📄 দ্বিতীয় পর্ব : আশুরার দিন
ইবনু আব্বাস-কে আশুরার দিনের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ-কে আশুরার দিনের সিয়ামের ওপর অন্য দিনের সিয়ামকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি। এবং রমাদান মাসের ওপর অন্য কোনো মাসকে গুরুত্ব দিতেও দেখিনি।' [৭৩]
প্রাচীনকাল থেকেই আশুরার দিন সম্মানিত বলে বিবেচিত হতো। শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এ দিনটিতে সিয়াম পালন করতেন। এ দিনে সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে নবি ﷺ-এর চার ধরনের অবস্থা ছিল।
⇨ প্রথম অবস্থা: মক্কায় থাকাকালীন নবি নিজে আশুরার সিয়াম পালন করতেন কিন্তু কাউকে আদেশ করতেন না। আয়িশা বলেন, 'জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশদের মতো নবি-ও আশুরার সিয়াম পালন করতেন। মদীনায় আগমনের পরও তিনি তা জারি রাখেন। সাথে সাথে পালনের আদেশও দেন। রমাদানের সিয়াম ফরয হওয়ার পর তিনি রমাদান মাসে সিয়াম পালন করতে লাগলেন এবং আশুরার সিয়াম নফল করে দিলেন। তখন যার ইচ্ছা, সে সিয়াম পালন করত। আর যার ইচ্ছা সে বিরত থাকত।' [৭৪]
⇨ দ্বিতীয় অবস্থা : মদীনায় আগমনের পর নবি দেখলেন, আহলে কিতাবরা আশুরার দিন সিয়াম রাখে এবং এ দিনটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। নবি ﷺ-এর অভ্যাস ছিল, হারাম না হলে আহলে কিতাবদের সহমত পোষণ করা। তাই তিনি সিয়াম পালনের নির্দেশ জারি করলেন এবং জোর দিয়ে সাহাবিদের উদ্বুদ্ধ করলেন। ফলে সাহাবিরা নিজে সিয়াম পালন করতেন এবং শিশুদেরও করাতেন।
ইবনু আব্বাস বলেন, 'রাসূলুল্লাহ মদীনায় এসে দেখলেন, ইয়াহূদীরা আশুরার দিন সিয়াম পালন করে। তখন রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমরা এটা কোন দিনের সিয়াম পালন করছ?' তারা বলল, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা মূসা ও তাঁর কওমকে মুক্তি দিয়েছেন। এবং ফিরআউনকে তার দলবল-সহ ডুবিয়ে দিয়েছেন। মূসা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য এ দিনে সিয়াম পালন করেছেন। তাই আমরাও এ দিনে সিয়াম রাখছি। রাসূলুল্লাহ তখন বললেন,
«فَنَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ»
'তোমাদের তুলনায় আমরা মূসা আ.-এর (অনুসরণের) বেশি উপযুক্ত এবং যোগ্যতর।' তারপর নবি নিজে সেদিন সিয়াম পালন করলেন এবং এর নির্দেশ দিলেন। [৭৫]
সালামা ইবনুল আকওয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল আশুরার দিন আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন। সে লোকদের মধ্যে এ কথা ঘোষণা করল, যে সিয়াম পালন করেনি সে যেন সিয়াম পালন করে। আর যে আহার করেছে, সে যেন রাত পর্যন্ত তার সিয়াম পূর্ণ করে নেয়।' [৭৬]
এ সংক্রান্ত অনেক হাদীস আছে।
⇨ তৃতীয় অবস্থা : রমাদানের সিয়াম ফরয হওয়ার পরে নবি সাহাবিদেরকে আশুরার দিন সিয়াম পালনের আদেশ দেওয়া এবং এ ব্যাপারে জোর প্রদান করা ছেড়ে দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত আয়িশা বর্ণিত হাদীসটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
ইবনু উমার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, 'নবি আশুরার দিন সিয়াম পালন করেছেন এবং এ সিয়ামের জন্য আদেশও করেছেন। পরে রমাদানের সিয়াম ফরয হলে সেটা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।'[৭৭]
⇨ চতুর্থ অবস্থা : শেষ বয়সে নবি সঙ্কল্প করেছিলেন, তিনি এককভাবে সে দিনটিতে সিয়াম পালন করবেন না। বরং সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে কিতাবিদের বিরোধিতা করার জন্য এর সঙ্গে আরেকটি দিন যুক্ত করে নেবেন। ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ আশুরার দিন নিজে সিয়াম পালন করেন এবং সাহাবিদের সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন। তখন সাহাবিগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইয়াহূদী এবং খ্রিষ্টানরা এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ বললেন,
«فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ»
'তবে আল্লাহ চাহে তো, আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও সিয়াম পালন করব।' বর্ণনাকারী বলেছেন, পরবর্তী বছর আসার আগেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ইন্তেকাল হয়ে যায়। [৭৮]
সালাফের আমল
ইবনু আব্বাস, আবু ইসহাক সাবীয়ি এবং যুহরির মতো সালাফের একটি দল সফররত অবস্থাতেও আশুরার সিয়াম পালন করতেন। তাদের বক্তব্য ছিল, 'রমাদানের সিয়াম তো পরে সফরের পরে অন্য সময়ও আদায় করে নেওয়া যায়। কিন্তু আশুরার সিয়াম ছুটে গেলে তার তো কোনো কাযা করার সুযোগ নেই।' ইমাম আহমাদ-ও সফর অবস্থায় আশুরার সিয়াম পালনের পক্ষে মত দিয়েছেন। ইমাম আবূ হানীফা শুধু দশ তারিখে সিয়াম পালন করা অপছন্দ করতেন।
যা কিছু বর্জনীয়
আশুরার দিন সুরমা ব্যবহার করা, মেহেদি লাগানো এবং গোসল করার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা নিতান্তই বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। হারব বলেছেন, 'আমি ইমাম আহমাদকে আশুরার দিন পরিবারের জন্য খরচ করা সম্পর্কিত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি হাদীসটিকে কিছু মনে করেননি।' 'হাদীসটিকে আহমাদ কিছু মনে করেননি' বলে উদ্দেশ্য হলো, যে হাদীসটি নবি থেকে বর্ণিত হয়েছে বলা হয়, তার সনদ তো সহীহ নয়।
আশুরার দিনে হুসাইন ইবনু আলি নিহত হওয়ার কারণে শিয়ারা যে মাতম করে থাকে সেটা ভালো কাজের মোড়কে একটি অনর্থক কাজ। আল্লাহ এবং রাসূল কেউই নবিগণের বিপদের দিনে বা তাঁদের মৃত্যুতে মাতম করতে বলেননি। তাহলে নবি ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে এমনটা করা কেমন হবে?
এ দিনের ফযিলত
আশুরার দিনের একটি ফযিলত এটা যে, এ দিনে আল্লাহ একদল লোকের তাওবা কবুল করেছিলেন। এক সাহাবিকে নবি বলেছিলেন,
إِنْ كُنْتَ صَائِمًا بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصُمُ المُحَرَّمَ ، فَإِنَّهُ شَهْرُ اللَّهِ فِيهِ يَوْمُ تَابَ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ، وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ آخَرِينَ
'রমাদান মাসের পর আরও সিয়াম পালন করতে, চাইলে মুহাররামে সিয়াম পালন করো। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এতে এমন একটি দিন আছে, যাতে আল্লাহ এক দলের তাওবা কবুল করেছিলেন এবং আগামীতেও আরেক দলের তাওবা তিনি এ দিনেই কবুল করবেন।' [৭৯]
'আগামীতেও আরেক দলের তাওবা তিনি এ দিনেই কবুল করবেন।' এ কথা বলে নবি খাঁটি অন্তরে তাওবা করতে উৎসাহিত করেছেন। পূর্ববর্তী লোকদের মতো যারা তাওবা করেছে, তাদেরকে অভিবাদন জানিয়েছেন। আদম সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
فَتَلَقَّى ءَادَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
'তারপর আদম তার পালনকর্তার কাছ থেকে কিছু কথা শিখে নিলেন। তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি ক্ষমাপরবশ হলেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।[৮০]
আদম এবং তাঁর স্ত্রী সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
'তারা (দুজনে) বলল, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।' [৮১]
উমার ইবনু আবদিল আযীয বিভিন্ন শহরে একটি পত্র প্রেরণ করেছিলেন। যাতে তিনি লিখেছিলেন, আদিপিতা আদম-এর মতো আপনারাও বলুন,
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।[৮২]
নূহ-এর মতো বলুন,
وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ
'আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমাকে দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।' [৮৩]
মূসা -এর মতো বলুন, رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي 'রব আমার! আমি তো নিজের প্রতি যুলুম করে ফেলেছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।' [৮৪]
ইউনুস -এর মতো বলুন, سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ 'আপনি পবিত্র, মহান! আমি তো সীমালংঘনকারী।' [৮৫]
গুনাহের কথা স্বীকার করে অনুতপ্ত হলে, সে তাওবা কবুল করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَءَاخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلطُواْ عَمَلًا صَالِحًا وَءَاخَرَ سَيِّئًا عَسَى اللَّهُ أَن يَتُوبَ عَلَيْهِمْ 'আর কিছু লোক নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে, তারা একটি নেককাজ এবং আরেকটি মন্দ কাজ মিশ্রিত করেছে; আশা করা যায়— আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেবেন।'[৮৬]
নবি বলেছেন, إِنَّ العَبْدَ إِذَا اعْتَرَفَ بِذَنْبِهِ ثُمَّ تَابَ إِلَى اللَّهِ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ» 'বান্দা নিজের পাপ স্বীকার করে তাওবা করলে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।'[৮৭]
সালাতে দাঁড়িয়ে নবিজি শুরুতেই বলতেন, اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي، وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا، إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
'ইয়া আল্লাহ! আপনিই বাদশাহ, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমার প্রতিপালক এবং আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের ওপর যুলুম করে ফেলেছি, আমার অপরাধ আমি স্বীকার করছি। অতএব, আমার সব গুনাহ আপনি মাফ করে দিন। আপনি ছাড়া আর কেউ তো ক্ষমা করতে পারে না।'[৮৮]
আবূ বকর -কে নবি সালাতে পড়ার জন্য এ দুআ শিখিয়েছিলেন : اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ
'ইয়া আল্লাহ! নিজের ওপর তো আমি অনেক যুলুম করে ফেলেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার মতো কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিয়ে আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন। আপনি তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।[৮৯]
শাদ্দাদ ইবনু আওস থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন, سَيِّدُ الاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ: اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
'সাইয়িদুল ইসতিগফার হলো এ কথা বলা-ইয়া আল্লাহ! আপনিই আমার পালনকর্তা। আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমি আপনারই বান্দা। আমি আমার সাধ্যানুযায়ী আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি। আমার প্রতি আপনার নিয়ামত আমি স্বীকার করছি এবং স্বীকার করে নিচ্ছি আমার কৃত গুনাহ। সুতরাং আমাকে আপনি ক্ষমা করে দিন। কারণ আপনি ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নেই।'[৯০]
আদম-কে জান্নাত থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর, তিন শ বছর তিনি কান্না করতে থাকেন। এমন করাটাই সমীচীন ছিল। কারণ তিনি এমন জগতে ছিলেন যেখানে ক্ষুধা-পিপাসা ছিল না। নগ্নতা এবং ক্লিষ্টতার তো প্রশ্নই আসে না। পৃথিবীতে তিনি এসবের সম্মুখীন হয়েছেন। জিবরীল-কে দেখামাত্র তাঁর সেই জগতের কথা স্মরণ হতো। আদম তখন এত বেশি কান্নাকাটি করতেন যে, তাঁকে দেখে জিবরীলও কাঁদতেন। জিবরীল তাঁকে জিজ্ঞেস করতেন, আদম! আপনি এত কান্না করছেন কেন? উত্তরে তিনি বলতেন, 'নিয়ামাতে পরিপূর্ণ জগৎ থেকে দুঃখের জগতে চলে এসেছি। এখন কান্না না করে উপায় আছে?'
