📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 শেষ ভালো যার সব ভালো তার

📄 শেষ ভালো যার সব ভালো তার


দুনিয়া এক অদ্ভুত পরীক্ষাক্ষেত্র। গতানুগতিক পরীক্ষাগুলোতে পরীক্ষার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়, এরপর পরীক্ষা দিতে হয়; কিন্তু দুনিয়া নামক পরীক্ষাক্ষেত্রে প্রস্তুতি আর পরীক্ষা চলে একই সাথে।
এটা বিস্ময়কর নয় যে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এখানে পরীক্ষা চলতেই থাকবে; বরং মানুষভেদে পরীক্ষার রকমফের আর বৈচিত্র্যই ভীষণ বিস্ময়কর। কেউ হয়তো দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, আবার কারও জন্য ধন-সম্পদই বিশাল পরীক্ষা। কেউ নিজের বোকামিতে হয়রান, কারও বুদ্ধিমত্তাই নিজের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ পড়েছে খ্যাতির বিড়ম্বনায়, কেউ বা পরিচিতির অভাবে সুবিধাবঞ্চিত। এভাবেই জীবনের নানান ক্ষেত্রে বিচিত্ররূপে মানুষ পরীক্ষিত হচ্ছে। আমাদের এ পরীক্ষার শেষ হয় পৃথিবী থেকে বিদায়ের মাধ্যমে; যার ইংগিত পাওয়া যায় এই আয়াতে— الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا
যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন, তোমাদের মধ্যে কে অধিক উত্তম আমল করে।[১]
আমাদের এ চলমান পরীক্ষায় কে সফল আর কে ব্যর্থ, তা জানা যাবে ওপারে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
অতঃপর যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ্য ছাড়া আর কিছু নয়।[১]
এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমরা জানিই না, আমাদের পরীক্ষা কোন মুহূর্তে শেষ হচ্ছে? কখনই বা পরীক্ষা-পরিদর্শক উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেবেন?
পরীক্ষার শেষ সময়ের ব্যাপারে কত মানুষ যে ভুল করেছে! কত মানুষ যে শেষ মুহূর্তে আধ-ঘণ্টা বাড়তি সময়ের জন্য হা-হুতাশ করেছে! কিন্তু তাদের দাবি মানা হয়নি। তাদের দিকে কেউ ফিরেও তাকায়নি। আল্লাহ তাআলার এ বাণী সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়-
فَأَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
অতঃপর আমরা হঠাৎ তাদেরকে ধরে ফেলি; এমনভাবে (ধরি) যে তারা বুঝতেও পারে না।[২]
তিনি আরও বলেছেন-
فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ
অতঃপর যখন তাদের সময় আসবে তখন তারা মুহূর্তকাল দেরিও করতে পারবে না এবং এগিয়েও আনতে পারবে না।[৩]
এ আয়াত দুটি গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা কখন পড়বে তা আমরা জানি না। তাই কী করছি, কেন করছি-এ অনুভূতিকে সবসময় জাগ্রত রাখতে হবে, মনে রাখতে হবে, আল্লাহ সব দেখছেন। আল্লাহকে সন্তুষ্ট রাখা,
তার অসন্তোষের কাজ থেকে দূরে থাকাকেই জীবনের মূলমন্ত্র করে নিতে হবে। যদি কখনো ভুল হয়ে যায়, মনে রাখতে হবে, তাওবার দরজা খোলা আছে। ভুল বোঝার সাথে সাথে নিজেকে সংশোধন করে নিতে হবে; কে জানে, তখনই যদি শেষ সময়ের ঘণ্টা বেজে যায়! আর যারা এ পরীক্ষাকে তুচ্ছ মনে করে, তাদের থেকে দূরে থাকাই ভালো। একবার ভুল মানুষের সাথে ভুলের স্রোতে ভেসে গেলে, ফিরে আসার সুযোগ না-ও মিলতে পারে।

টিকাঃ
[১] সূরা মুলক, ৬৭ : ০২
[১] সূরা আলে ইমরান, ০৩ : ১৮৫
[২] সূরা আরাফ, ০৭ : ৯৫
[৩] সূরা আরাফ, ০৭ : ৩৪

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 জন্মের সময় অভিন্ন; কিন্তু মৃত্যুর সময় ভিন্ন

