📘 জীবনের সময়চিত্রে পবিত্র সুন্নাহ 📄 মাহে যিলহজ্জ

📄 মাহে যিলহজ্জ


عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: (مَا مِنْ أَيَّامِ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيْهِنَّ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ».
'হযরত (আবদুল্লাহ) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'দিনসমূহে এমন কোনো সময় নেই; যার অসংখ্য পূণ্যকর্ম আল্লাহর দরবারে দশই যুল হজের থেকে বেশি পছন্দের।' সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি সমান প্রিয় নয়?' তিনি বললেন, 'আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে-ব্যক্তি জান-মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তার জিহাদে গিয়ে সেখান থেকে কিছু না নিয়ে ফেরে সে অবশ্য প্রিয়।' হাদীসটি ইমাম আল-বুখারী বর্ণনা করেছেন।[1]

ইমাম ইবনে আওয়ানা-এর সহীহে ও ইমাম ইবনে হিব্বান-এর সহীহে বর্ণিত এসেছে, হযরত জাবির (ইবনে আবদুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, দশই যুল হজের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই।[2] আলিমরা বলেন, যে-ব্যক্তি বছরের উত্তম দিনসমূহে সিয়াম পালনের মান্নত করে তাহলে এ দশদিনই এর উদ্দেশ্যে হবে। মজার ব্যাপার হলো, এ-দশদিন ফযীলতপূর্ণ হয়েছে এতে আরাফা-দিবস আছে বিধায়। আর রামাযানের দশরাত ফযীলতপূর্ণ হয়েছে সেখানে কদর-রজনী থাকার কারণে।

বাস্তব ব্যাপার হলো, যুল হজের প্রথম দশক তথা নয়টি দিনে সিয়াম পালন এবং এর ফযীলত ও মুস্তাহাব বিষয়েও অনেক হাদীস রয়েছে। ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম আন-নাসায়ী বর্ণনা করেছেন নবী করীম ﷺ-এর কোনো কোনো সহধর্মিনী থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ﷺ যুল হজের নয় দিন, আশুরা-দিবস, প্রতি মাসে তিন তিনটি এবং প্রথম সোমবার ও প্রথম বৃহস্পতিবার সিয়াম পালন করতেন।[3]

আর ইমাম মুসলিম, ইমাম আত-তিরমিযী ও ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন হযরত আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'মা রাইতু রাসূলুল্লাহ ﷺ সায়িমান ফিল আশরি ক্বাত্তু... আমি কখনো হযরত রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দশই যুল হজে সিয়াম পালন করতে দেখিনি।'[4] এ-বর্ণনাটি উপর্যুক্ত হাদীসসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। হয়তো হযরত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সিয়াম পালন সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।

কিছু সুন্নাত আছে যা মানুষ একদম ছেড়ে দিয়েছে। যে-ব্যক্তি ফরয হোক বা নফল কুরবানির ইচ্ছা করে তার জন্য কুরবানি না দেওয়া পর্যন্ত চুল-নখ কাটা উচিত নয়। ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন হযরত উম্মে সালামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ বলেন, '(যুল হজের) প্রথম দশক শুরু হয়, তখন যদি তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে থাকে তাহলে সে চুল-নখের কিছুই কাটবে না।'[5] অন্য এক বর্ণনায় আছে, 'ফল ইয়াক্লিমিন্না জুফুরা... সে নখ কাটবে না।'[6]

সর্বোত্তম আরাফা, না জুমুআ বার—তা নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেছেন, আরাফা বছরের দিনসমূহের মধ্যে উত্তম আর জুমুআ সপ্তাহের দিনসমূহের মধ্যে উত্তম। আরাফা-দিবসে সিয়াম পালন; সার্বজনীন মতানুযায়ী আরাফা-দিবসে সিয়াম পালন সুন্নাত। হযরত উম্মুল ফযল বিনতুল হারিস থেকে বর্ণিত, আরাফা-দিবসে কিছু লোক তাঁর কাছে হযরত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সিয়াম পালনের ব্যাপারে কথা কাটাকাটি করছিলো। অতঃপর তিনি এক পিয়ালা দুধ পাঠিয়েছিলেন, সে সময় তিনি উটের ওপর সওয়ার ছিলেন এবং তিনি তা পান করলেন।[7]

