📘 জীবন দর্পণ > 📄 জীবনে স্বামী, স্ত্রী ও বন্ধুর গুরুত্ব

📄 জীবনে স্বামী, স্ত্রী ও বন্ধুর গুরুত্ব


জীবন একটি সফরের নাম। যে সফরে আছে মরু-প্রান্তর, জল-জঙ্গল, সাগর-তরঙ্গ। সফরের সাথী না হলে একাকী বড় কঠিন পথ চলা। এমন সাথী, যে শোকে সান্ত্বনা দেবে, দুঃখে সঙ্গ দেবে, চোখের পানি মুছে দেবে, যথাস্থলে সাহায্য করবে, ভাল কাজে উৎসাহিত করবে, মন্দ কাজে বাধা দেবে, অন্ধকারে পথ দেখাবে, অন্ধের যষ্টি হবে, আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসবে, আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগিতা করবে।
সে জীবনের সুখ কোথায়? যে জীবনে সব কিছু আছে, কিন্তু মনের মানুষটি নেই। এমন দুনিয়া বৃtha, যে দুনিয়ায় মনের মতো একটি সাথী নেই। জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ হল, দুঃখের কথা বলবার বা শুনবার কেউ না থাকা।
'সুখ ভাগ করলে বেড়ে যায়, কিন্তু দুঃখ ভাগ করলে কমে যায়।' কিন্তু ভাগ দেওয়া ও নেওয়ার মতো কেউ না থাকলে জীবনের শ্রীর ঋদ্ধি-বৃদ্ধির আর উপায় কী বল?
দুঃখের কথা অপরকে বললে দুঃখ অনেকটা হাল্কা হয়ে যায়। কিন্তু মানুষের এমন কিছু দুঃখ আছে, যার কথা সে কাউকে বলতে পারে না। আর তখন সে তা মনের মধ্যে চাপা রেখে সীমাহীন কষ্টাগ্নিতে দগ্ধ হতে থাকে।
এমনও মানুষ আছে, যে মনের মতো কোন বন্ধু পায় না। স্ত্রীরূপে একজনকে পেলেও সে একটা নারী পায়, মনের মানুষ পায় না। অথবা স্বামীরূপে একজনকে পেলেও সে একটা পুরুষ পায়, একটা অবলম্বন পায়, কিন্তু মনের মানুষ পায় না। মনের কথা সে তাকে খুলে বলতে পারে না। বললেও যে কান খুলে শ্রবণ করে না, শুনলেও গ্রাহ্য করে না। চোখ তুলে তাকিয়ে দর্শন করে না। অথবা যে অবজ্ঞা ও ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকায়। যার সাথে মনের মিল হয় না। মত-অভিমতে ভিন্নতার পূর্ব-পশ্চিমের ব্যবধান। পছন্দ- অপছন্দে আকাশ-পাতাল তফাত!
এমনও সন্তান আছে, যার বাপ অথবা মা দ্বিতীয় বিয়ে ক'রে নতুন সংসার পেতেছে। সন্তান অবলম্বনহীন হয়ে অকূল দুঃখ-পাথারে তলিয়ে গেছে। কেউ মুক্ত আকাশে ভাসমান মেঘের মতো বাতাসের গতিবেগের সাথে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দুয়ারে-দুয়ারে ফিরে আঘাত খাচ্ছে। স্নেহহারা হয়ে সর্বহারা হয়েছে সে সন্তান।
'ছিল যারা অনুকূল, তারা হয়ে প্রতিকূল যায় চলে অকূলে ফেলিয়া।' জীবনে যখন দুঃখের তুফান নেমে আসবে, তখন কেউ তোমার সঙ্গ দেবে না। 'কেউ তোমার অমৃতময় পানীয় প্রত্যাখ্যান করবে না, কিন্তু জীবনের গরল তোমাকে একাই পান করতে হবে।' যদি তাই হয়, তাহলে অনুমান কর সেই অবস্থার অন্তর্জালা।
