📘 জীবন দর্পণ > 📄 এ জীবন তোমার নয়

📄 এ জীবন তোমার নয়


এ জীবন তোমার নয়। এ দেহ, এ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মালিক তুমি নও। এ হৃদয়-মন, এ হৃদি-স্পন্দনের মালিকানা তোমার নয়। তুমি তাতে স্বেচ্ছাচারিতার আচরণ করতে পার না।
জীবন দুর্বিষহ বিষময় হয়ে উঠলে তুমি হয়তো বিষ খেয়ে সেই বিষময়তা থেকে নিষ্কৃতি লাভ করতে চাইবে। চিত্ত-বিকারে অনেক সময় মন চাইবে আত্মহত্যা করতে।
মা-বাবার কাছে অযথা বকুনি খেলে জীবনকে ধিক্কার দিয়ে প্রাণকে বাঁচিয়ে রাখার অযোগ্য মনে হতে পারে।
ছেলে-বউয়ের কাছে লাঞ্ছিত হলে বৃদ্ধ বয়সে করুণা-মৃত্যু প্রাধান্য পেতে পারে।
স্বামীর কাছে উপেক্ষিত হলে দুর্বল মনে জীবনকে নষ্ট করাই উত্তম মনে হতে পারে।
স্ত্রী প্রতারণা করলে লাঞ্ছনা ও ধিক্কারে জীবনের পাতা থেকে নিজেকে মুছে দেওয়া ভাল মনে হতে পারে।
শ্বশুর-বাড়িতে অত্যাচারিত, অপমানিত, অবহেলিত ও পদদলিত হলে বউ জীবন থেকে বিদায় নেওয়াকে নিষ্কৃতি মনে করতে পারে।
অভাবের তাড়নায় অতিষ্ঠ হলে দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষ মৃত্যুর পথ বেছে নিতে পারে।
বড় ধরনের অপবাদের শিকার হলে পৃথিবী থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে মান বজায় রাখাকে উত্তম মনে হতে পারে।
প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছে উপেক্ষিত হলে অথবা প্রেমে অসফল হলে ধিক্কারে জীবন বিসর্জন দেওয়াকে ভাল মনে হতে পারে।
রোগজ্বালায় অতিরিক্ত ক্লিষ্ট হলে আরাম পাওয়ার আশায় নিজেকে হত্যা করা শ্রেয় মনে হতে পারে।
শাস্তির আঘাত অসহনীয় হলে নিজেকে একেবারে ধ্বংস করা ভাল মনে হতে পারে।
জীবনের অবলম্বন ধ্বংস হয়ে গেলে, সমস্ত ফল-ফসল দুর্যোগে নষ্ট হয়ে গেলে, ব্যবসায় সকল পুঁজির ভরাডুবি হলে আত্মহত্যায় মুক্তি আছে ধারণা হতে পারে।
কেউ মনে করতে পারে, 'চিন্তা আর চিতা দু'ই এক। তবে চিতাটা ভাল, একেবারে পুড়িয়ে মারে। কিন্তু চিন্তা সারা জীবন জ্বালায়।'
কিন্তু জীবনের বাস্তবতা এড়িয়ে যারা রেহাই বা নিষ্কৃতির লোভে নিজেদেরকে ধ্বংস করে, তারা আসলে রেহাই বা নিষ্কৃতি পায় না। যে প্রেমিক-প্রেমিকা প্রেমে অসফল হয়ে পর-জীবনে মিলনের আকাঙ্ক্ষায় আত্মহনন করে, তাদের আকাঙ্ক্ষা আদৌ পূর্ণ হয় না। পরন্তু সেখানে গিয়ে ভোগ ক'রে অতিরিক্ত শাস্তি। প্রাণ হত্যা করার শাস্তি।
আল্লাহর রসূল বলেন, “যে ব্যক্তি কোন পাহাড় হতে নিজেকে ফেলে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে ফেলে অনুরূপ শাস্তিভোগ করবে। যে ব্যক্তি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা চিরকালের জন্য বিষ পান ক'রে যাতনা ভোগ করবে। আর যে ব্যক্তি কোন লৌহখন্ড (ছুরি ইত্যাদি) দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামেও ঐ লৌহখন্ড দ্বারা সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে আঘাত ক'রে যাতনা ভোগ করতে থাকবে.” (বুখারী ৫৭৭৮, মুসলিম ১০৯নং প্রমুখ)
তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি দোযখেও অনুরূপ ফাঁসি নিয়ে আযাব ভোগ করবে। আর যে ব্যক্তি বর্শা বা ছুরিকাঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি দোযখেও অনুরূপ বর্শা বা ছুরিকাঘাত দ্বারা (নিজে নিজে) আযাব ভোগ করবে.” (বুখারী ১৩৬৫নং)
আত্মহত্যা আসলে অধৈর্য হওয়ারই চরম পরিণতি। অথচ ধৈর্য হল জীবনের অন্ধকারে আলোকবর্তিকা। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে ধৈর্যধারণ করার আদেশ দিয়েছেন।
তাছাড়া জীবন যখন মানুষ দান করতে পারে না, তখন তা ধ্বংস করার অধিকারও তার নেই। জীবনদাতা মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا (۲۹) وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ تُصْلِيهِ نَارًا وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللهِ يَسِيرًا } (۳۰) سورة النساء
অর্থাৎ, তোমরা আত্মহত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। পরন্ত যে কেউ সীমা লংঘন ক'রে অন্যায়ভাবে তা করবে, আমি অচিরেই তাকে অগ্নিদগ্ধ করব এবং তা আল্লাহর পক্ষে সহজসাধ্য। (নিসাঃ ২৯-৩০)
বলা বাহুল্য, যে জীবন তোমার সৃষ্ট নয়, সে জীবনকে নষ্ট করায় তোমার কোন এখতিয়ার নেই। দুনিয়ার যন্ত্রণা থেকে আরাম পাওয়ার আশায় পরবর্তী জীবনের দিকে দৌড়ে পালালেও পালাবার পথ নেই। কারণ যাকে তুমি মুক্তিদাতা মনে কর, সে আসলে আরো বড় জল্লাদ।
অবশ্য তোমার মনের বিশ্বাস অদৃঢ় হওয়ার ফলে এমন সিদ্ধান্ত হয়তো গ্রহণ করতে পার। যেহেতু মরণের পর তোমার কী হবে, তা জানা না থাকলে অথবা জানা থাকলেও তাতে অবিশ্বাস থাকলে অথবা অমূলক বিশ্বাস থাকলে তুমি আত্মহত্যায় প্ররোচিত হতে পার।
যেমন, তুমি যদি ধারণা কর যে, মরণের পর মানুষের আর কোন জীবন নেই। মৃত্যুর পরেই সব কিছু শেষ। তাহলে এ জীবনের কষ্ট থেকে মুক্তিলাভের আশায় তুমি আত্মহত্যা করতে পার।
যদি মনে কর, মরণের পর জীবন আছে এবং সে জীবনে তুমি তোমার মনের মানুষটির সাথে মিলিত হতে পারবে, তাহলে প্রেমে অসফল হয়ে আত্মহত্যা ক'রে কেবল বাসা বা হোটেল পরিবর্তন করার মতো পরজীবনে গিয়ে দু'জনে মিলিত হয়ে সফল প্রেম-জীবন লাভ করবে। তাহলে তো অতি সহজে বুকে মাথা রেখে অথবা হাত ধরাধরি ক'রে বাসা বা হোটেল পরিবর্তন করাই ভালো।
তখন তুমি গাইতে পারো, ‘একদিন হবে প্রাণ অবশ্য হরণ, তার তরে মরি সে তো সুখের মরণ। প্রিয়তম সে আমার অতি প্রিয়তম, মরণ তাহার পথে সুধাময় সম। প্রকৃত প্রেমের জানো ইহাই ধরণ, নীরবে সহিয়া লয় জীবন-মরণ। জীবন যে ধন্য তার প্রেমের পূজায়, জীবন জুড়ায় এই মরণের পায়।’
অথবা তুমি যদি বিশ্বাস রাখ, মরণের পর আবার তোমার পুনর্জন্ম হবে এই পৃথিবীতে। অথবা জন্মান্তরে তুমি ইচ্ছামতো জন্ম নিতে পারবে, তাহলে তুমি আত্মহত্যা করতে পার। কুমোর যেমন নরম মাটিকে ইচ্ছামতো এক পাত্র গড়ে পুনরায় তা ভেঙ্গে অন্য পাত্র গড়তে পারে, তেমনি তুমিও নিজের জীবনটাকে ইচ্ছা ও মনোমতো গড়ে নেবে না কেন?
আর সেই ক্ষেত্রে সেই বহুল প্রচলিত গান তুমিও হয়তো গাইতে পার, 'এবার ম'লে সুতো হব তাঁতির ঘরে জন্ম নেব পাছা-পেড়ে শাড়ি হয়ে দুলব তোমার কোমরে!'
