📄 নবী করীম (সাঃ)-এর দুগ্ধপানের আলোচনা
নবী করীম -কে সুওয়ায়বা দুধ পান করিয়েছিলেন। তিনি আবু লাহাবের ক্রীতদাসী ছিলেন; আবু লাহাবকে নবী করীম -এর জন্মলাভের সুসংবাদ শোনালে তিনি তাঁকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।
আবু লাহাবের মৃত্যুর পর জনৈক ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, কেমন আছেন আপনি? তিনি বললেন, জাহান্নামে আছি। তবে প্রতি সোমবার রাতে আমার ওপর শাস্তির মাত্রা হ্রাস করা হয়। আর এ-দুটো আঙ্গুলের মাথা থেকে পানি চোষতে পারি। নিজের দুইটি আঙ্গুলের মাথার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই আঙ্গুলে আমি সুওয়ায়বাকে মুক্ত করে দিয়েছিলাম যখন তিনি আমাকে নবী করীম -এর জন্মলাভের সুসংবাদটি দিয়েছিলেন এবং তাঁকে নিজের দুধ পান করিয়েছিলেন।[1]
ইমাম ইবনুল জাযারী বলেন, আবু লাহাব কাফির ছিলেন, তার প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করে কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, এসব সত্ত্বেও যখন নবী করীম-এর জন্মলাভের রাতটিতে আনন্দ প্রকাশ করার কারণে জাহান্নামে তাকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া হয়। তাহলে নবী করীম-এর উম্মাত মুসলিমরা কী বিনিময় পেতে পারে যারা নবী করীম-এর আগমনে আনন্দ প্রকাশ করে এবং নবী করীম-এর ভালোবাসায় সাধ্যমত খরচ করে। আমার জীবনের শপথ! এর বিনিময় এই হতে পারে যে, দয়াময় আল্লাহ তাঁর ব্যাপক মায়ায় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।[2]
মুসলিমরা আবহমানকাল থেকে নবী করীম -এর জন্মলাভের মাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি করে এসেছে। তারা খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও করে থাকে। এ-মাসের রাতসমূহে তারা বিভিন্ন ধরনের দান-খয়রাত করে, আনন্দ উদ্যাপন করে, ভালো কাজ বেশি বেশি করে। তারা নবী করীম-এর জন্ম উপলক্ষে কুরআনখানির ব্যবস্থাও করে। এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর ব্যাপক বরকত নাযিল হয়।
অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, এর বিশেষত্ব হচ্ছে এতে মানুষ সারা বছর নিরাপত্তা লাভ করেন। মনোবাসনা ও মনোবাঞ্ছা দ্রুত পূরণের এক সুসংবাদ। অতএব নবী করীম-এর শুভজন্মলাভের এ-মাসের রাতসমূহে যারা আনন্দ উদ্যাপন করেন আল্লাহ তাদের ওপর রহমত করেন। যাতে এটি যাদের অন্তরে বৈরি মনোভাব ও হঠকারিতা রয়েছে তাদের জন্য আরও কঠিন ঠেকে।
ইমাম ইবনুল হাজ তাঁর মাদখাল গ্রন্থে নবী করীম-এর অনুষ্ঠানে নানা রকমের বিদআত, মনগড়া, অবৈধ বাদ্যযন্ত্র-সহযোগে গান-বাজনাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।[3] আল্লাহ তাঁকে তাঁর বিশুদ্ধ নিয়তের সওয়াব দান করুন, আর আমাদেরকে সুন্নাতের পথে পরিচালিত করুন। কারণ তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতইনা চমৎকার কামিয়াবিদানকারী।
নবী করীম-কে দুধ পান করানোর সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন মহিয়সী হালিমা সাদিয়া। ইমাম আত-তাবরানী, ইমাম আল-বায়হাকী এবং ইমাম আবু নুআইম (আল-আসবাহানী) প্রমুখের বর্ণনা মতে মহিয়সী হযরত হালিমা বলেন,
قَدِمْتُ مَكَّةَ فِي زَمْرَةٍ مِنْ بَنِي سَعْدٍ، نَلْتَمِسُ الرُّضَعَاءَ فِي سَنَةِ شَهْبَاءَ، فَقَدِمْتُ عَلَى أَتَانٍ لِي وَمَعِي صَبِيٌّ، وَشَارِفٌ لَّنَا لَا أَجِدُ فِي تَدْبِي مَا يُغْنِيهِ وَلَا فِي شَارِقِنَا مَا يُغْذِيْهِ. وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ مِنَّا امْرَأَةٌ إِلَّا وَقَدْ عُرِضَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَتَأْبَاهُ إِذَا قِبْلَ : أَنَّهُ يَيْمُ، فَوَاللَّهِ مَا بَقِيَ مِنْ صَوَاحِبِي امْرَأَةٌ إِلَّا أَخَذَتْ رَضِيعًا غَيْرِي، فَلَمَّا لَمْ أَجِدْ غَيْرَهُ قُلْتُ لِزَوْجِيْ: وَالله ! إِنْ لَأُكْرِهُ أَنْ أَرْجِعَ مِنْ بَيْنِ صَوَاحِبِي لَيْسَ مَعِي رَضَيْعٌ لَّأَنطَلِقَنَّ إِلَى ذَلِكَ الْيَيْمِ، فَلَاخُذَنَّهُ، فَذَهَبْتُ. فَإِذَا إِنَّهُ مُدْرَجٌ فِي ثَوْبٍ أَبْيَضُ مِنَ اللَّبَنِ، يَفُوْحُ مِنْهُ الْمِسْكُ، وَتَحْتَهُ حَرِيرَةٌ خَضَرَاءَ، رَاقِدٌ عَلَى قَفَاهُ، يَغُطُ، فَأَشْفَقْتُ أَنْ أُوْقِظُهُ مِنْ نَوْمِهِ لِحُسْنِهِ وَجِمَالِهِ، فَدَنَوْتُ مِنْهُ رُوَيْدًا، فَوَضَعْتُ يَدِى عَلَى صَدْرِهِ، فَبَسَمَ ضَاحِكًا، وَفَتَحَ عَيْنَيْهِ، يَنْظُرُ إِلَى، فَخَرَجَ مِنْ عَيْنَيْهِ نُوْرٌ حَتَّى دَخَلَ خِلَالَ السَّمَاءِ، وَأَنَا أَنظُرُ، فَقِبِلْتُهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَأَعْطَيْتُهُ ثَدْيَ الْأَيْمَنَ، فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ بِمَا شَاءَ مِنَ اللَّبْنِ، فَحَوَّلْتُهُ إِلَى الْأَيْسَرِ فَأَبَى، وَكَانَتْ تِلْكَ حَالَتُهُ بَعْدُ - قَالَ أَهْلُ الْعِلْمِ: أَعَلَّمَهُ اللَّهُ تَعَالَى أَنَّ لَهُ شَرِيْكًا، فَأَلْهِمِهُ الْعَدْلَ - قَالَتْ: فَرَوَى وَرَوَى أَخُوْهُ.
ثُمَّ أَخَذْتُهُ، فَمَا هُوَ إِلَّا أَنْ جِئْتُ بِهِ رَحْلِي، وَقَامَ صَاحِبَيْ - تَعْنِي زَوْجَهَا إِلَى شَارِقِنَا تِلْكَ، فَإِذَا إِنَّهَا لَحَافَلٌ، فَحَلَبَ فَشَرِبَ، وَشَرِبْتُ حَتَّى رَوِيْنَا، وَبِتَنَا بِخَيْرِ لَيْلَةٍ. قَالَتْ حَلِيمَةٌ : فَوَدَّعَ النَّاسُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، وَوَدَّعْتُ أَنَا أَمُ النَّبِيِّ ﷺ ، ثُمَّ رَكِبْتُ أَتَانِي، وَأَخَذْتُ مُحَمَّدًا بَيْنَ يدي ﷺ ، قَالَتْ: فَنَظَرْتُ إِلَى الْأَنَانِ قَدْ سَجَدَتْ نَحْوَ الْكَعْبَةَ ثَلَاثًا،
وَرَفَعَتْ رَأْسَهَا إِلَى السَّمَاءِ، ثُمَّ مَشَتْ حَتَّى سَبَقَتْ دَوَابَّ النَّاسِ الدِّيْنَ كَانُوا مَعِي، فَتَعَجَّبَنَ مِنْهَا، وَيَقُلْنَ إِنَّ لَهَا لَشَأْنَا عَظِيمًا.
