📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 সমাধানের পথিকৃৎ

📄 সমাধানের পথিকৃৎ


এ দুনিয়া বিপদাপদ আর সমস্যা দিয়ে ঘেরা। এখানকার পরিবার, সমাজ কিংবা প্রতিষ্ঠান কোনোটিই সমস্যামুক্ত নয়। এর মাঝে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয় বিভিন্ন কাজের প্রকৃতি ও অবস্থার কারণে। আবার কিছু হয়ে থাকে মানুষের ভুল-ত্রুটির কারণে। আশার কথা হলো, সবখানেই এমন মানুষ আছেন—যারা অন্যের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যাকে সমাধানের চেষ্টা করেন। প্রয়োজনে তারা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়ভারও বহন করেন। লবণের উপস্থিতিতে যেমন খাবারের স্বাদ বোঝা যায়, তেমনই তাদের উপস্থিতিতে সমাজের সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যায়। এরাই সমাজকে সুবাসিত করেন, আলোকিত করেন। তারা খুব ভালো করেই জানেন সমাজের সমস্যাগুলো আসলে কোথায়। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এ সমস্যাগুলোর মাঝে পড়ে থাকলে চলবে না। তাই তারা এসব সমাধানের প্রচেষ্টা চালান।
দেখা গেল, কোনো এক মহল্লার অধিকাংশ মানুষই জামাআতে সালাত আদায়ের ব্যাপারে উদাসীন। যে কোনো মুসলিম-সমাজের জন্য এটা বড় একটা সামাজিক সমস্যা। তো এই সমস্যা নিরসনের জন্য মসজিদের দায়িত্বশীলগণ জামাআতে সালাত আদায়ের ব্যাপারে লোকদের উদ্বুদ্ধ করে থাকেন। অবস্থার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এভাবেই দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের বরকতময় কাজের সুবাদে সমস্যা সমাধানে অবদান রাখেন।
আবার ধরা যাক, কোনো এক পরিবারে বেশ কয়েকজন সদস্যের কোনো উপার্জন নেই। এটাকে সেই পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যা বলা যায়। এখন তাদের মধ্যে কেউ যদি বসে না থেকে কাজের খোঁজে বের হয়, তবে সে সমাধানের পথে চলা শুরু করল।
সে সমাধানের অংশ হয়ে গেল, সমস্যার অংশ হয়ে আর পড়ে থাকল না।
এরকম আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন—কোনো এক ক্লাসে হয়তো শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক অনিয়ম। তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ নেই, শৃঙ্খলারক্ষায়ও কোনো উৎসাহ নেই। এমন পরিস্থিতিতে কিছু শিক্ষার্থী ক্লাস নিয়ন্ত্রণ ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে শিক্ষককে সহায়তা করার মাধ্যমেই কিন্তু সমস্যা-সমাধানে অবদান রাখতে পারে।
এভাবেই যেকোনো সমস্যায় আমাদের সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। কারও সংশোধনের কারণ হওয়াটা বেশ সম্মানের ব্যাপার। এমন হতে পারলে যে কোনো পরিবেশেই আমাদের উপস্থিতি অন্যদের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনবে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, আশেপাশের মানুষের থেকে নিজে উত্তম হলে তাদের সমস্যার সমাধানের অংশ হওয়া সহজ। তাই প্রথমেই আমাদেরকে উত্তম হবার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। এসময় শয়তান নানাভাবে আমাদেরকে কুমন্ত্রণা দেবে। সে বোঝাতে চাইবে—আমরা অদক্ষ, সংশোধন করতে অক্ষম। শয়তানের কুমন্ত্রণায় কান দিলে চলবে না। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এসব ক্ষেত্রে আমরা উপযুক্ত। এজন্য সবসময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। সবসময় মনে করতে হবে যে, আমরা সমাধানের অংশ, সমস্যার অংশ নই। কারণ, আমরা যদি সমাধানের অংশ না হই, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা সমস্যার অংশ। তাই সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই এবং বিশালাকার ধারণ করার আগেই সমাধান করে ফেলতে হবে।