হযরত (আবদুল্লাহ) ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, 'আমি নবী করীম ﷺ-এর সাথে হজ করেছি। তিনি এ-দিন অর্থাৎ আরাফা-দিবসে সিয়াম পালন করতেন না। হযরত আবু বকর-এর সাথেও হজ করেছি, তিনিও এ-দিন সিয়াম পালন করতেন না।' অধিকাংশ আলিমদের মতে সশক্তিতে প্রার্থনা করার জন্য আরাফা-দিবসে সিয়াম পালন না করা মুস্তাহাব।[8]

আরাফা-দিবসের ফযীলত প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে যে, 'ইন্নাহু ইউকাফফিরাছ সানাতাল্লাতি বাদাহু ওয়াল্লাতি ক্ববলাহু... নিশ্চয় দিবসটি বিগত একবছর ও আগামী এক বছরের গোনাহ মার্জনা করে দেবে।'[9] সঠিক মতে আরাফা-দিবসে সিয়াম পালন মুস্তাহাব তবে হাজিদের জন্য নয়।

কিছু কিছু লোক বিভিন্ন দেশে আরাফা-দিবসের বিশেষ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। অনেক হানাফী আলেমরা উল্লেখ করেছেন যে, 'আন্নাত তারিফা... আত-তারিফ (আরাফা-দিবসের বিশেষ কর্মকাণ্ড) বলতে, আরাফায় অবস্থানকারীদের সাথে সাদৃশ্য রেখে আরাফা-দিবসে বিভিন্ন স্থানে লোকজন সমবেত হওয়া। এসব ভিত্তিহীন।'[10] অবশ্য এর দ্বারা শরীয়া-সম্মত অন্যান্য ইবাদতও নিষিদ্ধ নয়। তবে এসবকে ওয়াজিব বা সুন্নাত মনে করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

টিকাঃ
[1] আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ২, পৃ. ২০, হাদীস: ৯৬৯
[2] আবু আওয়ানা, আল-মুসতাখরাজ, খ. ২, পৃ. ২৪৬
[3] আবু দাউদ, আস-সুনান, খ. ২, পৃ. ৩২৫, হাদীস: ২৪৩৭; (খ) আন-নাসায়ী, আল-মুজতাবা মিনাস সুনান, খ. ৪, পৃ. ২২০, হাদীস: ২৩১৭
[4] মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ২, পৃ. ৮৩৩, হাদীস: ৯ (১১৮৬)
[5] মুসলিম, প্রাগুক্ত, খ. ৩, পৃ. ১৫৬৫, হাদীস: ৩৯ (১৯৭৭)
[6] মুসলিম, প্রাগুক্ত, খ. ৩, পৃ. ১৫৬৫, হাদীস: ৪০ (১৯৭৭)
[7] আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ২, পৃ. ১৬২, হাদীস: ১৬৬১
[8] আত-তিরমিযী, আল-জামিউল কবীর, খ. ৩, পৃ. ১১৫-১১৬, হাদীস: ৭৫০
[9] আত-তিরমিযী, প্রাগুক্ত, খ. ৩, পৃ. ১১৫, হাদীস: ৭৪৯
[10] আল-মারগীনানী, আল-হিদায়া, খ. ১, পৃ. ৮৬