প্রাণের স্বামী যদি পরদারিক হয়, প্রিয়তমা যদি অন্যাসক্তা হয়, পতির যদি দুর্মতি হয়, স্ত্রী যদি ইস্ত্রি হয়ে যায় এবং বন্ধু যদি বন্দুক হয়ে যায়, তাহলে দুঃখের কথা আন্দাজ করতে পার।
'সুখ-দুঃখ মাঝে দোলে নিবিড় আঁধারে, অকূলে না কূল পায় দারুণ শৃঙ্খল পায় নিরানন্দ নিরুপায় পলাইতে নারে।'
এত প্রশস্ত এ দুনিয়ার পুষ্পোদ্যানের প্রমোদ-বিহারে সুখ কীসের, যদি পায়ের জুতাই সংকীর্ণ হয়? স্বামী যদি মনের মতো না হয়, স্ত্রী যদি মনের কথা না বোঝে, তাহলে সংসারে শান্তি কোথায়?
যে তোমার কাঁদনে কাঁদে না, তোমার হাসিতে হাসে না, তোমার মনের কথা বুঝে না, তোমার অভিমান মানায় না, তোমার মনের অনুকূলে থাকে না, তাকে নিয়ে কি শান্তি পাবে কখনও?
'যা কিছু আমাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার সাথে মিল খায়, তাই আমরা বিশ্বাস করি। যা মেলে না, তার জন্য আমাদের রাগ হয়।' স্বামী-স্ত্রীর জীবনেও এমন অনেক সমস্যা আছে, যেগুলির সমাধান প্রত্যেকে নিজ নিজ খেয়াল-খুশি অনুসারে করতে চায়। ফলে সমস্যা আরো বৃদ্ধি পায়।
এ জীবন কোন যাত্রা-সিনেমা নয়। তবুও অনেক মানুষ আছে, যারা যাত্রা- সিনেমার মতো অবাস্তব ব্যবহার চায়। বিধায় বাস্তব জীবনে সমস্যার সমাধান মিলে না।
'আমাদের সমস্যার উত্তর পাওয়া এতো কঠিন, এতে অবাক হওয়ার কিছু আছে? একটা অঙ্কের সমাধান কি সম্ভব, যদি আগেই ভেবে নিই দুই আর দুইয়ে পাঁচ হয়? তবুও এমন ঢের লোক আছে যারা দুই আর দুয়ে পাঁচ বা পাঁচশো হয় ভেবে নিজের আর অন্যের জীবন অতিষ্ঠ ক'রে তোলে।'
সংসারের ভেলা নদীর জোয়ারে ভাসমান তরির মতো বয়ে চলে না। বরং অধিকাংশ সংসারের গাড়ি চাকাহীন গাড়ির মতো, যা চলে বা চলতে বাধ্য হয় টানে অথবা ঠেলায়। যাদের ভাগ্য ভাল, তারা পায় চাকাবিশিষ্ট গাড়ি। আর যাদের ভাগ্য মন্দ, তারা চাকাহীন গাড়ি পায় অথবা চাকাবিশিষ্ট পেলেও পথ পায় বন্ধুর।
স্ত্রী তোমার অর্ধাঙ্গিনী। কিন্তু মনের মতো না হলে তোমার অর্ধেক অঙ্গ বিশ্বস্ত। যেমন একাধিক স্ত্রীর মাঝে ইনসাফ না করতে পারলে কিয়ামতেও তোমার অর্ধাঙ্গ বিশ্বস্ত থাকবে। ফাল্লাহুল মুস্তাআন।
'বক্ষ হইতে বাহির হইয়া আপন বাসনা মম ফিরে মরীচিকাসম। বাহু মেলি তারে বক্ষে লইতে বক্ষে ফিরিয়া পাই না, যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না।'

