📄 আনন্দ
একটি মানুষকে আনন্দিত ও হাসিখুশি দেখলে বড় ভালো লাগে। অবশ্য নিজে আনন্দে থাকাটা স্বেচ্ছাধীন ব্যাপার নয়। আনন্দের কারণ তৈরি ক'রে নিতে হয়।
'আনন্দময় পরিবেশ ভালো কিছু করার প্রেরণা জোগায়।' আনন্দ মানুষের মনে কর্তব্য-কর্মের উৎসাহ যোগায়। তবে 'আনন্দ হচ্ছে এক রকমের ফল, যা সবুজ অবস্থায় খাওয়া উচিত।' যেহেতু আনন্দের মুহূর্তলাভ সর্বদা সহজলভ্য নয়।
আনন্দলাভ একাকী সম্ভব নয়। একা একা যে কোন খেলা খেলে, সে খেলার প্রকৃত আনন্দ পায় না। প্রকৃত আনন্দ লাভের জন্য শরীক হওয়া জরুরী। ছুটির দিন কর্মজীবি মানুষদের জন্য বড় আনন্দের দিন। কিন্তু ছুটির দিনে সবাই ছুটি নিলে ছুটির আনন্দ থাকে না।
সবাই কিছু পেয়ে আনন্দ পায়, কিন্তু হারানোর আনন্দ ক'জন পায়? যার ছেলে-মেয়ে বড় কিছু হওয়ার জন্য বিদেশ-যাত্রা করে, বড় কিছু পাওয়ার জন্য কাছ-ছাড়া হয়, সেই পায় হারানোর আনন্দ। 'অনেক আনন্দের মধ্যে বেদনা, অনেক বেদনার মধ্যে আনন্দ লুকিয়ে থাকে।'
কিন্তু অনেক মানুষ আছে, যারা 'হারানোর আনন্দ' নিতে চায় না। যার ফলে ক্ষতি করে তাদের, যাদেরকে তারা হারিয়ে যাওয়ার ভয় করে। পেয়ে ফুরিয়ে যাওয়ার আনন্দ ক্ষণিকের হলেও তা চিরস্মরণীয়। আনন্দের কথা মনে পড়তেই মন আনন্দাপ্লুত হয়।
'আকাশে তো আমি রাখি নাই, মোর উড়িবার ইতিহাস, তবু, উড়েছিনু এই মোর উল্লাস।'
'স্ফুলিঙ্গ তার পাখায় পেল ক্ষণকালের ছন্দ, উড়ে গিয়ে ফুরিয়ে গেল সেই তারি আনন্দ।'
তাজ পেয়েছিলে যেখানে, তাজমহল বানিয়েছিলে যেখানে, সেখানের মানুষ তোমার মাথা থেকে তাজ ছিনিয়ে নিলেও তোমার আনন্দ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকা উচিত এই খেয়াল ক'রে যে, তুমি একদিন সেখানে তাজ-ওয়ালা ছিলে এবং সেখানকার তাজমহল তোমারই তৈরিকৃত স্মৃতিসৌধ।
'জীবনে বাঁচতে হলে আনন্দের প্রয়োজন আছে। কিন্তু আনন্দের নামে উচ্ছৃঙ্খলতা জীবনকে নষ্ট ক'রে দেয়।' বলা বাহুল্য, অবৈধ কিছু খেয়ে বা ক'রে কোন আনন্দ বৈধ নয়।
জান তো বন্ধু! 'যত হাসি তত কান্না, বলে গেছেন কবি মান্না।' গর্ব ও অহংকার মিশ্রিত আনন্দ কিন্তু আদৌ ভাল নয়। মহান আল্লাহ এমন আনন্দকে পছন্দ করেন না। কারূনের সম্প্রদায় কারূনকে সেই কথাই বলেছিল,
{لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ } (٧٦) سورة القصص
অর্থাৎ, দম্ভ করো না, আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না। (ক্বাস্বাস্ব : ৭৬)
📄 মান-সম্ভ্রম
মানুষের প্রথম দুটি অক্ষর দিয়ে 'মান' হয়। মান ও হুঁশ দুটি মিলে মানুষ হয়। সুতরাং যে মানুষের 'মান' নেই, মানুষের সম-মান নেই, সৃষ্টিকর্তার কাছে সম্মান নেই, সে মানুষ 'মানুষ' হয় কীভাবে?
