📄 যোগ্যতার ষোলকলা
কেউ কেউ প্রশ্ন করে—আমাদের প্রত্যেকের পক্ষেই কি একই সাথে যোগ্যতা আর সফলতা অর্জন করা সম্ভব, সব কাজে এগিয়ে থাকা সম্ভব? নাকি তা শুধু যারা বুদ্ধিমান বা ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়েছে, কিংবা যাদের অর্থ-কড়ি আছে, কেবল তাদের দ্বারাই সম্ভব?
এর জবাবে বলতে হয়, আমরা সবাই-ই আল্লাহর বান্দা। আমাদের সব দায়িত্ব তাঁরই হাতে ন্যস্ত। আমাদের প্রতিটি কাজ পরিচালিত হয় তাঁর ইচ্ছায়। অবশ্য এসব কাজে আমাদেরকে বিভিন্ন মাধ্যম গ্রহণ করতে হয়। এ দুনিয়া মাধ্যম গ্রহণ ও ফলাফল লাভের জায়গা। চারপাশে সফল ও ব্যর্থদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে তাদের সফলতা বা ব্যর্থতার কারণ বোঝা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা কর্মঠদের কাজ ও ধৈর্যশীলদের প্রচেষ্টাকে বিফলে যেতে দেন না। আমাদেরকে এ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই জীবনে অগ্রসর হতে হবে।
ধরা যাক, আমরা প্রত্যেকেই সাদা রঙের বিশাল একটি বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। নানা রঙের কৌটো দিয়ে আমাদেরকে নিজের মনমতো একটি ছবি আঁকতে বলা হয়েছে। এ রঙগুলোর কোনোটা আমাদের চিন্তা, পছন্দ অথবা জ্ঞানের প্রতিফলন। কোনোটা আবার চরিত্র, দক্ষতা, লক্ষ্য কিংবা স্বপ্নের প্রতিফলন। এ রঙগুলোর সমন্বয়ে যে ছবিটি আঁকা হবে, তা যেন চোখ জুড়ানো হয়, হৃদয়কাড়া হয়। কারণ, এ ছবিটিই আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি, জীবনের অর্জন।
এজন্য ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে আমাদেরকে কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। প্রথমেই আমাদেরকে নিজস্ব যোগ্যতার অর্থ অনুধাবন করতে হবে। আমরা মনে করি, যে
কারণে অন্যের ওপর প্রাধান্য পাচ্ছি, সেটিই বোধহয় আমাদের যোগ্যতা। অথচ যোগ্যতা হলো, আপন সত্তাকে যথাযথভাবে গড়ে তোলার ফলাফল। অর্থাৎ যোগ্যতার কারণে আমরা নিজের ওপর বিজয়ী হই, এটি অন্যের ওপর জয়লাভের হাতিয়ার নয়।
অনেক বেশি উপার্জন কিংবা সুউচ্চ মর্যাদার দ্বারা যেন আমরা সফলতাকে সংজ্ঞায়িত না করি; বরং আমরা যেন অন্তরের গহীন থেকে অনুভব করতে পারি যে, আমরা একটি মহান কাজে হাত দিয়েছি। আর তা করতে গিয়ে আমাদের ভেতর যেন ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুভূতি কাজ করে।
আমরা জীবনে যে লক্ষ্যে পৌঁছতে চাই, তা আমাদের মনের ভেতর জ্বলজ্বল করে। এ কারণে-ই দৃঢ়তা আর সৌভাগ্যের আশা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলতে পারি। জীবনের লক্ষ্য জানার পর সে লক্ষ্যে পৌঁছার সবচেয়ে সহজ, দ্রুত ও সর্বোত্তম পথটি খুঁজে বের করা জরুরী। এজন্য নিজের চিন্তা-ভাবনাকে গুছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, মৌলিক বিষয়ে নিজের মনোযোগ আবদ্ধ করা প্রয়োজন। পকেটে সবসময় একটি নোটবুক রাখলে এ কাজটি সহজ হয়ে যায়। এর ফলে, যখনই আমরা ভালো কিছু জানতে পারব, নিজেদের মাঝে মহান কোনো চিন্তার উদ্রেক হবে, তখনই তা নোটবুকে টুকে রাখতে পারব।
শুধু তাই নয়, আত্ম-অনুধাবনের জন্য ছয়টি ক-বাচক শব্দের সাথে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। সেগুলো হলো—কী, কেন, কখন, কীভাবে, কে, আর কোথায়। এ শব্দগুলোর মাধ্যমে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, নিজেকেই এর যথাযথ উত্তর বের করতে হবে। এছাড়াও যে কোনো কাজে আমাদেরকে বিজ্ঞ ও দক্ষ লোকদের পরামর্শ নিতে হবে। বিজ্ঞজনের এমন অনেক পরামর্শ আছে, যা কোনো কোনো যুবকের কয়েক বছরের অযথা শ্রম ও কষ্টকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
