📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 কাজই জীবনের চাবিকাঠি

📄 কাজই জীবনের চাবিকাঠি


জীবন এক বন্ধ সিন্দুকের মতো। এর ভেতরে কী আছে তা সবাই জানতে চায়। এ বন্ধ সিন্দুকের একটি মাত্র চাবি; আর তা হলো—কাজ।
কুরআনে কারীমে বার বার ঈমানের সাথে সৎকর্মের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। কারণ, ঈমান আমাদের মাঝে দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে, আমাদেরকে পথ দেখায়। আর এ পথ অতিক্রম করার জন্য সৎকর্মই আমাদের বাহন। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ মানবসন্তানকে বিশাল সম্ভাবনা দিয়ে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য মহৎ সব সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন; কিন্তু তারা যথাযথভাবে এ সম্ভাবনা ও সুযোগকে কাজে লাগাতে পারছে না।
কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? এর পেছনে তরুণ প্রজন্মের অলসতাই দায়ী। তাদের মাঝে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মতো আত্মিক শক্তির খুব অভাব। এ সম্পর্কে এক বিজ্ঞজনের চমৎকার একটি বাণী রয়েছে—
| মানুষ দুর্বল নয়, বরং সে অতিমাত্রায় অলস!
হতাশ, বেকার যুবকেরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে, আর দরিদ্র পিতার থেকে প্রতিদিন নিজের হাতখরচ চেয়ে নিচ্ছে—এর চেয়ে নিদারুণ, কষ্টকর দৃশ্য আর কী হতে পারে?
তরুণ প্রজন্মের উচিত, তাদের প্রত্যেকের যার যে কাজ পছন্দ, তা করার জন্য সংগ্রাম করা। কাজটি পেলে তা গুরুত্ব দিয়ে করা, তাতে পারদর্শিতা অর্জন করা। কাজটিকে এমনভাবে নিতে হবে, যেন তা একটি চ্যালেঞ্জ। আর তাকে এই চ্যালেঞ্জ।
গ্রহণ করতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে, কোনো কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় কাজের দ্বার উন্মোচন করে দেয়।
তরুণ-তরুণীরা যদি তাদের যেকোনো কাজকেই দক্ষতার সাথে আদায় করার মানসিকতা তৈরি করে, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা সফল হবেই। এজন্য নিজের পেশাকে দৈনন্দিন কাজের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে হবে, সে কাজেই সর্বশক্তি ব্যয় করতে হবে। পেশাগত কাজ করার সময় মাথায় রাখতে হবে যে, তারা খুব মহান একটি কাজ করছে।
কাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত। এটি কোনো দায়ভার না। বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে-কাজ যত ছোটই হোক না কেন, তা বড় কাজের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা যাক। আমরা খেয়াল করলেই দেখব যে, বড় কিংবা ছোট উভয় কাজই বেকারত্ব থেকে বাঁচায়, পরিকল্পনা, আকাঙ্ক্ষার পর্যায় থেকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যায়। দুই ধরনের কাজই নিজেদেরকে আবিষ্কার করার সুযোগ করে দেয়, নিজের কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতা বুঝতে সাহায্য করে। তাছাড়া কাজ ছোট হোক কিংবা বড়, যেকোনো কাজই আমাদের পরিবেশের মান আরও উন্নত করে; ফলে জীবন-যাপন আরও সহজ হয়।
এজন্য জীবনটাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যেন তা দেখে উপলব্ধি করা যায় যে, কর্মই জীবনের মূল ভিত্তি। আর ভালো কাজ তো ভালো জীবনেরই পরিচায়ক!
সবসময় উপযুক্ত কাজ খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই বলে অলসভাবে বসে থাকলে চলবে না। পছন্দনীয় কাজ খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত উপকারী একটা কাজে ঢুকে পড়তে হবে। আমরা যেন কোনো পেশাকে খারাপ চোখে না দেখি; বরং কাজ না করে মানুষের কাছে হাত পাতা, ঘুষ খাওয়া, চুরি করা কিংবা অন্যের সম্পদ মেরে খাওয়াই খারাপ।
প্রকৃতপক্ষে দেশে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। দিন যত যাচ্ছে, কাজের সুযোগ ততই বাড়ছে। সমস্যা হলো, এ কাজগুলো করার উপযোগী লোকের খুব অভাব। তাই তরুণ প্রজন্মকে এ কাজগুলো করার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 যৌবনের আত্মা