قَالَتْ : ثُمَّ قَدِمْنَا مَنَازِلَ بَنِي سَعَدٍ، وَلَا أَعْلَمُ أَرْضًا مِّنْ أَرْضِ اللَّهِ أَجْدَبَ مِنْهَا، فَكَانَتْ غَنَمِي تَرُوْحُ عَلَيَّ حِيْنَ قَدِمْنَا بِهِ شِبَاعًا لَبَنًا، فَنَحْلُبُ وَنَشْرُبُ، وَمَا يَخْلُبُ إِنْسَانٌ قَطْرَةً لَبَنٍ، وَلَا يَجِدُهَا فِي ضَرْعِ حَتَّى كَانَ الْحَاضِرُونَ مِنْ قَوْمِنَا يَقُوْلُوْنَ لِرُعَاتِهِمْ: أَسْرَحُوْا حَيْثُ يَسْرَحُ رَاعِي غَنَمُ بِنْتِ أَنْ ذُوَيْبٍ، فَتَرُوْحُ أَغْنَامَهُمْ جِيَاعًا، تَبَضُ قَطْرَةً لَبَنٍ، وَتَرُوْحُ أَغْنَامِي شِبَاعًا لَبَنًا، وَلَمْ تَزَلْ حَلِيْمَةُ، تَتَعَرَّفُ الْخَيْرَ وَالسَّعادَةَ، وَتَفُوْزُ مِنْهُ بِالْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ
'বনু সাদের কাফেলায় শরিক হয়ে আমি যখন মক্কা গমন করি। মন্দার বছরটায় আমরা দুগ্ধপায়ী শিশুর সন্ধান করছিলাম। আমি আমার গর্ধভীর ওপর সওয়ার হয়ে এসেছিলাম, আমার সঙ্গে একটি শিশু ছিলো। আমাদের একটি বুড়ো উটও ছিলো, আমার স্তনে এতটুকু দুধ ছিলো যা দিয়ে শিশুটিকে পরিতৃপ্ত করে পান করানো যায়, না আমাদের সে-উটের এতটুকু দুধ ছিলো যা দিয়ে তার খাদ্যাভাব মেটানো যায়। আল্লাহর কসম! আমার জানা মতে আমাদের যে-মহিলার কাছেই হযরত রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে পেশ করা হতো যখন জানতো তিনি এতিম প্রত্যেকে তাঁকে নিতে অস্বীকার করতো। আল্লাহর কসম! আমি ছাড়া আমার বান্ধবীদের কোনো মহিলা আর অবশিষ্ট ছিলো না, হ্যাঁ সবাই একটি করে দুগ্ধপায়ী শিশু সংগ্রহ করে ফেলেছে। অতঃপর যখন আমি তাঁকে ছাড়া আর কাউকে পেলাম না সেজন্য আমি আমার স্বামীকে বললাম, আল্লাহর কসম! আমার বান্ধবীদের মধ্যে আমারই কোনো দুগ্ধপায়ী শিশু ছিলো না, তো এভাবে ফিরতে আমার খারাপ লাগছিলো। তাই ওই এতিম শিশুটির কাছে যাই, নিশ্চয় আমি তাঁকে পাবো। অতঃপর আমি রওয়ানা হই। তখন তিনি দুধের চেয়ে পরিচ্ছন্ন পোষাকে আবৃত ছিলেন। তাঁর থেকে মিশকের সুরভি ছড়াচ্ছিলো। আর তাঁর নিচে ছিলো সবুজ রেশমি বিছানা। কাঁধের ওপর তিনি নিদ্রিত; বেশ গভীরভাবে। আমি তাঁর মাধুর্যে ও সৌন্দর্যে এতোটা বিমোহিত হলাম যে, তাঁকে ঘুম থেকে জেগে ওঠাতে ইচ্ছে হলো। তাই আমি ধীরে ধীরে তাঁর নিকটবর্তী হলাম এবং তাঁর বুকে হাত রাখলাম। তিনি মুসকি হেসে চোখ মেলে আমার দিকে তাকালেন। তাঁর চোখ থেকে এমন এক আলো বিচ্ছুরিত হলো যা আকাশের শূন্যতাকে পূর্ণ করে দিয়েছে-যা আমি নিজে প্রত্যক্ষ করছিলাম। এটা দেখে আমি তাঁর দু'চোখের মধ্যখানে চুম্বন করলাম। এরপর আমি আমার ডান স্তন তাঁর কাছে পেশ করলাম। তিনি এর থেকে যতটুকু ইচ্ছে দুধ পান করলেন। অতঃপর আমি তাঁকে বামটায় ফেরালাম, তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করলেন। এই ছিলো জন্মের পরের অবস্থা। আলিমগণ বলেন, মহান আল্লাহ তাঁকে একথা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, আপনার একজন দুধভাই আছে, আপনি তার ব্যাপারে ইনসাফ অনুযায়ী চলুন। মহিয়সী হালিমা বলেন, তারপর তিনি এবং তাঁর দুধভাই পরিতৃপ্ত হয়ে দুধপান করলেন।
এরপর আমি তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করি এবং তাঁকে আমার বাড়ি নিয়ে আসি। এদিকে আমার সহধর্মী-তথা স্বামী-লক্ষ করলেন, আমাদের সেই বৃদ্ধ উটনীটির স্তন দুধে ভরে উঠেছে। তখন তিনি দোহন করে পান করেন এবং আমিও পরিতৃপ্তি-সহকারে পান করি। ওই রাতটি আমরা ভালোভাবে অতিবাহিত করেছি। মহিয়সী হালিমা বলেন, লোকজন এক অপর থেকে বিদায় নিয়ে চলে যেতে লাগলো। আমিও নবী করীম-এর মাতার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমার গাধার ওপর সওয়ার হই। নবী করীম-কে আমার দু'হাতের মাঝে ধরে রাখি। আমি লক্ষ করলাম, আমার গাধাটি কাবার দিকে ফিরে তিনতিনটি সাজদা করলো এবং তার মাথাটি আকাশে দিকে উঁচু করলো। এরপর সে চলতে শুরু করলো। একপর্যায়ে আমার আগে রওয়ানা হওয়া সব সওয়ারীকে পেছনে ফেলে সে এগিয়ে যায়। এতে তারা বিস্ময়াকুল কণ্ঠে বলতে লাগলো, নিঃসন্দহে এই শিশুটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন।
মহিয়সী হালিমা বলেন, এরপর আমরা বনু সাদের যার যার বাড়িতে পৌঁছুলাম। আল্লাহর জমিনে এরচেয়ে বেশি দুর্ভিক্ষকবলিত অঞ্চল আরেকটা আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে নবী করীম -কে আনার পর থেকে আমার ছাগলগুলো আমাদের প্রচুর পরিমাণে দুধ দিতে লাগলো। আমরা দোহন করে পান করতে থাকি। অথচ অন্যান্য লোকেরা দুধের একফোঁটাও দোহন করতো না এবং স্তনেও না কোনো দুধ পাওয়া যেতো। এতে আমাদের গোত্রের লোকেরা তাদের রাখালদের বললো, যেখানে আবু যুআয়বের ছাগলগুলো বিচরণ করে সেখানে চরাও। এতেও তাদের ছাগলগুলো আরও দুধশূন্য হয়ে পড়ে এবং ফোঁটা দুধও হ্রাস পায়। অন্যদিকে আমার ছাগলগুলো প্রচুর পরিমাণে দুধ দিতে থাকে। মহিয়সী হালিমা এভাবে সর্বদা কল্যাণ ও সৌভাগ্যের দেখা পেতে থাকেন এবং প্রাচুর্য ও বরকত দ্বারা লাভবান হতে থাকেন।
শِعْرٌ:
لَقَدْ بَلَغَتْ فِي الْهَاشِمِيُّ حَلِيمَةُ مَقَامًا عَلَا فِي ذَرْوَةِ الْعِزَّ وَالْمَجْدِ
وَزَادَتْ مَوَاشِيْهَا وَأَخْصَبُ رَيْعُهَا وَقَدْ عَمَّ هَذَا السَّعْدُ كُلَّ بَنِي سَعْدِ
কবিতা:
হাশিমী গোত্রে হালিমা সর্বোচ্চ স্তরের সম্মান ও মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছেন। তাঁর আয়-রোজগারে প্রাচুর্যের ঢল নেমেছে। তাঁর উষ্ট্রীগুলো প্রচুর দুগ্ধবতী হয়ে উঠেছে এবং বনু সাদের সবাইকে তিনি মর্যাদায় অতিক্রম করে গেছেন।[4]
ইবনুল জারাহ বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুআল্লা আল-আযদী-এর গ্রন্থ আত-তারকীসে দেখেছি হযরত হালিমা -এর একটি কবিতা যেটি দিয়ে নবী করীম -কে ঘুমপাড়ানি দেওয়া হতো।
يَا رَبِّ إِذَ أَعْطَيْتَهُ فَابْقِهِ وَأَعْلِهِ إِلَى الْعُلَا وَارْقِهِ وَأَدْحِضْ أَبَاطِيْلَ الْعَدَى بِحَقِّهِ
“হে প্রভু! তুমি যখন তাঁকে আমায় দান করেছো তাই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখো। তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করো এবং সম্মান দান করো। তাঁর মাধ্যমে অসত্যের পূজারি শত্রুদের অপদমন করো।”[5]
নবী করীম -এর দুধবোন শায়মা তাঁকে কোলে নিতো, খাওয়াতো এবং বলতো:
هَذَا أَخْ لَّمْ تَلِدُهُ أُمِّي وَلَيْسَ مِنْ نَسْلِ أَبِي وَعَمِّي فَدَيْتُهُ مِنْ مُحَوِّلٍ مُّعِمِّي فَأَتَمَهُ اللَّهُمَّ فِيمَا تَنْمِي
"এ আমার এমন ভাই, যে আমার মায়ের উদরজাত নয় আমার পিতা ও চাচার ঔরস থেকেও নয়; তবুও আমি আমার মামা ও চাচাকে তাঁর সম্মানে উৎসর্গ করি। হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে প্রতিপালন করুন ঠিক যেভাবে আপনি প্রতিপালন করেন।"
ইমাম আল-বায়হাকী, ইমাম আস-সাবুনী, ইমাম খতীব আল-বগদাদী ও ইমাম ইবনে আসাকির প্রমুখ বর্ণনা করেন,
عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! دَعَانِي لِلدُّخُولِ فِي دِينِكَ أَمَارَةٌ لِّنُبُوَّتِكَ، رَأَيْتُكَ فِي الْمَهْدِ تُنَاغِي الْقَمْرَ، وَتُشِيرُ إِلَيْهِ بِأَصْبُعِكَ، فَحَيْثُ أَشَرْتَ إِلَيْهِ مَالَ، قَالَ: «إِنِّي كُنْتُ أُحَدِّثُهُ، وَيُحَدِّثُنِي، وَيُلْهِبْنِي عَنِ الْبُكَاءِ، وَأَسْمَعُ وَجْبَتَهُ يَسْجُدُ تَحْتَ الْعَرْشِ».
'হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার দীন গ্রহণে আপনার নুবুওয়তের নিদর্শনাবলি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে; আপনি দোলনায় দোলার সময় আমি লক্ষ করতাম আপনি চাঁদের সাথে কথা বলতেন, আপনি আপনার অঙ্গুলি দিয়ে যেদিকে ইশারা করতেন চাঁদ সেদিকে সরে যেতো! নবী করীম বললেন, 'হাঁ, আমি তার সাথে কথা বলতাম এবং সেও আমার সাথে কথা বলতো আর সে আমাকে কান্না থেকে ভুলিয়ে রাখতো। সে যখন আরশের নিচে সাজদাবনত হতো আমি তার আওয়াজ শুনতাম।”[6]
ইমাম আস-সাবুনী বলেন, 'এ-হাদীস দুর্লভ সনদের, তবে বক্তব্য মুজিযার অন্তর্ভুক্ত যা হাসান।"[7]
لَطَفَتْهُ = نَاغَتِ الْأُمَّ صَبِيُّهَا الْمُنَاغَاةُ অর্থ الْمُحَادَةُ (আদরভরা ডাক) ।[8]
وَشَاغَلَهُ بِالْمُحَادَثَةِ وَالْمُلَاعَبَةِ মা তার বাচ্চার প্রতি সদয় হয়েছেন এবং খেলাধুলায় লাগিয়ে দিয়েছেন।
ইমাম আল-বায়হাকী ও ইমাম ইবনে আসাকির বর্ণনা করেন,
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَتْ حَلِيْمَةُ تُحَدِّثُ: أَنَّهَا أَوَّلُ مَا نَطَقَتْ رَسُولُ اللهِ ﷺ تَكَلَّمَ، فَقَالَ: «اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ للهِ كَثِيرًا، وَسُبْحَانَ اللهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا، فَلَمَّا تَرَعْرَعَ كَانَ يَخْرُجُ، وَيَنْظُرُ إِلَى الصَّبْيَانِ يَلْعَبُونَ، فَيَتَجَنَّبُهُمْ.
হযরত (আবদুল্লাহ) ইবনে আব্বাস বলেন, মহিসয়ী হালিমা বলতেন, যখন তিনি হযরত রাসূলুল্লাহ -কে দুধ ছাড়িয়ে ছিলেন তখন প্রথম তাঁর মুখ ফুটে ছিলো এই বলে:
اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا».
'আল্লাহ মহান, সর্বাধিক প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতার ঘোষণা করছি।'
যখন তিনি একটু বড়ো হলেন তখন বাইরে যেতে লাগলেন আর খেলাধুলায় মশগুল শিশুদের দিকে লক্ষ্য রাখতেন। তবে তাঁদের এড়িয়ে চলতেন তিনি।” আল-হাদীস।[9]
وَعَنْهُ، قَالَ: كَانَتْ حَلِيْمَةُ لَا تَدْعُهُ يَذْهَبُ مَكَانًا بَعِيدًا، فَغَا فَلَتْ عَنْهُ يَوْمًا، فَخَرَجَ مَعَ أُخْتِهِ الشَّيْمَاءَ فِي الظَّهِيرَةِ إِلَى الْبَهْمِ، فَخَرَجَتْ حَلِيْمَةُ تَطْلُبُهُ حَتَّى تَجِدَهُ مَعَ أُخْتِهِ، فَقَالَتْ: فِي هَذَا الْحُرَّةِ؟ فَقَالَتْ أُخْتُهُ: يَا أُمَّهُ مَا وَجَدَ أَخِي حُرًّا رَأَيْتُ غَمَامَةٌ تَظِلُّ عَلَيْهِ، إِذَا وَقَفَ وَقَفَتْ، وَإِذَا سَارَ سَارَتْ، حَتَّى انْتَهَى إِلَى هَذَا الْمَوْضِعِ.
'তাঁর থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি দূরে কোথাও যেতে পারেন আশঙ্কায় মহিয়সী হালিমা কখনো তাঁকে একা ছাড়তেন না। একদিন তিনি তাঁর থেকে কিছুটা বেখবর ছিলেন। ওই সময় তিনি তাঁর দুধবোন শায়মার সাথে চারণভূমির দিকে চলে গিয়েছিলেন। মহিয়সী হালিমা তাঁকে খুঁজতে বেরুলেন এবং তাঁকে বোনের সাথে পেয়ে গেলেন। তখন তিনি বললেন, এমন প্রখর রৌদ্রতাপে বেরিয়ে পড়েছো? শায়মা বললো, আম্মু গো! আমার ভাই রোদে তো মোটেও ছুঁতে পারে নি; আমি দেখলাম একখণ্ড মেঘ তাঁকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাঁড়ালে তাও স্থির দাঁড়িয়ে যায় আর তিনি হেঁটে চললে তাও হাঁটতে শুরু করে। অবশেষে তা এ পর্যন্ত এসেছে।[10]
وَكَانَ ﷺ يَشُبُّ شَبَابًا لَّا يَشُبُّهُ الْغِلْمَانِ، قَالَتْ حَلِيْمَةُ: فَلَمَّا فَصَلْتُهُ، فَقَدِمْنَا بِهِ عَلَى أُمِّهِ، وَنَحْنُ أَحْرَصُ شَيْءٍ عَلَى مُكُثِهِ عِنْدَنَا، لِمَا نَرَى مِنْ بَرَكَتِهِ، فَكَلَّمْنَا أُمَّهُ، وَقُلْنَا: لَوْ تَرَكْتِيْهِ عِنْدَنَا حَتَّى يَغْلِظَ، فَإِنَّا نَخْشَى عَلَيْهِ وَبَاءَ مَكَّةَ، وَلَمْ نَزَلْ بِهَا حَتَّى رَدَّتْهُ مَعَنَا، فَرَجَعْنَا بِهِ.
فَوَ اللَّهِ! إِنَّهُ بَعْدَ مَقْدِمِنَا بِشَهْرَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ مَعَ أَخِيهِ مِنَ الرَّضَاعَةِ لَفِي بَهْمٍ لَّنَا خَلْفَ بُيُوتِنَا، إِذْ جَاءَ أَخُوهُ يَشْتَدُّ، فَقَالَ ذَاكَ أَخِي الْقُرَشِيُّ: وَقَدْ جَاءَ رَجُلَانِ عَلَيْهِمَا ثِيَابُ بَيْضِ.