অথচ এসব ধারণা তোমার আদৌ সঠিক নয়, এমন বিশ্বাস তোমার যথার্থ নয়। সঠিক ও যথার্থ বিশ্বাস হল, মরণের পরে একটাই জীবন। হিসাবের পর জান্নাত অথবা জাহান্নাম। সঠিক ঈমান রেখে সৎ কাজ ক'রে ইহলোক ত্যাগ করতে পারলে জান্নাতে অবশ্য ইচ্ছাসুখ পাবে। সেখানে গিয়ে তুমি তোমার মনের মানুষটিকে চেয়ে নিতে পারবে। মনের মতো ক'রে জীবন-যাপন করতে পারবে। আর অসৎ কাজ ক'রে ইহলীলা সাঙ্গ করলে জাহান্নামে যেতে হবে। আর সেখানে কোন সুখ নেই, চাওয়া নেই, পাওয়া নেই। সেখানে আছে শান্তি আর শান্তি। পরন্ত আত্মহত্যা মহাপাপ। আর তার শাস্তির কথাও পূর্বে জেনেছ। তাহলে আত্মহত্যায় যে নিষ্কৃতি নেই, তা সহজে অনুমান করতে পারছ।
সুতরাং জীবন থেকে নিরাশ হওয়া হতাশগ্রস্ত বন্ধু আমার! জীবনের কঠিনতার মোকাবেলা করতে শিখো। পলায়নবাদী না হয়ে দুর্বার মনোবল নিয়ে সম্মুখীন হও জীবনের নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতার। জয় কর জীবনকে। বীরের মতো জীবন গড়, ভীরুর মতো মরতে চেয়ো না।

📘 জীবন দর্পণ > 📄 আমার জীবন

📄 আমার জীবন


এ সংসারে মানুষের কত কষ্ট, কত যন্ত্রণা হয়, তবুও সে জীবনে বাঁচতে চায়। একান্ত নিরাশ ব্যক্তি ছাড়া মরতে কেউ চায় না। অবশ্য আত্মহত্যা মহাপাপ। মৃত্যুকামনা করাও বৈধ নয়। বৈধ নয় করুণা-মৃত্যু আনয়ন করা। আল্লাহর রসূল বলেন, "কোন বিপদ-রোগ এলে তোমাদের মধ্যে কেউ যেন অবশ্যই মৃত্যু-কামনা না করে। আর যদি একান্ত করতেই হয়, তাহলে সে যেন বলে, 'হে আল্লাহ! যতক্ষণ বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর, ততক্ষণ আমাকে জীবিত রাখ। আর যদি মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তবে আমাকে মরণ দাও.” (বুখারী ৫৬৭১, মুসলিম ২৬৮০ নং)
তিনি আরো বলেন, "মৃত্যু আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কেউ যেন তা কামনা না করে এবং তা চেয়ে দুআও না করে। যেহেতু তোমাদের কেউ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ মুমিনের জীবন তো মঙ্গলই বৃদ্ধি ক'রে থাকে." (মুসলিম ২৬৮-২নং)
মরলে প্রস্তুতি নিয়ে মরতে হবে। জীবনের ক্ষেতকে দস্তুরমতো আবাদ ক'রে মরতে হবে। জীবনের ডাইরিকে নেক আমলের কালি দিয়ে লিপিবদ্ধ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, যাতে সময়ের অপচয় না ঘটে।
'একটা দিন চলে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে, জীবন থেকে একটা দিন ঝরে যাওয়া।' সুতরাং জীবনকে যদি তুমি ভালোবাস, তাহলে সময়ের অপচয় করো না। কারণ জীবনটা সময়ের সমষ্টি দ্বারা তৈরী।
ছাত্র-জীবনে সময়ের অপচয় ক'রে ঠিকমতো পড়াশোনা না ক'রে, উপার্জনকালে ঠিকমতো পিতামাতার সেবা না ক'রে, সবল ও সুস্থ অবস্থায় মহান আল্লাহর ইবাদত না ক'রে যদি সময় নষ্ট ক'রে ফেলো, তাহলে যথাসময়ে পস্তানি ছাড়া আর কী আছে বল?