৮৭ সম্ভ্রম যাবতীয় সদাচরণের সমষ্টির নাম। সম্ভ্রম পবিত্রতা ও কর্মনিপুণতা। সম্ভ্রম গোপনে এমন কাজ না করা, যা প্রকাশ্যে করলে লজ্জিত হতে হয়।
'সব চাইতে শ্রেষ্ঠ মীরাস হল সম্ভ্রম।' 'একটি মহৎ হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার চেয়ে সম্মানজনক আর কিছু নেই।'
অর্থ থাকলে সম্মান আসে---এ কথা মানুষের পার্থিব পরিভাষায় ঠিক হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেক অর্থশালী সম্মানী হয় না। লোকে তার অর্থের ভয়ে অথবা লোভে তাকে বাহ্যতঃ সম্মান দেয়। সুতরাং তোমার অর্থশালী হওয়ার পর সম্মান পেতে লাগলে তাতে তুমি প্রতারিত হয়ো না। বরং প্রকৃত সম্মানের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা কর। যেহেতু অর্থের সাথে যার সম্পর্ক, অর্থ ফুরিয়ে গেলে তা সহসায় নষ্ট হয়ে যাবে।
ইজ্জতের জন্য পয়সা দাও, কিন্তু পয়সার জন্য ইজ্জত দিয়ো না। সর্বহারা হলেও গর্বহারা খবরদার হয়ো না।
জেনে রেখো, তোমার মান ও সম্ভ্রম হল চোখের মত নাজুক। তা নিয়ে খেলা করা চলে না। খেলা করলে অথবা অবজ্ঞা ও অবহেলা প্রদর্শন করলে অচিরে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
অনুরূপ অপরের সম্মান নিয়েও ছিনিমিনি খেলো না, কারণ অনেক মানুষ আছে, যাদের সম্মানটাই একমাত্র সম্বল। আর সে ক্ষেত্রে তোমার সাথে সে এমন আচরণ করতে পারে, যেমন ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়।
এ সংসারে এমন বহু মানুষ আছে, যাদের কোন সম্মানবোধ নেই। কোন অপযশকে তারা অপমান মনে করে না। যাদের মানই নেই, তাদের আবার অপমান কী? ফলে তাদের সেই অনুভূতিটুকুও থাকে না, যাতে তারা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়।
'কুজনের নাহি লাজ নাহি অপমান, সুজনের এক কথা মরণ সমান।'
যার নিজের আত্মসম্মান নেই, তার নিকট অপরেরও সম্মান নেই। সুতরাং এমন মানহীন মানুষের খপ্পর থেকে সুদূরে বসবাস করবে। আর যদি 'পড়েছি চামারের সাথে, খানা খেতে হবে সাথে'র মতো তোমার অবস্থা হয়, তাহলেই সাবধান। যেহেতু 'মেড়ার শিঙ্গে হীরা ভাঙ্গে, মানীর অপমান।' খবরদার তার প্রতিশোধ নিতে যেয়ো না, তাকে টেক্কা দিতে যেয়ো না, তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়ো না। নচেৎ জেনে রেখো, 'যে ব্যক্তি নিম্নমানের লোকের সাথে শত্রুতার মোকাবিলা করে, তার মান বিনাশপ্রাপ্ত হয়।'
'প্রত্যেক সম্মানী কোন শক্তির নিচে সম্মানহারা হয়ে যায়।' বড় গাছের নিচে আর কোন গাছ বাড়তে পায় না। এ জগতে যার অর্থশক্তি আছে, সেই আসলে মানী। ধান আছে যার, মান আছে তার। যার ধান নেই, তার মান নেই। সেই মান আনয়ন করতে অথবা পেটের জ্বালা নিবারণ করতে কোন অর্থশালীর কাছে চাকরি বা চাকরের কাজ নিলে প্রভুর কাছে কি তার মান থাকে? অবশ্যই না।
মানুষ অর্থ ও বিত্তশালীকে সম্মান দেয়, তার জন্য কাফের হয়েও কত অসম্মানী লোক সম্মানীদের নিকট সেলুট ও সম্মান পায়। প্রকারান্তরে প্রকৃত সম্মানী যাঁরা, তাঁরা তাদের কাছে সম্মান পায় না। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (۸) المنافقون
অর্থাৎ, বস্তুতঃ যাবতীয় সম্মান তো আল্লাহরই এবং তাঁর রসূল ও বিশ্বাসীদের। কিন্তু মুনাফিক (কপট) রা তা জানে না। (মুনাফিকুনঃ ৮)
'আঘাত ও অপমানের মধ্যে আঘাতের কথা সহজে ভুলা যায়, কিন্তু অপমানের কথা সহজে ভুলা যায় না।' লৌহ তরবারির আঘাতে ব্যবহার্য্য মলম আছে, কিন্তু বাক-তরবারির আঘাতের কোন মলম নেই। অবশ্য যাদের সম্মান নেই অথবা আত্মসম্মানবোধ নেই তাদের দেহ-মনে সে আঘাত কোন প্রভাবই ফেলতে পারে না।
'নিজেরে করিতে সম্মান দান নিজেরে করি অপমান।' এমন আচরণ আছে বহু মানুষের, যারা নিজেদের গৌরবগান গাইতে গিয়ে নিজেদেরই অপমান ক'রে বসে। নিজের বংশকে গালি দিয়ে নিজেকে ছোট করে। বাপকে অস্বীকার ক'রে মা-কে ব্যভিচারিণী বানায় এবং নিজেকে বানায় জারজ!
