📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন > 📄 আদর্শ জীবনসঙ্গী

📄 আদর্শ জীবনসঙ্গী


আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন-
إِنِّي لَأَعْرِفُ غَضَبَكِ وَرِضَاكِ، قَالَتْ: قُلْتُ: وَكَيْفَ تَعْرِفُ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: إِنَّكِ إِذَا كُنْتِ رَاضِيَةً قُلْتِ: بَلَى وَرَبِّ مُحَمَّدٍ، وَإِذَا كُنْتِ سَاخِطَةً قُلْتِ: لا وَرَبِّ إِبْرَاهِيمَ. قَالَتْ: قُلْتُ: أَجَلْ، لَسْتُ أُهَاجِرُ إِلَّا اسْمَكَ.
'আমি তোমার রাগ ও অনুরাগ বুঝতে পারি।' আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 'আল্লাহর রাসুল! কিভাবে বুঝতে পারেন?' তিনি বললেন, 'তুমি যখন আমার উপর সন্তুষ্ট থাক তখন বলে থাক-'বালা ওয়া রাব্বি মুহাম্মাদ' (মুহাম্মাদের রবের কসম!...) আর অসন্তুষ্ট হলে বল-'লা ওয়া রাব্বি ইবরাহীম' (ইবরাহিমের রবের কসম!..।)' আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসুল! আপনি ঠিক বলেছেন। তবে আমি শুধু আপনার নামটিই ত্যাগ করি (অন্তর আপনার ভালবাসায় পূর্ণ থাকে।'¹
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা নিজেই বলেছেন-
فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ، فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ: هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ.
“একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করলেন। তখন আমি আগে বেরিয়ে গেলাম (জয়ী হলাম)। পরে যখন আমার শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন তিনি আমার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে আমাকে হারিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, এবার আগেরবারের বদলা নিলাম।”²
এই ঘটনায় স্বামী স্ত্রীর জন্য শিক্ষা রয়েছে। স্বামী স্ত্রী একে অপরের সঙ্গতা কিভাবে উপভোগ করতে পারে তা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনার মাধ্যমে আমাদের শিখিয়েছেন। স্বামী স্ত্রী একই সাথে থাকে, এতে যদি কোনো নতুনত্ব, আনন্দ ও উল্লাস না থাকে তাহলে দীর্ঘ বিবাহ জীবন একঘেয়েমিপূর্ণ হয়ে উঠে। এই বোরিংন্যাস কাটানোর জন্য দম্পতিরা বিভিন্ন নির্মল নিষ্পাপ ফান করতে পারে, গেমস খেলতে পারে, একে অপরকে বিনোদন দিতে পারে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের খুবই ভালবাসতেন। স্ত্রীদের সঙ্গে তিনি খোশ মেজাজে মিশতেন ও তাদের আবেগের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। এমনকি তিনি স্ত্রীর সাথে একই পাত্রে গোসল করতেন।

টিকাঃ
¹সহিহ বুখারি: ৬০৭৮।
²আবু দাউদ: ২৫৭৮। সনদ সহিহ।

📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন > 📄 কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

