📘 জীবন দর্পণ > 📄 শত্রুতা

📄 শত্রুতা


কোন্ মানুষের শত্রু নেই? যে মানুষের নিকট থেকে কোন উপকারিতা অথবা অপকারিতা প্রকাশ পায় না, তার কোন শত্রু নেই। যেহেতু যার উপকারিতা আছে তাকে মন্দ লোকেরা এবং যার অপকারিতা আছে তাকে ভালো লোকেরা পছন্দ করে না। সুতরাং তোমার যে শত্রু নেই, তা হতেই পারে না।
চারটি জিনিস শত্রুতা সৃষ্টি করে; অহংকার, হিংসা, মিথ্যাবাদিতা ও চুগলখোরি। ভেবে দেখো, এরই মাধ্যমে সংসারে কত ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে। থাকে। 'যে হাওয়ায় আনে হাসি, সেই তো আবার ঝড় হয়ে যায়।'
'যে ফুলে আনে হাসি, সে ফুলেই দেয় হে ফাঁসি।' শত্রু হয়ে দাঁড়িয়ে দেখে খুশির সাথে বাজায় বাঁশি।
দুনিয়ার এ নীতিও বড় নিমকহারাম। কাল নুন পাচ্ছিল, তাই গুণ গাচ্ছিল। আজ নুন পায় না, তাই গুণ গায় না। তা না গাইলেও ক্ষতি নেই। কিন্তু ক্ষতি হয় তখন, যখন নুন না পেয়ে দোষকীর্তন করে। নতুন নুন না পেয়ে পুরনো নুনের কথাও ভুলে যায়। আর তখন দাতার গুণও সহ্য হয় না বলে তার দোষ গেয়ে বেড়ায়। তার শত্রুর হাতে হাত মিলায়!
জেনে রেখো বন্ধু! তোমার শত্রু হল তিনজন; তোমার শত্রু, তোমার বন্ধুর শত্রু এবং তোমার শত্রুর বন্ধু। কোন শত্রুকেই তুচ্ছজ্ঞান করতে হয় না। 'বিরোধীকে কখনই দুর্বল ভাবতে হয় না।'
সুতরাং শত্রু যখন তোমার প্রতি শত্রুতার হাত বাড়ায়, তখন পারলে তা কেটে ফেল। তা না পারলে তা চুম্বন কর। দুশমন যদি দুশমনি দিয়ে তোমার সম্মুখীন হয়, তাহলে তুমি হিকমত দিয়ে তার মোকাবিলা কর। দরকার হলে সময় ক্ষেত্রে শত্রুর সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে পার।
শায়খ সা'দী বলেছেন, 'শত্রু যখন চারিদিক থেকে নিরাশ হয়ে যায়, তখন দায়ে পড়ে তোমার বন্ধুত্বের দরজার কড়া নাড়ে এবং সে তোমার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার শুরু ক'রে দেয়। কিন্তু তোমার উচিত, তার হাত দ্বারা সাপের মাথা টিপে গলিয়ে দেওয়া। এতে তার বিষ না থাকলে তুমি সাপ মারবে। আর বিষ থাকলে তুমি শত্রুর হাত থেকে নিস্তার পাবে।'
'শত্রুর অসময়ের অনুনয়-বিনয়ে তুমি নরম হয়ো না। কারণ, সে সুযোগ পেলে তোমাকে যে ছেড়ে দেবে, তা নয়।'
হ্যাঁ, 'সাপের লেজে পা দিলে সাপ তো ছোবল মারবেই, চাহে তা ঘরেই হোক অথবা বনে।' কারো কায়েমী স্বার্থে কুঠারাঘাত করলে প্রতিঘাত তো সইতেই হবে। সুতরাং তার জন্য তুমি প্রস্তুত থেকো। 'তুমি তোমার শত্রুর বিরুদ্ধে সেই অস্ত্র দ্বারা লড়াই কর, যে অস্ত্রকে সে ভয় করে। তুমি যে অস্ত্রকে ভয় কর, সে অস্ত্র দ্বারা নয়।'
'মানুষ অনেক বড় বড় কষ্ট সহ্য করে নেয়, কিন্তু দুশমন-হাসি অনেক ক্ষেত্রে সহ্য ক'রে উঠতে পারে না।' তুমিও পারবে না। তবে যদি পারো, তাহলে সে হাসি বন্ধ ক'রে দাও। অবশ্য সে হাসির কারণ তুমি না হয়ে তোমার কাছের কোন লোকও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তুমি নিরুপায়।
যে ব্যক্তি হীন লোকের শত্রুতা-দৃষ্টিতে পড়ে, সে ব্যক্তির মান মাঠে-ঘাটে যায়। কথায় কথায় তার ত্রুটি প্রচার করে। অনেক সময় মিথ্যা বদনাম রটিয়ে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে। অন্যের প্রতিভার প্রতিভাত হতে দেখে তার পেটের ভাত হজম হয় না। তখন চেষ্টা করে তার প্রতিভাতে আঘাত হানতে, তার পেটের ভাতেও লাথি মারতে। নীচমনা অহংকারী হিংসুটে বৈরিতার ফলে যেমন নিজে সুখ পায় না, তেমনি তার আচরণে অন্যকেও সুখে বসবাস করতে দেয় না। এমনই শত্রু সে, যার সাথে ইবলীসের বড় সুসাদৃশ্য আছে। অহংকার ও হিংসাই সর্বপ্রথম পাপ, যার ফলে ইবলীস অভিশপ্ত হয়েছে এবং তার ফলে আদম-হাওয়া জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতারিত হয়েছেন। ইবলীসেরই পরামর্শক্রমে তাঁরা জান্নাতে নিষিদ্ধ গাছ ভক্ষণ ক'রে আল্লাহর অবাধ্যতা করেন এবং তার শাস্তিস্বরূপ পৃথিবীতে নির্বাসিত হন।
অতএব শত্রু যদিও জ্ঞানী হয়, তবুও তার পরামর্শ নিয়ো না। শায়খ সা'দী বলেছেন, 'শত্রু যদি তীরের মত সোজা পথ দেখিয়ে দেয়, তবুও তুমি বাম দিকে যেয়ো।'
তিনি আরো বলেছেন, 'দুই শত্রুর মধ্যস্থলে এরূপ কথাবার্তা বলবে না; যাতে ওদের মধ্যে কেউ পরে তোমার বন্ধু হলে তোমাকে যেন লজ্জিত হতে না হয়।'
আর আমাদের নবী ﷺ বলেছেন, "তোমার বন্ধুকে মধ্যমভাবে ভালোবাস (অর্থাৎ, তার ভালোবাসাতে তুমি অতিরঞ্জন করো না)। কারণ, একদিন সে তোমার শত্রুতে পরিণত হতে পারে। আর তোমার শত্রুকে তুমি মধ্যমভাবে শত্রু ভেবো। (অর্থাৎ, তাকে শত্রু ভাবাতে বাড়াবাড়ি করো না।) কারণ, একদিন সে তোমার বন্ধুতে পরিণত হতে পারে।” (সুতরাং তখন তোমাকে লজ্জায় পড়তে হবে।) (তিরমিযী ১৯৯৭, সহীহুল জামে' ১৭৮ নং)