সমাজের কোন মানহীন নিকৃষ্ট লোকে চায় না যে, মানীর মান বজায় থাক। বরং মানীর মান বিলীয়মান হতে দেখে মুচকি হাসির মিষ্ট স্বাদ গ্রহণ করে। অপরকে নিজেদের দলে ভিড়তে দেখে খুশি হয় মনে। সুস্বাগতম জানিয়ে তাকে আরও মানহীন করতে সচেষ্ট হয়।
'সমাজে এক শ্রেণীর লোক থাকে যাহারা মর্যাদার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিম্নস্তরে থাকিতে বাধ্য হয় বলিয়া উচ্চস্তরের লোকেরা যখন বে-কায়দায় পড়ে, তখন তাহাদের বে-কায়দার সুযোগ পুরো মাত্রায় গ্রহণ করিতে চেষ্টা করে এবং যে হাতি পাঁকে পড়িয়া যায় তাহাকে ঢেলাইবার প্রবৃত্তি তখন শতমুখী হইয়া ওঠে।'
অনেকে চায়, তারা যেমন, দুনিয়াটা তেমন হোক। তারা বেশ্যা বলে সবারই মেয়ে বেশ্যা হয়ে যাক। আর তা হলে তারা মনে মনে শত খুশীর হাসি হাসে। যেমন কাফেরদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,
(وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاء) (۸۹) سورة النساء
অর্থাৎ, তারা চায় যে, তারা যেরূপ কাফের, তোমরাও সেরূপ কাফের হও; ফলে তারা ও তোমরা একাকার হয়ে যাও। (নিসাঃ ৮৯)
খুব সাবধান বন্ধু! মানহীনদের এমন চক্রান্তে পড়ে নিজের মান-সম্মান হারিয়ে বসো না। ভিড়ে পড়ে শুধু টাকা-পয়সার পকেটমারিকে ভয় করো না, বরং সেই সাথে সমাজের ঈমান ও সম্মানের পকেটমার থেকেও সাবধান থেকো। আর এ কথাও স্মরণে রেখো যে, ঐ পকেটমারদের সবাই কিন্তু অভদ্রই নয়। তাদের মধ্যে অনেককে ভদ্র সেজেও পকেট মারতে দেখবে। সুতরাং তোমার মন যেন সে সময় ধোঁকা না খায় যে, সে পকেটমার নয়, বরং তোমার কোন হিতাকাঙ্ক্ষী!