📘 জীবনের সময়চিত্রে পবিত্র সুন্নাহ 📄 তথ্যপঞ্জি

📄 তথ্যপঞ্জি


তথ্যাবলি

১. আল-কুরআন
২. আল-আইনী : বদরুদ্দীন মাহমুদ আল-আইনী, আল-বিনায়া শরহুল হিদায়া, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
৩. আল-আজুরী : মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুরী, আশ-শরীআ, দারুল ওয়াতান।
৪. আল-আজলুনী : ইসমাঈল আল-আজলুনী, কাশফুল খিফা, মাকতাবাতুল কুদসী।
৫. আবদ ইবনে হুমায়দ : আল-মুনতাখাব মিন মুসনদি আবদ ইবনি হুমায়দ, মাকতাবাতুস সুন্না।
৬. আবদুর রাযযাক আস-সানআনী: আল-মুসান্নাফ, আল-মাকতাবুল ইসলামী।
৭. আব্দুর রহমান আল-মুবারকপুরী: তুহফাতুল আহওয়াযী, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
৮. আবু আওয়ানা : ইয়াকূব আন-নায়শাপুরী, আল-মুসতাখরাজ, দারুল মা'রিফা।
৯. আবু ইয়া'লা আল-মুসিলী : আল-মুসনদ, দারুল মামুন লিত-তুরাস।
১০. আবু তালিব আল-মক্কী : কুয়াতুল কুলুব, দারুল কুতুব আল-ইলনিয়া।
১১. আবু দাউদ : সুলায়মান আল-আযদী আস-সিলিসতানী, আস-সুনান, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়া।
১২. আবু নুআইম আল-আসবাহানী: দালায়িলুন নুবুওয়াত, দারুন নাফায়িস।
১৩. আবু মুসহির আল-গাস্সানী: আন-নুসবা, দারুস সাহাবা।
১৪. আবু শামা আল-মাকদিসী : আল-বায়িস আলা ইনকারিল বিদয়ি ওয়াল হাওয়াদিস, দারুণ হুদা।
১৫. আবুর রবী আন-কালায়ী : আল-ইকতিফা, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
১৬. আলাউদ্দীন মুগলতায়ী : মুখতাসারুন সিরাতিন নাবাওরিয়া, দারুল মাআরিফ।
১৭. মোল্লা আলী আল-কারী: মিরকাতুল মাফাতীহ শরহ মিশকাতিল মাসাবীহ, দারুল ফিকর।
১৮. আলী আল-মুত্তাকী : কনযুল উম্মাল, মুআস্সাসাতুর রিসালা।
১৯. আবুদুদ্দীন আল-ইজী : আল-মাওয়াকিফ, দারুল জলীল।
২০. কাযী আয়ায : আশ-শিকা বি তারিকি হকুকিল মুস্তাফা, দারুল ফিকর।
২১. আহমদ ইবনে হাম্বল : আল-মুসনদ, মুআসিসাতুর রিসালা।
২২. আল-ইরাকী : আত-তাওয়াসসাআতু আলাল ইয়াল।
২৩. আল-ইমরানী : আল-বায়ান ফী মাযহাবিল ইমাম আশ-শাফিয়ী, দার আল-মিনহাজ।
২৪. আল-ইয়াফিয়ী : মিরআতুল জিনান, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
২৫. ইবনুন নাজ্জার : আদ-দিরাতুস সমীনা ফী আখবারিল মদীনা।
২৬. ইবনুল আরাবী : আল-মাসালিকু ফী শরহি মুওয়াত্তা মালিক, মাকতাবা দারুল ইসলাম।
২৭. ইবনুল আসীর : জামিউল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল।
২৮. ইবনুল জওযী : আল-মাওদুআত, আল-মাকতাবাতুস সলফিয়া।
২৯. ইবনুল হাজ : আল-মাদখাল, দারুল ফিকর।
৩০. ইবনুস সালাহ : মারিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদীস।
৩১. ইবনুন সুন্নী : আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লায়ল, দারুল কিবলা।
৩২. ইবনুল হুমাম : ফতহুল কদীর শরহুল হিদায়া, দারুল ফিকর।
৩৩. ইবনে আবদুল বার : আল-ইসতিযকার, দারুল কুতুব আল-ইলনিয়া।
