📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 সামনে তাকাও

📄 সামনে তাকাও


অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত নিয়ে মানুষের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অন্ত নেই। কেউ কেউ ভবিষ্যতটাকে অতীতের আদলে সাজাতে চায়। আর অতীত যদি ভবিষ্যত হয়ে তাদের কাছে ধরা না দেয়, তখন তীব্র মনঃকষ্টে ভোগে। আবার কেউ কেউ কেবল বর্তমান নিয়েই ব্যস্ত। সময়টা খেল-তামাশায় কাটিয়ে দেওয়াই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তাদের চিন্তা ও সমস্যাবলি শুধু বর্তমানের সাথেই সম্পৃক্ত। অতীত বা ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সময় তাদের নেই। আবার এমন মানুষও আছে, যে কিনা ভবিষ্যত অর্জনের তাগিদে বর্তমানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অথচ যে ভবিষ্যত নিয়ে তার এত স্বপ্ন, সে ভবিষ্যত কীভাবে গড়ে তুলবে তা তার জানা নেই।
এজন্যই ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে; কিন্তু ভবিষ্যত নিয়ে আমরা কীভাবে সচেতন হবো? কেনই বা একে গুরুত্ব দেব? বর্তমানের সাথে এর তুলনা করার মাধ্যমই বা কী?
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সামনের দিকে তাকাতে বলেছেন। ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে, সে ভবিষ্যতের জন্য কী এগিয়ে রেখেছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় তোমরা যা করো তা সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।
[১]
বাস্তবতা হলো একজন দ্বীনদার মুসলিম ভবিষ্যত সম্পর্কে খুবই সচেতন। সে তার প্রতিটি কাজ আখিরাতের মুক্তির জন্য করে থাকে। এটিই তার মূলনীতি। আমাদের এ মূলনীতিকে আঁকড়ে ধরতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের প্রকৃত ভবিষ্যত দুনিয়ায় নয়, বরং আখিরাতে। এ চিরন্তন ভবিষ্যতের সামনে সব বর্তমানই মূল্যহীন। এ ভবিষ্যতের কোনো শেষ নেই। তাই প্রতিটি সূর্যোদয় যেন আমাদেরকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ করে তোলে। আমাদের দিনটা যেন আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় হয়, তারই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পরিচালিত হয়। আর এ লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই ভবিষ্যতের জন্য কাজ করে যেতে হবে।
আলোকিত ভবিষ্যতের রাস্তা একটাই। আজকে আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, তা যেন সুন্দরভাবে নিই, প্রতিদিনকার কাজগুলো যেন সঠিক খাতে পরিচালিত করি। উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিয়ে শুধু জল্পনা-কল্পনা করে গেলেই চলবে না। আমাদেরকে বাস্তবতা বুঝে এগিয়ে চলতে হবে। অন্যথায় তা নিজের সাথে প্রতারণা করা হবে। অধিকাংশ মানুষই এ বড় ভুলটি করে থাকে। এধরনের মানুষ ফেলে আসা অতীতকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে। এর কারণ, তারা বর্তমানকে মূল্যায়ন করতে জানে না।
ভবিষ্যতকে গুরুত্ব দিতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও স্পষ্ট করতে হবে। লক্ষ্যগুলো আরও সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করতে হবে। আর এসব লক্ষ্য অর্জনের পথগুলোও চিনে নিতে হবে। প্রতিটি উপলক্ষ্য যেন হয় চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে সহায়ক। আর সেই চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আল্লাহকে খুশি করা। যদি আমরা সূক্ষ্ম ও স্পষ্টভাবে উপলক্ষ্য নির্ধারণ না করতে পারি, তাহলে আল্লাহকে খুশি করা রীতিমতো অসম্ভব। ফলে আমাদের মাঝে যে সুপ্ত শক্তি তা সুপ্তই থেকে যাবে। একদিন আমরা আবিষ্কার করব যে, আমাদের জীবনে 'আত্মোন্নয়ন' নামক কোনো শব্দের অস্তিত্বই নেই। প্রকৃতপক্ষে সময় ও কাজ থেকে সর্বোচ্চ উপকারিতা অর্জন করা খুবই কঠিন। তার ওপর যদি আমাদের একটি মহান লক্ষ্য না থাকে এবং লক্ষ্যের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস না থাকে, তাহলে আমরা কিছুতেই নিজেদেরকে ত্যাগী বানাতে পারব, পারব না নিজেদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে। স্পষ্ট লক্ষ্য না থাকলে আমরা মহান কিছু অর্জনের পরিবর্তে সহজ ও তুচ্ছ অর্জনে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ব।
কিছু মানুষ আছে যারা বর্তমানে বসবাস করেও বর্তমান নিয়ে ভীষণ উদাসীন। ভবিষ্যতের চিন্তায় তারা হাতের কাছে যা আছে, তা উপভোগ করতে পারে না। তাদের হাতে কিছু অর্থ জমা হলে প্রতিবারই তা পরবর্তী কোনো প্রকল্পে খাটিয়ে
ফেলে। এমনকি নিজের ও পরিবারের ব্যাপারে খুবই কৃপণতা অবলম্বন করে। তাদের একমাত্র চিন্তা ভবিষ্যত নিয়ে। যৌবন শেষ হয়ে এলে তারা অনুভব করতে পারে যে, তারা যে পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করেছিল তা আরও উত্তমরূপে ভোগ করতে পারত। এদের ব্যাপারে এ সতর্কবাণী প্রযোজ্য-
ওই লোকের মতো হবেন না, যে কিনা জীবনের প্রথমার্ধ শেষ করে দ্বিতীয়ার্ধ উপভোগ করার জন্য। আর দ্বিতীয়ার্ধ শেষ করে দেয় প্রথমার্ধের ব্যাপারে আফসোসের মাধ্যমে!
আমাদের জীবনটা আল্লাহর আনুগত্যেই কাটাতে হবে। এর পাশাপাশি হালাল বিনোদন আমাদের মানসিক প্রশান্তি দেবে। ভবিষ্যতের জন্য বর্তমান বা বর্তমানের জন্য ভবিষ্যতটা নষ্ট করার মতো বোকামী আর হয় না। একমাত্র মধ্যমপন্থার মাঝেই সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।
ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি যেন বুকের ওপর চেপে বসা দুশ্চিন্তা না হয়ে দাঁড়ায়। এ চিন্তা যেন সারাক্ষণ আমাদেরকে আচ্ছন্ন না করে রাখে; বরং ভবিষ্যতকে আমরা দেখব আশার উৎস হিসেবে। তবেই আমরা কাজেকর্মে প্রেরণা পাব, সামনের দিকে নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারব।