📄 জন্মের সময় অভিন্ন; কিন্তু মৃত্যুর সময় ভিন্ন


মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে পার্থক্যটা বেশ চোখে পড়ার মতো। সদ্য জন্ম নেওয়া সব শিশু বলতে গেলে একই পর্যায়ের। তাদেরকে নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। তাদের কাউকে নিয়ে আমাদের আশা, সে বড় হয়ে মহান কেউ হবে। আবার কাউকে নিয়ে আশংকা কাজ করে, হয়তো সে বিপথে চলে যাবে। নবজাতক শিশুকে নিয়ে আমাদের দেখা স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে পাল্টে যায়। তার সম্বন্ধে যা-কিছু অজানা ছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা আর অজানা থাকে না। যে স্বপ্ন তাকে নিয়ে দেখা হয়েছিল, সে স্বপ্নের দাবিদার হয়ে যায় অন্য কেউ।
ওদিকে সব মানুষ মৃত্যুর সময়ে একই অবস্থায় থাকে না। অনেকেই এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় মনীষী হয়ে। মানুষের অন্তর তাদেরকে ভালোবেসে ফেলে। এর কারণ তো এটাই যে, তারা আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো ছিলেন না; বরং তাদের কেউ ছিলেন দ্বীনের দাঈ (অর্থাৎ ইসলামের প্রতি আহ্বানকারী); কেউ ছিলেন জ্ঞানী, শিক্ষক, লেখক; কেউ-বা ছিলেন পরোপকারী নেতা। তাদের দেহটাই কেবল এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে; কিন্তু তাদের জ্ঞান, মর্যাদা, উত্তম কাজসমূহ, অবদান—সবই রয়ে গেছে। তারা মানুষের দিকে যে কল্যাণের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা সবার হৃদয়ে এখনোও বিরাজমান। কৃতজ্ঞ মানুষেরা যুগ যুগ ধরে তাদের প্রশংসা করে আর অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে চলে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদেরকে অনুসরণীয় হিসেবে গণ্য করে।
আখিরাতে আল্লাহর কাছে তারা যে সম্মান পাবে, তা এ নশ্বর দুনিয়ার প্রাপ্তির তুলনায় অনেক বিশাল; কিন্তু দুনিয়ার এ প্রাপ্তি মুমিনের জন্য আগাম সুসংবাদ। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ মর্মে হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেন-
"إذا أحب الله العبد نادى جبريل إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبَّهُ ، فَيُحِبُّهُ جِبريل ، فينادي جبريل في أَهْلِ السَّمَاءِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحبُّوهُ ، فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ ، ثُمَّ يَوضَعُ لَه القبول في أَهل الأرض"
আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেন, আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন তাই তুমিও তাকে ভালোবাসো। তখন জিবরীল তাকে ভালোবাসেন। এবার জিবরীল আসমানবাসীকে ডাক দিয়ে বলেন : আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন। তাই তোমরাও তাকে ভালোবাসো। এরপর আসমানবাসী তাকে ভালোবেসে ফেলে। ফলে পৃথিবীতে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা লিখে রাখা হয়।[১]
এরা হলেন সংখ্যায় নগণ্য কিছু মানুষ, যাদেরকে আল্লাহ নিজে বাছাই করেছেন। অন্যদিকে বেশিরভাগ মানুষ যতদিনই বাঁচুক না কেন, জীবনটা খেয়াল-খুশিতে পার করে দেয়। তাদের কেউ কেউ এ পৃথিবীতে যা-কিছু রেখে যায়, তা পরবর্তী সময়ে তাদের আফসোসের কারণ হয়। আবার কেউ কিছুই রেখে যেতে পারে না। ফলে কাছের কিংবা দূরের মানুষেরা একসময় তাদেরকে ভুলতে বসে।
মৃত্যুর পর এভাবেই এ পৃথিবীর মানুষকে মূল্যায়ন করা হয়। বংশ, সম্পদ বা শক্তির কারণে কেউ তাদেরকে মনে রাখে না; বরং জ্ঞান, অবিচলতা, রেখে যাওয়া কল্যাণকর কাজের জন্য মানুষ তাদের স্মরণ করে।
তাই আমাদের উচিত, মহান ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করা। আমরা যেন আমাদের লক্ষ্যকে সীমিত না করে ফেলি, সামান্য সাফল্যেই তুষ্ট না হয়ে যাই। কারণ, এমনও হতে পারে, আল্লাহ আমাদের কাউকে এমন কোনো গুণ দিয়েছেন, যা পূর্ববর্তী কাউকে দেননি। তাই মৃত্যুর কথা স্মরণে রেখে এমন লক্ষ্যে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, যার প্রতিদান একমাত্র আল্লাহর কাছেই পাওয়া যাবে।

টিকাঃ
[১] সহীহ বুখারী, ৬০৪০; সহীহ মুসলিম, ২৬৩৭

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 প্রবৃত্তি : যেন পাহাড়-চূড়ার পাথর