📄 কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন


১ নং প্রশ্নঃ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহকে একজন মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সে সালাত আদায় করত না। এমন মহিলাকে তার স্বামী সালাতের আদেশ দিবে কি? যদি তাও স্ত্রী সালাত না আদায় করে তাহলে স্বামী কি তাকে পরিত্যাগ করবে?
১ নং উত্তরঃ অবশ্যই, স্বামী তাঁর স্ত্রীকে সালাতের জন্য আদেশ করবে। এমনকি অন্য মানুষদেরও সে সালাতের আদেশ করতে পারে। কেননা আল্লাহ পবিত্র কুর'আনে বলেন-
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلُوةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا.
"আর তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও এবং তাতে অবিচল থাক।”¹
তিনি আরো বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
“হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে রক্ষা কর আগুন হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।” ²
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তাদের শিক্ষা দাও, এবং শাস্তি দাও।” যাইহোক, স্বামীর উচিত আদর ও স্নেহের সাথে স্ত্রীকে সালাত পড়তে উৎসাহিত করা। যদি সে তাও না মানে, সালাত আদায় না করে তাহলে স্বামীর উচিত তাকে তালাক দিয়ে দেয়া। কেননা, যে কেউ সালাত পরিত্যাগ করে সে শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত হয়ে পড়ে। এমনকি যদি সে চূড়ান্তভাবে সালাত পরিত্যাগ করে, তাহলে ইসলামিক প্রশাসন তাকে হত্যার শাস্তি দেওয়ার অধিকার রাখে, কারণ বিধান মোতাবেক সে তখন একজন মুরতাদ হিসেবে গণ্য হবে।
২ নং প্রশ্নঃ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহকে এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছিল, যে তার স্ত্রীকে নিয়ে নোংরা মানুষদের মাঝে বসবাস করত, এবং মাঝে মাঝে তার স্ত্রীকে নিয়ে বাজে মানুষদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যেত। যখন তাকে কেউ বাসা বদলানোর উপদেশ দিত তখন সে বলত, 'আমি তার স্বামী, তার মালিক, এবং এই বাসারও মালিক।' স্ত্রীর সাথে স্বামীর এরূপ আচরনের অধিকার আছে কী?
২ নং উত্তরঃ সকল প্রশংসা জগত সমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। এই ব্যক্তির তার স্ত্রীর উপর জোড় করার কোনো অধিকার নেই। সে যেখানে ইচ্ছে তাকে নিয়ে যাবে এই অধিকার তার নেই। সে ফ্রি মিক্সিং এবং ফাসেক ফাজেরদের মাঝে তার স্ত্রীকে নিয়ে যেতে পারবে না। বরঞ্চ তাকে অবশ্যই একটি উত্তম স্থানে রাখতে হবে এবং মন্দ মানুষদের থেকে তাকে দূরে ও নিরাপদে রাখতে হবে। আর যদি সে এটা না করে তাহলে তাকে দুইবার শাস্তি পেতে হবে। প্রথম শাস্তি হবে যা সে নিজে কামাই করেছে, এবং অন্য শাস্তিটি হবে স্ত্রীর নিরাপত্তা না দেয়া, সম্মানের খেয়াল না রাখা এবং বাজে মানুষদের মাঝে থেকে দূরে না নেয়ার কারণে। এই শাস্তি তাকে এবং অন্যদেরকে এমন পাপ করা থেকে বাঁধা দিবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
