📄 শাশ্বত সফলতার খোঁজে
নিঃসন্দেহে মুসলিম উম্মাহ্র প্রচুরসংখ্যক সফল ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী লোকের প্রয়োজন; কারণ, বর্তমান সময়ে বুদ্ধিবৃত্তি, শিল্প ও বাস্তবক্ষেত্রে মুসলিমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছে। তাই এর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কেননা, দুর্বল-চিত্তের লোকদের নিয়ে শক্তিশালী উম্মাহ গঠন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা খুব জরুরী : ইসলাম যেমন কোনো লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্ব দেয়, ঠিক তেমনই সেই লক্ষ্যে পৌঁছার মাধ্যমকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ কারণে-ই প্রকৃত সফলতার জন্য আমাদের দুটি বৈশিষ্ট্য মেনে অগ্রসর হতে হবে—
প্রথমত : আমাদের কাজগুলো পরিকল্পিত ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে এবং তা অবশ্যই শরীয়তসম্মত হতে হবে।
দ্বিতীয়ত : আমাদের কাজগুলো অবশ্যই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হতে হবে। যেমন, দুনিয়াবী সফলতার দ্বারা আমরা যে অর্থ উপার্জন করে থাকি—তা যেন আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং মানুষের কল্যাণ ও দেশের সমৃদ্ধি-সাধনে সাহায্য করে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ যুগের লোকেরা সফলতা আর অধিক উপার্জনের ফিতনায় পড়ে গেছে। দুনিয়াবি কোনো ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের পর যদি তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যক্তিগত খাতে কিংবা বৈধ বিনোদনেই ব্যয় হয়ে যায়, তবে তা প্রকৃত সফলতা নয়; বরং একে সাময়িক সফলতা বলা চলে। দুনিয়ার এ জীবন খুব ছোট, আর একে উপভোগ করার সময়টাও সংক্ষিপ্ত। তাই এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, দুনিয়ায় আমরা যে সফলতা অর্জন করি, তার পরিসর একেবারেই সীমিত।
আরেক প্রকার সফলতা আছে। একে অবশ্য রূপক অর্থে সফলতা বলা হয়। সেটা হলো—জোচ্চুরি, ধোঁকাবাজি, ঘুষ, অন্যের হক নষ্ট করা, প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করা ইত্যাদির মাধ্যমে সফল হওয়া। এটি মূলত মেকি সফলতা। এ সফলতা ব্যক্তির ওপর বোঝার মতো। আমাদের উচিত এমন ব্যক্তিদেরকে করুণার দৃষ্টিতে দেখা। তাদের জন্য হিদায়াতের দু'আ করা; কারণ, তারা অসহায়। তারা জানে না, যে অর্জনকে তারা সফলতা মনে করছে, তা আদতে তাদের জন্য বড় ধরনের বিপদ।
মনে রাখতে হবে, আমাদের চিন্তা যেন সার্টিফিকেট, চাকরি বা অর্থসম্পদের মালিক হওয়ার মাঝেই আবদ্ধ না থাকে; বরং আমরা সফল হতে চাইব নিজেদের, পরিবারের ও আশেপাশের মানুষের সুখ-শান্তির কথা ভেবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে নিজেদের অর্জনকে কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা, যাতে এর মাধ্যমে আমরা সাওয়াব অর্জন করতে পারি।
আমরা যা অর্জন করতে চাই, তার বাস্তবায়নে যেন নিজেদের মাঝে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ না করে। তাই সবসময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। তিনি যেন আমাদের সব কাজে সমন্বয় সাধন করেন, আমাদেরকে হেফাজত করেন। ভুলে গেলে চলবে না—
‘বান্দার প্রতি যদি না থাকে রবের সমর্থন
ব্যর্থ হবে তার প্রয়াসের প্রতিটি অনুক্ষণ।’
📄 সমাধানের পথিকৃৎ