সময়ের অপচয় করো না। সময় অমূল্য ধন, সদা তার সদ্ব্যবহার কর। তোমার জীবন চিরস্থায়ী নয়, সুদীর্ঘও নয়। হৃদয়ের স্পন্দন সদা যেন বলেই চলেছে, জীবন তো কয়টা মিনিট ও সেকেন্ডের নাম।
'সময় বহিয়া যায়, নদীর স্রোতের ন্যায়, যে জন না বুঝে তারে ধিক্ শত ধিক, বলিছে সোনার ঘড়ি, টিক টিক টিক।'
'তোমার জীবনও তিথিময় চাঁদের মত। যার দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, পূর্ণিমা ও পরিশেষে অমাবশ্যার অন্ধকার আছে। তবে মাসের মাস নতুন চাঁদের জন্ম হয়। কিন্তু তোমার জীবনের পুনর্জন্ম কেবল একটাই।'
'মানুষের প্রত্যেকটি শ্বাস হল মৃত্যুর দিকে ধাবমান এক একটি পদক্ষেপ।'
'জন্ম-মৃত্যু দোঁহে মিলে জীবনের খেলা, যেমন চলার অঙ্গ পা-তোলা পা-ফেলা।'
মরণ কামনা করা বৈধ নয়। মু'মিনের দীর্ঘ জীবন তার উপকার সাধন করে। কিন্তু আয়ু দীর্ঘ হলে পার্থিব অশান্তি ভুগতেই হয়---এটাই নিয়ম। তবে স্থবিরতা নিশ্চয় কাম্য নয়। তাতে ছেলে-বউয়ের নিকট থেকে প্রাপ্য শুধু লাঞ্চনা ও গঞ্জনা। বাড়ির একটা ভাঙ্গা খাট অথবা আলমারির মতো একটা বুড়ো অথবা বুড়ির মান। এক জীবন ছিল, যখন সবাই চেয়েছে, তুমি দিয়েছ। আর এখন তুমি নিজেই ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে আছ অন্যের দিকে। সে জীবনও কি জীবন? তুমি দিয়েছ আনন্দের সাথে, এখন তোমাকে দেয় বিরক্তির সাথে। তাতে কি তোমার মনে ব্যথা লাগে না? কিন্তু তোমার মতো বুড়ো-বুড়ি ছাড়া কে বুঝে সে ব্যথা?
সে সময় হয়তো তুমি চাইবে মৃত্যুর করুণা। কিন্তু তার জন্য তো প্রস্তুতি চাই। 'মৃত্যুর চেয়ে কঠিন হচ্ছে জীবন। কেন না, দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ জীবনেই ভোগ করতে হয়। আর মৃত্যু তা থেকে মুক্তি দেয়।' যদি না তার পরে পারলৌকিক কোন শান্তি ভোগ করতে হয়।
জীবনে কত মারাত্মক বিপদ আসে, কত দুর্ঘটনা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায়। মরতে গিয়ে যে ফিরে আসে, সে এক নতুন জীবন পায়। আর সে জীবন হয় পূর্বাপেক্ষা উত্তম। 'মরণ যখন খুব কাছে এসে চলে যায়, তখন জীবনকে এক নতুন রঙ ও স্বাদে পরিপূর্ণ ক'রে দিয়ে যায়।' এ জীবন হয় আমল-আখলাকে ভরা, ঈমানী আলোয় আলোকিত।
মরতে সকলকে হবে, ধীরে-ধীরে অথবা অকস্মাৎ। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সর্বদা। এ জীবন পরজীবনের জন্য ক্ষেত স্বরূপ। ফসল বুনে নিতে হবে সে ক্ষেতে। যাতে কাল খামার-ভরা ফসল দেখতে পাই। আজকের জন্যেও রেখে যেতে হবে স্মৃতি। দুনিয়াতেও ছেড়ে যেতে হবে আমার পদচিহ্ন। এই স্মৃতি ও পদচিহ্ন হবে আমার কালকের বেহেস্তী পথের মাইল-স্টোন।
'আমি চলে গেলে কেউ যদি আমার জন্য না কাঁদে, তবে আমার অস্তিত্বের কোন মূল্য নেই।'
'আমাকে সব সময় মনে রাখতে হবে, আমার জন্মটা যেন মৃত্যুর মধ্যেই শেষ না হয়ে যায়।'
কবির মতো আমার মন যেন গাইতে পারে, 'মরিতে চাহি না আমি এ সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই। এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই।'
পরকালের পথিক বন্ধু আমার! 'প্রথম যেদিন তুমি এসেছিলে ভবে, তুমি মাত্র কেঁদেছিলে হেসেছিল সবে। এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00