📄 বেশি বেশি পড়াশোনা করুন পাশাপাশি গবেষণাও করুন
যে সকল বিষয় মনে সুখ ও শান্তি বয়ে আনে, তার মধ্যে অধিক পরিমাণে পড়াশোনা করা, বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা, অধ্যয়নের পরিধি বিস্তৃত করা এবং গভীর থেকে গভীরতর গবেষণা করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمُوا আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবলমাত্র জ্ঞানীরাই [আলেমরাই] তাঁকে ভয় করে। [সূরা ফাতির : ২৮]
﴿بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ﴾ বরং তারা যে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি, তারা তা অস্বীকার করেছিল। [সূরা ইউনুস: ৩৯]
আলেম তো তিনিই, যার বড় মন ও প্রশস্ত হৃদয় থাকে এবং যিনি আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক তৃপ্তিতে থাকেন।
এক কবি বলেছেন- '[জ্ঞান এমনই জিনিস] তাকে যতই খরচ করবে, ততই তা বৃদ্ধি পাবে। আর যতই হাত গুটিয়ে রাখবে, ততই তা কমতে থাকবে।'
পাশ্চাত্যের এক গবেষক লিখেছেন- 'আমি আমার অফিসের আলমারিতে একটি ফাইল বানিয়ে রেখেছি। তার উপর লেখা আছে 'যে সব বোকামি আমি করেছি'। সারা দিন আমি যেসব বোকামি ও ভুলত্রুটি করে থাকি, তা ওই ফাইলে লিখে রাখি। যাতে সেগুলো দেখে দেখে আমি সংশোধন হতে পারি।
এ ব্যাপারে পূর্বেকার আলেম ও নেককার বান্দাগণ বর্ণিত গবেষকের চেয়েও বহু অগ্রগামী ছিলেন। তাঁরা তাঁদের দিন-রাতের যাবতীয় কাজকর্ম ও আচার-আচরণের বিবরণ যথাযথ ও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে লিখে রাখতেন এবং সে অনুযায়ী নিজেদেরকে সংশোধন করার চেষ্টা করতেন।
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ التَّوَّامَةِ আর আমি তিরস্কারকারী আত্মার শপথ করছি। [সূরা কিয়ামাহ : ২]
হাসান বসরী বলেছেন- 'একজন মুমিন ব্যক্তি নিজের হিসাব তারচেয়েও বেশি ও কঠিনভাবে রাখে, যেমন কোনো ব্যবসায়ী তার অংশীদারের হিসাব রাখে।'
রবী ইবনে খুসাইম এক শুক্রবার থেকে আরেক শুক্রবার পর্যন্ত যা কিছু বলতেন, তার সবই লিখে রাখতেন। [সপ্তাহান্তে] যদি তাতে কোনো ভালো কথা পেতেন, তা হলে আল্লাহ -র শুকরিয়া আদায় করতেন। আর মন্দ কিছু পেলে আল্লাহ -র কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন।
পূর্বের যামানার এক নেককার বান্দা বলেছেন- 'চল্লিশ বছর পূর্বে কৃত একটি গুনাহের জন্য আমি এখনও আল্লাহ র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।'
وَالَّذِيْنَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَّقُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ আর যারা যা দান করার তা দান করে এমতাবস্থায় যে [আল্লাহর ভয়ে] তাদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত থাকে। [সূরা মু'মিনূন: ৬০]
সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে দৃষ্টি অবনত করা। আল্লাহ বলেছেন- قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُرُوجَهُمْ ذٰلِكَ أَزْكَى لَهُمْ তুমি মুমিনদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত এবং তারা যেন তাদের গুপ্তাঙ্গের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতর পন্থা। [সুরা আননূর: ৩০]
যে সকল বিষয় মনে সুখ ও শান্তি বয়ে আনে, তার মধ্যে অধিক পরিমাণে পড়াশোনা করা, বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা, অধ্যয়নের পরিধি বিস্তৃত করা এবং গভীর থেকে গভীরতর গবেষণা করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمُوا আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবলমাত্র জ্ঞানীরাই [আলেমরাই] তাঁকে ভয় করে। [সূরা ফাতির : ২৮]
