📄 ভালোবাসার বাগান
বাগানটা সবাই এক নামে চেনে। বিশাল বাগানে নানারকম গাছ। গাছে গাছে ফলমূল ঝুলছে মণি-মুক্তোর মতো। হাত বাড়িয়ে ফল ছিঁড়ে নেয় মেয়েটা। মিষ্টতা আস্বাদনের আগে পরখ করে নেয় এর সৌন্দর্য। শুকরিয়া জানাতে কসুর করে না সে। এসবই যে তার রবের দেওয়া নিআমত! নিজেদের বিশাল বাগানে পায়চারি করছে সে। বাচ্চারা বাগানে ছুটোছুটি করছে, হাসছে, খেলছে। চোখ জুড়িয়ে যায়। মুখে হাসি ফোটে।
অনেক দিন হলো স্বামী বাড়ি আসছে না। তবু মেয়েটার মনে এতটুকু খেদ নেই, আনন্দের কমতি নেই। হৃদয়টা তার ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। আকাশের মতো বিশাল হয়ে সবাইকে আপন করে নিচ্ছে, কাছে টেনে নিচ্ছে এক অপরিসীম মমতায়। ঠিক বাগানটার মতো। বাগান যেমন শত শত খেজুর গাছ ধারণ করে নিয়েছে নিজের বুকে! মদিনার প্রত্যেক ব্যাবসায়ীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই সব চমৎকার খেজুর। সুবিশাল প্রাসাদ, সৌন্দর্যমন্ডিত বাগান—সবই ছিল তাদের আলোচনার বিষয়। মেয়েটাও এ বাগানকে ভালোবেসেছিল খুব।
এরই মাঝে ঘটে গেল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। যার সাক্ষী হয়ে রইল মেয়েটা। সাক্ষী হয়ে রইল সম্মানিত ফেরেশতারা। সাক্ষী হয়ে রইল উপস্থিত সবাই। ঘটনার শুরু এক বালকের অস্ফুট কান্নার আওয়াজে। বালকটি কাঁদছিল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন মেয়েটির স্বামী আবুদ্-দাহদাহ, সুবিশাল সেই বাগানের মালিক। জানতে পারলেন বালকটি ইয়াতিম। হৃদয় গলে গেল তার। বালকের জন্য কিছু একটা করতে ব্যাকুল হলেন তিনি।
ইয়াতিম বালক কান্নাজড়িত কণ্ঠে নবিজিকে তার কষ্টের কথা জানিয়েছিল, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ! নিজ বাগানের চারদিকে প্রাচীর নির্মাণ করছিলাম আমি। কিন্তু প্রতিবেশীর একটা খেজুর গাছ আমার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনুরোধ করলাম আমাকে যেন খেজুর গাছটা দিয়ে দেয় অথবা বিক্রি করে দেয়। সে রাজি হলো না।'
এবার প্রতিবেশীকে তলব করা হলো। স্বয়ং আল্লাহর রাসুল তাকে অনুরোধ করলেন গাছটা দান করে দিতে, নতুবা বিক্রি করে দিতে। সামান্য এক খেজুর গাছই তো! ছেলেটা যে ইয়াতিম! ওদিকে প্রতিবেশী নাছোড়বান্দা। আবারও বালকের চোখে অশ্রুর ঢল। বিনীত চাহনিতে নবিজির ফয়সালার অপেক্ষায়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবার নতুন প্রস্তাব দিলেন, 'এটা বিক্রি করো; বিনিময়ে জান্নাতে পাবে একটি খেজুর গাছ।'
এত সুন্দর প্রস্তাব! নিশ্চয়ই সে এখনই গ্রহণ করে নিবে! সুসংবাদ শোনার জন্য উন্মুখ সবাই। সবাইকে অবাক করে দিয়ে আবারও অসম্মতি জানাল সেই প্রতিবেশী। বালক দুঃখ-শোকে কাতর। প্রতিবেশী বসে আছে সেখানেই। বেশ কয়েক জোড়া চোখ তার দিকে তাকিয়ে। কিছু চোখে বিস্ময়, কিছু চোখে ক্রোধ, আবার কিছু চোখে তিরস্কার। সবকিছু উপেক্ষা করে সে নিজের মতে অবিচল।
আবুদ-দাহদাহর অন্তর খুলে গেল যেন! জান্নাতের আকাঙ্ক্ষী হয়ে নবিজিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি যদি খেজুর গাছটা কিনে ছেলেটাকে দিয়ে দিই তবে কি জান্নাতে একটি খেজুর গাছ পাব?' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হ্যাঁ-সূচক জবাব দিলেন। এবার আবুদ-দাহদাহ ফিরলেন লোকটার দিকে। তাকে বললেন, 'আপনি কি আমার বাগানটা চেনেন?'
