবরীলের সাথে সাক্ষাতের সময় রাসূলুল্লাহ হতেন কল্যাণবাহী বাতাস থেকেও বেশি দানশীল।' [২৬০]

নবি -এর উদারতা
আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিগতভাবেই নবি-কে সর্বাধিক পরিপূর্ণ এবং উত্তম গুণ দান করেছিলেন। নবি ছিলেন সর্বাপেক্ষা উদার। তাঁর উদারতা সবধরনের দানশীলতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর যেমন উদারতা ছিল, তেমনি মালের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন মুক্তহস্ত।

নবি -এর দানশীলতা সম্পর্কে আনাস বলেছেন, ইসলাম গ্রহণ করার পর নবি -এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই প্রদান করতেন। এক ব্যক্তি নবি -এর কাছে এলে তাকে তিনি এত বেশি ছাগল দিলেন, যা দিয়ে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ হয়ে যাবে। সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া বলেছেন, 'আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ আমাকে অনেক দান করলেন। তিনি আমার দৃষ্টিতে ছিলেন সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি। অথচ আমাকে লাগাতার দিতে দিতে আমার দৃষ্টিতে তিনি সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তি হয়ে গেলেন।' [২৬৭]

নবিজির দানশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার কিছু উপকারিতা
১. সময়ের মর্যাদা এবং তাতে আমলের সাওয়াব বৃদ্ধি পাওয়া।
২. রোজাদার, ইবাদাতগুজার এবং আল্লাহর যিকরকারীকে ইবাদাতের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।
৩. রমাদান এমন একটি মাস যাতে আল্লাহ বান্দাকে রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।
৪. সিয়াম এবং সাদাকাহ একসাথে হলে জান্নাত লাভ আবশ্যক হয়ে যায়। [২৭৪]
৫. সিয়াম এবং সাদাকাহ একসাথে হলে, তা গুনাহের কাফফারা হওয়ার জন্য অধিক কার্যকর।
৬. সাদাকার দ্বারা সিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা হয়।
৭. সিয়াম পালনকারী নিজে ইফতার করার সময় অপর রোজাদারকে ইফতার করানো শারীয়াতসম্মত।

নিশিতে কুরআন তিলাওয়াত
রমাদান মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা মুসতাহাব হওয়ার প্রমাণ হাদীসে পাওয়া যায়। ফাতেমা বলেছেন, নবি তাঁকে জানিয়েছিলেন, জিবরীল প্রতি বছর তাঁকে একবার কুরআন পড়ে শোনাতেন। আর ইন্তেকালের বছর দুবার পড়ে শুনিয়েছিলেন। [২৭৬]

নবি -এর সাথে সালাত আদায় করেছিলেন হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু। যাতে নবি পর্যায়ক্রমে সূরা বাকারাহ, সূরা নিসা এবং সূরা আলি ইমরান তিলাওয়াত করেন। প্রতিটি ভীতিসংক্রান্ত আয়াতে থেমে থেমে তিনি দুআ করছিলেন।[২৮০]

আদর্শ কুরআন-পাঠকের পরিচয়
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ কুরআনের পাঠককে চেনার সাতটি উপায় বলেছেন। সেগুলো হচ্ছে: ১. মানুষ যখন ঘুমায় তখন তার রাত কাটে বিনিদ্র, ২. মানুষ যখন সিয়ামহীন থাকে তখন তার দিন হয় সিয়ামপূর্ণ, ৩. মানুষ যখন হাসাহাসি করে তখন সে কাঁদে, ৪. মানুষ যখন মেলামেশা করে তখন সে নির্জনতা অবলম্বন করে, ৫. মানুষ গল্পগুজব করলে সে থাকে নীরব, ৬. মানুষ অহংকার করলে সে বিনয়ী হয় এবং ৭. মানুষের আনন্দ ফুর্তির সময় সে থাকে বিষণ্ণ।