📄 আত্মচেতনা
শরীরে 'সুগার' হওয়া ভাল নয়। তা একটি রোগ। কিন্তু প্রত্যেক শরীরে সুগারের প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে তা বেশি হওয়া ভাল নয়, কম হওয়াও ভাল নয়। অনুরূপই ষড়রিপুর প্রত্যেকটি মানব-চরিত্রে কম-বেশি অপকারী ও উপকারী।
কাম না থাকলে মানুষের বংশরক্ষা হয় না।
ক্রোধ ভিন্ন জয়লাভ হয় না। রাগহীন নিস্তেজ মানুষের ওজন থাকে না।
লোভ না থাকলে অর্থ ও খাদ্য জোগাড় হয় না।
মোহ ছাড়া সংসার গড়ে না। সংসারে সুখ ও শান্তি থাকে না।
মদ বা গর্ব ছাড়া মনুষত্ব থাকে না। আত্মমর্যাদা থাকে না।
মাৎসর্য ও ঈর্ষা থাকলে শ্রীবৃদ্ধি হয়। না থাকলে মানুষ 'মেড়া' হয়। কোন কাজে উন্নতির মন হয় না।
সংযম থাকলে ষড়রিপু (ছয় শত্রু) ষড়মিত্র হয়ে যায়। মানুষের প্রয়োজন আছে আত্মচেতনা, আত্মমর্যাদা, আত্মনির্ভরশীলতার। তার উপরেই ভিত্তি ক'রে নির্মাণ করতে হয় সুখী জীবনের ইমারত।
বাবুই পাখির মতো কুঁড়ে ঘরে বাস ক'রে শিল্পের বড়াই কখনও আত্মমর্যাদা হতে পারে। আবার চড়ুই পাখির মতো পরের ঘরে বাস ক'রে সুখের বড়াই হীনতা হতে পারে।
আত্মসম্মানবোধ যার আছে, সে লাঞ্ছিত হয় না। আত্মসম্মানবোধ যার নেই, তার রাগ হয় না। আর যার মোটেই রাগ নেই, সেই মাটির মানুষের কোন ব্যক্তিত্ব থাকে না।
'প্রকৃত মানুষ যে, তার নীতি হবে, জান দেব, মান দেব না। জীবন দেব তবুও মর্যাদা দেব না।'
সংসারের একটা বাস্তব নীতি এই যে, 'আপন থাকে তো খাও, না হয় চারিপানে চাও।' সুতরাং আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজে উপার্জনশীল হতে হবে তোমাকে। নাই-বা হল অনেক, তোমার নিজের সামান্যই অন্যের অনেক থেকে অনেক অনেক উত্তম।
'আপন শ্রমে অর্জিত ধন যতই অল্প হোক, তাহারই দান পরকালে মিলায় স্বর্গলোক।'
আর জানই তো, 'করুণা ও দান নিয়ে গৌরবের মাথা তুলে বাঁচা যায় না।' দান গ্রহণে মানুষ দুর্বল হয়ে যায়। অনুগ্রহের ছায়াতলে প্রতিপালিত জীবন-বৃক্ষ আওতার ঘাসের মতো হয়। পরের ঘাড়ে চেপে জীবন-যাপন আলোকলতার মতো হয়।
কুঁড়ে মানুষের কোন সম্মান নেই। যে বসে খেতে চায়, তার কোন মহত্ত্ব নেই। কৃষক ও জমির কথোপকথন উদ্ধৃত ক'রে কবি বলেছেন,
'বসুমতী! কেন তুমি এতই কৃপণা? কত খোঁড়াখুঁড়ি করি পাই শস্যকণা।
দিতে যদি হয় দে মা প্রসন্ন সহাস, কেন এ মাথার ঘাম পায়েতে বহাস? বিনা চাষে শস্য দিলে কী তাহাতে ক্ষতি? শুনিয়া ঈষৎ হাসি কন বসুমতী, আমার গৌরব তাহে সামান্যই বাড়ে, তোমার গৌরব তাহে নিতান্তই ছাড়ে।'
প্রত্যেক কাজেই মহান আল্লাহর পর যথাসাধ্য নিজের উপর ভরসা রাখা উচিত। প্রবাদে বলে, 'বলং বলং বাহু বলং।' (নিজের বলই প্রকৃত বল।) নিজের নখের মতো গা চুলকিয়ে মজা নেই।
'এ দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় তিক্ত কাজ হল, পরের উপর ভরসা করা।' অনেক মানুষ এমন আছে, যারা সংসারে নিজেরাই দুর্বল। তাদেরকে নিয়ে হয়তো সংসারও করা যায়, কিন্তু বড় কাজে তাদের উপর ভরসা করা যায় না। 'কাগজের নৌকা খেলার জন্য নদীতে ভাসানো যায়। কিন্তু তার উপর চড়ে নদী পার হওয়া যায় না।' একজন আহত সৈনিকের কাঁধে ভর ক'রে যুদ্ধে জয়লাভ করা যায় না।
