📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন > 📄 সালাফদের মাঝে তাকওয়া চর্চা

📄 সালাফদের মাঝে তাকওয়া চর্চা


আমার প্রিয় মুসলিম ভাই! তোমাকে সালাফদের কিছু গল্প শুনাই। আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন। তারা সব সময় একে অপরকে তাকওয়াবান হওয়ার উপদেশ দিতেন।¹
আবু বকর রাযিয়াল্লাহু তার খুতবাতে বলতেন, 'আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি, তাকওয়া অর্জন করার, এবং আল্লাহর প্রশংসা করার ঠিক সেভাবে, যেভাবে তিনি চান। তোমার আশা আকাঙ্ক্ষার সাথে আল্লাহর ভয়কে যুক্ত করে নাও এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর। আল্লাহ যাকারিয়া আলাহিস সালাম এবং তার পরিবারের প্রশংসা করে বলেন-
"তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত। আর আমাকে আশা ও ভীতি সহকারে ডাকত। আর তারা ছিল আমার নিকট বিনয়ী।”²
আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন তখন তিনি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে পাঠালেন এবং আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিলেন।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার সন্তানকে একটি পত্রে লেখেন, 'আমি তোমাকে আল্লাহকে ভয় পাওয়ার উপদেশ দিচ্ছি। যারা আল্লাহকে ভয় পায়, আল্লাহ তাদের হিফাজত করবেন তার শাস্তি থেকে। যে আল্লাহকে ঋণ দেয়, আল্লাহ অবশ্যই সেটার প্রতিদান দেন, এবং যারা তার প্রশংসা করে আল্লাহ তাকে আরো বাড়িয়ে পুরস্কৃত করেন। তাকওয়াকেই তোমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানাও, এবং অন্তরকে তাকওয়া দিয়ে পরিষ্কার করে নাও।'
আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু একজনকে লক্ষ্য করে বলেন, 'আল্লাহকে ভয় পাওয়ার উপদেশ আমি তোমাকে দিচ্ছি। তাকে ভয় পাওয়ার উপদেশ যার সাথে অবশ্যই তোমার সাক্ষাৎ হবে এবং তাকে ছাড়া তোমার আর কোনো গন্তব্য নেই। তিনিই দুনিয়া এবং আখিরাতের নিয়ন্ত্রক।
উমর ইবনু আব্দুল আজিজ রহিমাহুল্লাহ একজন ব্যক্তিকে লেখেন, আমি তোমাকে তাকওয়া অর্জনের উপদেশ দিচ্ছি। ঐ আল্লাহকে ভয় পাওয়ার উপদেশ দিচ্ছি যিনি তাকওয়া ব্যতীত কোনো কিছু গ্রহণ করেন না। তিনি তার অনুগামীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, এবং তাঁদের পুরস্কৃত করেন। অনেকে আছে যারা তাকওয়া অর্জনের দাওয়াহ দেয়, কিন্তু কেবলমাত্র কিছু লোক এতে আমল করতে পারে। আল্লাহ আমাদেরকে তাকওয়াবানদের মধ্যে শামিল করুন।
যখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খলিফা নির্বাচিত হন, তখন তিনি একটি খুতবা দেন, এতে তিনি বলেন, 'আমি তোমাদের আল্লাহকে ভয় পাওয়ার এবং উত্তম কাজ করার উপদেশ দিচ্ছি, কেননা তিনি তাঁদের সাথেই থাকেন, যারা তাকে ভয় পায় এবং উত্তম কাজ করে।'
এক ব্যক্তি হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে কিছু উপদেশ চাইলেন, তিনি বলেন, 'আল্লাহকে ভয় কর, যারা তাঁকে ভয় করে তারা কখনো নিঃসঙ্গ হয় না।'
শু'বা বলেন, যখনো তিনি কোনো সফরের জন্য বের হতেন। তিনি হাকামের নিকট যেতেন, আর জিজ্ঞেস করতেন তার কিছু লাগবে কি না। তখন সে বলত, 'আমি তোমাকে ঐ শব্দে উপদেশ দিব, যে শব্দে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায রাযিয়াল্লাহু আনহুকে উপদেশ দিয়েছিলেন- 'তুমি যেখানেই থাকো না কেন, সর্বদা আল্লাহকে ভয় কর। কোনো ভুল হলে এটা তা মুছে দিবে, এবং মানুষদের সাথে সুন্দর আচরণ করবে।'
একজন সালাফ তার ভাইকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখে বলেন- 'আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ আমি তোমাকে দিচ্ছি, কেননা এটা হল সর্বোত্তম বিষয়, যা তুমি গোপন রাখতে পারো, এটা সবচে' সুন্দর বিষয়, যা প্রচার করতে পার, এটাই সর্ব মুল্যবান সম্পদ, যা তুমি সঞ্চয় করতে পার। আল্লাহ আমাদের উভয়কে এটা অর্জন করার তাওফিক দান করুন।'
আরেকজন সালাফ তার ভাইকে লিখেন-'আমি তোমাকে এবং আমাকে তাকওয়া অর্জনের নসিহত করছি। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য এটাই হল সর্বোত্তম রিযিক। এটা দিয়ে তুমি প্রত্যেক ভালো কাজের দিকে ধাবিত হও এবং মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাক।'
যখন আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু সিফফিন যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেন, তিনি কুফা শহরের বাহিরে একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেন-'হে তুমি, যে এমন ঘরে বসবাস করছ যা একাকীত্বের জন্য তৈরি করা হয়েছে, এবং দুনিয়া থেকে পৃথক রাখা হয়েছে! হে তুমি, যে অন্ধকার কবরে শুয়ে আছো! হে বিচ্ছিন্ন ও নিঃসঙ্গ মানুষ! তোমরা হলে আমাদের অগ্রবর্তী আর আমরা হলাম তোমাদের পিছনে অনুগামী। তোমাদের বাসা? ভালো, সেখানে এখন অন্যরা বসবাস করে। তোমাদের স্ত্রী? তারা আবার বিয়ে করেছে। তোমাদের সম্পদ? তা বণ্টিত হয়েছে। তোমাদের জন্য এই কিছু খবরই আমাদের কাছে আছে। আচ্ছা আমাদের জন্য তোমাদের কাছে কী খবর আছে? অতঃপর আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু সৈন্যসারীর দিকে ঘুরে দাঁড়ান এবং বলেন, 'যদি তারা কথা বলার অনুমতি পেত, তাহলে তারা আমাদের জানাতো, সর্বোত্তম রসদ হল তাকওয়া। '³