টিকাঃ
[২৬০] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৩৮৩
[২৬১] সূরা বাকারাহ, ২: ১৮৬
[২৬২] হাকিম, আল মুসতাদরাক, হাদীস নং: ৪২২১
[২৬৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৬০
[২৬৪] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩০৭; সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২৯০৮
[২৬৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩১২
[২৬৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩১২
[২৬৭] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩১৩
[২৬৮] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২৮২১
[২৬৯] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২২৯৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩১৪
[২৭০] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১২৭৭
[২৭১] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৫৯৬
[২৭২] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৮০৭
[২৭৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১২৮৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৯২৩
[২৭৪] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ১৯৮৪
[২৭৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১০২৮
[২৭৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৪৫০।
[২৭৭] সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩: ৬
[২৭৮] সূরা বাকারাহ, ২: ১৮৫
[২৭৯] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৭২
[২৮০] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৭২
[২৮১] আবূ দাউদ, আস-সুনান, হাদীস নং: ১৩৯৮
[২৮২] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৭০৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৪৬৭
[২৮৩] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৬৬২৬; হাকিম, আলমুসতাদরাক: ১/৭৪০
[২৮৪] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ২০১৬৫; সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৩৮৬

📘 জীবনকে কাজে লাগান > 📄 তৃতীয় পর্ব : মধ্য-রমাদান এবং শেষার্ধের আলোচনা

📄 তৃতীয় পর্ব : মধ্য-রমাদান এবং শেষার্ধের আলোচনা


আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ রমাদানের মধ্য দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর তিনি এমন ইতিকাফ করলেন। অবশেষে একুশের রাত এল। যে রাতের সকালে তিনি বললেন,

'যারা আমার সঙ্গে ইতিকাফ করছে, তারা যেন শেষ দশক (অবধি) ইতিকাফ করে। আমাকে এই রাত (অর্থাৎ লাইলাতুল কদর) দেখানো হয়েছিল। পরে আবার (সঠিক তারিখটি) ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আমি দেখতে পেয়েছি, ওই রাতের সকালে আমি কাদাপানির মাঝে সিজদাহ করছি। অতএব তোমরা তা শেষ দশকে এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করো।' [২৮৫]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ রমাদান মাসের প্রথম দশকে ইতিকাফ করলেন। এরপর মাঝের দশকেও একটি ছোট তাঁবুর মধ্যে তিনি ইতিকাফ করলেন। এরপর কেউ একজন এসে আমাকে বলল, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে আছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন (শেষ পর্যন্ত) ইতিকাফ করে।' [২৮৬]

বদর-যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
রমাদানের ১৭ তারিখ নবি -এর নুবুওয়াতের সূচনা হয়েছিল। এ রাতের দিনটি হলো ইয়াওমুল ফুরকান এবং দু'দলের মুখোমুখি হওয়ার দিন। মুসলিমরা ছিলেন ৩১০ জনের কিছু বেশি। তাঁদের সাথে ছিল সত্তরটির মতো উট। আল্লাহর নবির সাথে জিহাদে অংশ নিতে না পারায় কিছু দরিদ্র সাহাবি কান্নাকাটি করেছিলেন। ১৭ই রমাদানের জুমুআর সেই রাতটি নবিজি সালাত আদায়, কান্না এবং শত্রুর বিপক্ষে সাহায্য চেয়ে দুআর মধ্যে কাটিয়ে দিলেন। [২৯১]

রমাদান মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা এবং সিয়ামের মাধ্যমে খাহেশাতের অগ্নি নির্বাপিত করা হলে প্রবৃত্তির ক্ষমতা খর্ব হয়। সহীহ বুখারিতে আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'রমাদান মাস এলে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো করে দেওয়া হয় বন্ধ। আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।' [২৯৮]

ইমাম তিরমিযি এবং ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন যে, নবি বলেছেন,