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

📄 আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই


আমরা কি নিজেকে চিনতে চাই?
এ প্রশ্নে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন। কেউ কেউ বলবেন, এ আবার কেমন প্রশ্ন? এমন কে আছে, যে নিজেকে চিনতে চায় না? আমরা সবাই-ই তো নিজেকে চিনতে চাই, নিজেকে আবিষ্কার করতে চাই।
তাই যদি হয়, তাহলে বেশ ভালো। নিজেকে চেনার জন্য আমার কাছে একটি সহজ মাপকাঠি আছে। সেটি হলো, আমি নিজেকে কী পরিমাণ নিন্দা করি, আমি কী পরিমাণ নিজের আত্ম-সমালোচনা করি। যে আত্মা নিজেকে ভর্ৎসনা করে, আল্লাহ তাআলা সেই আত্মার কসম খেয়েছেন-
لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوْامَةِ
আমি শপথ করছি কিয়ামতের দিনের, আমি আরও শপথ করছি ভৎসনাকারী আত্মার [১]
মুমিনের আত্মা বরাবরই নিজেকে তিরস্কার করে। ওদিকে পাপী ব্যক্তির আত্মা তাকে সামান্যই তিরস্কার করে থাকে। তাই পাপী ব্যক্তি কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ভ্রান্তির ছলনায় হারিয়ে যায়। মুমিনের সফলতা ও শ্রেষ্ঠত্ব যত উপরের দিকে যেতে থাকে, ততই নিজ আত্মা তাকে সমালোচনার বাণে বিদ্ধ করতে থাকে। তবে এমন অনেকে আছে, যারা মাসে এক রাকাআত সালাত আদায় না করলেও আত্মা
তাদেরকে তিরস্কার করে না! ওদিকে কেউ এক ওয়াক্ত ফরয সালাত সময়মতো আদায় করতে না পারলেই সে নিজেকে সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। কেউ কেউ ইমামের পেছনে তাকবীরে তাহরীম ছুটে যাওয়ার কারণে-ই আত্মার ভৎসনার শিকার হয়। আবার এমন অনেকে আছে যারা—কুরআন এক বছর যাবৎ না পড়লেও আত্মা তাদেরকে সামান্য তিরস্কারও করে না। অপরদিকে এমন লোকও আছে, যে প্রতিদিন চার ঘণ্টা কুরআন না পড়লে তার আত্মা তাকে সমালোচনায় জর্জরিত করে দেয়। কেউ কাজে দশ মিনিট দেরি করেছে বলে বিবেকের দংশনের শিকার হয়। আবার অনেকে দিনের পর দিন বিনা কারণে কাজে দেরি করতেই থাকে, এতে তার আত্মা এতটুকু বিচলিত হয় না। এ থেকে বোঝা যায়, আমাদের বিবেক যতটুকু জাগ্রত থাকে, আমাদের অবস্থান যতটা উপরে থাকে, তার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের আত্মা তিরস্কৃত হয়। আমাদের অন্তরে সুপ্ত তিরস্কারের রকমফের এ কারণেই হয়ে থাকে।
তাই আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে সেই আলোকিত আহ্বানের দিকে, যা অন্তরের গহীন থেকে আসে। এ আহ্বান সবসময়ই নিজেদের কমতি ও ঘাটতির কারণে আমাদেরকে তিরস্কার করে চলেছে।
আত্মসমালোচনায় আমরা এগিয়ে আছি, নাকি পিছিয়ে আছি—বার বার নিজেকে এ প্রশ্ন করতে হবে। কারণ, এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েই নিজের অবস্থান পরিমাপ করতে হবে। এর পাশাপাশি গুনাহর কারণে অনুশোচনার অনুভূতি নিজ মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। পাপগুলো মুছে ফেলতে হবে ভালো কাজের দ্বারা। আর এসব কেবল আত্মসমালোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

টিকাঃ
[১] সূরা কিয়ামাহ, ৭৫ : ১-২

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 সাবধান মেয়ে!