﴿بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ﴾ বরং তারা যে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি, তারা তা অস্বীকার করেছিল। [সূরা ইউনুস: ৩৯]
আলেম তো তিনিই, যার বড় মন ও প্রশস্ত হৃদয় থাকে এবং যিনি আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক তৃপ্তিতে থাকেন।
এক কবি বলেছেন- '[জ্ঞান এমনই জিনিস] তাকে যতই খরচ করবে, ততই তা বৃদ্ধি পাবে। আর যতই হাত গুটিয়ে রাখবে, ততই তা কমতে থাকবে।'
পাশ্চাত্যের এক গবেষক লিখেছেন- 'আমি আমার অফিসের আলমারিতে একটি ফাইল বানিয়ে রেখেছি। তার উপর লেখা আছে 'যে সব বোকামি আমি করেছি'। সারা দিন আমি যেসব বোকামি ও ভুলত্রুটি করে থাকি, তা ওই ফাইলে লিখে রাখি। যাতে সেগুলো দেখে দেখে আমি সংশোধন হতে পারি।
এ ব্যাপারে পূর্বেকার আলেম ও নেককার বান্দাগণ বর্ণিত গবেষকের চেয়েও বহু অগ্রগামী ছিলেন। তাঁরা তাঁদের দিন-রাতের যাবতীয় কাজকর্ম ও আচার-আচরণের বিবরণ যথাযথ ও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে লিখে রাখতেন এবং সে অনুযায়ী নিজেদেরকে সংশোধন করার চেষ্টা করতেন।
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ التَّوَّامَةِ আর আমি তিরস্কারকারী আত্মার শপথ করছি। [সূরা কিয়ামাহ : ২]
হাসান বসরী বলেছেন- 'একজন মুমিন ব্যক্তি নিজের হিসাব তারচেয়েও বেশি ও কঠিনভাবে রাখে, যেমন কোনো ব্যবসায়ী তার অংশীদারের হিসাব রাখে।'
রবী ইবনে খুসাইম এক শুক্রবার থেকে আরেক শুক্রবার পর্যন্ত যা কিছু বলতেন, তার সবই লিখে রাখতেন। [সপ্তাহান্তে] যদি তাতে কোনো ভালো কথা পেতেন, তা হলে আল্লাহ -র শুকরিয়া আদায় করতেন। আর মন্দ কিছু পেলে আল্লাহ -র কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন।
পূর্বের যামানার এক নেককার বান্দা বলেছেন- 'চল্লিশ বছর পূর্বে কৃত একটি গুনাহের জন্য আমি এখনও আল্লাহ র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।'
وَالَّذِيْنَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَّقُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ আর যারা যা দান করার তা দান করে এমতাবস্থায় যে [আল্লাহর ভয়ে] তাদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত থাকে। [সূরা মু'মিনূন: ৬০]
সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে দৃষ্টি অবনত করা। আল্লাহ বলেছেন- قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُرُوجَهُمْ ذٰلِكَ أَزْكَى لَهُمْ তুমি মুমিনদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত এবং তারা যেন তাদের গুপ্তাঙ্গের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতর পন্থা। [সুরা আননূর: ৩০]
📄 আত্মার সুস্থতা ও নিরাপত্তার কয়েকটি আলামত
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম কলবের সুস্থতা এবং মুক্তির আলামত প্রসঙ্গে বলেছেন-
০১. সুস্থ কলব সবসময় মানুষকে আল্লাহ -এর কাছে তওবা ও প্রত্যাবর্তনের জন্য দংশন করতে থাকে।
০২. সুস্থ কলব কখনও রব্বল আলামীনের যিকির থেকে বিরত হয় না এবং তাঁর এবাদত করে ক্লান্ত হয় না।
০৩. যখন তার কোন নির্দিষ্ট যিকির ছুটে যায়, তখন সে সম্পদ হারানোর চেয়েও অধিক ব্যথিত হয়। এখানে একটি কথা আমি বলতে চাই, আল্লাহ ইবনুল কায়্যিমকে দয়া করুন, তিনি যার নির্দিষ্ট যিকির আছে, তার ব্যাপারে একথা বলেছেন; যার নির্দিষ্ট যিকির নেই, তার ব্যাপারে তিনি কী বলবেন? বরং যার ফরয সালাত ছুটে গেলে অন্তরে ব্যথা অনুভূত হয় না, তার ব্যাপারে যে তিনি কী বলতেন আল্লাহ -ই ভালো জানেন। হাদীসে আছে- مَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ.