'নবী করীম দ্রুত বেড়ে উঠছিলেন যেরকম অন্যান্য সাধারণ শিশুরা বেড়ে ওঠে না। মহিয়সী হালিমা বলেন, তিনি যখন দুধ ছাড়লেন তখন আমি তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে গেলাম। তবে আমার মন চাইছিল আরও কিছুদিন তাঁকে আমার কাছে রাখতে। কেননা আমি তাঁর অগুণিত বরকত দেখতে পেতাম। তাই তাঁর মায়ের সাথে কথা বলি। আমি বলি যে, যদি তাঁকে আমার কাছে রেখে দিন এতে তিনি আরও নাদুস-নুদুস হয়ে উঠবেন। আমি আশঙ্কা করছিলাম মক্কার বিভিন্ন রোগবালাই তাঁকে পেয়ে বসে কি না। আমার পীড়াপীড়িতে তিনি তাঁকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে ফিরে এলাম আমি।
আল্লাহর কসম! তাঁকে পুনরায় নিয়ে আসার মাস দুই বা তিনেক পর তাঁর দুধ ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের বাড়ির পেছনের চারণভূমিতে ছিলেন। এমন সময়ে দৌড়াতে দৌড়াতে তাঁর ভাই এসে বললো, কী হয়ে গেলো আমার কুরায়শি ভাইয়ের? তাঁর কাছে সাদা পোষাকধারী দু'জন লোক এসেছেন।' আল-হাদীস।[11]
টিকাঃ
[1] আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ৭, পৃ. ১, হাদীস: ৫১০১; বর্ণিত হয়েছে, قَالَ عُرْوَةُ: وَثُوَيْنِيَةٌ مَوْلَاةُ لَأَبِي لَهَبٍ كَانَ أَبُو لَهَبٍ أَعْتَقَهَا، فَأَرْضَعَتِ النَّبِيِّ - فَلَمَّا مَاتَ أَبُو لَهَبٍ أُرِيَّةٌ بَعْضُ أَهْلِهِ بِشَرُ حِيةٍ، قَالَ لَهُ مَاذَا لَقِيتَ؟ قَالَ أَبُو لَهَبٍ لَمْ أَلْقَ بَعْدَكُمْ غَيْرَ أَنِّي سُقِيتُ في هَذِهِ بِعَتَاقِي تُوبِيَةً. 'ওরওয়া বলেন, আবু লাহাবের ক্রীতদাসী সুওয়ায়বা যাকে আবু লাহাব মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তিনি নবীজি কে দুধ পান করিয়েছিলেন। যখন আবু লাহাব মারা যান তখন তার পরিবারের কেউ কেউ তাকে ভয়াবহ অবস্থার স্বপ্ন দেখেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার কী অবস্থা? আবু লাহাব বললেন, আপনি ছাড়া আর কারো সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি, অবশ্য এই দুটোতে কিছুটা প্রশান্তি অনুভব করি সুওয়ায়বাকে মুক্ত করার কারণে।'
[2] আল-কাসূতাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৮৭-৮৮
[3] বিস্তারিত দেখুন: ইবনুল হাজ, আল-মাদখাল, খ. ১, পৃ. ১-২৬
[4] এ-পূর্ণাঙ্গ বর্ণনাটি একমাত্র আল-মাওয়াহিবুল লুদুনিয়ায় পাওয়া যায়। তবে শব্দের বিভিন্নতা-সহকারে ও বিক্ষিপ্তভাৰে অন্যরাও অনুরূপ কানা পেশ করেছেন তাঁদের গ্রন্থসমূহে। বিস্ততারিত দেখুন: (ক) আল-কাসতাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৯০-৯২; (খ) আত-তাবারানী, আল-মু'জামুল কবীর, খ. ২৪, পৃ. ২১৪, হাদীস: ৫৪৫; (গ) আল-বায়হাকী, দালারিলুন সুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১৩২, হাদীস: ৬৩; (ঘ) আবু নুআইম আল-আসবাহানী, দালারিপুন সুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১৫৫-১৫৬, হাদীস: ৯৪, হযরত হালিমা বিনতুল হারিস থেকে বর্ণিত
[5] আল-কাস্স্তান্নানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ.১২
[6] (ক) আল-বায়হাকী, দালারিলুন নুবুওয়াত, খ. ২, পৃ. ৫১, হাদীস: ৩৯৯; (খ) আল-কাসতাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৯৩; (গ) ইবনে আসাকির, তারিখু দামিশক, খ. ৪, পৃ. ৩৫৯, হাদীস: ৩০০৯
[7] আল-কাস্তাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৯৩
[8] ইবনে মনযুর, লিসানুল আরব, খ. ১৫, পৃ. ৩৩৬
[9] ইবনে আসাকির, প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ৩৬০, হাদীস: ৩০১০
[10] (ক) আল-বায়হাকী, দালারিপুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১৪০, হাদীসঃ ৪৬; (খ) ইবনে আসাকির, তারিখ সামিশক, খ. ৩. পৃ. ৪৭৪, হাদীস: ২০৪৫
[11] ইবনে জরীর আত-তাবারী, তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক, খ. ২, পৃ. ৩৯৭, হাদীস: ৩৭৭, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণিত
📄 নবী করীম (সাঃ)-এর পবিত্র বক্ষবিদারণ
فَانْطَلَقْنَا نَرُدُّهُ إِلَى أَهْلِهِ قَبْلَ أَنْ يَظْهَرَ بِهِ مَا نَتَخَوَّفُ حَتَّىٰ قَدِمْنَا بِهِ إِلَى أُمِّهِ وَأَخْبَرْنَاهَا بِشَأْنِهِ، فَقَالَتْ: أَخِشِيتُمَا عَلَيْهِ الشَّيْطَانَ؟ فَلَا وَاللَّهِ مَا لِلشَّيْطَانِ عَلَيْهِ سَبِيْلٌ، وَإِنَّهُ لَكَائِنٌ لَّابْنِي هَذَا الشَّأْنُ.
'অতঃপর আমি তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে ফেরত নিয়ে গেলাম, বিষয়টি তাঁদের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আগে যা আমার আশঙ্কার কারণ ছিলো। তাই আমি তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে গেলাম এবং পুরো ঘটনা তাঁকে খুলে বললাম। এতে তিনি বললেন, তুমি বোধ হয় আশঙ্কা করছো তাঁর ওপর কোনো শয়তানের মন্দ প্রভাব পড়ে কি- না? না, আল্লাহর কসম! শয়তানের তাঁর ওপর খারাপ প্রভাব ফেলার কোনো পথ নেই। বস্তুত আমার সন্তানের অবস্থা এমনটি হবে।”[1]
ফায়িদা
মহানবী হযরত মুহাম্মদ -এর চার চারবার পবিত্র বক্ষ বিদারণ করে তাঁর পুত-পবিত্র হৃদপিণ্ড ধোয়া হয়েছে: ১. ছোটকালে; বনু সা'দের মহিয়সী হালিমা -এর চারণভূমিতে। ২. দশ বছরের বয়সকালে; হাদীসে নবী করীম ইরশাদ করেন, هُوَ إِنَّ ذَلِكَ أَوَّلُ مَا ابْتُدِثْتُ بِهِ مِنْ أَمْرِ النُّبُوَّةِ وَكَانَ فِي الصَّحْرَاءِ». 'সে-সময়টি হলো আমার নুবুওয়াতের প্রথম ধাপ, তখন তিনি মরুভূমিতে ছিলেন।”[2]
৩. নুবুওয়াত লাভের সময়;
وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ نَذَرَ أَنْ يَعْتَكِفَ شَهْرًا هُوَ وَخَدِيجَةُ، فَوَافَقَ ذَلِكَ شَهْرَ رَمَضَانَ، وَقَدْ يُمْهَمُ مِنْ بَعْضِ الْكُتُبِ أَنَّهُ كَانَ فِي غَارِ حِرَاءَ، فَخَرَجَ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَسَمِعَ السَّلَامُ عَلَيْكَ. قَالَ: «وَظَنَنْتُهَا فَجْأَةَ الْجِنِّ، فَجِئْتُ مُسْرِعًا حَتَّى دَخَلْتُ عَلَى خَدِيجَةً، فَقَالَتْ: مَا شَأْنُكَ؟ فَأَخْبَرْتُهَا، فَقَالَتْ: أَبْشِرْ بِأَنَّ السَّلَامَ خَيْرٌ، قَالَ: ثُمَّ خَرَجْتُ مَرَّةٌ أُخْرَى، فَإِذَا بِجِبْرِيلَ عَلَى الشَّمْسِ جُنَاحٌ لَّهُ بِالْمَشْرِقِ وَجَنَاحٌ بِالْمَغْرِبِ».