জীবনের চলতি পথে আমাদের মাঝে যেন স্থবিরতা চলে না আসে। এজন্য আমাদেরকে নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ সময়টা উপভোগ করতে আমরা নিজেরাই নিজেদের উৎসাহ দিতে পারি, নিজেদেরকে পুরস্কৃত করতে পারি। তবে অবশ্যই তা বৈধ সীমারেখার ভেতরে হতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, যোগ্যতা আর কৃতিত্ব অর্জনের এ চেষ্টায় সবসময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা দরকার, ভারসাম্য রক্ষা করে চলা উচিত। আর এ দুটোই সফল জীবনের মূলভিত্তি। এছাড়াও প্রত্যেক হকদারকে তার হক বুঝিয়ে দেওয়া উচিত।
সফল হওয়ার জন্য কাজের প্রতি গুরুত্ব প্রদান, ধৈর্যধারণ, অধ্যবসায়কে নিজের মাঝে ধারণ করার কোনো বিকল্প নেই। তাই সুখ-দুঃখে এগুলোকে নিজের পাথেয় বানিয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্যই সফলতার চাবিকাঠি। আর একনিষ্ঠ না হলে, সৎপথে অবিচল না থাকলে, তা কখনোই লাভ করা সম্ভব নয়।
📄 মূল্যবোধের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই
আমাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা ও কাজের প্রতি যে ঈমান আছে, তা আমাদের প্রত্যেককে উচ্চ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরূপে গড়ে তোলে। আমাদের প্রকৃত মূল্য তখনই বজায় থাকবে, যখন আমরা মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরতে পারব। বর্তমান সময়ে আমরা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হচ্ছি। এর ফলে আমাদের সামনে এমন জাতি-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি এসে উপস্থিত হচ্ছে, যে জাতি বা গোষ্ঠী ইসলামের আদর্শ ধারণ করে না। বিশ্বায়ন পৃথিবীর সর্বত্র তার জাল বিস্তার করছে, যা মানুষকে ইসলামী মূল্যবোধের মহান শিক্ষা ত্যাগ করে শুধু বস্তুবাদী সুবিধাভোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বড়সড় একটি চ্যালেঞ্জ।
আমরা যত বড় হব, জীবন সম্পর্কে আমাদের জানার পরিসর যতই বৃদ্ধি পাবে, ততই আমরা অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হব, তাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাব। এদের মাঝে অনেকেই আল্লাহকে ভয় করে না, ভয় করে না আখিরাতের দিবসকেও। এরা প্রথমেই আমাদেরকে মূল্যবোধ, বিবেক, ব্যক্তিত্ব ও সম্মানের ব্যাপারে ছাড় দিতে বলবে। এজন্য এ ধরনের আহ্বান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। আশেপাশে এমন অনেককে পাওয়া যাবে, যারা এসব আহ্বানে সাড়া দেবে, হারাম কাজে ডুব দেবে। তারা সম্মানিত নয়, সুখীও নয়। তাদের সংখ্যাধিক্য দেখে কারও প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। তারা আল্লাহর কাছে এমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ নয়। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি এ ব্যাপারে চমৎকার একটি কথা বলেছিলেন-
তোমরা সঠিক পথে কম লোককে চলতে দেখে একাকিত্ব অনুভব করো না। আর ভুল পথে বেশি লোককে চলতে দেখে প্রভাবিত হয়ে যেয়ো না।
ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা আছি এক পরীক্ষাকেন্দ্রে। আমরা যা চাই তার সবই অর্জন করতে পারব না। এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয় যে, আমরা নিজেদের খেয়ালখুশি আর প্রবৃত্তিকে অনুসরণ করব, আবার নিজের মূল্যবোধকেও সম্পূর্ণরূপে আঁকড়ে ধরতে পারব। কোনো এক পর্যায়ে এসে এদিকে বা ওদিকে ছাড় দিতেই হবে। তাই অবশ্যই মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরতে হবে, হকের পথে চলতে হবে। এ দামী কথাটি ভুলে গেলে চলবে না-
যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কিছু ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাকে এর থেকে উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