📄 সাবধান মেয়ে!


আগেকার দিনে দুর্বল ও ভীত মানুষেরা মানুষরূপী হায়েনাদের থেকে বাঁচতে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করত। আর এখন তো স্যাটেলাইট আর ইন্টারনেটের যুগ। এ যুগে নিঃসঙ্গ, একাকী জীবনযাপন রীতিমতো অসম্ভব।
যৌবনে পা রাখার পর অধিকাংশ মেয়ের মনে কী চলে—তা আমি আন্দাজ করতে পারি। তারা এমন কোনো যুবকের সাথে ঘর বাঁধতে চায়, যে বৈবাহিক-জীবনকে গুরুত্ব দিতে জানে। পরিবারের দেখভাল করতে পারে, পরিবারে সুখ-শান্তি এনে দিতে পারে—এমন যুবকই মেয়েদের প্রথম পছন্দ। ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর হয়ে মেয়েরা ভুল করে বসে। কখনো সে কোনো যুবকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বসে, কখনোও চ্যাটগ্রুপে কথা বলা শুরু করে, কখনো-বা পাশের বাড়ির ছেলেটার সাথে তার চোখাচোখি চলে। আমি নিশ্চিত, তাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে—একজন জীবনসঙ্গী ও ভবিষ্যত সন্তানদের পিতাকে খুঁজে বের করা।
আর ছেলেরাও এ সত্যটা বেশ ভালোমতোই জানে। ছেলেদের মধ্যে যারা ভালো, সৎ, তারা শরয়ী বিধি-বিধান মেনে এ পথে অগ্রসর হয়। তারা মেয়েদের মধ্যে কাউকে পছন্দ করলে সরাসরি তার পরিবারের কাছে প্রস্তাব পেশ করতে যায়; কিন্তু এর বিপরীত চিত্রই বেশি দেখতে পাই। বিয়ের আগেই মেয়েদের সাথে অন্তরঙ্গ সময় কাটানো ছেলের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তারা মেয়েদের সামনে প্রমাণের পর প্রমাণ উপস্থাপন করে; বোঝাতে চায় যে, বিয়ের মাধ্যমেই তারা এ সম্পর্কের অবসান ঘটাতে ইচ্ছুক। এর আগে যা-কিছু তারা করছে, তা কেবল পরিচয় ও উপযুক্ত জীবনসঙ্গিনী খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যেই করছে। এদের অধিকাংশই
মিথ্যুক। আর যদি সত্যবাদী হয়েও থাকে, তবুও কোনো মেয়ের সাথে তাদের এ ধরনের সম্পর্কে বোঝা যায় যে, তারা আদৌ সৎ নয়। পুরো ঘটনায় একটা মেয়ের হয়তো উদ্দেশ্যটা সৎ-ই থাকে, তবুও বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় একসময় সে নিজেকে বড়সড় বিপদের মাঝে আবিষ্কার করে। শেষমেষ এ বিপদ থেকে বের হওয়ার কোনো পথ সে খুঁজে পায় না।