৩৪. ইবনে আবু শায়বা : আল-মুসান্নাক ফিল আহাদীস ওয়াল আসার, মাকতাবাতুর রাশাদ।
৩৫. ইবনে আবু হাতিম আর-রাযী : তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, মাকতাবাতু নিযার মুস্তাফা।
৩৬. ইবনে আবিদীন : রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার।
৩৭. ইবনে আসাকির : ইত্তিহাফুয যায়ির ওয়া ইতরাফুল মুকিম।
৩৮. ইবনে ইরাক : তানযীহুশ শরীআ, দারু আল-কুতুব আল-ইলমিয়া।
৩৯. ইবনে ইসহাক : আস-সিয়ার ওয়াল মাগাযী, দারুল ফিকর।
৪০. ইবনে কসীর : আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, দারু ইয়াহইয়া।
৪১. ইবনে কাইয়িম আল-জওযিয়া: তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ।
৪২. ইবনে কানি' : মু'জামুস সাহাবা, মাকতাবাতুন গুরাবা।
৪৩. ইবনে খুযায়মা : আস-সহীহ, আল-মাকতাবুল ইসলামী।
৪৪. ইবনে মাসউদ : হাদীস সঙ্কলন।
৪৫. ইবনে মাযা : আল-মুহীতুল বুরহানী ফিল ফিকহিন নু'মানী।
৪৬. ইবনে রজব আল-হাম্বলী: লাতায়িফুল মাআরিফ।
৪৭. ইবনে শাহীন : নাসিখুল হাদীস ওয়াল মনসুখাহ।
৪৮. ইবনে সাইয়িদুন নাস : উয়ুনুল আসর ফিল মাগাযী।
৪৯. ইবনে সা'দ : আত-তাবাকাতুল কুবরা, মাকতাবাতুল খানজী।
৫০. ইবনে হাজর আল-হায়সামী: আল-ফাতাওয়া আল-হাদীসিয়া, দারুল ফিকর।
৫১. ইবনে হাজর আল-আসকলানী: ফতহুল বারী শরহু সহীহ আল-বুখারী।
৫২. ইবনে হিব্বান : আস-সহীহ, মুআসিসাতুর রিসালা।
৫৩. ইবনে হিশাম : আস-সীরাতুন্নাবাবিয়া।
৫৪. ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ: আল-মুসনদ, মাকতাবাতুল ঈমান।
৫৫. ইয়াকুত আল-হামাওয়ী : মু'জামুল বুলদান, দারু সাদির।
৫৬. আল-কাস্তাল্লানী : আল-মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া, আল-মাকতাবা আত-তাওফীকিয়া।
৫৭. আল-কাসানী : বাদায়িউস সানাই, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
৫৮. কাযী খান : আল-ফাতাওয়া আল-খানিয়া।
৫৯. আল-খতীবুল বগদাদী : তারিখু বগদাদ, দারুল গারব আল-ইসলামী।
৬০. আল-বায়হাকী : শুআবুল ঈমান, মাকতাবাতুর রাশাদ।
৬১. আল-বাযযার : আল-বাহরুয যাম্বার, মকতব্যতুল উলুম ওয়াল হাকাম।
৬২. আল-বুখারী : সহীহ আল-বুখারী, দারু তওকিন নাজাত।
৬৩. আল-মাযিরী : আল-মুলিম বি-কাওয়ায়িদি মুসলিম।
৬৪. আল-মুতাররিযী : আল-মুগরিব কী তারতীবিল মুরীব।
৬৫. মালিক ইবনে আনাস : আল-মুওয়াত্তা, যায়দ ইবনে সুলতান আলে নাহিয়ান ফাউন্ডেশন।
৬৬. মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী: আল-জামিই'উস সগীর।
৬৭. মুহিব্বুদ্দীন আত-তাবারী : আর-রিয়াযুন নাযরা।
৬৮. মুসলিম : সহীহ মুসলিম, দারু ইয়াহইয়ায়িত তুরাস।
৬৯. আয-যারকাশী : সিয়ারু আলামিন নুবালা।
৭০. আর-রাফিয়ী : আত-তাদওরীন ফী আখবারি কাযওয়ীন।
৭১. আস-সাখাওয়ী : আল-মাকাসিদুল হাসানা।
৭২. আস-সামহুদী : ওয়াফাউল ওয়াফা বি-আখবারি দারিল মুস্তাফা।
৭৩. আস-সুযুতী : তারিখুল খুলাফা, মাকতাবাতু নিযার মুস্তাফা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px