📘 জীবন দর্পণ > 📄 আবেগ

📄 আবেগ


একজন মানুষের ভিতরে আবেগ থাকতেই পারে। কিন্তু তার গতিবেগ লাগামছাড়া হওয়া মোটেই উচিত নয়। জোশ ও আবেগ ছাড়া মানুষের বড় কাজে স্পৃহা জন্মে না। কর্তব্যকর্মে অনীহা যায় না। কিন্তু আবেগ যেন বেশি না হয়। কারণ, 'হৃদয়ের দরজায় যখন ক্রোধ অথবা আবেগ প্রবেশ করে, তখন বিবেক-বুদ্ধি তার জানালা দিয়ে পলায়ন করে।'
আবেগ মানুষকে অন্ধ ক'রে তোলে। অন্ধানুকরণ তথা ভক্তির আতিশয্য তখন 'হক' গ্রহণ করতে বাধাদান করে।
আবেগময় মানুষ কোন কর্মে যত তাড়াতাড়ি সম্মত হয়, তত তাড়াতাড়ি সামান্য ত্রুটি দর্শনে মত পরিবর্তন করে। এদের মন যত শীঘ্র গড়ে, তত শীঘ্র ভাঙ্গে।
সুতরাং 'আবেগ নিয়ন্ত্রণ ক'রে বিবেক প্রয়োগ করা জ্ঞানীর কাজ। যেহেতু বিবেক মানুষকে সত্যের পথ দেখায় আর আবেগ পথভ্রষ্ট করে।'
মুসলিম যুবসমাজের মাঝে আজ আবেগ নয়, গতিবেগ চাই। 'আবেগ দিয়ে নাটক-উপন্যাস হয়; জীবন-যুদ্ধ হয় না।'
আবেগের টানে সাজা দিতে ভুলে যাওয়া উচিত নয়, উচিত নয় কাউকে সেই স্থান দান করা, যে স্থানের সে উপযুক্ত নয়। নচেৎ লাগামহীন আবেগের মেঘমালা তোমার হৃদয় আকাশে তুফান সৃষ্টি করবে এবং নিমিষে তোমার সব কিছু তছনছ ক'রে ছাড়বে।

