📘 জীবিকার খোঁজে 📄 কার্রামিয়্যা সম্প্রদায়ের বিচ্ছিন্ন মত

📄 কার্রামিয়্যা সম্প্রদায়ের বিচ্ছিন্ন মত


আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অধিকাংশ ফকীহ্ বা আইনবিদের মতে, যেটুকু জীবিকা ছাড়া মানুষ চলতে পারে না, ততটুকু জীবিকা অনুসন্ধান করা ফরজ। তবে কাব্রামিয়্যা সম্প্রদায়ের মত হলো—

'বরং (ওই অবস্থাতে) জীবিকা অনুসন্ধান করা বৈধ, অর্থাৎ শারীআ'র পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হয়েছে কেবল। কারণ, জীবিকা অনুসন্ধানের দুটি অবস্থাই হতে পারে: (১) সর্বাবস্থায় ফরজ, অথবা (২) বিশেষ সময়ে ফরজ। প্রথমটি ভ্রান্ত, কারণ তা হলে কোনও ব্যক্তি এ ফরজ আদায় করে অন্যান্য ফরজ ও ওয়াজিব পালন করার সময়ই পাবে না। আর দ্বিতীয়টিও বাতিল, কারণ কোনও কিছু নির্দিষ্ট সময়ে সম্পাদন করা ফরজ হলে, (শারীআ'র পক্ষ থেকে) সেটিকে ওই সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেওয়া হয়, যেমন সালাত ও সাওম; অথচ শারীআ'য় জীবিকা অনুসন্ধানকে কোনও সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়নি।

তারপর জীবিকা অনুসন্ধানের কেবল দুটি দিক হতে পারে: (১) এর প্রতি মানুষের আকর্ষণ থাকার ফলে এটি ফরজ, অথবা (২) একান্ত প্রয়োজন দেখা দিলে তা ফরজ। প্রথমটি ভ্রান্ত, কারণ দুনিয়ার সকল সম্পদের প্রতিই মানুষের আকর্ষণ রয়েছে, অথচ কেউ এ কথা বলছে না যে, সেসব অর্জন করা প্রত্যেকের জন্য ফরজ। আর দ্বিতীয়টিও বাতিল, কারণ একান্ত প্রয়োজনকে সামনে রেখে যা ফরজ করা হয়, কেবল নিরুপায় অবস্থায় পড়লেই তার আবশ্যকতা প্রয়োগ করা যায়; আর একান্ত নিরুপায় অবস্থায় পড়লে তো মানুষ জীবিকা অনুসন্ধান করতেও অক্ষম হয়ে পড়বে! সুতরাং অপারগ অবস্থায় কোনও কিছু সম্পাদন করা কীভাবে ফরজ হতে পারে?

তারপর এর কেবল দুটি অবস্থাই হতে পারে: (১) সব ধরনের জীবিকা অনুসন্ধান করা ফরজ, অথবা (২) বিশেষ ধরনের জীবিকা অনুসন্ধান ফরজ। প্রথমটি ভ্রান্ত, কারণ কোনও মানুষের পক্ষে সব ধরনের জীবিকা উপার্জন করা সম্ভব নয়; সব ধরনের জীবিকা সম্পর্কে একজন ব্যক্তি জানতেও পারবে না, কারণ সে সম্পর্কে জানার আগেই তার জীবন শেষ হয়ে যাবে। আর দ্বিতীয়টিও বাতিল, কারণ জীবিকার মধ্যে এমন শ্রেণীবিন্যাসের সুযোগ নেই যে, একটিকে বাদ দিয়ে অপরটিকে ফরজ গণ্য করা হবে।