'হ্যাঁ।'
'তবে আমার বাগানের বিনিময়ে আপনার খেজুর গাছটা দিয়ে দিন।'
বেচাকেনা হয়ে গেল। দুনিয়ার বাগানের সাথে আখিরাতের বাগানের। আবুদ-দাহদাহ ছুটে চললেন নিজ গৃহে। বুকের ধুকপুকানি ছাপিয়ে যাচ্ছিল তার পদচারণাকে। স্ত্রীকে ডাকলেন। সে ডাক প্রতিধ্বনিত হলো মদিনার প্রাচীরে প্রাচীরে। ‘উন্মুদ দাহদাহ! বাগান থেকে বেরিয়ে এসো। এ বাগান আল্লাহর জন্য।’
উম্মুদ দাহদাহ বেরিয়ে এলো নিজের জগৎ থেকে। হাত থেকে ফেলে দিল সব ফলমূল। বাচ্চাদের মুখ থেকে মুছে দিল খাবারের অবশিষ্ট দাগ। হৃদয় তার স্বামীর আদেশ পালনে উদগ্রীব, রবের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাকুল। কোনো প্রশ্ন করলেন না তিনি। কোনো আপত্তিও পেশ করলেন না। সন্তুষ্ট মনে স্বামীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন। এ সিদ্ধান্ত যে তাদের রবেরই জন্য!
উম্মুদ দাহদাহ বেরিয়ে এলেন দুনিয়ার বাগান থেকে। এগিয়ে চললেন আখিরাতের বাগানের দিকে। সফল সেই ক্রয়বিক্রয়! উত্তম সেই সন্তুষ্ট স্ত্রী! যে স্ত্রী তার স্বামীকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়তা করেন। যে স্ত্রী স্বামীর সিদ্ধান্তে তিরস্কার করেন না; এমনকি বাগানটা প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও!
আমাদেরও দুনিয়ার বাগান ছেড়ে বেরিয়ে আসা দরকার, তা সে যত সুন্দরই হোক না কেন! প্রিয় জিনিসগুলো রবের সামনে পেশ করবার এই তো সময়! উন্মুদ দাহদাহর মতো আমরাও এগিয়ে চলব আখিরাতের বাগিচার দিকে। আমরাও হয়ে যাব উন্মুদ দাহদাহর মতো।
📄 পবিত্র ফুল
এক পবিত্র ফুলের গল্প শোনাব আজ; যে ফুলের সৌরভে মাতোয়ারা হবার অধিকার সবার ছিল না। সেই পবিত্র ফুলের মা ছিলেন খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা, আর বাবা প্রিয় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেই ফুল যাইনাব রাযিয়াল্লাহু আনহা। যাইনাবকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ে দিয়েছিলেন তার খালাতো ভাইয়ের সাথে। নাম তার আবুল আস ইবনুর রবী'। বিয়ের পর তিনি পেলেন এক ভালোবাসার ফুল, যার সুধা পানের অধিকার কেবল তারই।
একসময় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘাড়ে নবুওয়াতের দায়িত্ব এলো। প্রকাশ্যে দাওয়াত শুরু করলেন তিনি। আর তাতেই কাফেররা একাট্টা হয়ে গেল নবিজির বিরুদ্ধে। উঠে পড়ে লাগল তাকে কষ্ট দিতে। আবুল আসের কাছে গেল তারা। সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েদের পেশ করে প্রস্তাব দিল, তিনি যেন যাইনাবকে তালাক দিয়ে এদের কাউকে বিয়ে করে নেন। আবুল আস তার ফুলকে ছেড়ে যেতে চাননি। পবিত্র সে ফুল, ভালোবাসার ফুল। কেমন করে ছেড়ে দেবেন তাকে? বরং কাফিরদেরই ফিরিয়ে দিলেন, 'আল্লাহর কসম! আমি তাকে তালাক দেবো না। কখনো তাকে ছেড়ে যাব না। তোমরা আমাকে আরবের যত মেয়েই দাও না কেন!'