যার আসরের সালাত ফওত হয়ে গেল, তার যেন পরিবার-পরিজন এবং সয়সম্পত্তি সব বিনাশ হয়ে গেল। [নাসাই]
০৪. সুস্থ কলবের অধিকারী ব্যক্তি এবাদত-বন্দেগীতে খাবার-দাবারের চেয়েও বেশি মজা অনুভব করে। এখন আমরা বলি, আমরা কি এবাদতের মধ্যে বেশি মজা অনুভব করে; না কি এবাদত থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর?
০৫. সুস্থ কলবের অধিকারী ব্যাক্তি সালাত শুরু করলে দুনিয়ার সমস্ত পেরেশানী এবং চিন্তা দূর হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের অবস্থা হচ্ছে এমন যে, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের চিন্তা সালাতের মধ্যে বিশেষভাবে চেপে বসে। এমন কি এক ভাই আমাকে বলেছেন, তিনি একজনকে দেখেছেন, সে সালাত আরম্ভ করল এবং একটি চালানের কাগজ বের করে হিসাব করতে শুরু করল। সালাতের মধ্যে থেকেই সে হিসাব যাচাই করল। এরকম আল্লাহ -র সামনে সালাতে দাঁড়িয়ে খুশু-খুযু বলি দেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে।
তা হলে এমন লোকদের সালাতের স্বাদ থাকে কোথায়? আর সেই সালাতই বা কোথায়, যার সম্পর্কে নবীজী বলেছেন- أَرِحْنَا بِالصَّلَاةِ يَا بِلَالُ হে বেলাল, সালাতের ব্যবস্থা করে আমাদেরকে শান্তি দাও। [মুসনানদে আহমাদ]
তিনি আরও বলেছেন- وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ আর আমার চোখের প্রশান্তি রাখা হয়েছে সালাতের মধ্যে। [মুসনানদে আহমাদ]
বেশিরভাগ মুসল্লীর যবানের অবস্থা হচ্ছে, 'সালাত থেকে আমাদেরকে মুক্তি দাও।' এমন লোকও আপনি পাবেন, যদি ইমাম সাহেব তেলাওয়াত দীর্ঘ করেন, তা হলে সে ইমামকে সেইসব হাদীস মুখস্ত শুনিয়ে দেয়, যেগুলোর মধ্যে মুসল্লীদের অবস্থার প্রতি খেয়াল করে তেলাওয়াত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু যদি ইমাম সাহেব ওয়াজিবসমূহ যথাযথ আদায় করতে ত্রুটি করেন, তা হলে তাঁকে অভিহিত করার লোক আপনি পাবেন না। তবে আল্লাহ-র ইচ্ছায় দু'একজন থাকতে পারেন। আল্লাহ সাহায্যকারী।
০৬. তার মনোযোগ থাকবে আল্লাহ-র জন্য এবং আল্লাহ-র জাত নিয়ে। এটা অনেক বড় মাকাম।
০৭. সুস্থ কলবের অধিকারী সময়ের বেলায় থাকবে খুব কৃপণ; এমন কি মালের কৃপণের চেয়েও বেশি।
০৮. এমন লোকের আমল দুরস্ত করার প্রতি মনোনিবেশ থাকবে, নিজের ব্যক্তিসত্তাকে দুরস্ত করার চেয়ে অনেক বেশি। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। মানুষের আমল সহীহ করার মনোযোগটি খুব বেশি থাকা বাঞ্ছনীয়- নিয়ত দুরস্ত করা; এত্তেবা ঠিক করা এবং আমলের ক্ষেত্রে আবদিয়াত বাস্তবায়ন করা।
এগুলো সব কলবের সুস্থতা এবং নিরাপদ থাকার আলামত। প্রিয় পাঠক! আমি আপনার সামনে এখন কলবের পাষণ্ডতা এবং রুগ্নতার বিভিন্ন আলামত তুলে ধরছি।
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম কলবের সুস্থতা এবং মুক্তির আলামত প্রসঙ্গে বলেছেন-
০১. সুস্থ কলব সবসময় মানুষকে আল্লাহ -এর কাছে তওবা ও প্রত্যাবর্তনের জন্য দংশন করতে থাকে।
০২. সুস্থ কলব কখনও রব্বল আলামীনের যিকির থেকে বিরত হয় না এবং তাঁর এবাদত করে ক্লান্ত হয় না।
০৩. যখন তার কোন নির্দিষ্ট যিকির ছুটে যায়, তখন সে সম্পদ হারানোর চেয়েও অধিক ব্যথিত হয়। এখানে একটি কথা আমি বলতে চাই, আল্লাহ ইবনুল কায়্যিমকে দয়া করুন, তিনি যার নির্দিষ্ট যিকির আছে, তার ব্যাপারে একথা বলেছেন; যার নির্দিষ্ট যিকির নেই, তার ব্যাপারে তিনি কী বলবেন? বরং যার ফরয সালাত ছুটে গেলে অন্তরে ব্যথা অনুভূত হয় না, তার ব্যাপারে যে তিনি কী বলতেন আল্লাহ -ই ভালো জানেন। হাদীসে আছে- مَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ.