📘 জীবন দর্পণ > 📄 আনন্দ

📄 আনন্দ


একটি মানুষকে আনন্দিত ও হাসিখুশি দেখলে বড় ভালো লাগে। অবশ্য নিজে আনন্দে থাকাটা স্বেচ্ছাধীন ব্যাপার নয়। আনন্দের কারণ তৈরি ক'রে নিতে হয়।
'আনন্দময় পরিবেশ ভালো কিছু করার প্রেরণা জোগায়।' আনন্দ মানুষের মনে কর্তব্য-কর্মের উৎসাহ যোগায়। তবে 'আনন্দ হচ্ছে এক রকমের ফল, যা সবুজ অবস্থায় খাওয়া উচিত।' যেহেতু আনন্দের মুহূর্তলাভ সর্বদা সহজলভ্য নয়।
আনন্দলাভ একাকী সম্ভব নয়। একা একা যে কোন খেলা খেলে, সে খেলার প্রকৃত আনন্দ পায় না। প্রকৃত আনন্দ লাভের জন্য শরীক হওয়া জরুরী। ছুটির দিন কর্মজীবি মানুষদের জন্য বড় আনন্দের দিন। কিন্তু ছুটির দিনে সবাই ছুটি নিলে ছুটির আনন্দ থাকে না।
সবাই কিছু পেয়ে আনন্দ পায়, কিন্তু হারানোর আনন্দ ক'জন পায়? যার ছেলে-মেয়ে বড় কিছু হওয়ার জন্য বিদেশ-যাত্রা করে, বড় কিছু পাওয়ার জন্য কাছ-ছাড়া হয়, সেই পায় হারানোর আনন্দ। 'অনেক আনন্দের মধ্যে বেদনা, অনেক বেদনার মধ্যে আনন্দ লুকিয়ে থাকে।'
কিন্তু অনেক মানুষ আছে, যারা 'হারানোর আনন্দ' নিতে চায় না। যার ফলে ক্ষতি করে তাদের, যাদেরকে তারা হারিয়ে যাওয়ার ভয় করে। পেয়ে ফুরিয়ে যাওয়ার আনন্দ ক্ষণিকের হলেও তা চিরস্মরণীয়। আনন্দের কথা মনে পড়তেই মন আনন্দাপ্লুত হয়।
'আকাশে তো আমি রাখি নাই, মোর উড়িবার ইতিহাস, তবু, উড়েছিনু এই মোর উল্লাস।'
'স্ফুলিঙ্গ তার পাখায় পেল ক্ষণকালের ছন্দ, উড়ে গিয়ে ফুরিয়ে গেল সেই তারি আনন্দ।'
তাজ পেয়েছিলে যেখানে, তাজমহল বানিয়েছিলে যেখানে, সেখানের মানুষ তোমার মাথা থেকে তাজ ছিনিয়ে নিলেও তোমার আনন্দ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকা উচিত এই খেয়াল ক'রে যে, তুমি একদিন সেখানে তাজ-ওয়ালা ছিলে এবং সেখানকার তাজমহল তোমারই তৈরিকৃত স্মৃতিসৌধ।
'জীবনে বাঁচতে হলে আনন্দের প্রয়োজন আছে। কিন্তু আনন্দের নামে উচ্ছৃঙ্খলতা জীবনকে নষ্ট ক'রে দেয়।' বলা বাহুল্য, অবৈধ কিছু খেয়ে বা ক'রে কোন আনন্দ বৈধ নয়।
জান তো বন্ধু! 'যত হাসি তত কান্না, বলে গেছেন কবি মান্না।' গর্ব ও অহংকার মিশ্রিত আনন্দ কিন্তু আদৌ ভাল নয়। মহান আল্লাহ এমন আনন্দকে পছন্দ করেন না। কারূনের সম্প্রদায় কারূনকে সেই কথাই বলেছিল,
{لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ } (٧٦) سورة القصص
অর্থাৎ, দম্ভ করো না, আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না। (ক্বাস্বাস্ব : ৭৬)