এমন ঘটনা প্রায়ই শুনে থাকবেন—কোনো ছেলে বাইরে কোথাও এক মেয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছে। এরপর সে গোপনে মেয়েটির অস্বাভাবিক একটা ছবি তুলে রেখেছে অথবা তাদের বিশেষ কোনো আলাপ, কথা-বার্তা রেকর্ড করে রেখেছে। কয়েকদিন পর এই ছবি অথবা রেকর্ড দিয়েই ছেলেটা মেয়েটিকে বার বার হুমকি দিতে থাকে। মেয়েটির মনে হয়, সে যেন মাইন পুঁতে রাখা ভূমির ওপর দিয়ে হাঁটছে। কারণ, সে যেদিকেই যাবে সেদিকেই তার জন্য বিপদ অপেক্ষা করছে। আবার এমনও শোনা যায়, মেয়েদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে কোনো ছেলে তার ক্ষতি করে বসেছে। এরপর ঠিকই তাকে বিয়ের ওয়াদা দেয়, কিন্তু শেষমেষ রণে ভঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যায়। তার আর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায় না। মেয়েটার জীবনে তখন ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে। কখনোও কখনোও মেয়েটা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। ফলে একসাথে দুই পাপের বোঝা তাকে বয়ে বেড়াতে হয়—নিজের ব্যাভিচারের পাপ, আর পিতৃ-পরিচয়হীন সন্তান জন্ম দেওয়ার পাপ!
তাই মেয়েদেরকে বলি, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তার বাইরে কিছুই হবে না। একজন মেয়ে যতই দুর্বল বা একাকী হোক না কেন, আল্লাহ তার সাথেই আছেন। আল্লাহ তাআলা-ই জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করে দেন। তাই তাঁর কাছেই চাইতে হবে। মনে রাখতে হবে, আল্লাহর অবাধ্যতায় এ চাওয়া পূরণ হবে না। তাঁর কাছ থেকে কিছু পেতে হলে অবশ্যই তাঁর আনুগত্য করতে হবে, তাঁর বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে।
মেয়েরা বোঝে না, যে মেয়েকে চাইলেই পাওয়া যায়, তাকে কখনোও ছেলেরা নিজের স্ত্রী হবার উপযুক্ত মনে করে না। সেখানে তার সন্তান-সন্ততির মা হিসেবে মেনে নেওয়া তো দূরের ব্যাপার! তাই নিজেকে এমন কোথাও সঁপে দেওয়া ঠিক হবে না, যেখানে কোনো সম্মান নেই। আল্লাহর স্মরণে, তাঁর ভালোবাসায়, তাঁর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার মাধ্যমেই অন্তরে প্রশান্তি আসে। এজন্য কোথায় জীবনের স্বাদ সবচেয়ে বেশি সেটি না খুঁজে বরং সবচেয়ে সম্মানজনক স্বাদটা কোথায় সেটিই খুঁজে নিতে হবে।