যার আসরের সালাত ফওত হয়ে গেল, তার যেন পরিবার-পরিজন এবং সয়সম্পত্তি সব বিনাশ হয়ে গেল। [নাসাই]
০৪. সুস্থ কলবের অধিকারী ব্যক্তি এবাদত-বন্দেগীতে খাবার-দাবারের চেয়েও বেশি মজা অনুভব করে। এখন আমরা বলি, আমরা কি এবাদতের মধ্যে বেশি মজা অনুভব করে; না কি এবাদত থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর?
০৫. সুস্থ কলবের অধিকারী ব্যাক্তি সালাত শুরু করলে দুনিয়ার সমস্ত পেরেশানী এবং চিন্তা দূর হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের অবস্থা হচ্ছে এমন যে, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের চিন্তা সালাতের মধ্যে বিশেষভাবে চেপে বসে। এমন কি এক ভাই আমাকে বলেছেন, তিনি একজনকে দেখেছেন, সে সালাত আরম্ভ করল এবং একটি চালানের কাগজ বের করে হিসাব করতে শুরু করল। সালাতের মধ্যে থেকেই সে হিসাব যাচাই করল। এরকম আল্লাহ -র সামনে সালাতে দাঁড়িয়ে খুশু-খুযু বলি দেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে।
তা হলে এমন লোকদের সালাতের স্বাদ থাকে কোথায়? আর সেই সালাতই বা কোথায়, যার সম্পর্কে নবীজী বলেছেন- أَرِحْنَا بِالصَّلَاةِ يَا بِلَالُ হে বেলাল, সালাতের ব্যবস্থা করে আমাদেরকে শান্তি দাও। [মুসনানদে আহমাদ]
তিনি আরও বলেছেন- وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ আর আমার চোখের প্রশান্তি রাখা হয়েছে সালাতের মধ্যে। [মুসনানদে আহমাদ]
বেশিরভাগ মুসল্লীর যবানের অবস্থা হচ্ছে, 'সালাত থেকে আমাদেরকে মুক্তি দাও।' এমন লোকও আপনি পাবেন, যদি ইমাম সাহেব তেলাওয়াত দীর্ঘ করেন, তা হলে সে ইমামকে সেইসব হাদীস মুখস্ত শুনিয়ে দেয়, যেগুলোর মধ্যে মুসল্লীদের অবস্থার প্রতি খেয়াল করে তেলাওয়াত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু যদি ইমাম সাহেব ওয়াজিবসমূহ যথাযথ আদায় করতে ত্রুটি করেন, তা হলে তাঁকে অভিহিত করার লোক আপনি পাবেন না। তবে আল্লাহ-র ইচ্ছায় দু'একজন থাকতে পারেন। আল্লাহ সাহায্যকারী।
০৬. তার মনোযোগ থাকবে আল্লাহ-র জন্য এবং আল্লাহ-র জাত নিয়ে। এটা অনেক বড় মাকাম।
০৭. সুস্থ কলবের অধিকারী সময়ের বেলায় থাকবে খুব কৃপণ; এমন কি মালের কৃপণের চেয়েও বেশি।
০৮. এমন লোকের আমল দুরস্ত করার প্রতি মনোনিবেশ থাকবে, নিজের ব্যক্তিসত্তাকে দুরস্ত করার চেয়ে অনেক বেশি। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। মানুষের আমল সহীহ করার মনোযোগটি খুব বেশি থাকা বাঞ্ছনীয়- নিয়ত দুরস্ত করা; এত্তেবা ঠিক করা এবং আমলের ক্ষেত্রে আবদিয়াত বাস্তবায়ন করা।
এগুলো সব কলবের সুস্থতা এবং নিরাপদ থাকার আলামত। প্রিয় পাঠক! আমি আপনার সামনে এখন কলবের পাষণ্ডতা এবং রুগ্নতার বিভিন্ন আলামত তুলে ধরছি।
📄 কলবের রুগ্নতা এবং পাষণ্ডতার বিভিন্ন আলামত