📘 জীবন দর্পণ > 📄 মান-সম্ভ্রম

📄 মান-সম্ভ্রম


মানুষের প্রথম দুটি অক্ষর দিয়ে 'মান' হয়। মান ও হুঁশ দুটি মিলে মানুষ হয়। সুতরাং যে মানুষের 'মান' নেই, মানুষের সম-মান নেই, সৃষ্টিকর্তার কাছে সম্মান নেই, সে মানুষ 'মানুষ' হয় কীভাবে?
৮৭ সম্ভ্রম যাবতীয় সদাচরণের সমষ্টির নাম। সম্ভ্রম পবিত্রতা ও কর্মনিপুণতা। সম্ভ্রম গোপনে এমন কাজ না করা, যা প্রকাশ্যে করলে লজ্জিত হতে হয়।
'সব চাইতে শ্রেষ্ঠ মীরাস হল সম্ভ্রম।' 'একটি মহৎ হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার চেয়ে সম্মানজনক আর কিছু নেই।'
অর্থ থাকলে সম্মান আসে---এ কথা মানুষের পার্থিব পরিভাষায় ঠিক হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেক অর্থশালী সম্মানী হয় না। লোকে তার অর্থের ভয়ে অথবা লোভে তাকে বাহ্যতঃ সম্মান দেয়। সুতরাং তোমার অর্থশালী হওয়ার পর সম্মান পেতে লাগলে তাতে তুমি প্রতারিত হয়ো না। বরং প্রকৃত সম্মানের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা কর। যেহেতু অর্থের সাথে যার সম্পর্ক, অর্থ ফুরিয়ে গেলে তা সহসায় নষ্ট হয়ে যাবে।
ইজ্জতের জন্য পয়সা দাও, কিন্তু পয়সার জন্য ইজ্জত দিয়ো না। সর্বহারা হলেও গর্বহারা খবরদার হয়ো না।
জেনে রেখো, তোমার মান ও সম্ভ্রম হল চোখের মত নাজুক। তা নিয়ে খেলা করা চলে না। খেলা করলে অথবা অবজ্ঞা ও অবহেলা প্রদর্শন করলে অচিরে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
অনুরূপ অপরের সম্মান নিয়েও ছিনিমিনি খেলো না, কারণ অনেক মানুষ আছে, যাদের সম্মানটাই একমাত্র সম্বল। আর সে ক্ষেত্রে তোমার সাথে সে এমন আচরণ করতে পারে, যেমন ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়।
এ সংসারে এমন বহু মানুষ আছে, যাদের কোন সম্মানবোধ নেই। কোন অপযশকে তারা অপমান মনে করে না। যাদের মানই নেই, তাদের আবার অপমান কী? ফলে তাদের সেই অনুভূতিটুকুও থাকে না, যাতে তারা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়।
'কুজনের নাহি লাজ নাহি অপমান, সুজনের এক কথা মরণ সমান।'
যার নিজের আত্মসম্মান নেই, তার নিকট অপরেরও সম্মান নেই। সুতরাং এমন মানহীন মানুষের খপ্পর থেকে সুদূরে বসবাস করবে। আর যদি 'পড়েছি চামারের সাথে, খানা খেতে হবে সাথে'র মতো তোমার অবস্থা হয়, তাহলেই সাবধান। যেহেতু 'মেড়ার শিঙ্গে হীরা ভাঙ্গে, মানীর অপমান।' খবরদার তার প্রতিশোধ নিতে যেয়ো না, তাকে টেক্কা দিতে যেয়ো না, তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়ো না। নচেৎ জেনে রেখো, 'যে ব্যক্তি নিম্নমানের লোকের সাথে শত্রুতার মোকাবিলা করে, তার মান বিনাশপ্রাপ্ত হয়।'
'প্রত্যেক সম্মানী কোন শক্তির নিচে সম্মানহারা হয়ে যায়।' বড় গাছের নিচে আর কোন গাছ বাড়তে পায় না। এ জগতে যার অর্থশক্তি আছে, সেই আসলে মানী। ধান আছে যার, মান আছে তার। যার ধান নেই, তার মান নেই। সেই মান আনয়ন করতে অথবা পেটের জ্বালা নিবারণ করতে কোন অর্থশালীর কাছে চাকরি বা চাকরের কাজ নিলে প্রভুর কাছে কি তার মান থাকে? অবশ্যই না।