সত্যিই তো! কী করে তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন? তিনি যে সেই পবিত্র ফুলের অমিয় সুধা পান করেছেন! দিন চলে যায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করেন। যাইনাব রয়ে যান নিজ স্বামীর কাছে। স্বামী তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি।
বদরের যুদ্ধের কথা। সে সময় আবুল আস কাফিরদের সাথে যোগ দিলেন। হলেন যুদ্ধবন্দি। মক্কাবাসীরা তাদের জন্য মুক্তিপণ পাঠাল। যাইনাব তার সবকিছু জমা করলেন। এমনকি মা খাদিজা গলার যে হারটা তাকে পরিয়ে দিয়েছিলেন, সেটাও! সব পাঠানো হলো। হাজির করা হলো নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে। হারটা দেখেই চিনে ফেললেন তিনি। হৃদয় গলে দ্রবীভূত। মনে পড়ে গেল প্রিয়তমা স্ত্রীর কথা। সাহাবিদের বুঝতে দেরি হলো না। তারা আবুল আসকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেইসাথে ফিরিয়ে দিলেন মা খাদিজার হার-সহ অন্যান্য মুক্তিপণ।
আবুল আস ওয়াদা দিয়ে গেলেন, বাবার কাছে হিজরতের জন্য স্ত্রীকে ছেড়ে দেবেন তিনি। আবুল আস মক্কায় ফিরলেন মুক্তি পাবার সুখস্মৃতি নিয়ে। আর যাইনাব? স্বামীর হৃদয়কে বশ করে মদিনার পথ ধরলেন। গর্ভে তখন একটি সন্তান। সে সন্তানকে হারাতে হলো যাত্রাপথেই। বুকের ভেতর এক ক্ষতবিক্ষত হৃদয়। এ হৃদয়ের কান্না থামবার নয়।
দিনের পর দিন চলে যায়। অদৃশ্য প্রেমের জালে আটকা পড়ে আছেন দুজন। আবুল আস ব্যাবসা করতে বের হন। তার কাফেলা বন্দি হয় মুসলিমদের হাতে। তিনি পালিয়ে ছুটে আসেন মদিনায়। কড়া নাড়েন যাইনাবের দরজায়। হৃদয়ের স্পন্দনে কড়া নাড়ার আওয়াজ ঢেকে গিয়েছিল সেদিন। আবুল আস নিরাপত্তা চেয়ে বসেন তার পবিত্র ফুলের কাছে, ভালোবাসার ফুলের কাছে। যাইনাব তাকে ঘরে জায়গা দিয়ে মসজিদে বেরিয়ে আসেন। ঘোষণায় জানিয়ে দেন নিরাপত্তা দিয়েছেন আবুল আসকে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্নেহভরা কণ্ঠে মেয়েকে নসীহা করেন, 'তার উত্তম আথিতেয়তা করো। তবে সে যেন তোমার কাছে না ঘেঁষে। তুমি তার জন্য হালাল নও।'
সলজ্জ কণ্ঠে যাইনাব জানান, 'তিনি তো তার অর্থকড়ি ফেরত চাইতে এসেছেন।'
নিজ গৃহে ফিরে যান যাইনাব। রবের আনুগত্য করে, বাবার কথা মেনে নিয়ে। একান্তে দুআ করে যাচ্ছিলেন দয়াময় আল্লাহর কাছে। তিনি যেন তার প্রিয়তমকে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ দান করেন। যাইনাব প্রিয়তমের মুখোমুখি হলেন। নিজের সৌরভে মাতোয়ারা হতে দিলেন না, সুধার পাত্র ছুঁতে দিলেন না। না যাইনাব তার জন্য হালাল, না তিনি যাইনাবের জন্য হালাল।
আবুল আস যাইনাবের থেকে সব অর্থকড়ি নিয়ে মক্কায় ফিরে এলেন। মনে মনে ভাবছিলেন ইসলামের মাহাত্ম্যের কথা। সবাইকে অর্থকড়ি ফিরিয়ে দিয়ে তিনি আবারও ছুটে চললেন মদিনায়। শাহাদাহ পাঠ করলেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে এসে। অবশেষে বসন্ত নেমে এলো। পবিত্র ফুলের সুবাসে সুরভিত হলেন দুজনে। যাইনাব নিজেকে ধরে রেখেছিলেন। তার সুধা যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন হালাল একজনের জন্য। অপেক্ষা করছিলেন আল্লাহর অনুমতির।