📄 প্রবৃত্তি : যেন পাহাড়-চূড়ার পাথর


মানুষের জন্মধারাকে জারি রাখার জন্য আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের মাঝে প্রবৃত্তি বা আকর্ষণ তৈরি করে দিয়েছেন। তরুণ-তরুণীদের ওপর প্রবৃত্তির এ প্রভাব প্রকট। নিজের ভেতরে থাকা এ সুপ্ত শক্তির সাথে ব্যক্তির আচরণ কেমন হবে, এ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে দৃঢ়ভাবে সতর্ক করা প্রয়োজন। এ প্রবৃত্তির ধরন বোঝাতে খুব বেশি গভীরে যাওয়ার দরকার নেই। একে বরং জ্বালানীর সাথে তুলনা করা যায়। জ্বালানী ততক্ষণ পর্যন্ত উপকারী যতক্ষণ আমরা একে সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করব; কিন্তু যখন এ জ্বালানীকে আমরা আগুনের কাছে নিয়ে যাব, তখনই তা ধ্বংসাত্মক শক্তি হয়ে যাবে; এমনকি মানুষকে তা জ্যান্ত পুড়িয়েও ফেলতে পারে। একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি তাই এ প্রবৃত্তি বা শক্তিকে তুলনা করেছেন এমন একটি পাথরের সাথে। যে পাথরটি এক উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় যুগ যুগ ধরে অবস্থান করছে। হুট করে কেউ যদি একে নাড়িয়ে দেয়, তাহলে তা চূড়া থেকে গড়াতে থাকবে। আর একবার এ পাথর গড়ানো শুরু করলে পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই, যা একে থামাতে পারে। ঠিক তেমনই-তরুণ প্রজন্মের প্রবৃত্তিকে যদি একবার নাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা সামলানোর শক্তি তাদের নেই।
কিছু প্রভাবক আছে, যা তরুণ-তরুণীর এ আকর্ষণকে আলোড়িত করে। অলস সময় কাটানো, কেবল নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকার প্রবণতা, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি অহেতুক জল্পনা-কল্পনার সুযোগ করে দেয়। তাছাড়া খোলামেলা দৃশ্য, পুরুষদের দিকে নারীদের দৃষ্টিপাত, নারীদের দিকে পুরুষদের দৃষ্টিপাত ও অবাধ মেলামেশা এ প্রবৃত্তিকে উসকে দেয়। পথ হারানো তরুণ-তরুণীর সঙ্গও এখানে বিশাল ভূমিকা রাখে। যাদের জীবনে কোনো লক্ষ্য নেই, যারা সবসময় প্রবৃত্তি জাগ্রতকারী আলোচনায়
মত্ত থাকে, তাদের সাথে সময় কাটানো এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এজন্য প্রত্যেকেরই উচিত, উপকারী বিষয় নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখা, নিজের সার্বিক শক্তি উপকারী সব কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করা। নিয়মিত শরীরচর্চা নিজেকে ব্যস্ত রাখার একটি ভালো উপায় হতে পারে। এতে শরীরের শক্তি ক্ষয় হয়, আবার শরীরও সুস্থ থাকে।
নিজের প্রবৃত্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিয়ে করা জরুরী। সক্ষম ব্যক্তির জন্য দ্রুত বিয়ে করা একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ কাজ। বিয়ে এক শক্তিশালী দুর্গের মতো। যুবক-যুবতীদের উচিত, এ দুর্গ গঠনে গুরুত্বের সাথে পরিকল্পনা করা। পরিবার ও সমাজেরও উচিত বিয়ের পথ সুগম করে দেওয়া।
এছাড়াও যুবক-যুবতীকে আত্মিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হতে হবে। প্রবৃত্তির দমনে আত্মার পরিশুদ্ধি একটি মৌলিক বিষয়। প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুবকদেরকে সাওম পালন করার উপদেশ দিয়ে গেছেন। প্রবৃত্তির শক্তি মোকাবেলায় হৃদয়কে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে—যেন তা ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলতে পারে। আর এটি সম্ভব সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের সাহচর্যের মাধ্যমে। যারা প্রবৃত্তি জাগ্রতকারী আলোচনা এড়িয়ে চলে, যাদের জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে, আখিরাতে সফলতার ব্যাপারে উচ্চাশা আছে—তাদেরকেই সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে হবে। এতে নিজের দৃষ্টিকে সংযত রাখা, সাধ্যানুযায়ী বিপরীত লিঙ্গের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা সহজ হয়ে যায়।
তাছাড়া যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে গভীর চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন, নতুবা একটি ভুল পদক্ষেপে জীবন এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, পাহাড়-চূড়ার পাথরকে কোনোভাবেই নাড়ানো যাবে না। আর এক্ষেত্রে আল্লাহই আমাদের উত্তম অভিভাবক।