মানুষ অর্থ ও বিত্তশালীকে সম্মান দেয়, তার জন্য কাফের হয়েও কত অসম্মানী লোক সম্মানীদের নিকট সেলুট ও সম্মান পায়। প্রকারান্তরে প্রকৃত সম্মানী যাঁরা, তাঁরা তাদের কাছে সম্মান পায় না। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (۸) المنافقون
অর্থাৎ, বস্তুতঃ যাবতীয় সম্মান তো আল্লাহরই এবং তাঁর রসূল ও বিশ্বাসীদের। কিন্তু মুনাফিক (কপট) রা তা জানে না। (মুনাফিকুনঃ ৮)
'আঘাত ও অপমানের মধ্যে আঘাতের কথা সহজে ভুলা যায়, কিন্তু অপমানের কথা সহজে ভুলা যায় না।' লৌহ তরবারির আঘাতে ব্যবহার্য্য মলম আছে, কিন্তু বাক-তরবারির আঘাতের কোন মলম নেই। অবশ্য যাদের সম্মান নেই অথবা আত্মসম্মানবোধ নেই তাদের দেহ-মনে সে আঘাত কোন প্রভাবই ফেলতে পারে না।
'নিজেরে করিতে সম্মান দান নিজেরে করি অপমান।' এমন আচরণ আছে বহু মানুষের, যারা নিজেদের গৌরবগান গাইতে গিয়ে নিজেদেরই অপমান ক'রে বসে। নিজের বংশকে গালি দিয়ে নিজেকে ছোট করে। বাপকে অস্বীকার ক'রে মা-কে ব্যভিচারিণী বানায় এবং নিজেকে বানায় জারজ!
সমাজের কোন মানহীন নিকৃষ্ট লোকে চায় না যে, মানীর মান বজায় থাক। বরং মানীর মান বিলীয়মান হতে দেখে মুচকি হাসির মিষ্ট স্বাদ গ্রহণ করে। অপরকে নিজেদের দলে ভিড়তে দেখে খুশি হয় মনে। সুস্বাগতম জানিয়ে তাকে আরও মানহীন করতে সচেষ্ট হয়।
'সমাজে এক শ্রেণীর লোক থাকে যাহারা মর্যাদার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিম্নস্তরে থাকিতে বাধ্য হয় বলিয়া উচ্চস্তরের লোকেরা যখন বে-কায়দায় পড়ে, তখন তাহাদের বে-কায়দার সুযোগ পুরো মাত্রায় গ্রহণ করিতে চেষ্টা করে এবং যে হাতি পাঁকে পড়িয়া যায় তাহাকে ঢেলাইবার প্রবৃত্তি তখন শতমুখী হইয়া ওঠে।'
অনেকে চায়, তারা যেমন, দুনিয়াটা তেমন হোক। তারা বেশ্যা বলে সবারই মেয়ে বেশ্যা হয়ে যাক। আর তা হলে তারা মনে মনে শত খুশীর হাসি হাসে। যেমন কাফেরদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন,
(وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاء) (۸۹) سورة النساء
অর্থাৎ, তারা চায় যে, তারা যেরূপ কাফের, তোমরাও সেরূপ কাফের হও; ফলে তারা ও তোমরা একাকার হয়ে যাও। (নিসাঃ ৮৯)
খুব সাবধান বন্ধু! মানহীনদের এমন চক্রান্তে পড়ে নিজের মান-সম্মান হারিয়ে বসো না। ভিড়ে পড়ে শুধু টাকা-পয়সার পকেটমারিকে ভয় করো না, বরং সেই সাথে সমাজের ঈমান ও সম্মানের পকেটমার থেকেও সাবধান থেকো। আর এ কথাও স্মরণে রেখো যে, ঐ পকেটমারদের সবাই কিন্তু অভদ্রই নয়। তাদের মধ্যে অনেককে ভদ্র সেজেও পকেট মারতে দেখবে। সুতরাং তোমার মন যেন সে সময় ধোঁকা না খায় যে, সে পকেটমার নয়, বরং তোমার কোন হিতাকাঙ্ক্ষী!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00