৩ নং প্রশ্নঃ যদিও আমার স্বামী (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) একজন তাকওয়াবান, উত্তম চরিত্র ও আদর্শের মানুষ, কিন্তু তিনি আমার প্রতি একটুও যত্নশীল নন। তিনি সব সময় আমার সামনে রেগে থাকেন, এবং আমার কথায় বিরক্তবোধ করেন। আপনি বলতে পারেন এসবের জন্য আমি দায়ি, কিন্তু আল্লাহ জানেন তার প্রতি আমার সকল দায়িত্ব আমি পুরোপুরি পালন করি। তার সকল দুর্ব্যবহারের সামনে আমি শান্ত থাকি। তাকে শান্ত রাখার এবং বিশ্রাম নেয়ার যথাযথ ব্যবস্থা নিই। যাইহোক, আমি যখন তাকে কিছু জিজ্ঞেস করি, অথবা তার সাথে কথা বলতে চাই, তিনি তখন খুবই বিরক্ত হন, এবং চিৎকার করে কথা বলেন; এটা অবশ্য একটি বোকামীপূর্ণ আচরণ। আবার তিনি যখন তার বন্ধুদের সাথে থাকেন তখন খুব খুশি হন এবং আনন্দবোধ করেন। তার সকল তিরস্কার, কঠোরতা ও দুর্ব্যবহার শুধু আমার জন্য। এতে আমি খুবই যন্ত্রণা অনুভব করি, দুঃখ ও হতাশায় থাকি। এমনকি মাঝে মাঝে আমি ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবি।
আমি খুব অল্প পড়াশোনা করেছি, কিন্তু তার জন্য আমার উপর আল্লাহ প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি।
মুহতারাম শাইখ, আমি যদি ঘর ছেড়ে চলে যাই এবং আমার সন্তানদেরও নিয়ে যাই, তাদের লালন-পালনের যাবতীয় দায়িত্ব আমি পালন করি, তাহলে কি এতে আমার গুনাহ হবে? আমি কী করব? নাকি আমি তার সাথেই থাকব, কিন্তু তাকে তার মত ছেড়ে দেব, তার সাথে কথা বলার কিংবা তার অনুভূতি ও সমস্যার কিছু জিজ্ঞেস করব না।
আমাকে সাহায্য করুন, আমি কী করব? আল্লাহ আপনাকে বারাকাহ দান করুন।
৩ নং উত্তরঃ নিঃসন্দেহে সৎভাবে জীবন যাপন করা স্বামী স্ত্রীর উপর আবশ্যক। আল্লাহর জন্য তারা সৎভাবে থাকবে, আল্লাহর জন্য একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবে, একে অপরের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে। আল্লাহ বলেন-
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ.
"আর তোমরা নারীদের সাথে সৎভাবে জীবনযাপন করবে."³
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةً وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ.
“নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের; এবং তাদের উপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে; আল্লাহ হচ্ছেন মহা পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।” ⁴
ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
خِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ لِنِسَائِهِمْ.
"তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” ⁵
এছাড়া আরো অনেক হাদিস রয়েছে যেখানে উত্তম ব্যবহার, ভালো চরিত্রের অধিকারী হতে বলা হয়েছে। শুদ্ধ আচরণের কথা কখনো এসেছে অন্য মুসলিমের সাথে ব্যবহারের কথা হিসেবে, কখনো এসেছে দাম্পত্যজীবনের ক্ষেত্রে, কখনো বা এসেছে আত্মীয়-স্বজনের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে।
আপনার স্বামীর মন্দ আচরনের সময় আপনি অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু আমি আপনাকে নসিহত করব, আপনি আরো বেশি ধৈর্য ধরুন, এবং বাসা ত্যাগ করার চিন্তা পরিত্যাগ করুন। ইনশা আল্লাহ, ধৈর্যের জন্য আল্লাহ তায়ালা আপনাকে পুরস্কৃত করবেন। আল্লাহ পবিত্র কুর'আনে বলেছেন-
وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّبِرِينَ.