আমরা তার মতো হয়ে যাই না কেন? যতক্ষণ না দ্বীনদার জীবনসঙ্গীর দেখা মিলছে, নিজের সুবাস কাউকে পেতে দেবো না। হৃদয়-মনে প্রেমের ঝংকার উঠলেও নিজেকে ধরে রাখব। যেভাবে যাইনাব ধরে ছিলেন। তার মতো হয়ে যাব আমরা। পবিত্র ফুলের মতো।
📄 উন্ম ভালোবাসা
দিনগুলো সব একই রকম। রাতেও তেমন হেরফের নেই। এরই মাঝে কিছু সময় আসে, যা মনের মণিকোঠায় স্মৃতি হয়ে রয়ে যায়। খুব সাধারণ এক দিনে বোনের মাথায় মাথা রেখে খিলখিলিয়ে হেসে উঠেছেন কখনো? অথবা ঘর গুছাতে গিয়ে ফিসফিসিয়ে কথা? কখনো পছন্দের খাবারটা ভাগাভাগি করে খেয়ে নেওয়া। কিংবা খুব প্রিয় জিনিসটা বোনের থেকে উপহার পেয়ে যাওয়া। যার বোন আছে সে জানে। সে-ই জানে কী করে বোনের ভালোবাসার পরশে সাধারণ দিনগুলি অসাধারণ হয়ে ওঠে। কখনো রাতের গল্পগুলো দীর্ঘ হয়। মোড় নেয় ভিন্ন কাহিনিতে। স্বপ্নেরা উড়তে থাকে। ভালোবাসা গভীর হয়। বোন থাকলে জীবন এমনই। ভালোবাসা আর পবিত্রতার মেলবন্ধনে অনুভূতিরা সতেজ হয়ে ওঠে।
আজ এক বোনের কথা বলব। বলব তার পবিত্র ও আনন্দঘন জীবনের কথা। বড় বোনের সাথে তিনি থাকতেন সম্মানিত গৃহে। গৃহে ছিল এক মহান আলো। না না, দুই-দুইটা আলো। আজকের গল্প উম্মু কুলসুমকে নিয়ে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা। তার জন্ম হয় নবুওয়াত প্রাপ্তির ছয় বছর আগে। যে সময় আরবের লোকেরা কেবল ছেলে সন্তান কামনা করত, সে সময় নবিজির তৃতীয় কন্যা উম্মু কুলসুমের জন্ম। তাকে নিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুবই আনন্দিত। আনন্দিত তার প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজাও।
দিন চলে যায়। মেয়েরা বড় হয়। উম্মু কুলসুম ও রুকাইয়া দুজনই বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যান। তাদের বিয়ের প্রস্তাব দেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো দুই ভাই। সে চাচার নাম আব্দুল উয্যা, সবাই যাকে আবু লাহাব বলে চেনে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত লাভের পর ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করলেন। অতঃপর কাফের নেতৃবৃন্দ তাকে কষ্ট দেওয়া শুরু করল আবু লাহাবের পরিবারের মাধ্যমে। নবিজির কন্যাদের তালাক দিলেন আবু লাহাবের পুত্রদ্বয়। দাম্পত্যজীবন শুরুর আগেই। ধৈর্য ধরলেন উম্মু কুলসুম। ধৈর্য ধরলেন রুকাইয়া।
দিন চলে গেল। রুকাইয়ার বিয়ে হলো উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে। হিজরত করে তিনি চলে গেলেন হাবশায়। প্রথমবারের মতো প্রাণের দোসরকে হারালেন উম্মু কুলসুম। হারালেন হৃদয়ের স্পন্দনকে। ছোট বোন ফাতিমা মায়াভরা চোখে তার দিকে চেয়ে আছে তখন। উম্মু কুলসুম তাকে কাছে টেনে নিলেন ভালোবাসার উষ্ণতায়। কাটতে থাকে নৈঃশব্দের রাত। কখনো কানে আসে ছোট বোনের মৃদু হাসি। জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলো পাড়ি দিচ্ছেন তখন। মা-বাবার সাথে আবু তালিবের বাড়িতে বন্দি তিনি। খাবার নেই। অবরোধ চলছে। ঈমানের ওপর, ইসলামের ওপর অটল রইলেন বাবা-মার সাথে। কখনো অভিযোগ করেননি, করেননি কোনো অনুযোগ। ঘরের মাঝে ঠায় হয়ে ছিলেন প্রাচীরের মতো। নববি গৃহে সবাইকে উষ্ণ ভালোবাসায় আপন করে নিতে তিনি ছিলেন সদা তৎপর।