তার মানে কি আমরা সব কাজ ছেড়ে বসে থাকব? মোটেও তা নয়। আমরা আমাদের চাহিদাপূরণের জন্য ব্যক্তিগত দক্ষতার উন্মেষ ঘটাব, আর সেটা হতে হবে ইসলামী মূল্যবোধ ও শিক্ষার সীমারেখার ভেতরে। আর এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সঠিক পথে চলার জন্য আমাদের ভোগবাদী মানসিকতাকে ত্যাগ করতে হবে। এ জীবনে টাকা-পয়সাই সব না। আমাদের অবশ্যই মানুষের সামনে প্রমাণ করতে হবে যে, আমাদের জীবনে এমন অনেক কিছু আছে—যেগুলোর ব্যাপারে ছাড় দেওয়া, যেগুলো বিক্রি করে দেওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের নেই।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সরল সঠিক পথে অবিচল রাখুন। আমীন।
📄 কাজই জীবনের চাবিকাঠি
জীবন এক বন্ধ সিন্দুকের মতো। এর ভেতরে কী আছে তা সবাই জানতে চায়। এ বন্ধ সিন্দুকের একটি মাত্র চাবি; আর তা হলো—কাজ।
কুরআনে কারীমে বার বার ঈমানের সাথে সৎকর্মের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। কারণ, ঈমান আমাদের মাঝে দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে, আমাদেরকে পথ দেখায়। আর এ পথ অতিক্রম করার জন্য সৎকর্মই আমাদের বাহন। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ মানবসন্তানকে বিশাল সম্ভাবনা দিয়ে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য মহৎ সব সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন; কিন্তু তারা যথাযথভাবে এ সম্ভাবনা ও সুযোগকে কাজে লাগাতে পারছে না।
কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? এর পেছনে তরুণ প্রজন্মের অলসতাই দায়ী। তাদের মাঝে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মতো আত্মিক শক্তির খুব অভাব। এ সম্পর্কে এক বিজ্ঞজনের চমৎকার একটি বাণী রয়েছে—
| মানুষ দুর্বল নয়, বরং সে অতিমাত্রায় অলস!
হতাশ, বেকার যুবকেরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে, আর দরিদ্র পিতার থেকে প্রতিদিন নিজের হাতখরচ চেয়ে নিচ্ছে—এর চেয়ে নিদারুণ, কষ্টকর দৃশ্য আর কী হতে পারে?
তরুণ প্রজন্মের উচিত, তাদের প্রত্যেকের যার যে কাজ পছন্দ, তা করার জন্য সংগ্রাম করা। কাজটি পেলে তা গুরুত্ব দিয়ে করা, তাতে পারদর্শিতা অর্জন করা। কাজটিকে এমনভাবে নিতে হবে, যেন তা একটি চ্যালেঞ্জ। আর তাকে এই চ্যালেঞ্জ।
গ্রহণ করতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে, কোনো কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় কাজের দ্বার উন্মোচন করে দেয়।
তরুণ-তরুণীরা যদি তাদের যেকোনো কাজকেই দক্ষতার সাথে আদায় করার মানসিকতা তৈরি করে, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা সফল হবেই। এজন্য নিজের পেশাকে দৈনন্দিন কাজের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে হবে, সে কাজেই সর্বশক্তি ব্যয় করতে হবে। পেশাগত কাজ করার সময় মাথায় রাখতে হবে যে, তারা খুব মহান একটি কাজ করছে।
কাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত। এটি কোনো দায়ভার না। বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে-কাজ যত ছোটই হোক না কেন, তা বড় কাজের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা যাক। আমরা খেয়াল করলেই দেখব যে, বড় কিংবা ছোট উভয় কাজই বেকারত্ব থেকে বাঁচায়, পরিকল্পনা, আকাঙ্ক্ষার পর্যায় থেকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যায়। দুই ধরনের কাজই নিজেদেরকে আবিষ্কার করার সুযোগ করে দেয়, নিজের কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতা বুঝতে সাহায্য করে। তাছাড়া কাজ ছোট হোক কিংবা বড়, যেকোনো কাজই আমাদের পরিবেশের মান আরও উন্নত করে; ফলে জীবন-যাপন আরও সহজ হয়।
এজন্য জীবনটাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যেন তা দেখে উপলব্ধি করা যায় যে, কর্মই জীবনের মূল ভিত্তি। আর ভালো কাজ তো ভালো জীবনেরই পরিচায়ক!