টিকাঃ
¹এই অধ্যায়টি নেয়া হয়েছে Taqwa: The provision of Believers, Al-Firdous Ltd, ১৯৯৫ গ্রন্থের তৃতীয় অনুচ্ছেদ থেকে।
²সুরা আম্বিয়া: ৯০।
³নাহযুল বালাগাহ: ১২৬১

📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন > 📄 তাকওয়াবানদের বৈশিষ্ট্য

📄 তাকওয়াবানদের বৈশিষ্ট্য


আল্লাহ পবিত্র কুর'আনের বিভিন্ন স্থানে তাকওয়াবানদের (মুত্তাকুন) বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে সবচে' বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে নিম্নোক্ত আয়াতে কারিমায়।
لَّيْسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ.
ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে; বরং ভালো কাজ হল যে ঈমান আনে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি এবং যে সম্পদ প্রদান করে তার প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণকে, ইয়াতীম, অসহায়, মুসাফির ও প্রার্থনাকারীকে এবং বন্দিমুক্তিতে এবং যে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, যারা ধৈর্যধারণ করে কষ্ট ও দুর্দশায় ও যুদ্ধের সময়ে। তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী।”¹

টিকাঃ
¹সুরা বাকারা: ১৭৭।

📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন > 📄 আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু'র মুখে তাকওয়াবানদের বৈশিষ্ট্য

📄 আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু'র মুখে তাকওয়াবানদের বৈশিষ্ট্য


