📘 জীবনের সময়চিত্রে পবিত্র সুন্নাহ 📄 অষ্টম পরিচ্ছেদ : তারাবীর ওয়াক্ত

📄 অষ্টম পরিচ্ছেদ : তারাবীর ওয়াক্ত


এ-বিষয়ে আলিমদের মাঝে মতবিভিন্নতা রয়েছে। আমাদের হানাফী আলিমরা বিশেষত শায়খ ইসমাইল আয-যাহিদ বলেছেন, পুরো রাত—ফজর উদয় পর্যন্ত, ইশার পূর্ব-পর এবং বিতর পড়ার পূর্ব-পর তারাবীহের সময়। কেননা তারাবীহ হলো রাত জেগে ইবাদত করার নাম। আর এর জন্য শর্ত হলো রাত। ব্যস।

বুখারার সর্বজন আলিমগণ বলেছেন, তারাবীহের ওয়াক্ত ইশা ও বিতরের মাঝখানে। অতএব কেউ যদি ইশার আগে বা বিতরের পরে তারাবীহ পড়ে তাহলে তা সময় মতো পড়া হয়নি। কেননা হাদীসে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তাই তারাবীহে হাদীসেরই অনুসরণ করতে হবে।

সঠিক মতে তারাবীহের ওয়াক্ত হলো ইশার পর থেকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। তাই কেউ যদি বিতরের পর তারাবীহ পড়ে তবুও জায়িয হবে। তবে যদি ইশার পূর্বে তারাবীহ পড়ে তাহলে জায়িয হবে না। কেননা তারাবীহ হচ্ছে নফল ইশার পরের সুন্নত। অতএব রামাযান ছাড়া অন্য সময়ের ইশার পরের মাসনুন নফলের সাথে এর সাদৃশ্য হয়ে গেলো।[1]

সালাত বিতরের পরে পড়াও জায়িয আছে। মোট কথা হলো বিতর রাতের শেষ সালাত হওয়া সর্বোত্তম। যেমন- ইতঃপূর্বে প্রয়োজনীয় স্থানে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মুস্তাহাব হলো রাতের এক তৃতীয় প্রহর বা দ্বিপ্রহর পর্যন্ত দেরিতে তারাবীহ পড়া।

কেউ কেউ বলেছেন, রাতের দ্বিপ্রহর পর তারাবীহ পড়লে ইশার সালাত দেরিতে পড়ার ন্যায় মাকরূহ হবে। সঠিক মতে তারাবীহ দেরিতে আদায়ে মাকরূহ হবে না। কেননা তারাবীহ রাতের সালাত আর তা শেষ সময়ে পড়াই উত্তম। ফাতাওয়া কাযিখানে আছে, রাতের দ্বিপ্রহর পর্যন্ত দেরি করে তারাবীহ পড়া মুস্তাহাব। আরও অনেকে অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং এটিই সঠিক।[2]

আল-খুলাসা গ্রন্থে আছে, উত্তম হলো পুরো রাত সালাত আদায়, অপেক্ষা ও বিশ্রাম গ্রহণের মাধ্যমে কাটানো, যদিও রাতের শেষ ভাগ পর্যন্ত দেরি করতে হয়। এমনটি সঠিক এবং জায়িয, আদৌ মাকরুহ নয়।[3]

মাসআলা: যদি তারাবীহ ছুটে যায় তবে কি তা তারাবীহের অন্য সময়ে জামাআত-সহকারে পড়বে, না জামাআত ছাড়া পড়বে? উত্তর হলো, জামাআত-সহকারে কাযা করবে না। অবশ্য জামাআত ছাড়া কাযার ক্ষেত্রে আলিমদের মতভেদ রয়েছে। অনেকে বলেছেন, রামাযান শেষ না-হওয়ার আগেই কাযা করবে। আর অনেকে বলেছেন, কোনো কাযা করবে না। এটিই সঠিক। যেহেতু তারাবীহ মাগরিব ও ইশার সুন্নাতের চেয়ে অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর এ-ধরনের সালাত একাকিভাবে আমাদের মতে কাযা করা যায় না। অতএব তারাবীহ এ-রকমই। এর প্রমাণ হলো, সর্বসম্মতভাবে জামাআত-সহকারে তারাবীহের কাযা নেই।[4] যদি তারাবীহের কাযা হতো তবে যেভাবে ছুটে যায় সেভাবে কাযা করতে হতো। অতএব যদি তারাবীহ একাকিভাবে কাযা করা হয় তবে মুস্তাহাব হবে। যেমন- মাগরিবের সুন্নাত যদি কাযা করা হয়।[5] শায়খ কাসিম আল-হানাফী অনুরূপ বলেছেন, তিনি সুনান আল-হুদায় আস-সিরাজিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, যদি একাকিভাবে কাযা করে তবে উত্তম কাজ হবে।

তারাবীহের মাসায়িল সমাপ্ত হলো।

টিকাঃ
[1] কাযী খান, আল-ফাতাওয়া, খ. ১, পৃ. ২৩৫
[2] কাযী খান, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ২৩৫-২৩৬
[3] কাযী খান, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ২৩৬
[4] আল-হাদ্দাদী, আল-জাওহারাতুন নাইয়্যারা, খ. ১, পৃ. ৯৯
[5] কাযী খান, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ২৩৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px