এ দুনিয়া বিপদাপদ আর সমস্যা দিয়ে ঘেরা। এখানকার পরিবার, সমাজ কিংবা প্রতিষ্ঠান কোনোটিই সমস্যামুক্ত নয়। এর মাঝে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয় বিভিন্ন কাজের প্রকৃতি ও অবস্থার কারণে। আবার কিছু হয়ে থাকে মানুষের ভুল-ত্রুটির কারণে। আশার কথা হলো, সবখানেই এমন মানুষ আছেন—যারা অন্যের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যাকে সমাধানের চেষ্টা করেন। প্রয়োজনে তারা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়ভারও বহন করেন। লবণের উপস্থিতিতে যেমন খাবারের স্বাদ বোঝা যায়, তেমনই তাদের উপস্থিতিতে সমাজের সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যায়। এরাই সমাজকে সুবাসিত করেন, আলোকিত করেন। তারা খুব ভালো করেই জানেন সমাজের সমস্যাগুলো আসলে কোথায়। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এ সমস্যাগুলোর মাঝে পড়ে থাকলে চলবে না। তাই তারা এসব সমাধানের প্রচেষ্টা চালান।
দেখা গেল, কোনো এক মহল্লার অধিকাংশ মানুষই জামাআতে সালাত আদায়ের ব্যাপারে উদাসীন। যে কোনো মুসলিম-সমাজের জন্য এটা বড় একটা সামাজিক সমস্যা। তো এই সমস্যা নিরসনের জন্য মসজিদের দায়িত্বশীলগণ জামাআতে সালাত আদায়ের ব্যাপারে লোকদের উদ্বুদ্ধ করে থাকেন। অবস্থার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এভাবেই দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের বরকতময় কাজের সুবাদে সমস্যা সমাধানে অবদান রাখেন।
আবার ধরা যাক, কোনো এক পরিবারে বেশ কয়েকজন সদস্যের কোনো উপার্জন নেই। এটাকে সেই পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যা বলা যায়। এখন তাদের মধ্যে কেউ যদি বসে না থেকে কাজের খোঁজে বের হয়, তবে সে সমাধানের পথে চলা শুরু করল।
সে সমাধানের অংশ হয়ে গেল, সমস্যার অংশ হয়ে আর পড়ে থাকল না।
এরকম আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন—কোনো এক ক্লাসে হয়তো শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক অনিয়ম। তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ নেই, শৃঙ্খলারক্ষায়ও কোনো উৎসাহ নেই। এমন পরিস্থিতিতে কিছু শিক্ষার্থী ক্লাস নিয়ন্ত্রণ ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে শিক্ষককে সহায়তা করার মাধ্যমেই কিন্তু সমস্যা-সমাধানে অবদান রাখতে পারে।
এভাবেই যেকোনো সমস্যায় আমাদের সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। কারও সংশোধনের কারণ হওয়াটা বেশ সম্মানের ব্যাপার। এমন হতে পারলে যে কোনো পরিবেশেই আমাদের উপস্থিতি অন্যদের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনবে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, আশেপাশের মানুষের থেকে নিজে উত্তম হলে তাদের সমস্যার সমাধানের অংশ হওয়া সহজ। তাই প্রথমেই আমাদেরকে উত্তম হবার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। এসময় শয়তান নানাভাবে আমাদেরকে কুমন্ত্রণা দেবে। সে বোঝাতে চাইবে—আমরা অদক্ষ, সংশোধন করতে অক্ষম। শয়তানের কুমন্ত্রণায় কান দিলে চলবে না। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এসব ক্ষেত্রে আমরা উপযুক্ত। এজন্য সবসময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। সবসময় মনে করতে হবে যে, আমরা সমাধানের অংশ, সমস্যার অংশ নই। কারণ, আমরা যদি সমাধানের অংশ না হই, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা সমস্যার অংশ। তাই সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই এবং বিশালাকার ধারণ করার আগেই সমাধান করে ফেলতে হবে।
📄 আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই
আমরা কি নিজেকে চিনতে চাই?