হাম্মান ইবনে শুরাইহ-আলি রাযিয়াল্লাহু আনহুর একজন সাথী, তিনি তাঁকে তাকওয়াবান ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন যাতে করে তিনি ধর্মভীরুদের চিনতে পারেন। আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আল্লাহ যখন তাঁর সৃষ্টিকে তৈরি করেন, তখন তিনি তাঁদের আল্লাহর প্রতি আনুগত্য করার অথবা আনুগত্য না করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে তৈরি করেন। বান্দা আনুগত্য করলে আল্লাহর কোনো লাভ হয় না, আবার বান্দা হঠকারিতা দেখালেও আল্লাহর কোনো ক্ষতি হয় না। অতঃপর তিনি সৃষ্টিদের মাঝে দুনিয়াবী রসদ বণ্টন করে দেন। যে সকল সৃষ্টির মাঝে তাকওয়া রয়েছে, তাঁদের মধ্য কিছু বৈশিষ্ট্য দিয়ে দেন, তারা সর্বদা সত্য বলে; তাঁদের কাপড় হয় মধ্যম মানের; তাঁদের হাঁটা-চলার সময় তাঁরা থাকে বিনয়ী; তাঁরা চোখ নামিয়ে নেয়, যখন তাঁরা এমন কিছু দেখে যা আল্লাহ তাঁদের জন্য দেখা হারাম করেছেন; তাঁরা উত্তম কথা শুনে; সুখে-দুঃখে, নিঃস্বতা-সমৃদ্ধিতে, উভয় অবস্থায় তাঁরা সত্য কথা বলে এবং চারিত্রিক সরলতা বজায় রাখে।
আল্লাহ কি তাঁদের মৃত্যুর সময় লিখে রাখেননি? তাঁদের রূহ অতিরিক্ত এক সেকেন্ডও শরীরে থাকতে পারবে না, বরং তা ব্যাকুল হয়ে উঠবে আল্লাহর অবধারিত পুরস্কার বা শাস্তি পেতে। আল্লাহ তাঁদের চক্ষুকে সবচেয়ে উঁচু মাকামের দিকে আবদ্ধ করে রেখেছেন, তাই দুনিয়ার বাকি সবকিছু তাঁদের কাছে গুরুত্বহীন। তাঁরা জান্নাতে থাকবে, এবং তা তাঁরা দুনিয়াতেও কিছুটা বুঝতে পেরেছে, জান্নাতের উপস্থিতি তাঁরা দুনিয়াতেই উপভোগ করেছে। তাঁদের অন্তরে থাকে নিদারুণ দুঃখ, আর তাঁদের শরীর হয় জীর্ণ-শীর্ণ। তাঁদের চাহিদা কম।
তাঁরা কয়েক দিন ধৈর্য ধরে এবং পরে চিরন্তন স্বস্তি ও শান্তি লাভ করে। এটা হল লাভজনক বিনিময়, তাঁদের রব তাঁদের জন্য বেসুমার আয়োজন করেছেন। দুনিয়া তাঁদের আকৃষ্ট করে, প্রবলভাবে প্রলুব্ধ করে, কিন্তু তাঁরা এই ফাঁদে পা দেয় না। দুনিয়া তাঁদের বন্দি করার চেষ্টা করে, কিন্তু তাঁরা মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত হয়ে যায়।
রাতের সময় তাঁরা কাতারে দাঁড়ায়, কুর'আনের কিছু অংশ পাঠ করে। তাঁরা মনোযোগের সাথে তিলাওয়াত করে, যা তাঁদের অন্তরে প্রবেশ করে, তাঁরা তা পান করে যেন কুর'আনের তিলাওয়াত হল একটি ঔষুধ। যখন কোনো আবেগী আয়াত তাঁদের সামনে এসে পড়ে, তাঁরা তখন বিশ্বাস করে সেটাই তাঁদের গন্তব্য। যখন কোনো ভীতিপ্রদর্শন মূলক আয়াত সামনে আসে, তাঁরা আয়াতকে অন্তরের অন্তস্থলে অনুভব করে, এবং বিশ্বাস করে জাহান্নাম। তাঁরা মনে করে জাহান্নাম প্রচন্ড জোরে ভয়ঙ্কর চিৎকার করছে এবং তা তাঁরা কানে শুনতে পাচ্ছে। তারা কপাল এবং হাঁটুর উপর ভর দিয়ে ঘুমাই। (অর্থাৎ তাঁরা এত বেশি রাতের সালাতে মশগুল থাকতেন যে সিজদাহে মাথা ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে পড়তেন।)