'নবী করীম ও বিবি খদীযা মাসব্যাপী ইতিকাফ থাকার মান্নত করে ছিলেন। সময়টি রামাযান মাসের সাথে মিলে যায়। -কতিপয় কিতাব থেকে বোঝা যায় যে, তিনি তখন হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন। একরাতে বেরুলেন, তখন আস- সালামু আলায়কা সম্ভাষণ শুনতে পেলেন। নবী করীম বলেন, 'আমি ভাবলাম এটি হয়তো কোনো জিনের আওয়াজ হতে পারে। আমি দ্রুত হেঁটে হযরত খদীযা এর ঘরে চলে এলাম। হযরত খদীযা বললেন, কী অবস্থা আপনার? আমি তাঁকে পুরো ঘটনা খুলে বললাম। তিনি বললেন, সুসংবাদ! সালাম তো কল্যাণবহ কথা।' নবী করীম আরও বলেন, তারপর পুনরায় আমি বেরিয়ে পড়ি। আমি দেখতে পেলাম জিবরাইল সূর্যের ওপর আরোহিত; তাঁর একটি ডানা পশ্চিমে আর অন্য ডানাটি পূর্বদিগন্তে।”[3]
৪. আল-ইসরা রাতে। পঞ্চমবারের কথা আছে, তবে তার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না। আমরা বিষয়টি বিশ্লষণে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থও লিখেছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
এ অধ্যায়ে বর্ণিত একাধিক হাদীসসমূহে অনেক ঘটনা রয়েছে, নবী করীম-এর হৃদপিণ্ড-কে স্বর্ণের তশতরীতে রেখে যমযমের পানি দ্বারা ধোয়া হয়েছে।[4]
এতে প্রতীয়মান হয় যে, যমযমের পানি জান্নাতের পানির তুলনায় অনেক বেশি মূল্যবান ও পবিত্র। অন্যথায় জান্নাতের পানি দ্বারাই ধোয়া হতো।
এখন একটি প্রশ্ন ওঠে তশতরিতে করে নবী করীম-এর পবিত্র হৃদপিণ্ড- ধোয়া হয়েছে বিষয়টি কি কেবল তাঁরই বৈশিষ্ট্য, না সকল নবী-এর ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে? এর জবাবে বলা যায়, তাবুত ও সকীনা বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে, সকীনা হলো যে-তশতরিতে নবীদের হৃদপিণ্ড-ধোয়া হয়।
ইমাম আত-তাবারী এমনটি বর্ণনা করেছেন, ইমাম ইমাদউদ্দীন ইবনে কসীর ও তাঁর তাফসীরে আবু মালিক হযরত (আবদুল্লাহ) ইবনে আব্বাস -সূত্রে ইমাম আস-সুদ্দী -এর বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন।[5] আল-মাওয়াহিবুল লুদুনিয়া গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[6]
নবী করীম -এর বয়স যখন ৪ বছর হয়, কারো মতে ৫, কারো মতে ৬, কারো মতে ৭, কারো মতে ৯, কারো মতে ১২ বছর ১ মাস ১০ দিন বয়সে আবওয়া'[7] মতান্তরে হাজুনে'[8] তাঁর মাতা ইহলোক গমন করেন। আল-কামূসে বলা হয়েছে, 'মক্কার দার নাবিগায় নবী করীম -এর মাতা আমিনা সমাধিস্থ হন।”[9]
ইমাম ইবনে সা'দ বর্ণনা করেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، لَمَّا بَلَغَ سِتَّ سِنِيْنَ خَرَجَتْ بِهِ أُمُّهُ إِلَى أَخْوَالِهِ بَنِي عَدِيِّ بْنِ النَّجَّارِ بِالْمَدِينَةِ تَزُورُهُمْ بِهِ، ثُمَّ رَجَعَتْ بِهِ إِلَى مَكَّةَ، فَلَمَّا كَانَتْ بِالْأَبْوَاءِ تُوُفِّيَتْ.
'হযরত (আবদুল্লাহ) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবী করীম -এর বয়স যখন ৬ বছর মাতা আমিনা তাঁকে নিয়ে আদী ইবনুন নাজ্জার গোত্রে তাঁর মামাদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মদীনা গিয়েছিলেন। অতঃপর নবী করীম -সহ তিনি পবিত্র মক্কায় ফিরে আসছিলেন, যখন আবওয়া পৌঁছুলেন তখন তিনি ইন্তিকাল করেন।"[10]
বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত আমিনা সালামুল্লাহি আলাইহা ওফাতের পর নবী করীম -এর ওপর ঈমান এনেছেন। এ-ব্যাপারে ইমাম আত-তাবারী রহিমাহুল্লাহ নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন যে,
عَنْ عَائِشَةَ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَزَلَ الْحَجُوْنَ كَثِيْبًا حَزِيْنًا، فَأَقَامَ بِهِ مَا شَاءَ اللهُ ، ثُمَّ رَجَعَ مَسْرُورًا، قَالَ: سَأَلْتُ رَبِّي ، فَأَحْيَا لِي أُمِّي، فَآمَنَتْ بِي ، ثُمَّ رَدَّهَا».
'হযরত আয়িশা থেকে বর্ণিত, একদিন নবী করীম আল-হাজুন এলাকায় পৌঁছুলেন, তখন তিনি অত্যন্ত বিমর্ষ ছিলেন। অতঃপর সেখানে তিনি আল্লাহ -এর ইচ্ছায় কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। যখন ফিরলেন তখন তিনি উৎফুল্ল ছিলেন। তিনি বললেন, 'আমি আমার প্রভু-এর কাছে প্রার্থনা করেছি। এতে আল্লাহ আমার মাতাকে জীবিত করে দেন। অতঃপর তিনি আমার ওপর ঈমান আনেন আর এরপরই তাঁকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”[11]
ইমাম আবু হাফস ইবনে শাহীন তাঁর আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[12] একইভাবে হযরত আয়িশা থেকে নবী করীম-এর মাতা-পিতা জীবিত হয়ে তাঁর ওপর ঈমান এনেছেন মর্মেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম আস-সুহায়লী এমনটি বর্ণনা করেছেন।[13] ইমাম খতীব আল-বগদাদীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[14] ইমাম আস-সুহায়লী বলেছেন, এর কতিপয় বর্ণনাকারী অজ্ঞাত রয়েছেন।[15]
ইমাম ইবনে কসীর বলেছেন, এটি অবশ্যই মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) এবং এর কতিপয় বর্ণনাকারী অজ্ঞাত।[16]
অনেক আলিম নবী করীম-এর মাতা-পিতা উভয়ই মুক্তিপ্রাপ্ত এবং তাঁরা জাহান্নামি হতে পারেন না বলে নিশ্চিত করেছেন। নবীজির পবিত্রাত্ম মাতা-পিতা সম্পর্কে আরও অনেক কথা রয়েছে, সতর্কতা হলো এ-ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করা।
হাফিয শামসুদ্দীন ইবনে নাসিরউদ্দীন আদ-দিমাশকী এ প্রসঙ্গে বেশ চমৎকার বলেছেন, কবিতা:
حَيَا اللَّهُ النَّبِيَّ مُزِيدَ فَضْلٍ * عَلَى فَضْلٍ وَكَانَ بِهِ رُؤُوْفًا
فَأَحْيَا أُمَّهُ وَكَذَا أَبَاهُ * لِإِيمَانِ بِهِ فَضْلًا لَّطِيفًا
فَسَلَّمْ فَالْقَدِيمُ بِذَا قَدِيرِ * وَإِنْ كَانَ الْحَدِيثُ بِهِ ضَعِيفًا
'আল্লাহ নবী করীম -কে মর্যাদার ওপর মর্যাদা দান করেছেন। তিনি তাঁর সাথে বিশেষ অনুগ্রহবান ছিলেন। অতএব তিনি দয়া ও মায়াবশত তাঁর মাতা-পিতাকে তাঁর ওপর ঈমান আনার জন্যে জীবিত করেন। সুতরাং বিষয়টি স্বীকার করে নাও, কেননা অবিনশ্বর সত্তা এ- বিষয়ে অবশ্যই সমর্থ। যদিও এ-সম্পর্কিত হাদীসটি দুর্বল।'
অবশ্যই অনেক আলিম তাঁদের ঈমান আনয়ন প্রমাণে সবিস্তৃত আলোকপাত করেছেন, আল্লাহ তাঁদের ভালো সুবাসনার জন্য জান্নাত নসিব করুন।
তবে খবরদার! তাঁদের আলোচনা প্রসঙ্গে ধৃষ্টতামূলক মন্তব্য থেকে সর্তক থাকতে হবে। নিশ্চয় এতে স্বয়ং নবী করীম -কে আঘাত করা হয়। যেহেতু সমাজের প্রচলিত আছে যে, কারো পিতা-মাতা সম্পর্কে কটূক্তি করা হলে কিংবা চরিত্রে কালিমা লেপন করা হলে তবে এ-ধরনের কথাবার্তায় তাদের সন্তানরা উপস্থিত থাকলে মনে দুঃখ পায়। এই মর্মে নবী করীম ইরশাদ করেছেন,
لَا تُؤْذُوا الْأَحْيَاءَ بِسَبِّ الْأَمْوَاتِ ...