📄 যৌবনের আত্মা


শরীর আর মনের বয়স সবসময় একই হবে—এমন নয়। আশেপাশে এমন অনেক যুবক আছে, যাদের ভেতরকার আত্মা বৃদ্ধের মতো। আবার এমনও মানুষ আছে যার বয়স হয়তো আশি, তবুও তার আত্মা যেন যৌবনের পরিচায়ক! কথাগুলো অনেকের কাছে অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে; কিন্তু এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের পরামর্শদাতা হিসেবেই এ কথাগুলো বলা। কারণ, এটাই চরম বাস্তবতা; আর বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে কিছু বলা সম্ভব নয়। আমার মতে, সর্বোত্তম যে কাজটা এখন আমরা করতে পারি, তা হলো—যৌবনের আত্মার পরিচায়ক যা-কিছু আছে, সেসবকে চিনে নেওয়া। এতে করে আমরা নিজেদের যাচাই করে নিতে পারব। এছাড়াও যৌবনকে আমরা অন্তরে ধারণ করি কি না—তা সহজেই অনুধাবন করতে পারব।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কোন কাজ বা বৈশিষ্ট্য যৌবনের পরিচয় বহন করে? যখন আমরা কাউকে আল্লাহর বদান্যতা ও সাহায্যের ওপর পরম ভরসা করতে দেখব, তখন বুঝে নেব তার ভেতরকার আত্মাটা যৌবনের প্রতিনিধিত্ব করছে। এ আত্মা সারাক্ষণ আল্লাহর সাহায্য ও অপরিসীম দানের-ই অপেক্ষা করে।
তরুণ মন যেকোনো পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজের চিন্তাকে বিকশিত করতে পারে। এমনকি চিন্তার সীমাবদ্ধতা থেকেও বেঁচে থাকতে পারে। তরুণ এই মন প্রাণ খুলে হাসতে জানে, তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনায়ও উচ্ছ্বসিত হতে জানে।
একজন ব্যক্তি তখনই বৃদ্ধ হয়, যখন তার স্বপ্নগুলোতে মরিচা ধরে। সে তখনই মরে যায়, যখন তার শেষ স্বপ্নটাও মরে যায়। তারুণ্য ধরে রাখতে বুদ্ধি, লক্ষ্য ও
স্বপ্নের বিকাশ ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ, যৌবনের আত্মা তো সবসময়ই নতুন পন্থায় চিন্তা-ভাবনা করে, নতুন কোনো বইয়ে মনোনিবেশ করে, কিংবা নতুন কোনো শখ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। পাশাপাশি জগতকে জানার প্রচেষ্টায় সবসময় ব্যস্ত থাকে।
আমরা যারা বয়সে বুড়ো, তাদের মাঝে একমাত্র যৌবনের আত্মাই কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তুলতে পারে, যা-কিছু আমাদের পক্ষে করা সম্ভব তা নিয়ে উৎসাহ দিতে পারে। এ আত্মাই আমাদেরকে নিজের ও উম্মাহ্র উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মাণে ব্যস্ত রাখে।
শরীরের সাথে যাদের আত্মাও বুড়িয়ে গেছে, তারাই কেবল সব কাজে তাড়াহুড়ো করে, সব কাজ দ্রুত শেষ করে ফেলতে চায়। বিপরীতে যৌবনের আত্মা লোকদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। যেকোনো ভালো কাজ, পরোপকার কিংবা দেশগঠন—যৌবনের আত্মার দ্বারাই সম্ভব। কারণ, যৌবনের আত্মা সহজে হতাশ হয় না। ধ্বংসাত্মক পরিবেশেও সহজে নিজেকে ধ্বংস হয়ে যেতে দেয় না।
তাই আমাদের উচিত নিজের আত্মাকে নবায়ন করা। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর সাহায্য ও দয়া দিয়ে পরিবেষ্টিত করে রাখবেন।