সুতরাং এই শত্রু থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে, যে কিনা আমাদের পিতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল। সেখানে যাতে আমরা পুনরায় ফিরে যেতে না পারি, এজন্য ও সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমাদের সাথে তার শত্রুতা অনেক পুরোনো। কারণ আমাদের পিতাকে সাজদা করার জন্য আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা অমান্য করার কারণে, সে জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল। অহংকার থেকেই সে এমনটা করেছিল। ফলে সে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। জান্নাতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ হারায়। আর জাহান্নাম হয় তার নিশ্চিত ঠিকানা। পিতার সাথে শত্রুতার কারণে সে আদম-সন্তানকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়। এজন্য সে শিরককে শোভিত করে বনী আদমের সামনে উপস্থাপন করে। তারা শিরক না করলেও, অন্তত নাফরমানিতে যেন জড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে আল্লাহ আমাদেরকে সতর্ক করেছেন। সতর্ক করার পাশাপাশি আমাদের দুর্বলতাও তিনি মেনে নিয়েছেন। কাজেই, আমাদেরকে সতর্ক থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ বলেন,
يَبَنِي ءَادَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم মِّنَ الْجَنَّةِ
'হে আদম-সন্তান! (সাবধান!) শয়তান যেন কোনোভাবেই তোমাদের প্রলুব্ধ করতে না পারে, যেভাবে তোমাদের বাবা-মা'কে সে জান্নাত থেকে বের করে এনেছিল।' [৯১]
প্রতিপালকের পরিচয় লাভ করার পরও তাঁর নাফরমানি করা, আর শয়তানকে চেনা সত্ত্বেও তার আনুগত্য করা, এক আশ্চর্যজনক বিষয়। আল্লাহ বলেন,
أَفَتَتَّخِذُونَهُ, وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا
‘তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। যালিমদের এই পরিবর্তন খুবই নিকৃষ্ট।’[৯২]
প্রকৃতপক্ষে মুমিনরা দুনিয়াতে এক রণক্ষেত্রে অবস্থান করছে। তাদেরকে নফস এবং প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক লড়াই করতে হয়। এই যুদ্ধযাত্রা সমাপ্তির পরে তারা নিজেদের সেই বাসস্থানে ফিরে যাবে, যেখানে তারা তাদের পিতার পৃষ্ঠদেশে করে অবস্থান করেছিল। উম্মাতে মুহাম্মাদির কাছে তাদের পিতা ইবরাহীম একটি বার্তা পাঠিয়েছেন, যা বহন করে নিয়ে এসেছেন আমাদের নবিজি। তিনি বলেছেন,
لَقِيتُ إِبْرَاهِيمَ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ ، أَقْرِئُ أُمَّتَكَ مِنِّي السَّلَامَ وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ» الجَنَّةَ طَيِّبَةُ التَّرْبَةِ عَذْبَةُ المَاءِ، وَأَنَّهَا قِيعَانُ، وَأَنَّ غِرَاسَهَا سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ . وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
‘মিরাজের রাতে ইবরাহীম -এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। তখন তিনি বলেন, মুহাম্মাদ! আপনার উম্মাতকে আমার পত্থ থেকে সালাম দিবেন এবং তাদের জানিয়ে দিবেন—জান্নাতের মাটি উত্তম, তার পানি সুমিষ্ট; তবে তা একটি ফাঁকা ময়দান। এর গাছ হলো সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদু লিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’[৯৩]
জাবির থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন,
مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الْجَنَّةِ “কেউ ‘সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বিহামদিহী’ পাঠ করলে জান্নাতে তার জন্য একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।”[৯৪]
জান্নাতের জমিন একটি ফাঁকা ময়দান, নেক আমল যেখানকার স্থাপত্য। এর মাধ্যমেই সেখানে নির্মিত হয় ভবন এবং জান্নাতের জমিনে রোপণ করা হয় গাছ। গাছ রোপণ এবং ভবন নির্মাণ সমাপ্তির পর বাসিন্দারা সেখানে শিফট করে থাকে।
আল্লাহর পরিচয় যারা লাভ করেছেন, তাদের অন্তর কখনো কখনো জান্নাতের অপূর্ব ঘ্রাণ উপভোগ করে থাকে। যেমন উহুদ যুদ্ধের দিন আনাস ইবনু নাযার বলেন, "আহ, কী চমৎকার জান্নাতের সুবাস! আল্লাহর কসম! উহুদের দিক থেকে আমি জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি।" এ কথা বলে তিনি সামনে এগিয়ে যান। লড়াই করতে করতে এক পর্যায়ে শাহাদাত বরণ করেন।