📘 জীবন দর্পণ > 📄 শত্রুতা

📄 শত্রুতা


কোন্ মানুষের শত্রু নেই? যে মানুষের নিকট থেকে কোন উপকারিতা অথবা অপকারিতা প্রকাশ পায় না, তার কোন শত্রু নেই। যেহেতু যার উপকারিতা আছে তাকে মন্দ লোকেরা এবং যার অপকারিতা আছে তাকে ভালো লোকেরা পছন্দ করে না। সুতরাং তোমার যে শত্রু নেই, তা হতেই পারে না।
চারটি জিনিস শত্রুতা সৃষ্টি করে; অহংকার, হিংসা, মিথ্যাবাদিতা ও চুগলখোরি। ভেবে দেখো, এরই মাধ্যমে সংসারে কত ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে। থাকে। 'যে হাওয়ায় আনে হাসি, সেই তো আবার ঝড় হয়ে যায়।'
'যে ফুলে আনে হাসি, সে ফুলেই দেয় হে ফাঁসি।' শত্রু হয়ে দাঁড়িয়ে দেখে খুশির সাথে বাজায় বাঁশি।
দুনিয়ার এ নীতিও বড় নিমকহারাম। কাল নুন পাচ্ছিল, তাই গুণ গাচ্ছিল। আজ নুন পায় না, তাই গুণ গায় না। তা না গাইলেও ক্ষতি নেই। কিন্তু ক্ষতি হয় তখন, যখন নুন না পেয়ে দোষকীর্তন করে। নতুন নুন না পেয়ে পুরনো নুনের কথাও ভুলে যায়। আর তখন দাতার গুণও সহ্য হয় না বলে তার দোষ গেয়ে বেড়ায়। তার শত্রুর হাতে হাত মিলায়!
জেনে রেখো বন্ধু! তোমার শত্রু হল তিনজন; তোমার শত্রু, তোমার বন্ধুর শত্রু এবং তোমার শত্রুর বন্ধু। কোন শত্রুকেই তুচ্ছজ্ঞান করতে হয় না। 'বিরোধীকে কখনই দুর্বল ভাবতে হয় না।'
সুতরাং শত্রু যখন তোমার প্রতি শত্রুতার হাত বাড়ায়, তখন পারলে তা কেটে ফেল। তা না পারলে তা চুম্বন কর। দুশমন যদি দুশমনি দিয়ে তোমার সম্মুখীন হয়, তাহলে তুমি হিকমত দিয়ে তার মোকাবিলা কর। দরকার হলে সময় ক্ষেত্রে শত্রুর সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে পার।
শায়খ সা'দী বলেছেন, 'শত্রু যখন চারিদিক থেকে নিরাশ হয়ে যায়, তখন দায়ে পড়ে তোমার বন্ধুত্বের দরজার কড়া নাড়ে এবং সে তোমার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার শুরু ক'রে দেয়। কিন্তু তোমার উচিত, তার হাত দ্বারা সাপের মাথা টিপে গলিয়ে দেওয়া। এতে তার বিষ না থাকলে তুমি সাপ মারবে। আর বিষ থাকলে তুমি শত্রুর হাত থেকে নিস্তার পাবে।'
'শত্রুর অসময়ের অনুনয়-বিনয়ে তুমি নরম হয়ো না। কারণ, সে সুযোগ পেলে তোমাকে যে ছেড়ে দেবে, তা নয়।'
হ্যাঁ, 'সাপের লেজে পা দিলে সাপ তো ছোবল মারবেই, চাহে তা ঘরেই হোক অথবা বনে।' কারো কায়েমী স্বার্থে কুঠারাঘাত করলে প্রতিঘাত তো সইতেই হবে। সুতরাং তার জন্য তুমি প্রস্তুত থেকো। 'তুমি তোমার শত্রুর বিরুদ্ধে সেই অস্ত্র দ্বারা লড়াই কর, যে অস্ত্রকে সে ভয় করে। তুমি যে অস্ত্রকে ভয় কর, সে অস্ত্র দ্বারা নয়।'
'মানুষ অনেক বড় বড় কষ্ট সহ্য করে নেয়, কিন্তু দুশমন-হাসি অনেক ক্ষেত্রে সহ্য ক'রে উঠতে পারে না।' তুমিও পারবে না। তবে যদি পারো, তাহলে সে হাসি বন্ধ ক'রে দাও। অবশ্য সে হাসির কারণ তুমি না হয়ে তোমার কাছের কোন লোকও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তুমি নিরুপায়।
যে ব্যক্তি হীন লোকের শত্রুতা-দৃষ্টিতে পড়ে, সে ব্যক্তির মান মাঠে-ঘাটে যায়। কথায় কথায় তার ত্রুটি প্রচার করে। অনেক সময় মিথ্যা বদনাম রটিয়ে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে। অন্যের প্রতিভার প্রতিভাত হতে দেখে তার পেটের ভাত হজম হয় না। তখন চেষ্টা করে তার প্রতিভাতে আঘাত হানতে, তার পেটের ভাতেও লাথি মারতে। নীচমনা অহংকারী হিংসুটে বৈরিতার ফলে যেমন নিজে সুখ পায় না, তেমনি তার আচরণে অন্যকেও সুখে বসবাস করতে দেয় না। এমনই শত্রু সে, যার সাথে ইবলীসের বড় সুসাদৃশ্য আছে। অহংকার ও হিংসাই সর্বপ্রথম পাপ, যার ফলে ইবলীস অভিশপ্ত হয়েছে এবং তার ফলে আদম-হাওয়া জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতারিত হয়েছেন। ইবলীসেরই পরামর্শক্রমে তাঁরা জান্নাতে নিষিদ্ধ গাছ ভক্ষণ ক'রে আল্লাহর অবাধ্যতা করেন এবং তার শাস্তিস্বরূপ পৃথিবীতে নির্বাসিত হন।
অতএব শত্রু যদিও জ্ঞানী হয়, তবুও তার পরামর্শ নিয়ো না। শায়খ সা'দী বলেছেন, 'শত্রু যদি তীরের মত সোজা পথ দেখিয়ে দেয়, তবুও তুমি বাম দিকে যেয়ো।'
তিনি আরো বলেছেন, 'দুই শত্রুর মধ্যস্থলে এরূপ কথাবার্তা বলবে না; যাতে ওদের মধ্যে কেউ পরে তোমার বন্ধু হলে তোমাকে যেন লজ্জিত হতে না হয়।'
আর আমাদের নবী ﷺ বলেছেন, "তোমার বন্ধুকে মধ্যমভাবে ভালোবাস (অর্থাৎ, তার ভালোবাসাতে তুমি অতিরঞ্জন করো না)। কারণ, একদিন সে তোমার শত্রুতে পরিণত হতে পারে। আর তোমার শত্রুকে তুমি মধ্যমভাবে শত্রু ভেবো। (অর্থাৎ, তাকে শত্রু ভাবাতে বাড়াবাড়ি করো না।) কারণ, একদিন সে তোমার বন্ধুতে পরিণত হতে পারে।” (সুতরাং তখন তোমাকে লজ্জায় পড়তে হবে।) (তিরমিযী ১৯৯৭, সহীহুল জামে' ১৭৮ নং)