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 ব্যক্তিত্বের বিশেষ রূপ

📄 ব্যক্তিত্বের বিশেষ রূপ


সব মানুষের মাঝেই কিছু মিল থাকে। তাই প্রত্যেকের ব্যক্তিত্বে এমন কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার, যা তাকে শত শত সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করে তুলবে। সেটা হতে পারে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণী ক্ষমতা, নিখুঁত হওয়ার প্রচেষ্টা অথবা উত্তম বাচনভঙ্গি। তবে এ বিশেষত্বের মানে এই নয় যে, নিজেকে বড় মনে করে সবার থেকে গুটিয়ে আলাদা থাকতে হবে; বরং এটি একজন ব্যক্তির উত্তম ধ্যান-ধারণা, বদান্য ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে। এ বিশেষত্ব তাকে এক আদর্শরূপে উপস্থাপন করবে, যার থেকে পরবর্তী প্রজন্ম শিখতে পারবে এবং মলিন হয়ে যাওয়া জীবনকে নতুন উদ্দীপনায় জাগিয়ে তুলতে পারবে।
কিন্তু ব্যক্তিত্বের এ বিশেষ রূপের মানে কী? প্রত্যেকেরই কি এমন বিশেষ রূপ থাকতে পারে? এর উত্তর হলো, হ্যাঁ, নিশ্চয় থাকতে পারে। কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে এ বিষয়টি পরিষ্কার করা সম্ভব।
ধরা যাক, এক শপিংমলের প্রত্যেক দোকানদারই ক্রেতাদেরকে নিজের দোকানের দিকে ডাকে, তাদের নিজের দোকান থেকে কিনতে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে, যখন কেনা-বেচায় মন্দা চলে তখন এ প্রতিযোগিতা আরও চরমে ওঠে; কিন্তু এমন লোকও আছে, যার কাছে কেউ কিছু কিনতে আসলে পাশের দোকান দেখিয়ে দেয়, বলে-
'আলহামদু লিল্লাহ, আমার তো তাও কিছু বিক্রি হয়েছে আজ; কিন্তু পাশের দোকানদারের এখনো কিছুই বিক্রি হয়নি। আপনি বরং তার কাছ থেকে কিনুন, ভাই!'
আবার বিভিন্ন দেশে প্রচলিত ফোনকলের স্বয়ংক্রিয় ভয়েস মেসেজের কথাই ধরা যাক। সাধারণত লোকেরা সেখানে যে মেসেজ সেট করে রাখে, তাতে বলা হয়—
'অনুগ্রহ করে আপনার নাম, ফোন নাম্বার এবং আপনার প্রয়োজনটা বলবেন।'
অথচ এ মেসেজের ভাষাটা একটু পরিবর্তন করে দিলেই তা অনেক বেশি আন্তরিক হতে পারে। যেমন, 'আপনার প্রয়োজনটা বলবেন'—এ কথার পরিবর্তে কেউ যদি বলে, 'কীভাবে আপনার কাজে লাগতে পারি জানাবেন', তবে তাতে ব্যক্তির বিশেষত্ব প্রকাশ পায়।
আবার সময় মেনে চলার মাধ্যমেও ব্যক্তিত্বের বিশেষ দিক প্রকাশ পায়। কারণ, বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই এ ব্যাপারে উদাসীন। প্রায়ই দেখা যায়, কেউ 'আটটার সময় হাজির হবে' কথা দিয়ে নয়টারও পরে হাজির হচ্ছে। এ অবস্থায় কেউ যদি নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়, তবে তা সবার চোখে বিশেষভাবে ধরা দেয়। এমনও মানুষ আছে যারা এতটাই সময়ানুবর্তী যে, তাদের কাজকর্ম দেখে মানুষ সময় আন্দাজ করে নিতে পারে। যেমন—কেউ হয়তো সবসময় সকাল সাতটায় ঘর থেকে বের হয়, তাই তাকে বের হতে দেখলেই বাকিরা বুঝে নেয়, এখন ঘড়িতে সাতটা বাজে।
উপরের উদাহরণগুলো খুব সাধারণ শোনালেও এ বৈশিষ্ট্যগুলোই একজন ব্যক্তিকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তোলে। আর মুসলিম উম্মাহ্র এমন বিশেষ লোকদেরকেই প্রয়োজন। আমাদের সবার উচিত এমন লোকদের মতো হওয়ার চেষ্টা করা। সত্যনিষ্ঠ ও সচেতন হতে পারলে আমরা প্রত্যেকেই ব্যক্তিত্বের যে কোনো একটি রূপ নিজেদের মাঝে ধারণ করতে পারব, ইন শা আল্লাহ। আর উম্মাহ্র মাঝে যখন এমন ব্যক্তিত্বের সংখ্যা বেশি হবে, তখনই উম্মাহ এগিয়ে যেতে পারবে। তাই আমাদেরকে উম্মাহ্র উন্নতি ও অগ্রগতির হাতিয়ার হতে হবে। এক্ষেত্রে মেয়েদের ব্যাপারে আমি অধিক সুধারণা পোষণ করি। কারণ, তারা ব্যক্তিত্বের বিশেষ রূপ ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারে অনেক বেশিই অগ্রসর।