বাপের হোটেলে বসে খেতে খুব মজা, কিন্তু কত দিন? শ্বশুরবাড়িতে বসে খেতে আরো মজা। কিন্তু 'শ্বশুরবাড়ি মধুর-হাঁড়ি, তিন দিন পর ঝাঁটার বাড়ি।' অতঃপর তুমি অকর্মণ্য উপার্জনহীন হলে কেউ তোমাকে ভালবাসবে না, মা-বাপ না, বিয়ে করা বউও না। সুতরাং কবির কথা মনের মণিকোঠায় তুলে রাখ, 'আপন কেউ নয় সবাই তোমার পর, উন্নতি করিতে চাও হও ধুরন্ধর।'
বাপের অনেক আছে, খেয়ে-দেয়ে দিন ভাল কাটবে মনে করছ? কিন্তু না, তুমি ব্যাঘ্র-উচ্ছিষ্টভোগী শৃগালের মতো হয়ো না। এক বণিক তার ছেলেকে বাণিজ্যে পাঠাল। পথে এক ক্ষুধার্ত শিয়াল দেখল। ভাবল, এই মিসকীন কোত্থেকে খেতে পায়? তৎক্ষণাৎ দেখল এক বাঘ শিকার ধরে খাচ্ছে। ভয়ে লুকিয়ে দেখল, সে খেয়ে চলে গেলে অবশিষ্টাংশ শিয়াল গিয়ে খেল। মনে করল, এমনি ক'রে তারও দিন যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে এত কষ্ট ক'রে লাভ কী? সুতরাং ফিরে গিয়ে পিতাকে খবর জানাল। পিতা বলল, 'তুই ভুল বুঝেছিস্। আমি আশা করি তুই শিয়ালের অনুসরণ না ক'রে বাঘের অনুসরণ 'করবি।' অর্থাৎ তুই বাঘের মতো নিজে কষ্ট ক'রে কামাই ক'রে খাবি। আর অন্য কেউ তোর উচ্ছিষ্ট খাবে।
মানুষ যখন আশা ও কামনা করে, তখন নিচু না করে উঁচু করতে হয়। আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ জানে, 'শৃগালের মতো ১০০ বছর বাঁচার চাইতে সিংহের মতো ১ দিন বাঁচাও ভালো।'
পর-ভরসায় থেকো না বন্ধু! তীর্থের কাকের মতো অথবা বকান্ডপ্রত্যাশীর মতো নিজেকে পরমুখাপেক্ষী করো না।
'আপন যতনে লাভ যখন যা হয়, যাচিত রতন তাহার তুল্য মূল্য নয়। যদিচ বল্কল পর রহ উপবাসী, হয়ো না হয়ো না তবু পরের প্রত্যাশী।'
আত্মচেতনা না থাকার ফলে মানুষ অনেক সময় সঞ্চিত ধনে থেকেও বঞ্চিত হয়। আফ্রিকার এক চাষী শুনল যে, কোন কোন জায়গায় লোকে মাটিতে হীরা পেয়ে বড়লোক হয়ে যাচ্ছে। সে তার বাকি জমিটুকু বিক্রয় করে হীরার খোঁজে বের হয়ে গেল। অর্থও শেষ হল, হীরাও পেল না। অপর দিকে তার জমির ক্রেতা তার ঐ জমিতে হীরা আবিষ্কার করল। এইরূপই কত মানুষ নিজের কদর না বুঝে অপরের দ্বারস্থ হয়। নিজের কাছে রত্ন থাকা সত্ত্বেও অপরের কাছে সন্ধান ক'রে ফেরে।
📄 পরোপকার
পৃথিবীতে কত শত বৃক্ষলতা আছে যা অকেজো, আকাশে কত মেঘ ভাসে যাতে বৃষ্টি হয় না। কত মানুষ আছে যাদের দ্বারা মানুষের কোন উপকার সাধিত হয় না।
মানুষ হয়ে বিশেষ ক'রে বিপদের সময় যদি মানুষের পাশে কেউ না দাঁড়ায়, তাহলে তার নিজেকে 'মানুষ' বলে পরিচয় দেওয়াটা বড় লজ্জাকর। তোমার জীবন যদি নিজের কাজে না লাগে, তাহলে সে জীবনকে অপরের কাজে লাগিয়ে দাও, শান্তি পাবে। লোহা দিয়ে সোনার গয়না তৈরী হয় না ঠিকই, কিন্তু সোনার গয়না তৈরী করতে লোহার হাতুড়ির দরকার হয়। তুমি সোনা না হয়ে লোহা হলেও তোমার দ্বারা উপকার অবশ্যই হবে। আর পরোপকার সাধনের ফলে তুমিই হবে সর্বোত্তম ব্যক্তি, আল্লাহর কাছে এবং মানুষের কাছেও।
মহানবী বলেছেন, (أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ).
অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। (সঃ জামে' ১৭৬নং)
তিনি আরো বলেছেন, (خَيْرُ النَّاسِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ)
অর্থাৎ, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। (সঃ জামে' ৩২৮৯, দারাকুত্বনী, সিঃ সহীহাহ ৪২৬নং)
পরোপকারের জন্য তোমাকে মানুষ সম্মান জানাবে। যেহেতু 'মানুষ যা পেয়েছে, তার জন্য তাকে সম্মান জানানো হয় না, মানুষ পৃথিবীকে যা দিয়েছে, তার জন্যই তার সম্মান।'
উপকার করলে তুমি উপকারের বিনিময়ে প্রত্যুপকার পাবে। মানুষের জীবন একটি প্রতিধ্বনির মত, আওয়াজ দিলে সে আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে তার কাছে।
অপরকে সাহায্য করলে সাহায্য পাওয়া যায়। জীবনের সুন্দরতম প্রাপ্তি হচ্ছে দানের বিনিময়ে প্রতিদান। আন্তরিকভাবে অপরকে সাহায্য করলে প্রকৃতপক্ষে নিজেকেই সাহায্য করা হয়।
না-না, প্রতিদান পাওয়ার আশায় দান দেওয়া উচিত নয়। 'যা কিছু সুন্দর ও ভালো তা নিজস্ব নিয়মে ফিরে আসে। প্রতিদান পাওয়ার বাসনায় ভালো করার প্রয়োজন হয় না। প্রতিদান আপনিই পাওয়া যায়।'
পরোপকার ক'রে মনে আনন্দলাভ হয়। 'আদর্শ মানুষ সেই, যে অন্যের উপকার করে আনন্দ পায়, আর অন্যে উপকার করলে লজ্জিত হয়। কারণ কোন কিছু দান করা মহত্ত্বের লক্ষণ, আর তা গ্রহণ করা নীচতা।'
'আত্মসুখ অন্বেষণে আনন্দ নাহি রে বারে বারে আসে অবসাদ, পরার্থে যে করে কর্ম তিতি ঘর্ম-নীরে সেই লভে স্বর্গের প্রাসাদ।'
শায়খ আলী তানতাবী বলেন, 'সবচেয়ে বড় মধুর হল পরোপকারিতার স্বাদ।'
পরোপকার করলে যেমন আনন্দ পাওয়া যায়, পরোপকার নিলে তেমনি মনের ভিতর এমন এক অনুভূতি সৃষ্টি হয়, যাতে প্রত্যুপকার বা প্রতিদান না দিতে পারা পর্যন্ত নিজেকে ঋণী মনে হয়। প্রত্যেক উপকারই মানুষকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করে।
'পরোপকার একটি বেড়ি, যা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অথবা প্রতিদান ছাড়া ছাড়ানো যায় না।' উপকৃত উপকারীর দাসে পরিণত হয়।
মুলহাব বিন আবী সাফরাহ বলেন, 'আমি দেখে অবাক হই যে, লোকেরা নিজ মাল দিয়ে পরাধীন গোলাম ক্রয় করে অথচ উপকারিতা দিয়ে স্বাধীন মানুষ ক্রয় করে না।'
মানুষ দু'টি মুখ কখনই ভুলতে পারে না, বিপদের সময় যে তার পাশে এসে দাঁড়ায় এবং বিপদের সময় যে তার সাথ ছাড়ে।
ইবনুল মুকাফফা বলেন, 'যদি তুমি কোন মানুষের প্রতি উপকার ক'রে থাকো, তাহলে খবরদার তা অন্যের কাছে উল্লেখ করো না। আর যদি কোন মানুষ তোমার প্রতি উপকার ক'রে থাকে, তাহলে খবরদার তা ভুলে যেয়ো না।'
অভিজ্ঞজনেরা বলেন, 'পৃথিবীতে দু'রকমের মানুষ আছে। এক : যারা সবকিছু গ্রহণ করে। দুইঃ যারা সবকিছু দিতে পারে। যারা নিতে জানে তারা খায় ভালো; আর যারা দিতে জানে তারা ঘুমায় ভালো। যারা দিতে জানে, তাদের আছে প্রখর আত্মমর্যাদাবোধ, একটি ইতিবাচক মনোভাব এবং তারা সমাজ-সেবায় আগ্রহী। (অবশ্য সমাজ সেবার অর্থ বর্তমানে নেতা তথা রাজনৈতিকদের ছদ্ম সমাজসেবা নয়। এরা প্রকৃতপক্ষে সমাজসেবার নামে নিজেদের সেবা ক'রে থাকে।) প্রত্যেক মানুষেরই কিছু নেওয়ার প্রয়োজন হয় এবং নিতেও হয়। কিন্তু একজন সুস্থ মানসিকতার প্রখর আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র গ্রহণ করেন না, দেওয়ারও চেষ্টা রাখেন।'