এরপর তার দুটি ধরন হতে পারে: (১) জীবিকা অনুসন্ধান সকল মানুষের জন্য ফরজ, অথবা (২) কিছু লোকের উপর ফরজ। প্রথমটি ভ্রান্ত, কারণ নবিগণ সাধারণ সময়ে জীবিকা অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকতেন না; একই কথা প্রথম সারির সকল সাহাবি ও তাদের পরবর্তী মহৎ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, আর তাদের ব্যাপারে এ ধারণা করা যায় না যে, তাঁরা সকলেই নিজেদের ফরজ দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছেন। দ্বিতীয়টিও বাতিল, কারণ মানুষের মধ্যে এমন বিভাজনের সুযোগ নেই যে-তাদের একদলের জন্য জীবিকা অনুসন্ধান ফরজ, আর অপর দলের জন্য তা ফরজ নয়।

সুতরাং স্পষ্ট হয়ে গেল যে, জীবিকা অনুসন্ধান মূলত ফরজ নয়। এর প্রমাণ- যদি মূলগত দিক দিয়ে এটি ফরজ হতো, তা হলে বেশি বেশি উপার্জন করা প্রসংশনীয় কাজ হিসেবে গণ্য হতো, অথবা এটি নফল ইবাদাতের পর্যায়ভুক্ত হতো; অথচ অধিক উপার্জন নিন্দনীয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:

اِعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرُ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرُ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانُ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

"ভালোভাবে জেনে রাখো-দুনিয়ার জীবন একটা খেলা, হাসি-তামাশা, বাহ্যিক চাকচিক্য, তোমাদের পারস্পরিক গৌরব ও অহংকার এবং সন্তানসন্ততি ও অর্থ-সম্পদে পরস্পরকে অতিক্রম করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর উপমা হচ্ছে-বৃষ্টি হয়ে গেল এবং তার ফলে উৎপন্ন উদ্ভিদরাজি দেখে কৃষক আনন্দে উত্তফুল্ল হয়ে উঠল। তারপর সে ফসল পেকে যায় এবং তোমরা দেখতে পাও যে, তা হলদে বর্ণ ধারণ করে এবং পরে তা ভূষিতে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে, আখিরাত এমন স্থান যেখানে রয়েছে কঠিন আযাব, আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। দৌড়াও-এবং একে অপরের চেয়ে অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করো-তোমার রবের মাগফিরাতের দিকে এবং সে জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি আসমান ও জমিনের মতো। তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে সে লোকদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান এনেছে। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।"

এ দিক দিয়ে জীবিকা অনুসন্ধান ও জ্ঞানান্বেষণের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়, কারণ জ্ঞানান্বেষণ মূলত ফরজ, তাই অধিক পরিমাণে জ্ঞানার্জন একটি প্রশংসনীয় কাজ।'

টিকাঃ
[৩] মুহাম্মাদ ইবনু কারাম সিজিস্তানির (মৃত্যু ২৫৫ হিজরি) অনুসারীদের দল।

📘 জীবিকার খোঁজে 📄 প্রয়োজন অনুপাতে জীবিকা উপার্জন বাধ্যতামূলক হওয়ার দলিল ও বিরোধীদের সংশয় নিরসন

📄 প্রয়োজন অনুপাতে জীবিকা উপার্জন বাধ্যতামূলক হওয়ার দলিল ও বিরোধীদের সংশয় নিরসন


এ ব্যাপারে আমাদের অকাট্য দলিল হলো আল্লাহ তাআলার এই ফরমান:

أَنفِقُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ

"তোমাদের উপার্জিত পরিচ্ছন্ন জিনিসগুলো থেকে খরচ করো।" (সূরা আল-বাকারাহ ২:২৬৭)

আদেশ বা অনুজ্ঞা দ্বারা মূলত বাধ্যবাধকতা বোঝায়। উপার্জনের পরেই কেবল উপার্জিত জিনিস থেকে খরচের কল্পনা করা যায়। আর যা ছাড়া ফরজ বাস্তবায়ন করা যায় না, তাও ফরজ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

"সালাত শেষ হয়ে গেলে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি করে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।" (সূরা আল-জুমুআহ্ ৬২:১০)

আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান মানে জীবিকা অন্বেষণ। (এ আয়াতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।) আর আদেশ বা অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয় মূলত বাধ্যবাধকতা বোঝাতে।

যদি বলা হয়, মুজাহিদ ও মাকহুল থেকে তো বর্ণিত হয়েছে যে তারা বলেছেন, (এখানে আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান দ্বারা) জ্ঞানান্বেষণকে বোঝানো হয়েছে, তখন আমরা বলি-আমরা যে ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছি তা আল্লাহর রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত হয়েছে। নবি ﷺ বলেন,

طَلَبُ الْكَسْبِ بَعْدَ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ الْفَرِيضَةُ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ

"ফরজ সালাতের পর জীবিকা অনুসন্ধান হলো ফরজের পর ফরজ।" [১] এরপর নবি ﷺ নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করেন:

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَথিরًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

"সালাত শেষ হয়ে গেলে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি করে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।" (সূরা আল-জুমুআহ ৬২:১০)

সুতরাং মাকহুল ও মুজাহিদ-এর ব্যাখ্যার উদ্ধৃতি দিয়ে নবি ﷺ-এর এ ব্যাখ্যা পরিত্যাগ করা যাবে না।

আমরা যা উল্লেখ করেছি, বাহ্যিক দিক থেকেও এর সমর্থন মেলে। আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়ার পর বলা হয়েছে:

وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا قُلْ مَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ مِّنَ اللَّهْوِ وَمِنَ التِّجَارَةِ وَاللَّهُ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

"আর যে সময় তারা ব্যাবসা ও খেল-তামাশার উপকরণ দেখল, তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে দৌড়ে গেল। তাদের বলো, আল্লাহর কাছে যা আছে, তা খেল-তামাশা ও ব্যাবসার চেয়ে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।" (সূরা আল-জুমুআহ্ ৬২:১১)

নবি ﷺ খুতবা (ভাষণ) দেওয়ার সময় তারা সেদিকে দৌড়ে গিয়েছিলেন। তাই তাদেরকে (সালাতের সময়) ওই কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং সালাত আদায় শেষে ওই কাজ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

যদি বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার পর আদেশ দেওয়া হলে তো ওই আদেশ দ্বারা বৈধতা বোঝায়, তখন আমরা বলব—আদেশ দ্বারা মূলত বাধ্যবাধকতা বোঝায়; যদি বৈধতা ও ছাড় বোঝানো উদ্দেশ্য হতো, তা হলে আল্লাহ বলতেন 'আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করলে তোমাদের কোনও সমস্যা হবে না', যেমনটি আল্লাহ তাআলা হাজ্জের সফর প্রসঙ্গে বলেছেন:

لَيْসَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ

"(হাজ্জের সফরে) তোমরা যদি তোমাদের রবের অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো, তাতে তোমাদের কোনও সমস্যা নেই।" (সূরা আল-বাকারাহ্ ২:১৯৮)

এ বিষয়ে আরেকটি দলিল হলো, আল্লাহ তাআলা পরিবারের স্ত্রী, সন্তানাদি ও ইদ্দাহ্-পালনরত নারীদের পেছনে খরচ করার নির্দেশ দিয়েছেন; উপার্জন-প্রক্রিয়ায় সম্পদ অর্জনের পরেই কেবল তাদের পেছনে খরচ করা সম্ভব; আর যার মাধ্যমে আবশ্যক কর্ম সম্পাদন সম্ভব হয়ে ওঠে, সেটিও আবশ্যক হিসেবে গণ্য হয়।

বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করলেও এর অনুকূলে সমর্থন পাওয়া যায়, কারণ জগতের শৃঙ্খলা ও বিশ্ব-ব্যবস্থাপনা উপার্জনের সঙ্গে জড়িত। এ জগতকে চূড়ান্ত ধ্বংসের আগ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা হলো আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্ত। আর তিনি (এ উদ্দেশ্যে) বান্দার উপার্জন-প্রচেষ্টাকে জগতের স্থিতি ও ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকারণ বানিয়ে দিয়েছেন; উপার্জন-প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করা মূলত বিশ্ব-ব্যবস্থাপনাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর; আর (আল্লাহর আইনে) এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ।