📘 জীবন দর্পণ > 📄 আবেগ

📄 আবেগ


একজন মানুষের ভিতরে আবেগ থাকতেই পারে। কিন্তু তার গতিবেগ লাগামছাড়া হওয়া মোটেই উচিত নয়। জোশ ও আবেগ ছাড়া মানুষের বড় কাজে স্পৃহা জন্মে না। কর্তব্যকর্মে অনীহা যায় না। কিন্তু আবেগ যেন বেশি না হয়। কারণ, 'হৃদয়ের দরজায় যখন ক্রোধ অথবা আবেগ প্রবেশ করে, তখন বিবেক-বুদ্ধি তার জানালা দিয়ে পলায়ন করে।'
আবেগ মানুষকে অন্ধ ক'রে তোলে। অন্ধানুকরণ তথা ভক্তির আতিশয্য তখন 'হক' গ্রহণ করতে বাধাদান করে।
আবেগময় মানুষ কোন কর্মে যত তাড়াতাড়ি সম্মত হয়, তত তাড়াতাড়ি সামান্য ত্রুটি দর্শনে মত পরিবর্তন করে। এদের মন যত শীঘ্র গড়ে, তত শীঘ্র ভাঙ্গে।
সুতরাং 'আবেগ নিয়ন্ত্রণ ক'রে বিবেক প্রয়োগ করা জ্ঞানীর কাজ। যেহেতু বিবেক মানুষকে সত্যের পথ দেখায় আর আবেগ পথভ্রষ্ট করে।'
মুসলিম যুবসমাজের মাঝে আজ আবেগ নয়, গতিবেগ চাই। 'আবেগ দিয়ে নাটক-উপন্যাস হয়; জীবন-যুদ্ধ হয় না।'
আবেগের টানে সাজা দিতে ভুলে যাওয়া উচিত নয়, উচিত নয় কাউকে সেই স্থান দান করা, যে স্থানের সে উপযুক্ত নয়। নচেৎ লাগামহীন আবেগের মেঘমালা তোমার হৃদয় আকাশে তুফান সৃষ্টি করবে এবং নিমিষে তোমার সব কিছু তছনছ ক'রে ছাড়বে।