'রমাদান মাসের প্রথম রাতেই শয়তান এবং দুষ্ট জিনদের শিকলবন্দি করে ফেলা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর একটি দরজাও তখন আর খোলা হয় না। (অপরদিকে) জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। এর একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে, 'হে কল্যাণকামী! সামনে অগ্রসর হও। হে পাপাচারী! থেমে যাও।' আর আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয়। (রমাদানের) প্রত্যেক রাতেই এমনটা চলতে থাকে।' [৩০০]

টিকাঃ
[২৮৫] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০২৭
[২৮৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৬৭
[২৮৭] সূরা হাশর, ৫৯: ৮
[২৮৮] সূরা হাজ্জ, ২২: ৩৯-৪০
[২৮৯] হাকিম, আল-মুসতাদরাক, হাদীস নং: ৪২৯৯
[২৯০] সূরা মায়িদা, ৪: ২৪
[২৯১] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ১০২২
[২৯২] সূরা আনফাল, ৪: ১০
[২৯৩] সূরা আনফাল, ৮: ১৭
[২৯৪] সূরা আনফাল, ৮: ৬৬
[২৯৫] সূরা আহযাব, ৩৩: ৯
[২৯৬] সূরা আহযাব, ৩৩: ২৫
[২৯৭] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৮১২
[২৯৮] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৮৯৯
[২৯৯] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১০৭৯
[৩০০] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৬৮২; ইবনু মাজাহ, আসসুনান, হাদীস নং: ১৬৪২
[৩০১] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৭৯১৭
[৩০২] সূরা কাদর, ৯৭: ৪-৫
[৩০৩] সূরা হাশর, ৫৯ : ২

📘 জীবনকে কাজে লাগান > 📄 চতুর্থ পর্ব : রমাদানের শেষ দশকের আলোচনা

📄 চতুর্থ পর্ব : রমাদানের শেষ দশকের আলোচনা


আয়িশা বলেছেন, 'রমাদানের শেষ দশক আসলে নবি শক্ত করে কোমর বাঁধতেন। রাতে নিজে জেগে থাকতেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।' [৩০৪] আয়িশা আরও বলেন, 'রাসূলুল্লাহ রমাদানের শেষ দশক (ইবাদাতে) এমনভাবে সচেষ্ট থাকতেন, অন্য সময়ে ততটা থাকতেন না।' [৩০৫]

নবিজির আমল
রমাদানের শেষ দশকে নবি অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি বেশি আমল করতেন। এ সময়টাতে যেসব আমল তিনি করতেন:
১. রাতে জেগে ইবাদাত করা।
২. পরিবারের লোকদের জাগিয়ে দেওয়া।
৩. নবি শক্ত করে কোমর বাঁধতেন (অর্থাৎ স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকতেন)।
৪. মাগরিব এবং ইশার সালাতের মাঝে গোসল করা।
৫. ইতিকাফ করা।

স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক করার জন্য সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াই ইতিকাফের মর্ম। উম্মাতে মুহাম্মাদীর জন্য শারীয়াত অনুমোদিত নির্জনবাস হলো মাসজিদে ইতিকাফ করা। নবি ইন্তেকাল পর্যন্ত রমাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। [৩১৩]

আল্লাহ তাআলা বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আপনি কী জানেন? লাইলাতুল কদর হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ।' [৩১৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন, 'যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদাত করে, তার পেছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।' [৩১৭]

টিকাঃ
[৩০৪] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০২৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৭৪
[৩০৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৭৫
[৩০৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৪৬
[৩০৭] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৭২১১
[৩০৮] সূরা ত্বা-হা, ২০: ১৩২
[৩০৯] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৭৪
[৩১০] সূরা বাকারাহ, ২: ১৮৭
[৩১১] সূরা আ'রাফ, ৭: ৩১
[৩১২] সূরা আ'রাফ, ৭: ২৬
[৩১৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০২৬
[৩১৪] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০৪৪
[৩১৫] সূরা কাদর, ৯৭: ১-৩
[৩১৬] মুওয়াত্তা মালিক, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩২১
[৩১৭] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৯০১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00