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 Know Thyself

📄 Know Thyself


আত্মোন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো নিজেকে চিনতে পারা। নিজের শক্তিমত্তা কতটুকু, দুর্বলতাই বা কতটুকু—তা উপলব্ধি করতে পারা। পাশাপাশি নিজের ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিক এবং অর্জন বা ব্যর্থতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে, আগের প্রজন্মের চাইতে এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের যেকোনো কিছু বুঝতে পারার ক্ষমতা অনেক বেশি। কারণ, এ যুগে শিক্ষার অনেক বিস্তার ঘটেছে, প্রচার-মাধ্যমের সংখ্যাও অগণিত। ইন্টারনেটের কল্যাণে যে কোনো তথ্য এখন হাতের মুঠোয়। তারপরও এ কথা স্বীকার করতেই হবে, নিজেকে চিনতে পারা রীতিমতো দুঃসাধ্য। কেন দুঃসাধ্য—তা অবশ্য ব্যাখ্যার দাবি রাখে। বিশদ ব্যাখ্যায় না গিয়ে ছোট একটা উদাহরণ দেওয়া যাক।
যদি কাউকে তার ব্যক্তিত্বের পাঁচটি শক্তির জায়গা আর পাঁচটি দুর্বলতার জায়গা চিহ্নিত করতে বলা হয়, তাহলে সে স্পষ্ট বা অকাট্য কোনো উত্তর দিতে পারবে না; বরং যে উত্তরই দেবে তা নিয়ে সংশয় বা মতভেদের সৃষ্টি হবে।
তাহলে এ দুঃসাধ্য কাজ আমরা কীভাবে করব? কীভাবে নিজেকে চিনতে পারব? সত্যি বলতে, নিজেকে চিনতে পারা কঠিন হলেও অসম্ভব কিছু নয়। এ ব্যাপারে আমরা কিছু পদ্ধতি বা মাধ্যমের আশ্রয় নিতে পারি। যেমন—
একজন বুদ্ধিমান, শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধুর কাছে নিজ চরিত্রের ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে তাকে বেশ জোরালোভাবে সত্যটা জানাতে হবে। তার মন্তব্যগুলো টুকে রেখে পরবর্তী সময়ে আমরা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারি। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, বন্ধুরা আমাদের সম্পর্কে যা বলে,
তা তাদের চিন্তাপ্রসূত। তাদের ধারণা ঠিক হতে পারে, ভুলও হতে পারে। তবে নিজেকে যাচাই করতে মন্তব্যগুলো সাদরে গ্রহণ করা উচিত।
নিজেকে চেনার আরও একটি উপায় হলো, নিজের অনুভূতি, ধ্যান-ধারণাকে আলোচনা, সমালোচনার উপযোগী করে তোলা। অনুভূতিকে সুন্দর বাক্যে সাজিয়ে নিলে পর্যালোচনা সহজ হয়। যেমন নিজের সম্পর্কে এভাবে বলা যেতে পারে— আমার কল্পনাশক্তি বেশ প্রখর, আমি সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি, কোনো ফরয কাজে ঘাটতি করি না, আবার বুদ্ধিমত্তার সাথে সুস্পষ্টভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে পারি। একইভাবে নিজের দুর্বলতাগুলোও উল্লেখ করা যেতে পারে—সময় নষ্ট করার কারণে আমি অনেক কিছু অর্জনে ব্যর্থ হই, মায়ের সাথে আমার সম্পর্ক যতটা ভালো হওয়া উচিত, ততটা নয়, অথবা বন্ধুরা আমাকে খেলায় নিতে আপত্তি করে ইত্যাদি।
খেয়াল রাখতে হবে যে, এ রকম বর্ণনা কেবল প্রাথমিক ধারণা উপস্থাপন করে। বার বার আত্ম-জিজ্ঞাসার মাধ্যমে এ ধারণাগুলোর পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের ফরয ইবাদতে গাফলতি আছে কি না, কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে আমরা সতর্ক কি না—এসব ব্যাপারে প্রতি মুহূর্তে নিজের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। নিজের মাঝে নেতিবাচক কিছু পেলে তৎক্ষণাৎ তা থামিয়ে দিতে হবে, তাওবা করতে হবে। আমাদেরকে নিজেদের কুপ্রবৃত্তির বিপরীতে জোরালো অবস্থান নিতে হবে। আর যদি এমন হয়, আমরা নিজেদের মাঝে তেমন বড়সড় কোনো সমস্যা দেখতে পাচ্ছি না, তাহলে আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করে নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
নিজেকে জানার একটা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো—তুলনা করা। আমরা প্রত্যেকেই নিজের সাথে এমন বন্ধুদের তুলনা করতে পারি, যারা কিনা আমাদের মতোই জীবন-যাপন করছে, আমাদের মতোই যাদের সক্ষমতা। তাদের অর্জনগুলোর দিকে মনোযোগের সাথে তাকাতে হবে, তাদের ভালো কাজগুলোকে অনুসরণ করতে হবে। তাদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে নিজের সাথে মেলাতে হবে। তখনই বোঝা যাবে, আমাদের অবস্থা কি এর চেয়ে ভালো, না খারাপ?
তাই নিজ সত্তাকে রহস্যময় কিছু মনে করে বসলে চলবে না। এটা অহংকারের বহিঃপ্রকাশ; বরং নিজ সত্তাকে ক্রমাগত আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিজেকে জানতে হবে আত্মোন্নয়নের জন্য; নিজের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করে মনে
কষ্ট পাবার জন্য নয়। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মানুষই এ পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু। তাই মানুষ যতই নিজেকে চিনতে পারবে, ততই সে এ জগতকে আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00