📄 স্ত্রী তাকে ছেড়ে না যাওয়ার জন্য স্বামীকে মিনতি করছে!
যখন স্বামী স্ত্রীকে ছেড়ে চলে যায়, স্ত্রী তখন চিন্তায় পড়ে যায়। সে কী করবে? কিভাবে সব দায়িত্ব পালন করবে। সে তখন পরিবার নিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়। সে সন্তানদের জন্য খুব লজ্জাবোধ করে।
সে তার মনের তীব্র ভালোবাসার আবেগ সংযম করে, জীবনের সবচে' বড় যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা ভুলার চেষ্টা করে। ধুঁকে ধুঁকে মরে সে। যখন সন্তানরা তাদের পিতার কথা জিজ্ঞেস করবে তখন সে কী বলবে? সে কি তাদের মিথ্যা বলবে? সে কি নিজেকে প্রতারিত করতে পারবে? সে হয়ে পড়বে উদ্বিগ্ন, চিন্তিত, দুর্দশাগ্রস্থ! সে বলবে—
“আমাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর না, সে আমায় ছেড়ে চলে গেছে।”
“সে গেছে, আমার অন্তরে আগুন লাগিয়ে গেছে।”
“আমাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, আমি মর্মযন্ত্রণা অনুভব করছি, অন্তরের গভীরে বিষাদের স্বাদ পাচ্ছি।”
“আমাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, যখন সে বিদায় নিলো আমি তার কথায় ধোঁকা ও প্রতারণার গন্ধ পাই।”
“সে বাচ্চাদের চোখে হাজারো প্রশ্ন রেখে গেছে, যার মিথ্যা উত্তর আমি দিচ্ছি।”
“সে চলে গেছে অন্য মেয়ের আলিঙ্গনে ঘুমানোর জন্য, যার উষ্ণতায় সে বাসার এবং বাচ্চাদের কথা ভুলে যাবে।”
📄 স্বামীদের প্রতি আমার আরয
স্ত্রীদের বিষয়ে আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন। তাদের নিরাপত্তা দিন, এবং আল্লাহ আপনাদের উপর তাদের যা যা অধিকার রেখেছেন তা পরিপূর্ণভাবে আদায় করুন।
প্রিয় ভাই, আপনাদের উদ্দেশ্যে আমি একটি গল্প বলি। গল্পটি হল একজন ব্যক্তির, যে হালাল পরিত্যাগ করে হারামের পিছনে ছুটেছিল। সে পুণ্য ছেঁড়ে পাপের দিকে ধাবিত হচ্ছিল।
একজন বিবাহিত ব্যক্তি ছিল, তার সন্তানও ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে তার পুরাতন অভ্যাসে ডুবে থাকত। সে সব সময় তার ফাহসা ও আনন্দ ফুর্তি নিয়ে মেতে থাকত, তা হালাল পথে আসুক বা হারাম পথে সে কোনো পরওয়া করত না। সে তার দেশ থেকে পূর্ব এশিয়ার একটি দেশে ভ্রমন করতে গিয়েছিল। সে ছিল ভরা যৌবনে থাকা এক টগবগে যুবক। এক সন্ধ্যায় ডান্স ক্লাবে সে একজন পতিতা ডান্সারের রুমে তার সাথে সাক্ষাৎ করল। যখন সে ঐ মেয়েকে স্পর্শ করতে যাবে তখনি মৃত্যুর ফেরেশতা তার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিল। মালাকুল মাউত তার রূহ কবজ করে নিল আর তার মৃতদেহ দেশে ফিরে এলো।
আমি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্যের দু'আ করি।
হে আমার ভাই, হে স্বামীগণ!
📄 পরিণাম
এই মেসেজের শেষে আমি আপনাদের কাছে কিছু নসিহত করতে চাই। যদি আপনারা তা মানেন তাহলে ইনশা আল্লাহ আপনাদের দাম্পত্যজীবন হবে প্রেম ও আনন্দময়।
১. ধর্ম হল কল্যানকামনা।
২. বিশ্বাসীদের মধ্যে সবচে' উত্তম হল সে, যার আখলাক সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে সবচে' উত্তম হল সে, যে তার স্ত্রীদের মাঝে উত্তম।
৩. কৃপণতা থেকে সাবধান থাকুন।
৪. পুণ্য লাভের আশায় স্ত্রীদের জন্য যা খরচ করবেন তা সাদাকা হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে।
৫. দাম্পত্যজীবনে সমস্যার কথা কাউকে জানানো উচিত নয়।
৬. স্ত্রীর আত্মীয়দের সাথে খারাপ ভাষা ব্যবহার করবেন না।
৭. স্ত্রীকে অপমান করবেন না।
৮. স্ত্রীর সামনে সবসময় হাঁসার চেষ্টা করুন।
৯. পরস্পরকে ভালোবাসুন, এবং শান্ত থাকুন।
১০. ইসলামিক নিয়ম অনুসারে সন্তানদের শিক্ষা দিন।
১১. বাজার, শপিং মলে যাওয়া কমিয়ে দিন।
১২. ছবি সম্বলিত কাপড় পরিধান করবেন না।
১৩. সন্তানদের জন্য অশালীন পোশাক কিনবেন না।
১৪. বাসায় পরিবার নিয়ে একটি তালিমের ব্যবস্থা করুন।
১৫. স্ত্রী এবং সন্তানদের সাথে সৎ থাকুন।
১৬. কারণ ছাড়া স্ত্রীকে মারবেন না।
১৭. স্ত্রীর জন্য নিজেকে সাজান।
📄 উত্তমের জন্য উত্তম ব্যতীত কি পুরস্কার থাকতে পারে?
আমার মুসলিম ভাই!
এমনটা নয় যে স্ত্রীর মন জয় করার জন্য স্ত্রীর উপর আপনার অধিকারগুলোকে বিসর্জন দিতে হবে, অথবা তার উপর আপনার অভিভাবকত্ব পরিত্যাগ করতে হবে। যদিও বহু মানুষ খুব শক্তভাবে স্ত্রীর উপর অভিভাবকত্বের অধিকার খাটায়, আবার অনেকে এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে। উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তি গাড়ি কিনতে চাইলে, বা ফার্নিচার অথবা বাসার কালারের পরিবর্তন করতে চাইলে তার স্ত্রীর পরামর্শ নেয় এবং তার পছন্দকে গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে আরেকজন ব্যক্তি ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়েও স্ত্রীদের মতামত নেয় না। যাইহোক, এক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই মধ্যমপন্থা অনুসরণ করতে হবে। আমরা সর্বক্ষেত্রে হলাম মধ্যমপন্থী উম্মাহ।
আমি দু'আ করি। হে আল্লাহ, প্রত্যেক মুসলিমের দুনিয়া ও আখিরাত সুন্দর এবং আনন্দময় করে দিন। নিশ্চয় আপনি হলেন সরল পথের পথ প্রদর্শক।