'মৃত লোককে মন্দ বলে তার জীবিত আত্মীয়দের মনে ব্যথা দিও না।'
এ-প্রসঙ্গে ইমাম আস-সুযুতী -এর প্রমাণ্য অনেক পুস্তক রয়েছে। প্রয়োজনে সেসব দেখা যেতে পারে।
অতঃপর নবী করীম -এর অভিভাবক দাদা আবদুল মুত্তালিব ১২০ মতান্তরে ১৪০ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। আবু তালিব তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন-যাঁর নাম ছিলো আবদ মুনাফ। আবদুল মুত্তালিব তাঁকে এ- ব্যাপারে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। কারণ তিনি আবদুল্লাহর অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন।
ইমাম ইবনে আসাকির বর্ণনা করেন,
عَنْ حَلِيْمَةَ، عَنْ عُرْفَطَةً، قَالَ: قِدِمْتُ مَكَّةَ وَهُمْ فِي تَحْطٍ، فَقَالَتْ قُرَيْسٌ : يَا أَبَا طَالِبٍ أَقْحَطَ الْوَادِي وَأَجْدَبَ الْعِيَالُ؛ فَهَلُمَّ فَاسْتَسْقِ، فَخَرَجَ أَبُو طَالِبٍ وَمَعَهُ غُلَامٌ كَأَنَّهُ شَمْسُ دَجْنٍ تَجَلَّتْ عَنْهُ سَحَابَةٌ وَحَوْلَهُ أُغَيْلِمَةٌ، فَأَخَذَهُ أَبُو طَالِبٍ، فَأَلْصَقَ ظَهْرَهُ بِالْكَعْبَةِ وَلَاذَ الْغُلَامُ بِإِصْبِعِهِ وَمَا فِي السَّمَاءِ قَزَعَةٌ، فَأَقْبَلَ السَّحَابُ مِنْ هَا هُنَا وَهَا هُنَا، فَأَغْدَقَ وَاغْدَوْدَقَ، وَانْفَجَرَ لَهُ الْوَادِي وَفِي ذَلِكَ يَقُولُ أَبُو طَالِبٍ: شِعْرٌ
وَأَبْيَضَ يُسْتَسْقَى الْغَمَامُ بِوَجْهِهِ * ثَمَالُ الْيَتَامَى عِصْمَةٌ لِّلْأَرَامِلِ
'হযরত হালিমা থেকে বর্ণিত, হযরত ওরফুতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কায় গমন করলাম, সে-সময় তাদের দুর্ভিক্ষ চলছিলো। কুরায়শরা বললো, হে আবু তালিব! গ্রামে দুর্ভিক্ষ চলছে, পরিবার-পরিজন দুর্ভিক্ষের শিকার হতে চলছে। কাজেই চলুন, বৃষ্টির প্রার্থনা করি। তখন আবু তালিব রওয়ানা হলেন, তাঁর সাথে একটি শিশু ছিলো। শিশুটিকে কালো মেঘঢাকা সূর্যের মতো লাগছিলো; যার দ্বার মেঘমালা চমকাচ্ছিলো। আবু তালিবের চারপাশে আরও ক'জন শিশু ছিলো। আবু তালিব সেই শিশুটিকে ধরে তাঁর পেট কাবার সাথে লাগিয়ে দিলেন। শিশুটি আঙুল দ্বারা ইঙ্গিত করলো, তখন আকাশে মেঘের চিহ্নমাত্রও ছিল না অথচ সাথে সাথে এ-দিক থেকে ও-দিক থেকে মেঘমালা এসে জড়ো হল। অতঃপর মুষলধারে বৃষ্টি নামলো এবং প্রবল বৃষ্টি হলো। আর এতে গ্রাম বন্যা বইয়ে গেল। এ-প্রসঙ্গে আবু তালিব বলেন, কবিতা:
وَأَبْيَضَ يُسْتَسْقَى الْغَمَامُ بِوَجْهِهِ * ثَمَالُ الْيَتَامَى عِصْمَةٌ لِّلْأَرَامِلِ
উজ্জ্বল রঙ তো মেঘমালা যেমন চেহারা বিশিষ্ট এই শিশু থেকে ঔজ্জ্বল্য গ্রহণ করে, সে সকল এতিমের আশ্রয় ও অভাবীদের ভরসাস্থল।"[20]
আর الْمَآلُ শব্দটি তিন নুকতা বিশিষ্ট এ-এ كَرُّ (ই-কার)-সহকারে অর্থ الْمَلْجَأُ (আশ্রয়স্থল) ও الْنِيَّانُ (ত্রাণকর্তা)। আর কেউ কেউ বলেছেন, الْمُطْعِمُ فِي الْمُدَّةِ (সংকটের সময় খাদ্যদানকারী)।
আর (اَلْمَسَاكِينُ مِنْ رِّجَالٍ وَنِسَاءٍ لَكَ الْأَرَامِلُ )অসহায় নারী-পুরুষ)। এটি নারীর জন্য বিশিষ্ট এবং বহুল ব্যবহৃত। শব্দটির একবচন হলো أَرْمِلٌ ও أَرْمِلَةٌ।
এ-পঙ্ক্তিটি আবু তালিবের কাব্যমালা থেকে উদ্ধৃত হলো। ইবনে ইসহাক পুরো কাব্যমালাটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও নবী করীম -এর প্রশংসায় তাঁর আরও বেশ কিছু কাব্য রয়েছে। সর্বোপরি হযরত রাসূলুল্লাহ -এর জন্য তাঁর আন্তরিক অভিভাবকত্ব ও সার্বিক সহযোগিতা তো ইতিহাসখ্যাত।
ইমাম ইবনে আত-তিন বলেন, আবু তালিবের কবিতাগুলোয় প্রমাণ হয় যে, তিনি নবী করীম নবী হিসেবে প্রেরিত হওয়ার পূর্ব থেকেই তাঁর নুবুওয়াতের বিষয়টি টের পেয়েছিলেন। কারণ এ-ব্যাপারে পাদরি بَحِيرًا-এক নুকতা বিশিষ্ট ب-এ نُنْجُ (আ-কার), নুকতাবিহীন -এ كُنڑ (ই-কার), নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট -এ سُکُونُ (হ-সন্ত) ও শেষে স্বল্প দীর্ঘস্বরের : -সহকারে প্রমুখ তাঁকে পূর্বেই অবগত করেছিলেন।[21]
এ-ব্যাপারে ইমাম ইবনে হাজর আল-আসকালানী -এর সিদ্ধান্ত হলো, ইমাম ইবনে ইসহাক -এর ভাষ্য মতে, আবু তালিব এই কবিতাগুলো আবৃত্তি করেছিলেন নবী করীম-এর নুবুওয়তপ্রাপ্তির পর। তবে আবু তালিব নবী করীম -এর নুবুওয়াতের বিষয়টি সত্যি জানতেন মর্মে বহু বর্ণনায় এসেছে। আর সেসবকে দলিল হিসেবে পেশ করে কতিপয় শিয়া মনে করে আবু তালিব মুসলিম ছিলেন এবং তিনি ইসলামের ওপর ইন্তিকাল করেছেন। আল-হাশাওয়িয়া সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে, তিনি কাফির অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন। তবে তাদের দাবির পক্ষে যেসব দলিল উপস্থাপন করেছে তা থেকে বিষয় প্রমাণিত হয় না। আল-মাওয়াহিবে অনুরূপ এসেছে।[23]
আরও বর্ণিত আছে যে,
أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لَهُ عِنْدَ مَوْتِهِ : أَيْ عَمَّا قُلَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؛ كَلِمَةً أَسْتَحِلُّ لَكَ بِهَا الشَّفَاعَةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَلَمَّا رَأَى أَبُو طَالِبٍ حِرْصَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ لَهُ: يَا ابْنَ أَخِيْ، وَاللَّهِ لَوْلَا تَخَافَةُ قُرَيْشٍ أَنَّيْ إِنَّمَا قُلْتُهَا جَزَعًا مِنَ الْمَوْتِ لَقُلْتُهَا لَا أَقُولُهَا إِلَّا لِأَسُرَّكَ بِهَا - فَلَمَّا تَقَارَبَ مِنْ أَبِي طَالِبِ الْمَوْتُ نَظَرَ الْعَبَّاسُ إِلَيْهِ يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ، فَأَصْغَىٰ إِلَيْهِ بِأُذُنَيْهِ، فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي! وَاللَّهِ لَقَدْ قَالَ أَخِي الْكَلِمَةَ الَّتِي أَمَرْتَهُ، فَقَالَ : لَمْ أَسْمَعْ».
'আবু তালিবের মৃত্যুশয্যায় নবী করীম ﷺ তাঁকে বলেছিলেন, 'হে আমার চাচা! আপনি অন্তত লা-ইলাহা ইল্লাহ বাক্যটি পড়ুন, এতে কিয়ামত-দিবসে আপনার পক্ষে সুপারিশ করা আমার জন্য বৈধ হয়।' আবু তালিব হযরত রাসূলুল্লাহ -এর পীড়াপীড়ি দেখে তাঁকে বললেন, ওহে ভাতিজা! আল্লাহর কসম, যদি কুরায়শ-কর্তৃক মৃত্যুর ভয়ে আমি কালিম। পড়ে নিয়েছি এই অপবাদ দেওয়ার আশঙ্কা না থাকতো তাহলে আমি নিশ্চয় কালিমা পড়তাম। তবে তোমাকে খুশি করার জন্যে পড়ছি। যখন আবু তালিবের মৃত্যু-সময় ঘনিয়ে এলো তখন আল-আব্বাস তাঁর দিকে লক্ষ করলেন, তাঁর ঠোট নড়ছে, তাই আব্বাস তাঁর প্রতি কান পাতলেন আর বললেন, ভাতিজা! আমি আমার ভাইকে কালিমাটি পড়তে শুনেছি যা তুমি তাঁকে পড়তে বলেছ। নবী করীম ﷺ বললেন, 'আমি শুনতে পাইনি।"
অনুরূপভাবে ইমাম ইবনে ইসহাক -এর বর্ণনায় এসেছে যে,
أَنَّهُ أَسْلَمَ عِنْدَ الْمَوْتِ.
