📘 জীবন যদি হতো নারী সাহাবীর মতো 📄 কতই না ভালো হতো!

📄 কতই না ভালো হতো!


কতই না ভালো হতো! যদি সিদ্ধান্ত নিতে কাছের মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করবে। তাই রাতেই জেগে উঠলে। যাতে লাভ করতে পারো এই সুমহান মর্যাদা! অবশেষে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লে। হাঁটতে লাগলে অমানিশা ভেদ করে। আল্লাহর দেওয়া নূর জ্বলে উঠল তোমার অন্তরে। একটা করে পা ফেলে তুমি পৌঁছে গেলে। কতই না ভালো হলো! তোমার হৃদয়ের ভেতরে এক অনন্য অনুভূতি। হ্যাঁ, এখন বুকের যেখানটাতে হাত দিয়েছ সেখানেই!

কতই না ভালো হতো! যদি তুমি হতে নীরব শ্রোতা, যদি অশ্রু ঝরত তোমার দু-চোখ বেয়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন শাইখ মিম্বরে দাঁড়িয়ে আলোচনা করেন, বর্ষিত হতে থাকে রহমতের বারিধারা। কতই না ভালো হতো যদি তোমার মনে জন্মাত আল্লাহকে দেখবার আকাঙ্ক্ষা। ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন শাইখ জান্নাতের বর্ণনা দেন। কারণ, তুমি যে আল্লাহকে ভালোবাসো!

কতই না ভালো হতো! যদি রামাদান ছাড়া তুমি নফল সাওমের নিয়ত করতে। ক্লান্তি অনুভব করছ তুমি। পিপাসায় গলা কাঠের মতো শুকিয়ে গেছে। শরীরটা কেমন মিইয়ে পড়েছে। কিছুক্ষণের জন্য চিৎ হয়ে শুয়ে ছিলে। অবশেষে ঘনিয়ে এলো ইফতারের ক্ষণ। খেজুর তুলে নিলে। তা মুখে পুরবার আগেই পেলে চোখ-গড়ানো নোনা জলের স্বাদ। কতই না ভালো হতো! যদি কোনো দ্বীনি ভাইকে প্রথমবারের মতো জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করতে পারতে। উভয়েই স্মরণ করতে আল্লাহকে। তার কাঁধে ফিসফিস করে কাঁপা গলায় বলতে, 'উহিব্বকা ফিল্লাহ'!

কতই না ভালো হতো! যদি তুমি ফিরে যেতে চাইতে রবের কাছে। কোনো অশ্রুভেজা তিলাওয়াত শুনে ঢুকে পড়লে আয়াতের আঙিনায়। প্রতিটি হরফের মাঝে বিচরণ করলে তুমি। বিগলিত হলো তোমার অন্তর। হৃদয়টা উড়ে চলে গেল জান্নাতে। তার আশপাশটা ঘুরে এলো যেন। নাড়া দিল তোমার অন্তরকে। তুমি কাঁদলে আর কাঁদলে। কেঁদেই চললে অবিরাম!

কতই না ভালো হতো! যদি তুমি বহন করতে কোনো ইয়াতিমের বোঝা। সে হাসলে তার নিষ্পাপ চেহারাটা উদ্ভাসিত হতো। তার চোখ মিলিত হতো তোমার দুচোখে। আনন্দের ঝলকানিতে অবগাহন করতে দুজন। কতই না ভালো হতো! যদি সালাতে তোমার ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে। কাঁধে কাঁধ মেলাতে। সিজদায় গেলে দুজনেই অবনত করতে মাথা। মাটিতে মিশে যেত পাশাপাশি দুটি কপাল। আসমানে উড়ে চলত কিছু দুআ। কখনো বিচ্ছিন্ন, কখনো মিলিত। কবুল হতো আল্লাহর দরবারে।

কতই না ভালো হতো! যদি তুমি আল্লাহ সুবহানাহুর সামনে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় থাকতে। প্রতীক্ষায় প্রহর গুনতে আযানের ধ্বনি শুনবার। হঠাৎ শূন্য ভেদ করে সেই সুমহান আওয়াজ ভেসে আসল। ভেঙে গেল নীরবতা। কেঁপে উঠল তোমার ভেতরটা। কতই না ভালো হতো, যদি তুমি জায়নামাযের দিকে ছুটে যেতে। বিনয়ের সাথে দিতে তাকবির ধ্বনি-'আল্লাহু আকবার'।

কতই না ভালো হতো! যদি তুমি অপেক্ষা করতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎলাভের, তার সাহচর্য লাভের। না দেখেই ভালোবেসে ফেলতে তার চেহারাকে। কতই না ভালো হতো, যদি তার কথা ও কাজ তোমাকে টানত। সাহাবিদের জন্য তিনি কেঁদেছেন শুনে তোমার মাঝে ঈর্ষা হতো। কতই না ভালো হতো, যদি তুমি তার হাত ছুঁয়ে দেখার জন্য কেঁদে উঠতে।

কতই না ভালো হতো! যদি গুনাহ করে ব্যথিত হতো তোমার হৃদয়। তারপর ক্ষমা চাইতে আল্লাহর কাছে। কারণ, তুমি জানো, আল্লাহ সেটা ক্ষমা করে দেবেন। তোমার দোষ-ত্রুটি তিনি গোপন রাখবেন। তারপরও তোমার ভয় হয় যে, এ গুনাহর শাস্তি হয়তো আল্লাহ পিছিয়ে রাখছেন। তাই তুমি কান্নায় ভেঙে পড়লে তাঁর কাছে আবারও তাওবাহ করলে।

কতই না ভালো হতো! যদি তুমি পৌঁছে যেতে মক্কায়। দূর থেকে চোখে পড়ত কাবাঘর। তার চারদিকে তাওয়াফ করতে। তারপর সাঈ। দৌড়াতে দুটি পাহাড়ের মাঝে। তারপর কেঁদে ফেলতে তুমি। রবের সাথে সাক্ষাতের আগ্রহ হতো তোমার। তুমি ভালোবেসে ফেলতে তাঁকে। সকল কিছুর মাঝে তাঁরই নিদর্শন দেখতে পেতে। কতই না ভালো হতো, প্রতি মুহূর্তে যদি নতুন করে জীবনের স্বাদ পেতে। কারণ, তুমি যে তাঁকে ভালোবাসো!

ফন্ট সাইজ
15px
17px