"আর তোমরা ধৈর্যধারণ কর; নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।”⁶
তিনি আরো বলেন-
"যে ব্যক্তি মুত্তাকী ও ধৈর্যশীল, আল্লাহ সেইরূপ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না."⁷
এবং,
“আমি ধৈর্যশীলদেরকে তাদের পুরস্কার অপরিমিতভাবে দিয়ে থাকি।”⁸
অন্যত্র বলেন-
فَاصْبِرْ إِنَّ الْعُقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ.
"সুতরাং তুমি ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় শুভ পরিণাম সংযমশীলদের জন্যই।”⁹
আপনি স্বামীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মজা করতে পারেন, এতে কোনো মানা নেই, আপনাদের কথোপকথনের সময় খুব অমায়িক ও ভদ্র থাকার চেষ্টা করবেন। এমন শব্দ ব্যবহার করবেন যা তার দিলকে নরম করে, তাকে আনন্দ দেয়, এবং তার উপর আপনার যে সকল অধিকার আছে তা সে বুঝে। এছাড়া, যতক্ষণ সে আপনার মৌলিক প্রয়োজন মিটাচ্ছে, অত্যাবশ্যক দায়িত্ব পালন করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়াবী কিছু তার থেকে চাইবেন না। যখন সে আপনার সঙ্গতা উপভোগ করবে তখন সে নিজেই আপনার চাহিদা পূরণ করবে।
আমি আল্লাহর নিকট দু'আ করি। আপনার জীবনসঙ্গীর ব্যবহার ও আচরণ সংশোধনে আল্লাহ আপনাকে সফল করুন, তার বিবেক-বুদ্ধি জাগ্রত করুন, এবং তাকে উত্তম আদর্শে সাজানোর তাওফিক দান করুন। আপনার অধিকারগুলো পূরণ করার ব্যবস্থা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ হলেন উত্তম পথপ্রদর্শক এবং একমাত্র দু'আ কবুল কারী।
৪নং প্রশ্নঃ আমার স্বামী মাঝে মধ্যে খুব সামান্য বিষয়ে রেগে যান, তখন আমিও রেগে যাই, এবং তার সাথে তর্ক করে বসি। এতে তিনি আরো বেশি রাগান্বিত হন। এভাবে কয়েক ঘন্টা ধরে আমাদের মাঝে ঝগড়া- বিবাদ চলতে থাকে। আমি এর সমাধান চাই। আমি কী করব শাইখ?
৪ নং উত্তরঃ বোন এই সমস্যায় শুধু আপনি একা নন, বহু নারী এই সমস্যার সাথে দাম্পত্যজীবন অতিবাহিত করছে। সবসময় এই সমস্যা ছিল, কিন্তু বিশেষভাবে বর্তমান সময়ে এটা আরো প্রকট হয়েছে, কেননা কর্মময় জীবন এখন অনেক কঠিন ও জটিল। প্রতিদিন কর্মস্থানে তারা নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়, পুরো কর্ম সময় এভাবেই কাটায়, শেষে যখন তারা ঘরে ফিরে তখন সারাদিনের রাগ ও ক্ষোভ ছোট বিষয়ের উসিলায় স্ত্রী এবং সন্তানের উপর বের করে। আমি স্বামীদের এমন কাজের সমর্থন করছি না, আমি শুধু কারণটা বলছি। যাইহোক, আমি মনে করি এর সমাধান হল যখন স্বামী রেগে থাকেন বা বাসায় ফেরার পর তার মেজাজ খিটখিটে মনে হলে যথাসম্ভব তার সাথে কোমল ব্যবহার করবেন, এবং যদি সে কোনো কারণে রেগে যান তাহলে আপনি রেগে না গিয়ে, তর্ক না করে, তাকে শুধু বলুন, "আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন"। হতে পারে এতেও তার রাগ কমবে না, কিন্তু আপনাকে আরো বেশি ধৈর্য ধরে নম্র আচরণ করতে হবে। “হ্যাঁ আমারই ভুল হয়েছে," "আমি অবহেলা করেছিলাম", ইত্যাদি বলে কৈফিয়ত দিন। ইনশা আল্লাহ কিছু সময় পরে, অথবা সর্বোচ্চ আধা ঘন্টা পর তার বিবেকবোধ জাগ্রত হবে, সে শান্ত হবে, তার অপরাধ বুঝবে এবং আপনার উত্তম আচরণের কথা মনে করবে। সে নিজের প্রতি লজ্জিত হবে এবং আপনাকে সম্মান করবে। এতে আপনার দাম্পত্যজীবন আরো শান্তিপূর্ণ হবে এবং নিরাপধ থাকবে।