এরপর এলো এক বিষাদের দিন। ব্যথিত হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ব্যথিত হলেন উম্মু কুলসুমও। মহীয়সী খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে বিদায় নিয়েছেন। এ ছিল এক তীব্র আঘাত, যে আঘাত শরীর-মন ভেঙে চুরমার করে দেয়। তবু ধৈর্য ধরলেন উম্মু কুলসুম। মায়ের ঘরে চলতে লাগলেন তারই দেখানো পথে। দেখভাল করতে লাগলেন ছোটবোন ফাতিমার। বাবার পাশে দাঁড়ালেন উষ্ণ ভালোবাসায়, নিঃশর্ত আনুগত্যে। নরম মন নিয়ে দৃঢ়তার ভান করে রইলেন উম্মু কুলসুম। সে দৃঢ়তায়ও ভাটা পড়ল একসময়। প্রিয় বাবার শরীরে কাফিররা যখন বালু নিক্ষেপ করল, তখন আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। ছুটে গিয়ে ধুলোবালি ঝেড়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। বাবা সান্ত্বনা দিলেন, 'কেঁদো না। আল্লাহ তো তোমার বাবাকে রক্ষা করবেনই।'
এখানেই শেষ নয়। অপেক্ষা করছিল আরও এক আঘাত। রুকাইয়া অসুস্থ হয়ে পড়লেন। মৃত্যুর ক্ষণ ঘনিয়ে এলো তার। প্রিয় বোনকে হারিয়ে আবারও দুঃখকষ্টে জর্জরিত হয়ে পড়লেন উম্মু কুলসুম। হার মানলেন না তবু। মায়ের বিচ্ছেদে যেমন ধৈর্য ধরে ছিলেন, তেমনি বোনের বিচ্ছেদেও ধৈর্য ধরলেন। ছোট বোন ফাতিমাকে পরম ভালোবাসায় আগলে রাখলেন বাবার ঘরে। বাবাকে সমস্ত কাজে সাহায্য করে চললেন আগের মতো। সবকিছুতেই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ রইলেন।
অপরদিকে উসমান ইবনু আফফান স্ত্রী হারানোর বেদনায় কাতর, তার চেয়েও কাতর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদে। রুকাইয়ার মৃত্যুর এক বছর পেরিয়ে গেল। এ সময় উম্মু কুলসুমের সাথে তাকে বিয়ে করিয়ে দিলেন প্রিয় নবিজি। উসমান ইবনু আফফানের ঘরে দ্বিতীয় আলো হয়ে এলেন উম্মু কুলসুম। উসমানের চোখ জুড়িয়ে যায় উম্মু কুলসুমকে দেখে। উম্মু কুলসুমের চোখ জুড়িয়ে যায় উসমানের দর্শনে। স্বামীর সাথে ছয় বছর কাটে তার। সংসারে আসেনি কোনো নতুন অতিথি। এতেও তার কোনো অনুযোগ-অভিযোগ ছিল না। দৃঢ়তার সাথে ধৈর্যকে আঁকড়ে ধরেছিলেন তিনি। 'ধৈর্য'-ও তাকে ছেড়ে যেতে চায়নি। ধৈর্য তো ছিল তার আজন্ম পথ চলার সাথি, পরিচয়বাহী পতাকা।
একদিন তার শরীরেও রোগ বাসা বাঁধল। বিছানায় পড়ে ছটফট করতে লাগলেন উম্মু কুলসুম। নীরবে চলে গেলেন একসময়। ব্যথিত পিতা নিজের লুঙ্গি দিয়ে কাফনের কাপড় পরালেন তাকে। কবরের পাশে বসে কাঁদলেন অঝোরে। স্নেহময়ী কন্যার সাথে বিচ্ছেদের কান্না। স্ত্রী বিয়োগে কাঁদলেন তার স্বামী। বোনকে হারিয়ে কাঁদলেন ফাতিমা।
এক জীবনে কত কষ্টের সময়! বিবাহ-বিচ্ছেদ, মা-বোনের মৃত্যু, পিতার অপমান, নিঃসন্তান দাম্পত্যজীবন, শেষ জীবনে নিদারুণ শারীরিক কষ্ট। সব রকমের দুঃখ এক হৃদয়ে জড়ো হবার পরও সে হৃদয়ে আলোকচ্ছটা এতটুকু ম্লান হয়নি। বরং সে আলো ছড়িয়ে পড়েছিল ভালোবাসার পরশ হয়ে। আমরা আজও তাকে স্মরণ করি। অনুভব করি তার উষ্ণ ভালোবাসা। তার জীবনের গল্প শুনে ভালোবেসে ফেলি তাকে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়েকে ভালোবাসি। ভালোবাসি উম্মু কুলসুমকে। বিপদে আপদে তার জীবন থেকে পাই ধৈর্যের প্রেরণা। উদ্বুদ্ধ হই উষ্ণ ভালোবাসায় সবকিছু আগলে রাখতে। আমরা হতে চাই তার মতো।
📄 তিনি ও চাঁদ!