'মৃত্যুর সময় তিনি ঈমান এনেছিলেন।"[25]
এসবের জবাবে বলা যায়, তাঁর মৃত্যু আবদুল মুত্তালিবের অনুসৃত ধর্মবিশ্বাসের ওপর হয়েছে মর্মে যে বিশুদ্ধ বর্ণনা রয়েছে এটি তার পরিপন্থী ।[26]
এ-বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ রয়েছে। আল্লাহই সত্য বলেন এবং তিনি সঠিক পথনির্দেশকারী।
১২ বছর বয়সে হযরত রাসূলুল্লাহ তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়া সফরে যান এবং বুসরা পৌছান। সেখানে জিরজিস ওরফে বহীয়রা নামক এক সাধু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তিনি নবী করীম -এর গুণ-বৈশিষ্ট্য চিনে ফেলেন। অতঃপর তিনি নবী করীম -এর হাত ধরে বললেন',
هَذَا سَيِّدُ الْعَالَمِينَ هَذَا يَبْعَثُهُ اللَّهُ رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ فَقِيلَ لَهُ مَا عَمَلُكَ بِذَلِكَ؟ فَقَالَ: إِنَّكُمْ حِيْنَ أَشْرَفْتُمْ بِهِ مِنَ الْعَقَبَةِ لَمْ يَبْقَ شَجَرٌ وَلَا حَجَرٌ إِلَّا خَرَّ سَاجِدًا، وَلَا يَسْجُدُ إِلَّا لِنَبِيَّ وَإِنِّي لَأَعْرِفُهُ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ فِي أَسْفَلِ غُضْرُوْفِ كَتِفِهِ مِثْلَ التَّفَاحَةِ.
'ইনি দু'জাহানের সরদার। আল্লাহ তাঁকে সমগ্র বিশ্বের জন্য শান্তির দূতরূপে প্রেরিত করবেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, এতোসব আপনি কী করে জানেন? তিনি বললেন, তোমরা যখন তাঁকে নিয়ে আকাবা উপত্যকায় পদার্পন করলে তখন না কোন বৃক্ষ ছিলো, না পাথর-সকলেই তাঁর প্রতি সাজদায় লুটিয়ে পড়ে। অথচ বৃক্ষ-পাথররা নবী ছাড়া অন্য কাউকে সাজদা করে না। আর আমি তাঁকে তাঁর মোহরে নুবুওয়ত দ্বারাও চিনতে পেরেছি যেটি তাঁর কাঁধের নরম হাড়ের কাছে নাশপাতির মতো অঙ্কিত রয়েছে।”[28]
এসব আমি আমাদের গ্রন্থাসমূহ থেকে লাভ করেছি।
নবী করীম ২৫ বছর বয়সে হযরত খদীযা-এর সাথে বিয়ে-বন্ধনে আবদ্ধ হন। জাহিলি যুগে হযরত খদীযা-কে তাহিরা নামে ডাকা হতো। নবী করীম-এর সাথে বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিলো ৪০ বছর এবং নবী করীম তাঁর মোহর নির্ধারণ করেন ২০টি লাল রঙের উট। হযরত আবু বকর ও মুযর গোত্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিয়ের খুতবা পাঠ করেন আবু তালিব। তিনি বলেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَنَا مِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ، وَزَرْعِ إِسْمَاعِيلَ، وَضِشْفِيءٍ مَعَدٍ، وَعُنْصَرٍ مُضَرَ . وَجَعَلْنَا حَضِنَةٌ بَيْتِهِ، وَسُوَّاسَ حَرَمِهِ. وَجَعَلَ لَنَا بَيْتًا تَحْجُوْجًا وَحَرَمًا آمِنًا وَجَعَلْنَا الْحُكَّامَ عَلَى النَّاسِ. ثُمَّ إِنَّ ابْنَ أَخِي هَذَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ لَا يُوْزَنُ بِرَجُلٍ إِلَّا رَجَحَ بِهِ، فَإِنْ كَانَ فِي الْمَالِ قَلَّ ، فَإِنَّ الْمَالَ ظِلَّ زَائِلٌ وَأَمَرٌ حَائِلٌ وَمُحَمَّدٌ مَّنْ قَدْ عَرَفْتُمْ قَرَابَتُهُ، وَقَدْ خُطِبٌ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدَ وَبُذِلَ لَهَا مِنَ الصَّدَاقِ مَا أَجِلُهُ وَعَاجِلُهُ مِنْ مَالِي كَذَا :
'সকল প্রশংসা একমাত্র সেই আল্লাহর জন্যে যিনি আমাদেরকে হযরত ইবরাহীম-এর বংশধর, হযরত ইসমাইল-এর সন্তান, মাদ গোত্র এবং মুযারের গোষ্ঠীর মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। যিনি আমাদেরকে তাঁর ঘরের কর্ণধার ও পবিত্রাস্থানের তত্ত্বাবধায়ক মনোনীত করেছেন। যিনি আমাদেরকে একটি হজব্রত পালনের ঘর এবং নিরাপদ স্থান দান করেছেন। যিনি আমাদেরকে মানুষের ওপর নেতৃত্ব দান করেছেন। অতঃপর, আমার এই ভাতিজা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর সাথে কারো তুলনা চলে না; তিনি শ্রেষ্ঠত্বের অগ্রবর্তী আসনে। যদিও ধন-সম্পদে প্রতিপত্তি তাঁর নেই। তবে ধন-সম্পদ তো ক্ষণস্থায়ী ছায়া এবং পক্ষত্যাগী বস্তু। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ কেমন জনপ্রিয় সেকথা তো তোমরা সকলেই অবগত। হযরত খদীযা বিনত খুয়াইলিদ -এর কাছে প্রস্তাব পাঠানো এবং তাঁর নগদ-বাকি সব মোহর এইভাবে আমার সম্পদ থেকে আদায় করে দেওয়া হয়েছে।' আর তিনি; আল্লাহর শপথ! এসবের জন্য তিনি সুসংবাদ ও বিশেষ মর্যাদা পেতে পারেন।
হযরত রাসূলুল্লাহ -এর বয়স যখন ৪০ বছর, কারো মতে আরও ৪০ দিন, কারো মতে আরও ১০ দিন আর কারো মতে আরও ২ মাস সোমবার ১৭ মাহে রামাযান; কেউ বলেছেন, ১৭ আবার কেউ বলেছেন, ২৪ রামাযান রাত্রিবেলা, আর ইমাম ইবনে আবদুল বর বলেছেন, সোমবার ৮ রবিউল আওয়াল হস্তিবর্ষের ৪১তম বর্ষে মহান আল্লাহ তাঁকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত এবং মানব-দানব সকল জাতির জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন।
অতঃপর তাঁকে অসাধারণ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন এবং সমগ্র জাহানে তাঁর নাম ছড়িয়ে দেন। এরপর তিনি ১৩ বছর মক্কায় অবস্থান করেন এবং তারপর পবিত্র মদীনায় হিজরত করার জন্য আদেশ হয়। যেখানে তিনি ১০ বছর অবস্থান করে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ পরিচালনা করেন, মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করেছেন এবং পৃথিবীকে ঈমান-ইয়াকিনের আলোকে উদ্ভাসিত করেছেন।
নবী করীম -এর আবির্ভাবের উদ্দেশ্য ছিলো, মানব জাতির হিদায়ত, সচ্চরিত্রের পূর্ণবিকাশ, সর্বোপরি দীনকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। যখন এ মিশন পরিণতিতে পৌছে এবং এই উদ্দেশ্য সুসম্পন্ন হয় তখন আল্লাহ তাঁর নবীকে সর্বোচ্চ শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় নিজের সান্নিধ্যে ডেকে নেন। ৬৩ বছর বয়সে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন তিনি-আল্লাহ নবী করীম , তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবা, অনুসারী ও অনুগামী সকলের ওপর রহমত নাযিল করুন।
টিকাঃ
[1] আল-বায়হাকী, দালায়েলুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১৩২, হাদীসঃ ৬৩
[2] আবু নুআইম আল-আসবাহানী, দালায়েলুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ২২০, হাদীস: ১৬৬, হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত
[3] আল-হারিস ইবনে আবু উসামা, আল-মুসনদ, খ. ২, পৃ. ৮৬৭, হাদীস: ৯২৮; হযরত আয়িশা থেকে বর্ণিত