এ প্রশ্নে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন। কেউ কেউ বলবেন, এ আবার কেমন প্রশ্ন? এমন কে আছে, যে নিজেকে চিনতে চায় না? আমরা সবাই-ই তো নিজেকে চিনতে চাই, নিজেকে আবিষ্কার করতে চাই।
তাই যদি হয়, তাহলে বেশ ভালো। নিজেকে চেনার জন্য আমার কাছে একটি সহজ মাপকাঠি আছে। সেটি হলো, আমি নিজেকে কী পরিমাণ নিন্দা করি, আমি কী পরিমাণ নিজের আত্ম-সমালোচনা করি। যে আত্মা নিজেকে ভর্ৎসনা করে, আল্লাহ তাআলা সেই আত্মার কসম খেয়েছেন-
لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوْامَةِ
আমি শপথ করছি কিয়ামতের দিনের, আমি আরও শপথ করছি ভৎসনাকারী আত্মার [১]
মুমিনের আত্মা বরাবরই নিজেকে তিরস্কার করে। ওদিকে পাপী ব্যক্তির আত্মা তাকে সামান্যই তিরস্কার করে থাকে। তাই পাপী ব্যক্তি কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ভ্রান্তির ছলনায় হারিয়ে যায়। মুমিনের সফলতা ও শ্রেষ্ঠত্ব যত উপরের দিকে যেতে থাকে, ততই নিজ আত্মা তাকে সমালোচনার বাণে বিদ্ধ করতে থাকে। তবে এমন অনেকে আছে, যারা মাসে এক রাকাআত সালাত আদায় না করলেও আত্মা
তাদেরকে তিরস্কার করে না! ওদিকে কেউ এক ওয়াক্ত ফরয সালাত সময়মতো আদায় করতে না পারলেই সে নিজেকে সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। কেউ কেউ ইমামের পেছনে তাকবীরে তাহরীম ছুটে যাওয়ার কারণে-ই আত্মার ভৎসনার শিকার হয়। আবার এমন অনেকে আছে যারা—কুরআন এক বছর যাবৎ না পড়লেও আত্মা তাদেরকে সামান্য তিরস্কারও করে না। অপরদিকে এমন লোকও আছে, যে প্রতিদিন চার ঘণ্টা কুরআন না পড়লে তার আত্মা তাকে সমালোচনায় জর্জরিত করে দেয়। কেউ কাজে দশ মিনিট দেরি করেছে বলে বিবেকের দংশনের শিকার হয়। আবার অনেকে দিনের পর দিন বিনা কারণে কাজে দেরি করতেই থাকে, এতে তার আত্মা এতটুকু বিচলিত হয় না। এ থেকে বোঝা যায়, আমাদের বিবেক যতটুকু জাগ্রত থাকে, আমাদের অবস্থান যতটা উপরে থাকে, তার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের আত্মা তিরস্কৃত হয়। আমাদের অন্তরে সুপ্ত তিরস্কারের রকমফের এ কারণেই হয়ে থাকে।
তাই আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে সেই আলোকিত আহ্বানের দিকে, যা অন্তরের গহীন থেকে আসে। এ আহ্বান সবসময়ই নিজেদের কমতি ও ঘাটতির কারণে আমাদেরকে তিরস্কার করে চলেছে।
আত্মসমালোচনায় আমরা এগিয়ে আছি, নাকি পিছিয়ে আছি—বার বার নিজেকে এ প্রশ্ন করতে হবে। কারণ, এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েই নিজের অবস্থান পরিমাপ করতে হবে। এর পাশাপাশি গুনাহর কারণে অনুশোচনার অনুভূতি নিজ মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। পাপগুলো মুছে ফেলতে হবে ভালো কাজের দ্বারা। আর এসব কেবল আত্মসমালোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
টিকাঃ
[১] সূরা কিয়ামাহ, ৭৫ : ১-২
📄 সাবধান মেয়ে!
আগেকার দিনে দুর্বল ও ভীত মানুষেরা মানুষরূপী হায়েনাদের থেকে বাঁচতে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করত। আর এখন তো স্যাটেলাইট আর ইন্টারনেটের যুগ। এ যুগে নিঃসঙ্গ, একাকী জীবনযাপন রীতিমতো অসম্ভব।
যৌবনে পা রাখার পর অধিকাংশ মেয়ের মনে কী চলে—তা আমি আন্দাজ করতে পারি। তারা এমন কোনো যুবকের সাথে ঘর বাঁধতে চায়, যে বৈবাহিক-জীবনকে গুরুত্ব দিতে জানে। পরিবারের দেখভাল করতে পারে, পরিবারে সুখ-শান্তি এনে দিতে পারে—এমন যুবকই মেয়েদের প্রথম পছন্দ। ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর হয়ে মেয়েরা ভুল করে বসে। কখনো সে কোনো যুবকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বসে, কখনোও চ্যাটগ্রুপে কথা বলা শুরু করে, কখনো-বা পাশের বাড়ির ছেলেটার সাথে তার চোখাচোখি চলে। আমি নিশ্চিত, তাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে—একজন জীবনসঙ্গী ও ভবিষ্যত সন্তানদের পিতাকে খুঁজে বের করা।