আদম -কে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়ার মধ্যে আল্লাহ তাআলার চমৎকার এক হিকমাত রয়েছে। তিনি নেমে না এলে না মুজাহিদদের জিহাদ প্রকাশ পেত আর না পরিশ্রমীদের পরিশ্রমের দেখা মিলত। না তাওবাকারীদের দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসত, আর না গুনাহগারদের অশ্রু ঝরত।
টিকাঃ
[৭৩] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০০৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৩২
[৭৪] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০০২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১২৫
[৭৫] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ২০০৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৩০
[৭৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং : ১১৩৫; সহীহ বুখারি, হাদীস নং : ১৯২৪
[৭৭] সহীহ বুখারি, হাদীস নং : ১৮৯২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং : ১১২৬
[৭৮] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং : ১১৩৪
[৭৯] সুনানুত তিরমিযি, হাদীস নং: ৭৪১, তিরমিযি হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
[৮০] সূরা বাকারাহ, ২: ৩৭
[৮১] সূরা আ'রাফ, ৭ : ২৩
[৮২] সূরা আ'রাফ, ৭ : ২৩
[৮৩] সূরা হূদ, ১১:৪৭
[৮৪] সূরা কাসাস, ২৮: ১৬
[৮৫] সূরা আম্বিয়া, ২১:৮৭
[৮৬] সূরা তাওবা, ৯ : ১০২
[৮৭] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৪৭৫০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭৭০
[৮৮] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৭1
[৮৯] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৮৩৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭০৫
[৯০] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ৬৩০৬
[৯১] সূরা আ'রাফ, ৭:২৭
[৯২] সূরা কাহফ, ১৮:৫০
[৯৩] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৪৬২, নববি হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
[৯৪] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৪৬৫, হাকিম হাদীসটিকে ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন।
📄 তৃতীয় পর্ব : হাজীদের আগমন
আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন,
مَنْ حَجَّ هَذَا البَيْتَ، فَلَمْ يَرْفُتْ، وَلَمْ يَفْسُقُ، رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
'যে ব্যক্তি এ ঘরের হাজ্জ করল, অশ্লীলতায় লিপ্ত হলো না এবং আল্লাহর নাফরমানি করল না, সে মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য-প্রসূত শিশুর মতো (নিষ্পাপ) হয়ে (হাজ্জ থেকে) প্রত্যাবর্তন করবে।' [৯৫]
ইসলামের পঞ্চ ভিত্তির প্রতিটিই গুনাহের কাফফারা এবং পাপ মোচনকারী। যেমন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সমস্ত গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এটি অপেক্ষা উত্তম আমল হতেই পারে না।[৯৬] পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ এবং এক রমাদান থেকে পরবর্তী রমাদানের মধ্যবর্তী সমস্ত গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। তবে কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে।[৯৭] সাদাকাহর কারণে গুনাহ মিটে যায়, পানি দিয়ে যেমন আগুন নিভে। [৯৮] অশ্লীলতা এবং আল্লাহর নাফরমানি-মুক্ত হাজ্জের মাধ্যমে বান্দা সদ্য-প্রসূত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।
নবি বলেছেন,
«الحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة» 'কবুল হাজ্জের একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত।' [৯৯]
আরেক বর্ণনায় আছে, নবি বলেছেন, «أن الحج يهدم ما كان قبله» 'হাজ্জ, পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়।' [১০০]
মোটকথা, হাজ্জে মাবরুর তথা কবুল হাজ্জ হলো গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত এবং জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম। সুতরাং হাজি নিজের জন্য যত দুআ করে অথবা তার জন্য অন্যরা যত দুআ করে, তার মধ্যে সর্বোত্তম দুআ হলো মাবরুর হাজ্জের দুআ।
হাজ্জের আমল শেষ করে ইহরাম থেকে হালাল হতে হয় যুলহিজ্জার দশ তারিখ। তখন জামরাতুল আকাবাতে পাথর নিক্ষেপ করার পর এই দুআর বিধান দেওয়া হয়েছে : 'ইয়া আল্লাহ! আপনি এই হাজ্জকে মাবরুর বানিয়ে নিন, আমলকে বানিয়ে দিন গ্রহণযোগ্য এবং গুনাহকে বানিয়ে দিন মার্জনীয়।' আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ এবং আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে এমনটা বর্ণিত হয়েছে।