সবসময় উপযুক্ত কাজ খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই বলে অলসভাবে বসে থাকলে চলবে না। পছন্দনীয় কাজ খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত উপকারী একটা কাজে ঢুকে পড়তে হবে। আমরা যেন কোনো পেশাকে খারাপ চোখে না দেখি; বরং কাজ না করে মানুষের কাছে হাত পাতা, ঘুষ খাওয়া, চুরি করা কিংবা অন্যের সম্পদ মেরে খাওয়াই খারাপ।
প্রকৃতপক্ষে দেশে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। দিন যত যাচ্ছে, কাজের সুযোগ ততই বাড়ছে। সমস্যা হলো, এ কাজগুলো করার উপযোগী লোকের খুব অভাব। তাই তরুণ প্রজন্মকে এ কাজগুলো করার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
📄 যৌবনের আত্মা
শরীর আর মনের বয়স সবসময় একই হবে—এমন নয়। আশেপাশে এমন অনেক যুবক আছে, যাদের ভেতরকার আত্মা বৃদ্ধের মতো। আবার এমনও মানুষ আছে যার বয়স হয়তো আশি, তবুও তার আত্মা যেন যৌবনের পরিচায়ক! কথাগুলো অনেকের কাছে অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে; কিন্তু এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের পরামর্শদাতা হিসেবেই এ কথাগুলো বলা। কারণ, এটাই চরম বাস্তবতা; আর বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে কিছু বলা সম্ভব নয়। আমার মতে, সর্বোত্তম যে কাজটা এখন আমরা করতে পারি, তা হলো—যৌবনের আত্মার পরিচায়ক যা-কিছু আছে, সেসবকে চিনে নেওয়া। এতে করে আমরা নিজেদের যাচাই করে নিতে পারব। এছাড়াও যৌবনকে আমরা অন্তরে ধারণ করি কি না—তা সহজেই অনুধাবন করতে পারব।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কোন কাজ বা বৈশিষ্ট্য যৌবনের পরিচয় বহন করে? যখন আমরা কাউকে আল্লাহর বদান্যতা ও সাহায্যের ওপর পরম ভরসা করতে দেখব, তখন বুঝে নেব তার ভেতরকার আত্মাটা যৌবনের প্রতিনিধিত্ব করছে। এ আত্মা সারাক্ষণ আল্লাহর সাহায্য ও অপরিসীম দানের-ই অপেক্ষা করে।
তরুণ মন যেকোনো পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজের চিন্তাকে বিকশিত করতে পারে। এমনকি চিন্তার সীমাবদ্ধতা থেকেও বেঁচে থাকতে পারে। তরুণ এই মন প্রাণ খুলে হাসতে জানে, তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনায়ও উচ্ছ্বসিত হতে জানে।
একজন ব্যক্তি তখনই বৃদ্ধ হয়, যখন তার স্বপ্নগুলোতে মরিচা ধরে। সে তখনই মরে যায়, যখন তার শেষ স্বপ্নটাও মরে যায়। তারুণ্য ধরে রাখতে বুদ্ধি, লক্ষ্য ও
স্বপ্নের বিকাশ ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ, যৌবনের আত্মা তো সবসময়ই নতুন পন্থায় চিন্তা-ভাবনা করে, নতুন কোনো বইয়ে মনোনিবেশ করে, কিংবা নতুন কোনো শখ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। পাশাপাশি জগতকে জানার প্রচেষ্টায় সবসময় ব্যস্ত থাকে।
আমরা যারা বয়সে বুড়ো, তাদের মাঝে একমাত্র যৌবনের আত্মাই কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তুলতে পারে, যা-কিছু আমাদের পক্ষে করা সম্ভব তা নিয়ে উৎসাহ দিতে পারে। এ আত্মাই আমাদেরকে নিজের ও উম্মাহ্র উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মাণে ব্যস্ত রাখে।
শরীরের সাথে যাদের আত্মাও বুড়িয়ে গেছে, তারাই কেবল সব কাজে তাড়াহুড়ো করে, সব কাজ দ্রুত শেষ করে ফেলতে চায়। বিপরীতে যৌবনের আত্মা লোকদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। যেকোনো ভালো কাজ, পরোপকার কিংবা দেশগঠন—যৌবনের আত্মার দ্বারাই সম্ভব। কারণ, যৌবনের আত্মা সহজে হতাশ হয় না। ধ্বংসাত্মক পরিবেশেও সহজে নিজেকে ধ্বংস হয়ে যেতে দেয় না।
তাই আমাদের উচিত নিজের আত্মাকে নবায়ন করা। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর সাহায্য ও দয়া দিয়ে পরিবেষ্টিত করে রাখবেন।