চোখ মেললেই যেন তাকে দেখতে পাই। স্নেহময় স্বামীর হাতে হাত রেখে তপ্ত বালুর ওপর হেঁটে চলেছেন তিনি। ক্ষীণকায় শরীরটা তার ঢাকা পড়েছে দীর্ঘাঙ্গ স্বামীর ছায়ায়। পালা করে গাধার পিঠে চড়েন তারা। কখনো কখনো দুজনেই নেমে হাঁটতে থাকেন। গাধাটার বিশ্রাম হয়। তার কোলে বাচ্চাটা ক্ষুধার তাড়নায় কেঁদেকেটে একাকার। কী করে দুধপান করাবেন বাচ্চাকে? কী উপায়ে বেড়ে উঠবে তার সন্তান? দুজনের অবস্থা তো একই রকম! মেঘ কী করে বৃষ্টি ঝরাবে, মেঘে যে জল নেই!
এসময় মাথায় মমতাভরা এক হাতের পরশ। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন তার স্বামী। স্বামীর ভালোবাসা আর স্নেহের ঝরনাধারা প্রবাহিত হয় তার মনে। দুঃখ-দুর্দশা ভুলে যান। স্বামীর ঐকান্তিক সাহচর্যে প্রশান্তি অনুভূত হয়। কী যে খরা যাচ্ছে এ বছর! ফসলহীন একটা বছর। সব ফসল শুকিয়ে গেছে। প্রাণীর বাটেও দুধ নেই। ক্ষুধার্ত পেটগুলো খাবারের অপেক্ষায়। আত্মাগুলোও শুকিয়ে গেছে যেন। দুজনের চেহারায় হতাশার ছাপ স্পষ্ট। জীর্ণশীর্ণ, বয়স্ক গাধার পিঠে চলেছেন তারা। শিশুটা তখনও কেঁদেই চলেছে। ক্ষুধার জ্বালায় শরীরটা মোচড় দিয়ে উঠছে। স্নেহভরে বাচ্চার গায়ে হাত বুলিয়ে দেন তিনি।
সঙ্গীসাথিরা বিরক্ত। দম্পতিটি এ কাফেলার সবচাইতে ধীর গতির যাত্রী। তাদের গাধাটাও ক্লান্তিতে ম্রিয়মাণ। শিশুর নিরন্তর কান্না শুনে মাথা তুলে চাইছে সবাই। তাদের দৃষ্টিতে তিরস্কার, নারীদের মুখে বিরক্তির প্রকাশ। দুজন সব সয়ে যাচ্ছেন অতি কষ্টে। লোকেরা অবাক হয়ে তাকায়—লোকটা কেন এই দরিদ্র মেয়েটাকে ভালোবেসে আগলে রেখেছে? মহিলারাও বিস্মিত হয়ে চেয়ে থাকে—এত দরিদ্র, আটপৌরে ছেলেটাকে কী করে মেয়েটা ভালোবাসে? দু-চোখ শুকিয়ে গেছে তার। আর কাঁদতে পারছেন না। তবু প্রিয়তম স্বামীর সহযোগিতা পেয়ে সিক্ত হয়ে ওঠে চোখের কোণ। চোখ বন্ধ করে ফেলেন তিনি। ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেন ঢোক গিলে নিয়ে।
একসময় মক্কায় পৌঁছে যায় কাফেলা। নারীরা ঘরে ঘরে খুঁজতে শুরু করে দুগ্ধপোষ্য শিশু। শিশুকে দুধপান করিয়ে জীবিকা নির্বাহ হবে, প্রবাহিত হবে কল্যাণের ফল্গুধারা। সবার নজর ধনাঢ্য পরিবারের দিকে। ওদিকে সেই অসহায় দম্পতির জুটল এক ইয়াতিম শিশু। এমন শিশু পেয়ে বেশ মর্মাহত দুজন। স্বামীকে ফিসফিস করে স্ত্রী বললেন, 'যে শিশুর বাবা নেই, তার মা আমাদের কীই-বা উপকার করতে পারবে?'