📘 জীবন পথে সফল হতে > 📄 তুমিই অনন্য

📄 তুমিই অনন্য


এ সমাজের অধিকাংশ মানুষই নিজ অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তারা যেভাবে আছে, তার চাইতেও উত্তম অবস্থানে নিজেকে দেখতে চায়। এর কারণ হলো—মানুষের মনে আল্লাহ অর্থকড়ি ও অধিক সুখ অন্বেষণের একটি সহজাত প্রবৃত্তি গড়ে দিয়েছেন।
এমন অনেকেই আছে, যারা নিজ জন্মভূমি নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তারা আফসোস করে এই ভেবে যে, তারা আরও বড় কোনো শহরে, উন্নত কোনো দেশে জন্ম নিতে পারত। অথবা তাদের পিতা বিশাল সহায়-সম্পত্তির মালিক হতে পারতেন, আর তারা বেড়ে উঠতে পারত ধন-সম্পদ আর প্রাচুর্যের মাঝে।
আবার অনেক মেয়ে আছে—যারা নিজ গড়ন বা গায়ের রং নিয়ে অসন্তুষ্ট। এমন উদাহরণের শেষ নেই। অথচ আমরা কখনো এ সত্য উপলব্ধি করি না যে, সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে যে সম্ভাবনা দিয়ে গড়ে তুলেছেন, যে অবস্থায় আমরা বেড়ে উঠেছি, তা আমাদের ভবিষ্যতে পুরোপুরি প্রভাব ফেলে না। আশেপাশে একটু তাকালেই দেখা যাবে, শত শত ছেলে-মেয়ে আমাদের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় বেড়ে উঠেছে। সে অনুযায়ী তাদের আরও ভালো, সফল ও সুখী হওয়ার কথা ছিল। অথচ এর কোনোটিই ঘটেনি। অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়েও পড়াশোনা, চাকরি, ব্যক্তিগত জীবনে ব্যর্থ হওয়ার উদাহরণ অজস্র।
অন্যদিকে অনেক মহান ব্যক্তি আছে—যারা ইতিহাসের পট পরিবর্তন করে দিয়েছেন। তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়েছে। অথচ তারা হয়তো বড় হয়েছেন বংশ-মর্যাদাহীন কোনো পরিবারে, নিতান্তই দরিদ্র অবস্থায়। এমনকি তাদের হয়তো থাকার মতো ভালো কোনো বাসস্থানও ছিল না। ইতিহাস
ও বাস্তবতা তা-ই বলে। আমাদেরকে এসব উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ইবনুল ওয়ারদী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন—
তুমি বলো না, আমার বংশ আছে, এতেই আমার হবে
বরং ব্যক্তি তা-ই তো আছে যা সে অর্জন করবে
বাবার সাহায্য ছাড়াই ব্যক্তি নেতা হতে পারে।
বিশ্বের ইতিহাসে এমন অনেক নারী-পুরুষের পরিচয় আমরা পাই, যাদের জন্ম দিতে পেরে তাদের পিতা-মাতা গর্বিত। কত পিতা তার সন্তানের পরিচয়ে বিশ্বের দরবারে পরিচিত হয়েছেন—তার ইয়ত্তা নেই। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথাই ধরা যাক। কুরাইশ বংশের সম্মান ও মর্যাদা তাঁর মাধ্যমেই বৃদ্ধি পেয়েছিল।
এজন্য আমাদের উচিত আল্লাহ যা-কিছু দিয়েছেন, সেসবে জন্য তাঁর প্রশংসা করা। তাঁর দেওয়া নিয়ামতের পরিধি বিশাল, যদিও আমরা অন্যের সাথে তুলনায় লিপ্ত হয়ে এর যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারি না। প্রকৃতপক্ষে আমাদের যা-কিছু সামান্য মনে হচ্ছে, তা আমাদের জন্য যথেষ্ট। কারণ, আল্লাহর দেওয়া সামান্য দানও মানুষের জন্য অসামান্য কিছু।
তাই প্রথমেই নিজের অবস্থাকে মেনে নিতে হবে। নিজের যা-কিছু আছে তা নিয়েই সুখে থাকা সম্ভব, সামনের দিকে এগিয়ে চলা সম্ভব। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির অহেতুক হিসাব করে মনকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে ফেলা অর্থহীন। আমাদেরকে কর্মপ্রচেষ্টা, অধ্যবসায় আর উচ্চাশার মাধ্যমে হৃদয়কে জাগিয়ে তুলতে হবে, অপ্রাপ্তির বেদনাকে মন থেকে মুছে ফেলতে হবে।
আমরা জানি না, আমাদের প্রত্যেকের মাঝেই সম্ভাবনার সুপ্ত এক অগ্নি স্ফুলিঙ্গ রয়েছে। আমরাই পারি একে ফুঁক দিয়ে বিরাট আলোকবর্তিকায় পরিণত করতে।
তাই অন্যের ছায়া না হয়ে আমরা বরং আলো হই, যা অন্যকে পথ দেখাবে। অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করে আমরা বরং এমন আদর্শ হই, যা অন্যকে উপকৃত করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00