'পরের জন্য আত্মবিসর্জন ভিন্ন পৃথিবীতে স্থায়ী সুখের অন্য কোন মূল্য নাই।' কবি বলেছেন,
'পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি- এ জীবন-মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও। পরের কারণে মরণেও সুখ সুখ সুখ করি কেঁদো না আর, যতই কাঁদিবে যতই ভাবিবে ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার। আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।'
পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না। পরের জন্য তোমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত কর। ফুল পরের জন্য ফুটেই প্রকৃতির কোলে আনন্দের হাসি হাসে। তুমিও পরের তরে কর্ম ক'রে মিষ্টি হাসির আলোকে ভুবন ভরে দাও। তুমি সেই ফলদার গাছের মতো হও, যাকে ঢিল মারলে তার বিনিময়ে তোমাকে ফল দান করে। তুমি তোমার জীবন কর সোনার মত। যত জ্বালাবে তত ঝলমল করবে। আগুনে পুড়লেও ধূপের মতো তুমি তোমার সুগন্ধ বিতরণ কর।
'যাঁরা মহাপুরুষ হন, তাঁদের দুটি হৃদয় হয়। একটি হৃদয়ে ব্যথিত হন এবং অপরটি দিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন।' 'মহাপুরুষগণ উল্কার মত। তাঁরা নিজেদেরকে জ্বালিয়ে নিজ নিজ যুগকে আলোকিত ক'রে থাকেন।'
'নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল, তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল। গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধপান, কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান। বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত, স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত।
শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে, সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।'
অবশ্য আমি এ কথা বলছি না যে, তুমি নিজেকে ধ্বংস ক'রে অপরকে জীবন্ত রাখো। বরং বলছি, স্বার্থ ত্যাগ ক'রে মানুষের উপকার কর।
অবশ্য অপরের ভাল করতে যাওয়ার আগে তার সে ভাল পছন্দ কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। নচেৎ, অনেকে পরের উপকার করতে গিয়ে অপকার ক'রে বসে। যেমন নদীর জোয়ারে একটি বড় মাছ বালুচরে আটকে গিয়ে তড়পাচ্ছিল। কিছু বানর তা দেখে তাদের মনে দয়া হলে তাকে পাড়ে তুলে দিল, যাতে পানিতে পড়ে প্রাণ না হারায়!
অনেকে নিজ মেয়ের সংসার-সুখের ব্যবস্থা করতে গিয়ে তার স্বামীর ভালবাসায় আবিলতা আনে। অন্যের সংসার ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বন্ধুর উপকারে তার অনুপস্থিতিতে তার সংসার দেখাশোনা করতে গিয়ে তার স্ত্রীর প্রেমজালে ফাঁসে!
অনেকেই এমন আছে, যারা বাত ভালো করতে গিয়ে বেদনা সৃষ্টি করে। আর তা নিশ্চয়ই কাম্য নয়।
অনেকে প্রশ্ন করে, পরার্থে কী করব? পকেটে পয়সা না থাকলে গরীবের দুঃখে 'আহা' বলে লাভ কী?