অতঃপর সিদ্ধান্ত হলো এ শিশুকে রেখেই চলে যাবেন তারা। ততক্ষণে বাকি নারীরা একটা করে বাচ্চা পেয়ে গেছে। তারা কথা বলতে জানে। হাসিখুশি আলাপ জমিয়ে চেয়ে নিতে পারে। আর সেই ক্ষীণকায় নারী হালিমা—বাকি নারীদের থেকে পিছিয়ে ছিলেন যোজন যোজন। তার পদচারণা ধীর, দক্ষতাও কম। নিজের বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বিভ্রান্তের মতো খুঁজছেন অবিরাম। মনে মনে ভাবনা—'কেন আমি তাদের মতো না?'
এ সময় স্বামী তার দিকে ফিরে চাইলেন। স্বামীর পেছনে হাঁটছিলেন তিনি। দয়ার্দ্র সুরে স্বামী বললেন, 'সমস্যা নেই। তুমি সেই ইয়াতিমকে নিয়ে চলো। হয়তো আল্লাহ তার মাঝেই কল্যাণ রেখেছেন।'
সত্যিই তো! যে শিশুর বাবা নেই তার কী দোষ? তার রিযিক তো দেবে তার রব! দয়া-ভালোবাসা এসব কি কেবল ধনীদেরই পাওনা! রিযিকদাতা আল্লাহ কত মহান, কতই না পবিত্র তিনি! হালিমা লজ্জা পেয়ে ফিরে গেলেন সেই শিশুর কাছে। কোলে তুলে নিলেন ইয়াতিম শিশুটিকে; যাতে খালি হাতে ফিরতে না হয়, শুনতে না হয় মুখরা রমণীদের তিরস্কার।
তিনি জানতেন না, এক রূপোলি চাঁদকে কোলে বয়ে এনেছেন। শিশুটিকে বুকে চেপে ধরে মনে হলো ছোট্ট শরীরটায় বুঝি চাঁদ এসে ধরা দিয়েছে! সেই চাঁদ-ঠিকরানো আলোয় নয়ন জুড়িয়ে গেল তার। দুঃখকষ্ট ভুলে গেলেন তিনি। শিশু-চেহারায়ও বুঝি এমন ব্যক্তিত্ব থাকে! ঝলমলে পবিত্র মুখ, নির্মল মুচকি হাসি; হালিমার হৃদয়-মন জয় করতে আর কী লাগে! পাশে কাঁদতে থাকা নিজের বাচ্চাটাও মুহূর্তের মাঝে স্থির হয়ে গেল। কে ছিল সেই শিশু? তিনি তো আল্লাহর প্রিয় হাবিব! প্রিয় রাসুল!
পবিত্র ও স্বচ্ছ দুধ রিযিকস্বরূপ পেলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। পান করে পরিতৃপ্ত হলেন। ঘুমিয়ে পড়লেন, ছোট্ট হাতের পরশ রাখলেন হালিমার মুখে। এবার হালিমা নিজের বাচ্চাটাকে দুধপান করিয়ে ঘুম পাড়ালেন। দুজনকে পাশাপাশি শুইয়ে দিলেন। স্বামী পাশেই আছেন। তাকিয়ে আছেন অবাক বিস্ময়ে।
সুন্দর না?
খুবই সুন্দর!
মুচকি হাসিটা দেখেছেন?
কী মিষ্টি হাসি!
গন্ধ শুঁকেছেন?
একদম মিসকের মতো!
হাতের তালু দিয়ে স্পর্শ করলেন শিশুর মুখমণ্ডল! কী সম্মানজনক মুহূর্ত! তার আঙুল রাখলেন সেই ছোট্ট হাতের মাঝে। মুখটা মুখের কাছে নিয়ে এলেন। নাকে নাক ছোঁয়ালেন। তার বিশুদ্ধ শ্বাস নিজের বুকে টেনে নিলেন। কতই না সম্মান ও বরকতের ব্যাপার! এত মিষ্টি গন্ধ, ঠিক তার আত্মার মতো পরিশুদ্ধ।
চোখ দুটো বিস্ময়ে ছানাবড়া। বকরির ওলান দুধে ভরে উঠেছে। এ অবস্থায় উঠে গিয়ে দুধ দোহালেন তার স্বামী। পান করলেন মন ভরে। প্রিয়তমা হালিমার জন্যও কিছু দুধ নিয়ে এলেন। উত্তম এক রাত কাটালেন তারা। সকাল হয়ে এলো। আলোকিত হয়ে উঠল প্রিয়তম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা। তার পবিত্র বদন মন ভরে দেখল দুজনে। চেহারা থেকে আলো ঠিকরে পড়ছে যেন। পবিত্র ঠোঁট দুটোতে ভেসে উঠছে মায়াময় মুচকি হাসি।
স্বামী ফিসফিস করে বললেন, 'হালিমা, তুমি কি জানো, এক বরকতময় শিশুকে পেয়েছ তুমি?' রাসুলের চেহারার দিকে তাকালেন হালিমা, 'আমারও তা-ই মনে হয়। আশা করি, এ শিশুর মাঝেই আমাদের কল্যাণ!'