টিকাঃ
[১] সূরা হাশর, ৫৯ : ১৬

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 সুসংবাদ ছড়িয়ে দাও

📄 সুসংবাদ ছড়িয়ে দাও


আমাদের সমাজ নিন্দা ও সমালোচনায় ভরপুর। আমরা যেন সমালোচনার চরম পর্যায়ে চলে গেছি। বর্তমানে সহায়-সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা, প্রযুক্তিসহ যা-কিছু আছে, তা আগেকার যুগে ছিল না। তারপরও আমরা সন্তুষ্ট নই, সবার কেবল অভিযোগ, অনুযোগ আর বিরক্তি। এ জীবনে যেন আনন্দ, আর নিরাপত্তার বড়ই অভাব। এখানে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো বিচ্ছেদের বার্তা বয়ে আনে, আর আনন্দঘন অনুষ্ঠানেও বিষাদের সুর বাজে।
তাই আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা আল্লাহর রহমতের কথা স্মরণ করতে ভুলবেন না। সবার আগে স্মরণ করবেন ঈমান নামক নিয়ামতের কথা। সবসময় মনে রাখবেন, আল্লাহ তার মুমিন বান্দাদের জন্য অজস্র সাওয়াবের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। পড়ে দেখুন সেই হাদীসগুলো, যেগুলো নম্র-বিনয়ী ও সরল হতে বলে। কারণ, এর দ্বারাই হতাশা ও দুশ্চিন্তাকে বিদায় জানানো সম্ভব। আমাদের কিছু হাদীস জানা থাকা দরকার, যা সহজ জীবনের দিকে আহ্বান করে-
GG
إن الله تعالى رضى لهذه الأُمَّةِ اليُسْرَ، وَكَرِه لَها العُسر
আল্লাহ এ উম্মতের জন্য সহজতাকে পছন্দ করেছেন এবং কঠোরতা অপছন্দ করেছেন।[১]
" إِنَّ اللهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا وَلَا مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا
আল্লাহ আমাকে কঠিন বা কঠোররূপে পাঠাননি; বরং তিনি আমাকে সহজকারী শিক্ষকরূপেই প্রেরণ করেছেন [১]
" إِنَّ رَبَّكُم تَبَارَكَ وَتَعَالَى حَيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا
নিশ্চয় তোমাদের রব লজ্জাশীল ও দানশীল। বান্দা তার দিকে হাত প্রসারিত করলে তিনি তা ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন।[২]
" إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الْأَمْرِ كُلِّهِ
আল্লাহ সকল বিষয়ে কোমলতা পছন্দ করেন [৩]
يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا وَبَشِّرُوا وَلَا تُنَفِّرُوا
তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও, দূরে সরিয়ে দিয়ো না [৪]
" بَشِّرْ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِالسَّنَاءِ ، وَالدِّينِ ، وَالرِّفْعَةِ وَالنَّصْرِ ، وَالتَّمْكِينِ فِي الْأَرْضِ
এই জাতিকে তোমরা গৌরব, দ্বীন, শ্রেষ্ঠত্ব, সাহায্য ও যমীনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুসংবাদ দাও [৫]
❝ الكلمة الطيبة صدقة
উত্তম কথা এক প্রকার সাদাকা।[১]
ঈমান ও হিদায়াত এমন এক নিয়ামত, যা চিরন্তন সফলতার পথ দেখায়। আর এ দু'টি নিয়ামত আমাদেরকে সুসংবাদ গ্রহণ করতে এবং আল্লাহর কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশায় বুক বাঁধতে বলে। আমরা নিয়ামত পাওয়ার ব্যাপারে অতিমাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমার মতে, এ হাদীসগুলো এমন অভ্যস্ততা কাটিয়ে আল্লাহর জন্য কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির অনুভূতি জাগ্রত করবে। যেমন এ হাদীসের কথাই ধরা যাক—