যদি বলা হয়, বিশ্বের শৃঙ্খলা তো প্রাণীজগতের পারস্পরিক মিলনের সঙ্গে জড়িত, অথচ কেউ তো মিলনক্রিয়াকে বাধ্যতামূলক বলছে না! তখন আমরা বলব—হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা জগতের স্থিতিকে প্রাণীকূলের পারস্পরিক মিলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দিয়েছেন, তবে তিনি তাদের প্রকৃতির ভেতর পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ রেখে দিয়েছেন, আর এ আকর্ষণই তাদেরকে ওই কর্মের দিকে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে তারা যেন ওই মিলনক্রিয়া পরিত্যাগ না করে এ জন্য এটিকে তাদের উপর বাধ্যতামূলক করে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, কারণ প্রকৃতিই তাদেরকে সেদিকে নিয়ে যাবে।

কিন্তু জীবিকা-অন্বেষার শুরুতে থাকে কষ্ট-ক্লেশ; বিশ্বব্যবস্থাপনার স্থিতিও এর সঙ্গে জড়িত। তাই মূলগত দিক দিয়ে জীবিকা-অন্বেষাকে ফরজ করা না হলে, সকল মানুষই এ কাজ পরিত্যাগ করবে, কারণ তাদের প্রকৃতির মধ্যে এমন কিছু নেই, যা তাদেরকে কষ্ট-ক্লেশের দিকে নিয়ে যাবে। ফলে ইসলামি আইন মূলগত দিক দিয়ে জীবিকা-অন্বেষাকে ফরজ করে দিয়েছে, যাতে মানুষ সম্মিলিতভাবে এ কাজ পরিত্যাগ না করে। আর এর মাধ্যমে (বিশ্বব্যবস্থাপনাকে ঠিক রাখার) কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যায়।

কাব্রামিয়্যা সম্প্রদায় যেসব বিভাজন উল্লেখ করেছে, সেসবের ভ্রান্তি ইমাম মুহাম্মাদ-এর একটি কথা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়; তিনি বলেছেন-'জীবিকা-অন্বেষা ফরজ, ঠিক যেমন জ্ঞানার্জন ফরজ'। কারণ এ (রকমারি) বিভাজন জ্ঞানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; অথচ তা সত্ত্বেও সবাই একমত যে, জ্ঞানার্জন মূলগত দিক দিয়ে ফরজ। জীবিকা-অন্বেষার বিষয়টিও একই পর্যায়ের।

'জীবিকা-অন্বেষা ফরজ' বলতে আমরা শুধু ততটুকু বুঝিয়েছি, যতটুকুর সঙ্গে বিশ্বব্যবস্থাপনার স্থিতি জড়িত। পারস্পরিক অহঙ্কার প্রকাশ ও অধিক ঐশ্বর্যশালী হওয়ার লক্ষ্যে বেশি বেশি জীবিকা উপার্জনের সঙ্গে বিশ্বব্যবস্থাপনার স্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই। আল্লাহ তাআলা এ ধরনের প্রতিযোগিতাকে নিন্দনীয় আখ্যায়িত করে বলেন:

اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرُ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرُ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ

"ভালোভাবে জেনে রাখো-দুনিয়ার জীবন একটা খেলা, হাসি তামাশা, বাহ্যিক চাকচিক্য, তোমাদের পারস্পরিক গৌরব ও অহংকার এবং সন্তানসন্ততি ও অর্থ-সম্পদে পরস্পরকে অতিক্রম করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।" (সূরা আল-হাদীদ ৫৭:২০)

টিকাঃ
[১] তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর, ১০/৭৪; বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/ ১২৮; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/২৯১। সনদে একজন বর্ণনাকারী দুর্বল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px