অতঃপর দুজনেই মক্কা থেকে বেরিয়ে এলেন সেই ক্ষীণকায় গাধার পিঠে চড়ে। হালিমা তার দুই হাতে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন নবিজি। তখনই ঘটল বিস্ময়কর ঘটনা! গাধাটা অন্য সবার উটকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সবাই তাকিয়ে আছে অবাক বিস্ময়ে! হালিমা হাসছেন, হাসছেন তার স্বামীও। বিস্ময়ে বলছেন, 'ইয়া আল্লাহ! কী বদান্যতা আর কী অনুপম বরকত আমাদের ওপর নেমে এসেছে!'
তা-ই তো হবার কথা! যারা অনাথ শিশুর প্রতি দয়া করে, তাদের ওপর বরকত নাজিল হবে না কেন? হালিমা ফিরে এলেন নিজ গোত্রে বানু সা'দের বসতিতে। জায়গাটা সবচাইতে অনুর্বর ও দুর্ভিক্ষপ্রবণ। কিন্তু তিনি যে চাঁদকে সাথে করে এনেছেন! প্রতি সকালে তার মেষগুলো চরতে যায়। সন্ধ্যায় ফিরে আসে। মেষের দুধপান করে পরিতৃপ্ত হন তারা; অথচ বাকিরা এক ফোঁটা দুধও পায় না। এমনকি তার সম্প্রদায়ের অন্য মানুষগুলো রাখালদের তিরস্কার করে। উপদেশ দেয় হালিমার মেষগুলোর সাথে নিজেদের মেষ চরাতে।
এভাবে কেটে যায় দুই দুটি বছর। নেমে আসে সুখ-প্রাচুর্য। অবতীর্ণ হয় অপরিসীম বরকত, এক সতীসাধ্বী নারীর ওপরে। কারণ, তিনি এক অনাথ শিশুর প্রতি রহমদিল হয়েছিলেন। তাকে কোলে তুলে দুধ পান করিয়েছিলেন। সদ্ব্যবহার করেছিলেন সেই বাচ্চাটার সাথে। অবশ্য স্বামীর দেওয়া উপদেশের ফলেই। দুজনে যেভাবে শিশুটির প্রতি দয়ার্দ্র হয়েছিলেন, তাতে আল্লাহও তাদের প্রতি দয়ালু হয়েছিলেন।
এভাবে আমাদের ওপরও সুখ নেমে আসতে পারে, বর্ষিত হতে পারে বরকতের অমিয় ধারা। যদি কোনোদিন কোনো ইয়াতিম শিশুর প্রতি দয়া করি, খাইয়ে দিই নিজ সন্তানের মতো করে, পোশাক পরিয়ে দিই ঠিক তেমনি করে, যেমনটি নিজ বাচ্চাকে পরাই, পরম করুণাময়ের ইচ্ছায় আমাদের অপ্রাপ্তিগুলোও ঘুচে যেতে পারে। এমনও হতে পারে, আমাদের কারও ভাগ্যে আল্লাহ সন্তান লেখেননি। এ এক বিশাল পরীক্ষা। এর মাঝে আল্লাহর কোন অনুগ্রহ লুকিয়ে আছে কে জানে! হয়তো গর্ভে সন্তান আসেনি, তবু মাতৃত্বের চেতনা তো সুপ্ত রয়ে গেছে! কোনো এক ইয়াতিমকে সেই মাতৃত্বের স্বাদ আমরা চাইলেই দিতে পারি।
হালিমা যে সুখ পেয়েছিলেন নবিজিকে মায়ের আদরে বড় করে, তার কি কোনো তুলনা চলে? তার মতো হবার চেষ্টা করেই দেখি না! চেষ্টা করি হালিমার মতো হতে।