[4] মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ১৭৪, হাদীস: ২৬১; বর্ণিত হয়েছে, عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - - - أَتَاهُ جِبْرِيلُ - - - وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ، فَأَخَذَهُ فَصَرَعَهُ فَشَقَّ عَنْ قَلْبِهِ، فَاسْتَخْرَجَ الْقَلْبَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ عَلَقَةً، فَقَالَ: هَذَا حَظُّ الشَّيْطَانِ مِنْكَ، ثُمَّ غَسَلَهُ فِي طَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ بِمَاءِ زَمْزَمَ، ثُمَّ لَأَمَهُ، ثُمَّ أَعَادَهُ فِي مَكَانِهِ، وَجَاءَ الْغِلْمَانُ يَسْعَوْنَ إِلَى أُمِّهِ - يَعْنِي ضِنْيَهُ - فَقَالُوا: إِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ قُبِضَ، فَاسْتَقْبَلُوهُ وَهُوَ مُتَّفِعُ اللَّوْنِ " ، قَالَ أَنَسٌ : وَقَدْ كُنْتُ أَرَى أَثَرَ ذَلِكَ الْمِخْيَطِ في صدره. 'আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, একদিন জিব্রিল আল্লাহর রসূল এর নিকট আসলেন। এ সময় তিনি শিশুদের সাথে খেলাধুলা করছিলেন। তিনি তাঁকে ধরে মাটিতে শুইয়ে দিলেন। অতঃপর বক্ষ বিদীর্ণ করে হৃৎপিণ্ড বের করে নিলেন। তারপর তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করে বললেন, এটি ছিলো তোমার মধ্যে শয়তানের অংশ। অতঃপর তা একটি সোনার তশতরিতে রেখে যমযমের পানিতে ধুয়ে নিলেন। এরপর তা যথাস্থানে রেখে সেলাই করে দিলেন। এদিকে অন্যান্য শিশুরা দৌড়ে গিয়ে তাঁর দুধ মার কাছে গিয়ে বলল, মুহাম্মদকে হত্যা করা হয়েছে। সবাই দৌড়ে এসে দেখলো, তিনি বিষন্ন অবস্থায় বসে আছেন। আনাস বলেন, আমি তাঁর বুকে সেই সেলাইয়ের চিহ্ন দেখেছি।'
[5] (ক) ইবনে জরীর আত-তাবারী, জামিউল বারান, খ. ৫, পৃ. ৩২৮, হাদীস: ৫৬৭৯; (খ) ইবনে কসীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, খ. ১, পৃ. ৫০৭, হাদীস: ৩০১০; বর্ণিত হয়েছে, عَنْ السُّدِّي، وفيه سكينةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ ﴾ [البقرة: ١٢٤٨، السكينة : طَلْتُ مِنْ ذَهَبٍ يُغْسَلُ فِيهَا قُلُوْبَ الْأَنْبِيَاءِ، أَعْطَاهَا اللَّهُ مُوسَى، وَفِيْهَا وَضَعَ الْأَلْوَاحَ، وَكَانَتِ الْأَلْوَاحُ فِيهَا بَلَغْنَا مِنْ دُرْ، وَيَاتُوْتِ، وزير جد. 'সুদ্দি থেকে বর্ণিত, 'তাতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সকীনা নাযিল হয়।' [সূরা আল-বাকারা ২:২৪৮] সকিনা হলো স্বর্ণেও তশতরি যেখানে নবীদের হৃদপিণ্ড ধোয়া হয়। আল্লাহ মুসা কে এটি দান করেছিলেন। এতে কিছু ফলক রয়েছে আর ফলকসমূহে রয়েছে ঝলমলে বাতি, নীলকান্ত মণি ও পান্না পাথর'।
[6] আল-কাস্তাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১৫
[7] আল-আবওয়া: পবিত্র মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল। এখানে নবী করীম-এর মাতা ৪৫ হিজরীপূর্ব = ৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে ইহলোক গমন করেন。
[8] আল-হাজুন: পবিত্র মক্কার পাহাড়ি এলাকা-বিশেষ।
[9] আল-ফীরযাবাদী, আল-কামুসুল মুহীত, পৃ. ৭২৩-৭২৪
[10] ইবনে সা'দ, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৯৪-৯৫, হাদীস: ২৪৫
[11] মুহিব্বুদ্দীন আত-তাবারী, খুলাসাতু সিয়ারি সাইয়্যিদিল বাশার, পৃ. ২২
[12] ইবনে শাহীন, নাসিখুল হাদীস ওয়াল মনসুখাহ, পৃ. ৪৮৯-৪৯০, হাদীস: ৬৫৬
[13] আস-সুহায়লী, প্রাগুক্ত, খ. ২, পৃ. ১২১
[14] আল-খতীবুল বগদাদী, আস-সাবিক ওয়াল সাহিক, পৃ. ৩৪৪
[15] আল-কাস্তাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১০৩
[16] (ক) ইবনে কসীর, আস-সীরাতুন্নাওয়াবিয়া, খ. ১, পৃ. ২৩৯; (খ) ইবনে কসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ. ২, পৃ. ৩৪৩ عَنْ عَائِشَةَ - - أَنَّ رَسُولَ الله - - سَأَلَ رَبِّهُ أَنْ يُحْيِيَ أَبَوَيْهِ، فَأَحْيَاهُمَا وَآمَنَا بِهِ. 'আয়শা থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল স্বীয় প্রভুর কাছে তাঁর পিতা-মাতার জীবিত করে দেওয়ার প্রার্থনা করেন। এতে আল্লাহ তাঁদেরকে জীবিত করে দেন আর তাঁরা নবীজির ওপর ইমান আনেন।'
[17] ইবনে নাসিরউদ্দীন, মাওরিদুস সাদী ফী মাওলিনিল হাদী, সূত্রঃ আয-যুরকানী, শরহুল মাওয়াহিবুল সুদুনিয়া বিল মানহিল মুহাম্মাদিয়া, খ. ১, পৃ. ৩৪৮
[18] হাল্লাদ ইবনুস সারী, আব-যুহদ, খ. ২, পৃ. ৫৬১
[19] আল-কাস্স্সাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১১২
[20] ইবনে আসাকির, তারিখু দামিশক, সূত্র: আস-সুযুতী, আল-খাসাইসুল কুবরা, খ. ১, পৃ. ১৪৬
[21] আল-কাস্তালানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১১২-১১৩
[22] ইবনে হাজর আল-আসকলানী, ফতহুল বারী, খ. ২, পৃ. ৪৯৬
[23] আল-কাস্তাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১১৩
[24] আল-বায়হাকী, দালারিপুন নুবুওয়াত, খ. ২, পৃ. ৩৪৬; তিনি বলেছেন, হাদিসটির সনদ মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)
[25] আল-কাস্তাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১৫৫
[26] আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ২, পৃ. ৯৫, হাদীসঃ ১৩৬০, খ. ৫, পৃ. ৫২, হাদীস: ৩৮৮৪ ও খ. ৬, পৃ. ১১২, হাদীস: ৪৭৭২ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيْبِ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ لَمَا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبِ الوَفَّاةُ جَاءَهُ رَسُولُ الله - -، فَوَجَدَ عندَهُ أَبَا جَهْلِ بْنَ هِشَامٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - - لِأَبِي طَالِبٍ: يَا عَمْ قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، كَلِمَةٌ أَشْهَدُ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللَّهِ فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ، وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ : يَا أَبَا طَالِبٍ أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ؟ فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللهِ - يَعْرِضُهَا عَلَيْهِ، وَيَعُودَانِ بِتِلْكَ الْمَقَالَةِ حَتَّى قَالَ أَبُو طَالِبٍ آخِرَ مَا كَلَّمَهُمْ: هُوَ عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَأَبَى أَنْ يَقُولَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. 'সায়িদ ইবনে আল-মুসাইয়িব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, যখন আবু তালিবের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো আল্লাহর রাসুল তাঁর কাছে গেলেন। সেখানে আবু আহল ইবনে হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়া ইবনে আল-মুগিরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। আল্লাহর রাসুল আবু তালিবের উদ্দেশ্যে বললেন, 'হে আমার চাচা। আপনি লা-ইলাহা কথাটি বলুন, এর দ্বারা আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারবো'। তখন আবু জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়া বলে উঠলো, হে আবু তালিব। তুমি কি আবদ আল-মুত্তালিবের ধর্মবিশ্বাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে? তবুও আল্লাহর রসুল বারবার কথাটি তাঁর কাছে পেশ করতে থাকলেন। তিনি বিষয়টি পুনঃপুন তাঁর কাছে পেশ করছিলেন। আবু তালিব শেষ পর্যন্ত যে কথা বললেন তা হলো, তিনি আবদ আল-মুত্তালিবের ধর্মবিশ্বাসের উপর অবিচল থাকবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে লা-ইলাহা ইল্লাহ বলতে অস্বীকৃতি জানালালেন।'
[27] আল-কাস্স্তান্নানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১১৪
[28] আল-হাকিম, প্রাগুক্ত, খ. ২, পৃ. ৬৭২, হাদীস: ৪২২৯, হযরত আবু মুসা আল-আশআরী থেকে বর্ণিত।
[29] আল-কাস্তাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১১৪