দিনে তাঁদের দেখা যায়, একজন জ্ঞানি, সহনশীল, দয়ালু এবং আল্লাহভীরু হিসেবে। আল্লাহকে ভয় করার প্রভাব তাঁদের দেহের উপর এমনভাবে পড়ত যে, কেউ তাঁদের দেখলে মনে করবে তাঁরা মানুষ নয়, যেন কোনো সোজা দণ্ডায়মান লাঠি। কেউ ধারণা করেন তাঁরা কিংকর্তব্যবিমুঢ় অবস্থায় থাকেন। বাস্তবে আল্লাহর ভয়ের প্রভাবে তাঁদের দেখতে এমন মনে হয়। যদি তাঁদের কাউকে কেউ দ্বীনদার বলে মন্তব্য করে তখন তিনি ভয় পেয়ে যান এবং বলেন-'আমি নিজেকে তোমার চাইতে ভালো করে জানি। আমার রব আমাকে আমার চাইতেও ভালো করে জানেন। হে আল্লাহ! তারা আমার সম্পর্ক যা বলেছে আমি তা থেকে মুক্ত, এবং আমার সম্পর্কে তাঁরা যা ধারণা করে আমাকে তাঁর চাইতেও উত্তম বানিয়ে দিন। আমার যেসকল পাপ সম্পর্কে তাঁরা জানে না তা ক্ষমা করুন।'
তাঁদের নিদর্শন হল-তাঁরা দ্বীনের মধ্যে অটল থাকেন। তাঁদের নম্রতার মাঝেও তারা দৃঢ়সংকল্প থাকেন। তাঁদের বিশ্বাসে অনড় থাকেন। ইলম হাসিলের জন্য তাঁরা ব্যাকুল থাকেন। ঐশ্বর্যে তাঁরা মধ্যমপন্থা অনুসরণ করেন। ক্ষুধার্ত অবস্থায়ও তাঁরা হাসিখুশি থাকেন। অসুস্থ অবস্থায় থাকেন ধৈর্যশীল। হালালের তালাশে থাকেন। সর্বাবস্থায় মানুষদের নসিহত করেন।
তাঁরা উত্তম কাজ করেও তা কবুল না হওয়ার ভয়ে থাকেন। তাঁরা সন্ধ্যা অতিবাহিত করেন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থেকে, আর সকাল অতিবাহিত করেন আল্লাহকে স্মরণ করে। তাঁদের নিকট ঘুম হল একটি শঙ্কা, আর জেগে থাকা হল আনন্দ। তারা ইলম এবং সহনশীলতার মধ্যে এবং কথা ও কাজের মধ্যে যোগসূত্র কায়েম করেছেন।
তুমি দেখবে তাঁদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা অবাস্তবিক নয়, এবং তাঁদের ভুল অতি অল্প; তাঁদের হৃদয় বিনয়ী থাকে, এবং তাঁরা নিরভিমানী হন। তাঁদের বিষয়াবলি হয় একদম সাধারণ। তাঁদের খোরাক একদম অল্প। তাঁদের দ্বীন সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। তাঁদের ফাহশা মরে গেছে। তাঁদের রাগ সব সময়ের জন্য প্রশমিত হয়েছে। উত্তম জিনিসই তাঁদের থেকে কাম্য করা যাবে, মন্দ সব কিছু তুমি তাঁদের অবস্থান থেকে দূরে পাবে। যারা তাদের কষ্ট দেয়, তাঁরা তাদের ক্ষমা করে দেন; যারা তাঁদের পরিত্যাগ করে তাঁরা তাদের সাথে দেখা করেন; যারা তাঁদের বঞ্চিত করে বিপদে তাঁরা তাদের সাহায্য করে। তাঁরা কারোর ঘৃণাকে পরওয়া করেন না, আবার কারোর তোষামোদিতেও গলে যান না। তাঁরা কাউকে অভিশাপও দেন না।
নীরবতা তাঁদের নিঃসঙ্গ করে না। তাঁরা হাসলেও শব্দ উঁচু করেন না। যদি তাঁদের সাথে অবিচার করা হয়, তাঁরা তখন ধৈর্য ধরেন। তাঁরা নিজেরা কষ্টে জীবন যাপন করেন, অন্যদিকে তাঁদের সাথীরা আরামে জীবন অতিবাহিত করে। অহংকার ও গর্ব কখনো তাঁদের অন্তরে স্থান পায় না, সরলতা ও নিরভিমানীতা কখনো তাঁদের থেকে পৃথক হয় না।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সহিহ দ্বীনের উপর থাকার তাওফিক দান করুক। আমিন।¹

টিকাঃ
¹নাহযুল বালাগাহ: ২৪১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00