টিকাঃ
¹সুরা তাহা: ১৩২।
²সুরা আত তাহরিম: ৬।
³সুরা নিসা: ১৯।
⁴সুরা বাকারা: ২২৮।
⁵সুনানু ইবনু মাজাহ: ১৯৭৮। সনদ সহিহ।
⁶সুরা আনফাল: ৪৬।
⁷সুরা ইউসুফ: ৯০।
⁸সুরা আয-যুমার: ১০।
⁹সুরা হুদ: ৪৯।

📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন > 📄 স্বামীরা তালাকের হুমকি দেয় !!

📄 স্বামীরা তালাকের হুমকি দেয় !!


সে ছোট বিষয়ে তালাকের হুমকি দিয়ে স্ত্রীকে ভয় দেখায়!!
সাধারণ ভুল বুঝাবুঝিতে তালাকের হুমকি দেয়!!
বাচ্চারা কান্নাকাটি করলে সে স্ত্রীকে তালাকের কথা বলে!!
বাচ্চারা গ্লাস বা কাপ ভেঙ্গে ফেললে সে স্ত্রীকে তালাকের হুমকি দেয়!!
তার শার্ট বা কাপড় খুঁজে না পেলে সে তালাকের ভীতিপ্রদর্শন করে!!
এটা হল তালাকের হুমকি দেয়ার একটি বিরল ও হাস্যকর ঘটনা-
জনৈক ব্যক্তি মুসলিম সেনাপতি আরশিদকে এই হাস্যকর ও বিরল ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাকে জানানো হয়েছিল একজন আরব ব্যক্তি একই দিনে ৫ জন মহিলাকে তালাক দিয়েছেন। তখন আরশিদ বলেন, 'একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৪ জনকে বিয়ে করতে পারে, সে কী করে পাঁচ জনকে তালাক দিলো?'
লোকটি বললেন, “একজন আরব ব্যক্তি ছিল, তার ছিল চার জন স্ত্রী। একদিন সে বাসায় এসে দেখে, চার জন স্ত্রী একে অপরের সাথে তর্ক-বিতর্ক করছে। লোকটি অসুস্থ প্রকৃতির ছিল, সে নিজেকে নিজে বলল 'আর কতক্ষণ ধরে এই ঝগড়া বিবাদ চলবে?' সে চারজনের একজন স্ত্রীকে বলল, 'তুমিই এই ঝগড়ার জন্য একমাত্র দায়ী' এবং তাকে তালাক দিয়ে দিল। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলল, 'তুমি তাকে অন্যায়ভাবে তালাক দিয়েছ, তুমি তাকে শাস্তি দিতে তাহলে তা ইনসাফ হত।' তখন সে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বলল, 'আমি তোমাকেও তালাক দিলাম'। তৃতীয় স্ত্রী তাকে বলল 'লানত পড়ুক তোমার উপর! আল্লাহর কসম! তারা তোমার সাথে খুব ভালো ব্যবহার করে এবং চরিত্রে তারা তোমার চাইতেও ভালো।' তখন লোকটি বলল, 'তোমাকেও তালাক দিলাম।' এতে রেগে চতুর্থ স্ত্রী বলল, 'তুমি স্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করতে জানো না, আমাদের মাঝে শৃঙ্খলাও প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তুমি শুধু তালাক দিতে জানো।' লোকটি তখন বলল, 'আমি তোমাকেও তালাক দিলাম।'
এই পুরো ঘটনাটি প্রতিবেশী এক মহিলা দাঁড়িয়ে শুনছিলেন, তখন তিনি ঘরে প্রবেশ করে বলেন, 'আল্লাহর কসম! আরবরা এখানে শুধু তোমার দুর্বলতা দেখতে পাচ্ছে, একজনের আচরণ ও ব্যবহারে তার দুর্বলতা সহজেই বুঝা যায়। তুমি মাত্র কয়েক মিনিটে চারজন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলে!! লোকটি তখন বলল, 'তোমাকেও তালাক দিলাম, যদি তোমার স্বামী আমাকে অনুমতি দেন।' সাথে সাথে প্রতিবেশী মহিলাটির স্বামী বাহির থেকে আওয়াজ দিয়ে বলেন, 'হ্যাঁ আমি অনুমতি দিলাম, আমি অনুমতি দিলাম।'
হে আমার বিবেকবান ভাই
আপনার বাসায় রাগ এবং হতাশাকে স্থান দিবেন না। অতি সাধারণ বিষয়ে স্ত্রীকে তালাকের হুমকি দিবেন না।
আপনার দাম্পত্যজীবনকে ভালোবাসাপূর্ণ, সঙ্গতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া দিয়ে গড়ে তুলুন। পরস্পরকে সম্মান করুন। গ্রন্থের শেষে কিছু স্টোরি বর্ণনা করেছি, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিন।
সবচে' খারাপ বিষয় হয় তখন, যখন কোনো স্বামী তালাক দেয়ার জন্য আল্লাহর শপথ করে ফেলে। সাধারণ বিষয়ে তালাক দেয়ার কসম করা নিশ্চয় একটি বোকামী।

📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন > 📄 স্ত্রী তাকে ছেড়ে না যাওয়ার জন্য স্বামীকে মিনতি করছে!

📄 স্ত্রী তাকে ছেড়ে না যাওয়ার জন্য স্বামীকে মিনতি করছে!


যখন স্বামী স্ত্রীকে ছেড়ে চলে যায়, স্ত্রী তখন চিন্তায় পড়ে যায়। সে কী করবে? কিভাবে সব দায়িত্ব পালন করবে। সে তখন পরিবার নিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়। সে সন্তানদের জন্য খুব লজ্জাবোধ করে।
সে তার মনের তীব্র ভালোবাসার আবেগ সংযম করে, জীবনের সবচে' বড় যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা ভুলার চেষ্টা করে। ধুঁকে ধুঁকে মরে সে। যখন সন্তানরা তাদের পিতার কথা জিজ্ঞেস করবে তখন সে কী বলবে? সে কি তাদের মিথ্যা বলবে? সে কি নিজেকে প্রতারিত করতে পারবে? সে হয়ে পড়বে উদ্বিগ্ন, চিন্তিত, দুর্দশাগ্রস্থ! সে বলবে—
“আমাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর না, সে আমায় ছেড়ে চলে গেছে।”
“সে গেছে, আমার অন্তরে আগুন লাগিয়ে গেছে।”
“আমাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, আমি মর্মযন্ত্রণা অনুভব করছি, অন্তরের গভীরে বিষাদের স্বাদ পাচ্ছি।”
“আমাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, যখন সে বিদায় নিলো আমি তার কথায় ধোঁকা ও প্রতারণার গন্ধ পাই।”
“সে বাচ্চাদের চোখে হাজারো প্রশ্ন রেখে গেছে, যার মিথ্যা উত্তর আমি দিচ্ছি।”
“সে চলে গেছে অন্য মেয়ের আলিঙ্গনে ঘুমানোর জন্য, যার উষ্ণতায় সে বাসার এবং বাচ্চাদের কথা ভুলে যাবে।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00