📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন 📄 জীবনসঙ্গিনীর প্রতি স্নেহশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ

📄 জীবনসঙ্গিনীর প্রতি স্নেহশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ


স্বামী অবশ্যই স্ত্রীকে ভালোবাসবে। স্ত্রী অবশ্যই স্বামীর ভালোবাসা, আদর, স্নেহ পাবে। তাকে সবচে' সুন্দর নামে ডাকবে, এবং তার সাথে স্নেহশীল আচরণ করবে। স্ত্রীর পরিবারের সাথেও স্বামীকে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে, তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করতে হবে। স্ত্রীর সামনে তার পরিবারের প্রশংসা করা উচিত। একে অপরের বাসায় আসা যাওয়া উচিত। উচিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উপলক্ষে তাদের আমন্ত্রণ জানানো। অবশ্য স্বামী তার জীবন সঙ্গিনীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে, তার মতামতকে সম্মান করবে, এবং যদি সঠিক হয় তাহলে তার উপদেশ গ্রহণ করবে। সংক্ষেপে বললে, আমাদের উচিত দীন দিয়ে বৈবাহিক জীবন সাজানো।
এছাড়াও স্ত্রীর প্রতি সর্বাধিক উত্তম বৈশিষ্ট্যের আচরণ করতে হবে, সহনশীল হতে হবে, পারস্পরিক সমস্যায় একে অপরকে ছাড় দিতে হবে, দুর্দিন সহ্য করে টিকে থাকতে হবে। সে রেগে গেলে, বা অবিবেচক মূলক শব্দ ব্যবহার করলে তুমি তার সাথে কোমল আচরণ করবে। তোমাকে তার সাথে রসিকতা করতে হবে, খেলা করতে হবে, এতে সে প্রফুল্ল ও আনন্দিত হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সাথে রসিকতা করতেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “পুরুষের উচিত স্ত্রীর সাথে বাচ্চামিসূলভ ব্যবহার করা, কিন্তু যখন স্ত্রীদের তার প্রয়োজন হবে তখন সে একজন পুরুষের মত আচরণ করবে।”
স্ত্রীদের মেজাজ বুঝতে হবে, যাতে তাদের আনন্দ দেয়া যায়, তাদের ব্যাথা দূর করা যায়, জীবনের বিভিন্ন বোঝা লাঘব করে তাদের কাজ সহজ করে দেয়া যায়, এভাবে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসার বন্ধন আরো মজবুত ও দৃঢ় হবে এবং একে অপরের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি পাবে।
যে সকল কারণে দাম্পত্যজীবনে সমস্যা দেখা দেয়:
১. পাপ এবং নোংরা কাজ।
২. একে অপরকে অবহেলা করা।
৩. দায়িত্ব পালন না করা।
৪. আত্মীয় বা তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ করা।
৫. সন্দেহ।
৬. ঠেস মেরে কথা বলা।
৭. অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ করা।
৮. অবিশ্বাস।
৯. দম্পতিদের মধ্যে কারোর অভিভাবকের অন্যায় হস্তক্ষেপ।
১০. একে অপরকে ভুল বুঝা।
১১. মিথ্যা বিশ্বাস।
১২. প্রতিদিন একঘেয়ে এবং বিরক্তিকর ভাব কাটানো।
১৩. অশ্লীল ও অশালীন ম্যাগাজিন, ড্রামা মুভি দেখা, পড়া।
১৪. আন্তরিকতার অভাব থাকা, সত্যবাদিতা না থাকা।
১৫. পরিবারে প্রতিবেশির কর্তৃত্ব থাকা।
১৬. দুনিয়াবি বিষয়ে অতৃপ্তিতে ভোগা।
১৭. সোসাল ক্লাস আলাদা আলাদা হওয়া।
১৮. শিক্ষায় পার্থক্য থাকলে।
১৯. বয়সে অত্যাধিক পার্থক্য হলে।
২০. নারী পুরুষের মিক্স পরিবেশ।
২১. স্ত্রীদের মধ্যে সমতার বিধান না করলে।
২২. বাড়ি থেকে প্রায়শ দূরে থাকলে।
২৩. প্রায়শ রাতে বাহিরে থাকলে।
২৪. সন্তানদের মধ্যে কাউকে অধিক প্রাধান্য দিলে।
২৫. অনৈতিক উদ্দেশ্যে বিদেশে ভ্রমণ করলে।

📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন 📄 পাপের ছড়াছড়ি

📄 পাপের ছড়াছড়ি


মুসলিম সমাজ আজ পাপে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে, চারদিকে পাপের ছড়াছড়ি, পঙ্কিলতার অতল গহ্বরে আমরা ডুবে যাচ্ছি। অবশ্যই বৈবাহিক সমস্যা তৈরিতেও পাপ এবং নিষিদ্ধ কাজ হল সবচে' বড় কারণ। আল্লাহর কাছে পাপীদের যেমন কোনো গুরুত্ব নেই, সৎ মানুষদের মাঝেও পাপীদের কোনো সম্মান নেই।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন-
"পাপ কর্মের ফলে অনেক ধরনের শাস্তি নেমে আসে, তার মধ্যে অন্যতম হল বরকত উঠিয়ে নেয়া এবং অন্যান্য দুর্ভাগ্য নেমে আসা। আল্লাহর বান্দারা পাপের কারণে আল্লাহর বরকত হারিয়ে ফেলে, এবং পাপ কর্ম করার সময় সে অভিশপ্ত হয়।”
পাপীরা পাপের কারণে আরো যে সকল শাস্তি পায়-সে আল্লাহর সামনে তার মাকাম ও অবস্থান হারিয়ে ফেলে, কেননা আল্লাহর নিকট ঐ বান্দাই পবিত্র, যে আল্লাহকে সর্বাধিক ভয় করে ঐ বান্দাই আল্লাহর নিকটতর, যে সকল ক্ষেত্রে আল্লাহকে মান্য করে, এবং আল্লাহর নিকট বান্দার মর্যাদা আল্লাহর বিধানের প্রতি বান্দার আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা পায়। যদি সে আল্লাহর বিধানকে অমান্য করে, তাহলে সে নিজেকে অনুগত বান্দা হওয়ার স্থান থেকে নামিয়ে ফেলে, এবং আল্লাহও তাকে তার একান্ত অনুগত বান্দার অবস্থান থেকে নিচে নামিয়ে দেন। ফলস্বরূপ সেও দুর্ভাগ্যপূর্ণ, অযোগ্য, অসম্মানজনক, নিঃস্ব ও অসুখী মানুষের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।
কিছু স্ত্রীরা প্রায়শ অভিযোগ করে বলেন, তাদের স্বামীরা আগের মত ব্যবহার করছে না, তারা পরিবর্তন হয়ে গেছে। তারা তাদের পূর্বের সময়ের স্মৃতিচারণ করে-তখন স্বামীরা তাদের প্রতি খুব অনুরাগী ছিল, উত্তম ব্যবহার করত, স্বামী স্ত্রীর মাঝে তখন অনেক ভালোবাসা বিরাজ করছিল, কিন্তু এখন স্বামীরা স্ত্রী-সন্তানের প্রতি তেমন যত্নশীল নয়।
শাইখ আহমাদ আল-কাত্তান রহিমাহুল্লাহ বলেন, "স্বামীর এই আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য স্ত্রীরা দায়ি। স্ত্রীর উচিত নিজেকে জিজ্ঞেস করা এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এই আয়াতে কি বলেছেন তা অনুধাবন করা-
إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ.
"নিশ্চয় আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।” ¹
হয়ত স্ত্রী বা স্বামী কোনো নিষিদ্ধ কাজ করেছে তাই স্বামীর মধ্যে আকস্মিক পরিবর্তন এসেছে।

টিকাঃ
¹সুরা রাদ: ১১।

📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন 📄 দাম্পত্যজীবনে সমস্যার আরো কিছু কারণ

📄 দাম্পত্যজীবনে সমস্যার আরো কিছু কারণ


* সালাত আদায়ে, যাকাত প্রদানে, রমাযানের সিয়াম পালনে এবং হজ্জ সহ ইত্যাদি আহকামে অবহেলা করা।
* সাবালিকা হওয়ার পরেও কন্যাকে পরিপূর্ণ পর্দায় বাধ্য করতে না পারা।
* সম্পর্কছিন্নকরণ।
* সন্তানদের মন্দ কাজগুলো বাবার কাছে না বলে লুকিয়ে রাখা।
* পরনিন্দা করা।
* সুদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া।
* মুভি দেখা এবং গান শোনা।
* অপ্রয়োজনে চাকর এবং ড্রাইভার রাখা।
* দ্বীনদার ব্যক্তিদের নিয়ে হাঁসি ঠাট্টা করা।
* সিগারেট পান করা, এবং মদপান।
* পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।
যাইহোক, আমাদের জন্য এটা আবশ্যক যে আমরা সব সময় নিজেদের কর্মের পর্যবেক্ষণ করব, এবং ভুল হলে ঠিক করে নিব, অন্যথায় ইসলামি দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করা হবে না। অবশ্যই আমরা নিষিদ্ধ কাজ থেকে বেঁচে থাকব এবং অন্যদেরকেও নসিহত করব। তাহলে ইনশা আল্লাহ আমাদের পরিবারে, আমাদের বাসায় আবার সুখ আনন্দ ও শান্তি ফিরে আসবে।

📘 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন 📄 একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাতওয়া

📄 একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাতওয়া


একজন নারী স্বামীর দুর্ব্যবহার নিয়ে একটি প্রশ্ন করেছিলেন, প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন শাইখ আব্দুল আজিজ ইবনে বায রহিমাহুল্লাহ। তিনি বলেন-
"আপনি বলেছেন, আপনার স্বামী সালাত ত্যাগ করেছে এবং দ্বীনকে অসম্মান করে। যদি ঘটনা সত্যিই এমন হয় তাহলে আপনার স্বামী কাফির হয়ে গেছে, এবং আপনি তার সাথে একই বাসায় অবস্থান করতে পারবেন না। তাই আপনাকে আপনার পরিবারের কাছে বা যেখানে আপনি নিরাপদ মনে করেন এমন স্থানে চলে যেতে হবে। পবিত্র কুর'আনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ.
"মু'মিনা নারীরা কাফিরদের জন্য বৈধ নয় এবং কাফিরেরা মু'মিনা নারীদের জন্য বৈধ নয়।”¹
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ.
"(মু'মিন) বান্দাহ ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামায ত্যাগ করা।”²
অধিকন্তু, দ্বীনকে অসম্মান করা সকল মুসলিমের ঐকমতে একটি বড় কুফর। তাই আপনাকে অবশ্যই আল্লাহর জন্য তাকে ঘৃণা করতে হবে, এবং পৃথক হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا. وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ.
"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন।”³
আমি আল্লাহর নিকট আপনার জন্য দু'আ করি। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন, আপনার সকল পেরেশানি দূর করুন। স্বামীর দুর্ব্যবহার হতে আল্লাহ আপনাকে হিফাজত রাখুন। তাকে সরল পথে পরিচালিত করুন, এবং তাওবার সুযোগ দান করুন। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা অতি দয়ালু ও দয়াবান।

টিকাঃ
¹সুরা মুমতাহিনা : ১০।
²ইবনু মাজাহ: ১০৭৮। সনদ সহিহ।
³সুরা তালাক: ২-৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px