আমরা বলি, উপকার কেবল পয়সা বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরন্তু তোমার নিজের পয়সা না থাকলে পয়সা-ওয়ালাদের পয়সা নিয়ে উপকার করতে পার। তা না পারলে যে কোনও ভাবে লোকের উপকার সাধন করতে পার। কবি বলেছেন,
'কোন কাজ ছোট নয়, নয় সে নগণ্য, যদি পার কিছু কর মানুষের জন্য।'
একান্তই যদি মানুষের কোনও উপকারে না আসো, তাহলে অন্ততঃ কারো ক্ষতি করো না। শায়খ সা'দী বলেছেন, 'ঐ মৌমাছিদেরকে বলে দাও যে, যদি তারা মধু না দেয়, তবে যেন হুল না ফোঁড়ে।'
আবু যার বলেন, একদা আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল সর্বোত্তম?' তিনি বললেন, "আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ও তাঁর পথে জিহাদ করা।” আমি বললাম, 'কোন্ গোলাম (কৃতদাস) স্বাধীন করা সর্বোত্তম?' তিনি বললেন, "যে তার মালিকের দৃষ্টিতে সর্বশ্রেষ্ঠ ও অধিক মূল্যবান।” আমি বললাম, 'যদি আমি এ সব (কাজ) করতে না পারি।' তিনি বললেন, "তুমি কোন কারিগরের সহযোগিতা করবে অথবা অকারিগরের কাজ ক'রে দেবে।” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন, যদি আমি (এর) কিছু কাজে অক্ষম হই (তাহলে কী করব)?' তিনি বললেন, "তুমি মানুষের উপর থেকে তোমার মন্দকে নিবৃত্ত কর। তাহলে তা হবে তোমার পক্ষ থেকে তোমার নিজের জন্য সাদকাহস্বরূপ।” (বুখারী-মুসলিম)
উপকারের পথসমূহ খোলা আছে। যেভাবে হোক, সৃষ্টির উপকার কর। শায়খ সা'দী বলেছেন, "কাদায় পতিত গাধার নিকট যেয়ো না। যদি যাও, তাহলে তার উঠার ব্যবস্থা ক'রে দাও। যখন গেলে এবং জিজ্ঞাসা করলে যে, 'কেমন ক'রে পড়লে?' তখন কোমর বেঁধে কাদায় নেমে পড়.”
আর জানই তো, যে কোন প্রাণীর প্রাণ রক্ষা করলে, যে কোন জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে, তাতে সওয়াব হয়। একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর জন্য বেশ্যা ক্ষমা পেতে পারে। একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখে খেতে না দিয়ে মেরে ফেললে মানুষ জাহান্নামে যেতে পারে।
বৃক্ষরোপণ করলে অথবা তার রক্ষণাবেক্ষণ করলে সৃষ্টির উপকার সাধন হয়। 'রোপণ হল দুই প্রকার: বৃক্ষ-রোপণ ও ইষ্ট-রোপণ। মাটিতে বৃক্ষ রোপণ করলে মানুষ উপকৃত হয়। আর মানব-মনের জমিতে ইষ্ট রোপণ করলেও মানুষ উপকৃত হয়।' আর তাতে উপকৃত হয় খোদ রোপণকারীও।
একটি মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে তুমি সওয়াব লাভ করতে পারো। "আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ তাআলা তোমার দ্বারা একটি মানুষকে হিদায়াত করেন, তাহলে তা তোমার জন্য (আরবের শ্রেষ্ঠ সম্পদ) লাল উটনী অপেক্ষাও উত্তম।” (বুখারী ও মুসলিম)
মানুষের উপকারে অবহেলা প্রদর্শন করা উচিত নয়। নচেৎ শাস্তি স্বরূপ সে অবহেলা নিজের বিরুদ্ধেই প্রয়োগ হতে পারে। একদিন এক ট্যাক্সিওয়ালা ভাড়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। একজন এসে বলল, 'পাশের রোডে এক্সিডেন্ট হয়ে এক মহিলা পড়ে আছে। তাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।' কিন্তু সে বলল, 'হাসপাতাল দূরে, আমি যাব না।' অতঃপর সে যখন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এল, তখন দেখল বাড়িতে অনেক লোকজন।
আসলে এক্সিডেন্ট ছিল তার মায়ের।
সে যদি সত্বর দুর্ঘটনাগ্রস্ত লোকের সাহায্যে অগ্রণী হতো, তাহলে হয়তো তার মায়ের জীবনকে বাঁচাতে পারতো। কিন্তু পরিণামে অনুতাপ আর কী ফল দেবে?