📘 জীবন দর্পণ > 📄 আনন্দ

📄 আনন্দ


একটি মানুষকে আনন্দিত ও হাসিখুশি দেখলে বড় ভালো লাগে। অবশ্য নিজে আনন্দে থাকাটা স্বেচ্ছাধীন ব্যাপার নয়। আনন্দের কারণ তৈরি ক'রে নিতে হয়।
'আনন্দময় পরিবেশ ভালো কিছু করার প্রেরণা জোগায়।' আনন্দ মানুষের মনে কর্তব্য-কর্মের উৎসাহ যোগায়। তবে 'আনন্দ হচ্ছে এক রকমের ফল, যা সবুজ অবস্থায় খাওয়া উচিত।' যেহেতু আনন্দের মুহূর্তলাভ সর্বদা সহজলভ্য নয়।
আনন্দলাভ একাকী সম্ভব নয়। একা একা যে কোন খেলা খেলে, সে খেলার প্রকৃত আনন্দ পায় না। প্রকৃত আনন্দ লাভের জন্য শরীক হওয়া জরুরী। ছুটির দিন কর্মজীবি মানুষদের জন্য বড় আনন্দের দিন। কিন্তু ছুটির দিনে সবাই ছুটি নিলে ছুটির আনন্দ থাকে না।
সবাই কিছু পেয়ে আনন্দ পায়, কিন্তু হারানোর আনন্দ ক'জন পায়? যার ছেলে-মেয়ে বড় কিছু হওয়ার জন্য বিদেশ-যাত্রা করে, বড় কিছু পাওয়ার জন্য কাছ-ছাড়া হয়, সেই পায় হারানোর আনন্দ। 'অনেক আনন্দের মধ্যে বেদনা, অনেক বেদনার মধ্যে আনন্দ লুকিয়ে থাকে।'
কিন্তু অনেক মানুষ আছে, যারা 'হারানোর আনন্দ' নিতে চায় না। যার ফলে ক্ষতি করে তাদের, যাদেরকে তারা হারিয়ে যাওয়ার ভয় করে। পেয়ে ফুরিয়ে যাওয়ার আনন্দ ক্ষণিকের হলেও তা চিরস্মরণীয়। আনন্দের কথা মনে পড়তেই মন আনন্দাপ্লুত হয়।
'আকাশে তো আমি রাখি নাই, মোর উড়িবার ইতিহাস, তবু, উড়েছিনু এই মোর উল্লাস।'
'স্ফুলিঙ্গ তার পাখায় পেল ক্ষণকালের ছন্দ, উড়ে গিয়ে ফুরিয়ে গেল সেই তারি আনন্দ।'
তাজ পেয়েছিলে যেখানে, তাজমহল বানিয়েছিলে যেখানে, সেখানের মানুষ তোমার মাথা থেকে তাজ ছিনিয়ে নিলেও তোমার আনন্দ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকা উচিত এই খেয়াল ক'রে যে, তুমি একদিন সেখানে তাজ-ওয়ালা ছিলে এবং সেখানকার তাজমহল তোমারই তৈরিকৃত স্মৃতিসৌধ।
'জীবনে বাঁচতে হলে আনন্দের প্রয়োজন আছে। কিন্তু আনন্দের নামে উচ্ছৃঙ্খলতা জীবনকে নষ্ট ক'রে দেয়।' বলা বাহুল্য, অবৈধ কিছু খেয়ে বা ক'রে কোন আনন্দ বৈধ নয়।
জান তো বন্ধু! 'যত হাসি তত কান্না, বলে গেছেন কবি মান্না।' গর্ব ও অহংকার মিশ্রিত আনন্দ কিন্তু আদৌ ভাল নয়। মহান আল্লাহ এমন আনন্দকে পছন্দ করেন না। কারূনের সম্প্রদায় কারূনকে সেই কথাই বলেছিল,
{لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ } (٧٦) سورة القصص
অর্থাৎ, দম্ভ করো না, আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না। (ক্বাস্বাস্ব : ৭৬)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00