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 কৃতজ্ঞ হও

📄 কৃতজ্ঞ হও


আমরা কি জানি, আল্লাহ আমাদেরকে কী পরিমাণ নিয়ামত দিয়ে ঘিরে রেখেছেন? তাঁর নিয়ামত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এ আয়াতটির মাধ্যমে—
وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا
আর যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামতসমূহ গণনা করো, তবে তা গণনা করে শেষ করতে পারবেনা।[১]
বর্তমান যুগের দিকে তাকালে আমরা দেখি, প্রায় সবাই নিজের অবস্থা নিয়ে আফসোস করছে, হতাশায় ডুবে আছে। এর কারণ, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার তুলনায় তাদের সক্ষমতা ও অর্জিত বস্তুর পরিমাণ বেশ কম; কিন্তু আমাদের এ হতাশার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলে চলবে না। আমাদেরকে মূলে ফিরে আসতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে যে, অবস্থা যতই খারাপ হোক, বিপদাপদ যতই বেড়ে যাক; অবশ্যই আল্লাহ আমাদেরকে এমন কিছু দিয়েছেন, যার জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া আবশ্যক।
আমাদের অন্তরে যে ঈমান রয়েছে, তা কি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত নয়? না চাইতেই আল্লাহ আমাদের দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন, শোনার জন্য দুটি কান দিয়েছেন, একাকিত্ব ঘোচাতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব দিয়েছেন—এ সবই আল্লাহর দেওয়া
নিয়ামত। শুধু তাই নয়, আমরা ভুল করলে তাওবার সুযোগ পাই, ভালো মানুষ হলে আরও সৎকাজ করার সুযোগ পাই—এগুলোও তাঁর দেওয়া নিয়ামত। তাই আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। কৃতজ্ঞতা হলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। আল্লাহ যে তাঁর বান্দাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ ও সামর্থ্য দিয়েছেন, এটিই বরং আরেকটি নিয়ামত। এ নিয়ামতই দ্বিতীয়বার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দাবি রাখে। তাই কৃতজ্ঞতাকে আনন্দ, সন্তুষ্টি আর প্রশান্তির উৎস বানিয়ে নিতে হবে। সম্ভবত এ কারণে-ই আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ
যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তা নিজের কল্যাণের জন্যই করে। আর যে অকৃতজ্ঞ হয় সে জেনে রাখুক যে, আমার রব অভাবমুক্ত, দানশীল।[১]
আমরা এমন অনেক মানুষকে চিনি—যারা বিরতিহীনভাবে অভিযোগ করে যায়, কখনোই ক্লান্ত হয় না। অন্যদের ব্যাপারে কথা বলতেও তাদের বিন্দুমাত্র বিরক্তি নেই। তাদের সাথে বসলে মনে হয়, তারা কোনোকিছুতেই তৃপ্তি পাচ্ছে না। যেন সব ব্যাপারেই অসন্তুষ্ট! এ এমন এক বেদনার উৎস—যার কোনো শেষ নেই। এ প্রজাতির লোকেরা উপযুক্ত কারণ ছাড়াই বিরক্তি আর কষ্টে জর্জরিত থাকে।
এ কারণে-ই যারা আমাদের উপকার করেছে, উপকারের প্রতিদানস্বরূপ আমাদের উচিত তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এর মাধ্যমে অন্তর বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পায়।
আমাদের কাউকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে, কেমন আছি; তখন যেন আমরা বলি, 'আল্লাহর নিয়ামতের মাঝে ডুবে আছি।' অথবা, 'আমি সবচেয়ে ভালো আছি।' অথবা আমরা যেন এ কথা বলি, 'আমি আল্লাহর কাছে চাইছি, তিনি যেন আমার প্রতি তার অনুগ্রহ জারী রাখেন এবং তার নিয়ামতসমূহ বৃদ্ধি করে দেন।'
কৃতজ্ঞতা আসলে অন্তর থেকে আসতে হয়। যিনি আমাদের প্রতি নিয়ামত দিয়েছেন, যিনি আমাদেরকে সহায়তা করেছেন, আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর প্রতি খুশি হয়ে নিজের কৃতজ্ঞতাবোধকে জাগিয়ে তুলতে হয়। আর এ কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হতে হবে জিহ্বার দ্বারা, উত্তম কথাবার্তার দ্বারা, ভালো কাজের দ্বারা। তাই কিছু মানুষকে বলতে
চাই, কেউ যদি আপনার উপকার করে, তবে তার প্রশংসায় মুখ খুলুন। এমনভাবে প্রশংসা করুন-যাতে বোঝা যায় যে, যা বলছেন তা মনের গভীর থেকেই বলছেন। প্রয়োজনে তাদের উপকারের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। প্রতিটি নিয়ামতের জন্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপযুক্ত উপায় আছে। আমাদেরকে এ উপায়গুলো শিখতে হবে। আর এটি শিখতে উঁচু মাপের সংবেদনশীল একটি মন থাকা প্রয়োজন।
সৃষ্টির উপকারের মাধ্যমে মূলত সৃষ্টিকর্তার প্রতিই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তাই আসুন, আমরা নিজ পরিবারের উপকার করি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সূচনা হোক পরিবার থেকেই। আল্লাহ তাআলা-ই এর উত্তম প্রতিদান দেবেন।

টিকাঃ
[১] সূরা নাহল, ১৬ : ১৮
[১] সূরা নামল, ২৭:৪০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00