❝ يَعْجَبُ رَبُّكم من راعي غنم فى رأس شظية بجبل يؤذن بالصلاة ويُصلّي فيقول الله عز وجل انظروا إلى عبدى هذا يؤذن ويُقيمُ الصلاة يخاف منى قد غفرت لعبدى وأدخلته الجنة
তোমার রব পাহাড়ের ওই মেষপালককে দেখে বিস্মিত হন, যে কিনা সালাতের জন্য আযান দেয় এবং সালাত আদায় করে। আল্লাহ তখন বলেন, আমার এই বান্দাকে তোমরা দেখো। সে আমার ভয়ে আযান দেয় ও সালাত আদায় করে। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম।[২]
আমরা যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী অনুভব না করি, সবসময় কেবল অন্যান্য জাতির সাথে শিল্প-প্রযুক্তি-বিনোদনের ক্ষেত্রে নিজেদের তুলনা করি, তাহলে হতাশ ও বিরক্ত হওয়া খুব স্বাভাবিক। আর এটা তো ঈমান নামক নিয়ামতকে অস্বীকারেরই নামান্তর! পৃথিবীর অসংখ্য জাতি এ নিয়ামত থেকে দূরে। ঈমান হারিয়ে, স্রষ্টাকে না জেনে নিজের জীবনের বড় লক্ষ্যকে বিনষ্ট করে এই জাতিগুলো কি আদৌ কিছু অর্জন করছে?!
তাই আমরা হতাশ না হই; বরং আশেপাশের মানুষগুলোর মাঝে প্রশান্তি ও আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিই। আমরা কারও পাশে থাকলে যেন তারা অনুভব করে যে, জীবনটা খুবই সুন্দর। এরকম নৈকট্য অর্জনে আমরা উত্তম কথা, মৃদু ঠাট্টা ও
বিনয়ী আচরণ করতে পারি। এছাড়াও আমাদের উচিত বন্ধুদের বৈশিষ্ট্যগুলোকে আবিষ্কার করা, তাদের অর্জিত সফলতার জন্য সাধুবাদ জানানো এবং তাদেরকে বেশি করে উৎসাহ দেওয়া।
আমরা ইতিবাচক মানসিকতার ধারক হব। মানুষ যখন ক্ষতি নিয়ে আলোচনা করবে, তখন আমরা তাদেরকে লাভের কথা স্মরণ করিয়ে দেব। তারা যখন ব্যর্থতার গল্প শোনাবে, তখন আমরা সফলতার ইতিহাস তুলে ধরব। তারা যখন বন্ধ রাস্তার বর্ণনা দেবে, তখন আমরা উন্মোচিত দিগন্তের দিকে তাদের দৃষ্টি ফেরানোর আহ্বান করব। সবকিছুর আলোকিত দিকটাই আমাদের চিন্তায় আনতে হবে। গ্লাসের যে অর্ধেকটা পূর্ণ তার দিকে নজর রাখতে হবে।
জীবন সহজ ও আনন্দময় করার একটা কার্যকর উপায় হলো, শিশুসুলভ সরলতাকে নিজেদের মাঝে ধারণ করা। আমরা কি খেয়াল করেছি, সামান্য একটি চকলেট বা এক টুকরো কাপড় পেয়ে তারা কী ভীষণ খুশি হয়? নিজেদের যা আছে তা উপভোগ করা তাদের কাছ থেকেই শেখা সম্ভব। আমরা জীবন উপভোগ করব, আর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাব। অন্যকে আল্লাহ কী দিয়েছেন তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব না। তাহলে আমাদের মাঝে ঈর্ষা ও হিংসা দানা বাঁধবে। এমনকি এর ফলে আমরা আল্লাহর নিয়ামতকেও অস্বীকার করে বসতে পারি।
নিজেদের আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য সুন্দর, তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাবাদী মন্তব্য করা প্রয়োজন। কারণ, একজন বক্তার মনে কিন্তু তার নিজের কথাও প্রভাব ফেলে। আবার শ্রোতার মনেও সেই একই প্রভাব পড়ে। আর আমরা বেশি বেশি আল্লাহর প্রশংসা করব; কারণ, তিনিই সকল নিয়ামত দান করেন।

টিকাঃ
[১] আল-জামিউস সাগীর, ১৭৩৬; হাদীসটি সহীহ
[১] সহীহ মুসলিম, ১৪৭৮
[২] সুনান আবু দাউদ, ১৪৮৮
[৩] সহীহ বুখারী, ৬০২৪
[৪] সহীহ বুখারী, ৬৯; সহীহ মুসলিম, ১৭৩৪
[৫] সহীহ আল-জামি, ২৮২৫
[১] সহীহ বুখারী, ২৯৮৯; সহীহ মুসলিম, ১০০৯
[২] সুনান আবু দাউদ, ১২০৩; সনদ গ্রহণযোগ্য

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00