হাজ্জে মাবরুরের নিদর্শন
হাজ্জে মাবরুরের বিনিময় হলো জান্নাত। এ কথা হাসান -কে বলা হলে তিনি বললেন, 'এর নিদর্শন হলো, হাজ্জে মাবরুর সম্পাদনকারী দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে আখিরাত-মুখী হবে।' আরেকবার তাকে বলা হলো, হাজ্জে মাবরুরের প্রতিদান তো ক্ষমা। উত্তরে তিনি বললেন, 'এর নিদর্শন হলো, হাজ্জে মাবরুর সম্পাদনকারী পূর্বেকার গুনাহ ছেড়ে দেবে।'
ইবাদাত কবুলের নিদর্শন হলো, এর পরপরই অন্য একটি ইবাদাত করতে পারা। পক্ষান্তরে ইবাদাতের পরে গুনাহে লিপ্ত হওয়া, কবুল না-হওয়ার প্রমাণ। নেককাজের পর নেকি করা উত্তম কাজ। বিপরীতে নেককাজের পরে গুনাহ করা নিকৃষ্টতম কাজ। তাওবার পরের গুনাহ, পূর্বের সত্তরটি গুনাহ থেকেও নিকৃষ্ট। রোগের পুনরাক্রমণ, প্রথমবারের থেকেও জটিল হয়ে থাকে। ইবাদাতের সম্মান পাওয়ার পর, অবাধ্যতার লাঞ্ছনা ভোগ করা কতই-না ভয়াবহ! এজন্যই মৃত্যু পর্যন্ত ইস্তিকামাত থাকা এবং (আমল) বৃদ্ধির পরে হ্রাস পাওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল দুআতে বলতেন: ‘ইয়া আল্লাহ! আপনার আনুগত্যের কারণে আমাকে সম্মানিত করুন। আপনার নাফরমানির কারণে আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না।’
ইবরাহীম ইবনু আদহাম প্রায়ই এ দুআ করতেন: ‘ইয়া আল্লাহ! আমাকে নাফরমানির লাঞ্ছনা থেকে উদ্ধার করে, আনুগত্যের সম্মানের দিকে নিয়ে যান।’
মাবরুর হাজ্জ সমাপ্ত করার পর গুনাহ মাফ হয়ে যায়, দুআ কবুল হয়। তাই হাজির সাথে সাক্ষাৎ করা, তাকে সালাম দেওয়া এবং তার কাছে দুআ চাওয়া মুস্তাহাব।
হাজি'র সাথে সাক্ষাৎ করা সুন্নাহ। এর প্রমাণ হলো আবদুল্লাহ ইবনু জাফর -এর হাদীস। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সফর থেকে ফিরে পরিবারের শিশুদের সাথে মিলিত হতেন। একবার তিনি সফর থেকে ফেরার পর, সবার আগে আমার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে (বাহনের) সামনে বসালেন। এরপর ফাতিমা -এর এক ছেলেকে নিয়ে আসা হলো। তাঁকে বসালেন পেছনে। আমরা তিনজন একই বাহনে করে মদীনায় প্রবেশ করলাম। [১০১]
হাজিদের আগমন ঘটলে সালাম দেওয়া, তার সাথে মুসাফাহা করা এবং তার থেকে দুআ চাওয়ার প্রমাণ হলো আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত হাদীস। নবি বলেছেন,
إِذَا لَقِيتَ الْحَاجَّ فَسَلَّمْ عَلَيْهِ وَصَافِحْهُ، وَمُرْهُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بَيْتَهُ» . فَإِنَّهُ مَغْفُورُ لَهُ
'হাজি'র সাথে দেখা হলে তাকে সালাম দাও এবং তাঁর সঙ্গে মুসাফাহা করো। সে ঘরে প্রবেশ করার আগেই, তোমার জন্য তাকে ইসতিগফার করতে বলো। কারণ তাকে তো ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।' [১০২]
হাজি'র আগমন আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়াকে স্মরণ করিয়ে দেয়। জনৈক মুসাফির সফর থেকে ফিরলে, পরিবারের সবাই খুব খুশি হলো। কিন্তু সেখানে থাকা একজন নেককার মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলল, 'এই আগমন আমাকে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তখন কতজন খুশি হবে আর কতজন বঞ্চিত হবে?'
কত লোক তো এমন হবে, যাদের সম্পর্কে বলা আছে:
لَا يَحْنُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ
'মহাভীতি তাদেরকে পেরেশান করবে না। আর ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে, এটাই তোমাদের সেই দিন, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল।' [১০৩]
আবার অনেকে এমন হবে, যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে,
يَوْمَ يُدَعُونَ إِلَى نَارِ جَهَنَّمَ دَعَا
'সেদিন তাদেরকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।' [১০৪]
টিকাঃ
[৯৫] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৮১৯
[৯৬] ইবনু মাজাহ, আসসুনান, হাদীস নং: ৩৭৯৭; দায়লামি, মুসনাদুল ফিরদাউস, হাদীস নং: ৭২৭৭
[৯৭] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩৩
[৯৮] তিরমিযি, আসসুনান, হাদীস নং: ৬১৪; ইবনু মাজাহ, আসসুনান, হাদীস নং: ৪২১০
[৯৯] সহীহ বুখারি, হাদীস নং: ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৪৯
[১০০] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১২১
[১০১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৪২৮
[১০২] আহমাদ, আলমুসনাদ, হাদীস নং: ৫৩৭১, হাদীসটির সনদে দুর্বলতা রয়েছে।
[১০৩] সূরা আম্বিয়া, ২১: ১০৩
[১০৪] সূরা তুর, ৫২: ১৩