আর ছেলেরাও এ সত্যটা বেশ ভালোমতোই জানে। ছেলেদের মধ্যে যারা ভালো, সৎ, তারা শরয়ী বিধি-বিধান মেনে এ পথে অগ্রসর হয়। তারা মেয়েদের মধ্যে কাউকে পছন্দ করলে সরাসরি তার পরিবারের কাছে প্রস্তাব পেশ করতে যায়; কিন্তু এর বিপরীত চিত্রই বেশি দেখতে পাই। বিয়ের আগেই মেয়েদের সাথে অন্তরঙ্গ সময় কাটানো ছেলের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তারা মেয়েদের সামনে প্রমাণের পর প্রমাণ উপস্থাপন করে; বোঝাতে চায় যে, বিয়ের মাধ্যমেই তারা এ সম্পর্কের অবসান ঘটাতে ইচ্ছুক। এর আগে যা-কিছু তারা করছে, তা কেবল পরিচয় ও উপযুক্ত জীবনসঙ্গিনী খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যেই করছে। এদের অধিকাংশই
মিথ্যুক। আর যদি সত্যবাদী হয়েও থাকে, তবুও কোনো মেয়ের সাথে তাদের এ ধরনের সম্পর্কে বোঝা যায় যে, তারা আদৌ সৎ নয়। পুরো ঘটনায় একটা মেয়ের হয়তো উদ্দেশ্যটা সৎ-ই থাকে, তবুও বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় একসময় সে নিজেকে বড়সড় বিপদের মাঝে আবিষ্কার করে। শেষমেষ এ বিপদ থেকে বের হওয়ার কোনো পথ সে খুঁজে পায় না।
এমন ঘটনা প্রায়ই শুনে থাকবেন—কোনো ছেলে বাইরে কোথাও এক মেয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছে। এরপর সে গোপনে মেয়েটির অস্বাভাবিক একটা ছবি তুলে রেখেছে অথবা তাদের বিশেষ কোনো আলাপ, কথা-বার্তা রেকর্ড করে রেখেছে। কয়েকদিন পর এই ছবি অথবা রেকর্ড দিয়েই ছেলেটা মেয়েটিকে বার বার হুমকি দিতে থাকে। মেয়েটির মনে হয়, সে যেন মাইন পুঁতে রাখা ভূমির ওপর দিয়ে হাঁটছে। কারণ, সে যেদিকেই যাবে সেদিকেই তার জন্য বিপদ অপেক্ষা করছে। আবার এমনও শোনা যায়, মেয়েদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে কোনো ছেলে তার ক্ষতি করে বসেছে। এরপর ঠিকই তাকে বিয়ের ওয়াদা দেয়, কিন্তু শেষমেষ রণে ভঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যায়। তার আর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায় না। মেয়েটার জীবনে তখন ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে। কখনোও কখনোও মেয়েটা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। ফলে একসাথে দুই পাপের বোঝা তাকে বয়ে বেড়াতে হয়—নিজের ব্যাভিচারের পাপ, আর পিতৃ-পরিচয়হীন সন্তান জন্ম দেওয়ার পাপ!
তাই মেয়েদেরকে বলি, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তার বাইরে কিছুই হবে না। একজন মেয়ে যতই দুর্বল বা একাকী হোক না কেন, আল্লাহ তার সাথেই আছেন। আল্লাহ তাআলা-ই জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করে দেন। তাই তাঁর কাছেই চাইতে হবে। মনে রাখতে হবে, আল্লাহর অবাধ্যতায় এ চাওয়া পূরণ হবে না। তাঁর কাছ থেকে কিছু পেতে হলে অবশ্যই তাঁর আনুগত্য করতে হবে, তাঁর বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে।
মেয়েরা বোঝে না, যে মেয়েকে চাইলেই পাওয়া যায়, তাকে কখনোও ছেলেরা নিজের স্ত্রী হবার উপযুক্ত মনে করে না। সেখানে তার সন্তান-সন্ততির মা হিসেবে মেনে নেওয়া তো দূরের ব্যাপার! তাই নিজেকে এমন কোথাও সঁপে দেওয়া ঠিক হবে না, যেখানে কোনো সম্মান নেই। আল্লাহর স্মরণে, তাঁর ভালোবাসায়, তাঁর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার মাধ্যমেই অন্তরে প্রশান্তি আসে। এজন্য কোথায় জীবনের স্বাদ সবচেয়ে বেশি সেটি না খুঁজে বরং সবচেয়ে সম্মানজনক স্বাদটা কোথায় সেটিই খুঁজে নিতে হবে।