এখানে আল্লামা ইবনুল কায়্যিম কলবের রুগ্নতার অনেকগুলো আলামত উল্লেখ করেছেন। যেমন-
০১. রুগ্ন অন্তর অন্যায়ের ব্যথা অনুভব করে না।
এখন আমরা কি অন্তরের যখমের কারণে ব্যথা অনুভব করি; আমরা কি রাতদিন গুনাহখাতা করার পর তা উপলব্ধি করতে পারি? আমরা যখন গুনাহ করি, তখন কি অনুতপ্ত হই এবং তওবার সংকল্প করি? সমাজে যেসব অন্যায় অপরাধ হতে দেখি, সেগুলো দেখার পর কি ভিতরে ব্যথা অনুভূত হয়? আমরা কি সেগুলো রোধ করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করি। নিঃসন্দেহে এই কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যেই কলব নিজের এবং সমাজের কল্যাণকর এবং গর্হিত কাজ সনাক্ত করতে পারে না, সেটি এমন কলব, যার মালিকের উচিত সময় থাকতে প্রতিকার করা।
০২. এরকম কলব গুনাহ করে মজা পায় এবং গুনাহের কাজ শেষ করে পুলক অনুভব করে। অথচ মুমিনের অবস্থা হচ্ছে এই যে, যখন সে আল্লাহ -এর না-ফরমানী করে, তখন সে অনুতপ্ত হয়, এস্তেফার করে, ছুটে যাওয়া বিষয়ের আফসোস করে এবং দ্রুত আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা করে।
এই ক্ষেত্রে এমন কিছু লোক পাওয়া যায়, দুঃখের বিষয়, যাদের উপর আল্লামা ইবনুল কায়ি্যমের কথা খাপ খায়। কিছু কিছু ফিল্মদর্শক আছে, আমরা দেখি, তারা সেগুলো দেখে মজা পায়। এবং তাদের সেই মজা দীর্ঘ স্থায়ী।
অনুরূপভাবে কিছু কিছু খেলাপ্রিয় লোকদেরকে আমরা দেখি, তারা খেলা দেখে খুব মজা পায়। তাদের ঘোর কাটতে অনেক সময় লাগে। বিশেষত যখন তার সমর্থিত দল জয়লাভ করে। আমরা কি কখনও এই বিষয়ের ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তা করে থাকি?
০৩. রুগ্ন কলবওয়ালা ব্যক্তি উত্তম বস্তুর উপর মন্দ বস্তুকে প্রাধান্য দেয়; মূল্যবান বস্তুর পরিবর্তে তারা বাজে বস্তুর দিকে আকৃষ্ট হয়। এখানে কিছু কিছু মুসলমানের ব্যাপারে আমরা কী বলব, যারা মুসলমান ভাইয়ের এবং মুসলিম জাতির গুরুত্ব না দিয়ে, দীনী বিষয়াদি এবং মুসলিম আলেমসমাজ ও নেতৃবৃন্দের দিকে ভুক্ষেপ না করে, আজেবাজে বিষয়ের দিকে মনোযোগ ব্যয় করে থাকে?
মানুষ কতটা আফসোস করবে, আমাদের সমাজের বেশিরভাগ যুবকদের বিষয়সম্পত্তির উপর, হিসাববিজ্ঞান এবং শিল্পকলা যাদের মজ্জাগত প্রেমে পরিণত হয়েছে? ওগুলোর জন্যই তারা অস্থির, পেরেশান, দিশেহারা। এদের কাছে এগুলোর গুরুত্ব আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন এবং আরিত্রিয়ার মত অঞ্চলের মুসলমান ভাইদের বিষয় থেকেও বেশি। তা হলে বলা যায়, এদের কলব সুস্থ? না কি আমরা এদের জন্য বলব, তোমাদের কলবের ব্যাপারে সচেতন হও, না হলে তা কিন্তু একেবারে ধ্বংসের প্রান্তসীমায় অবস্থিত।
০৪. অসুস্থ অন্তর সত্যকে অপছন্দ করে এবং সে কারণে তার বুক সংকীর্ণ হয়ে আসে। এ হচ্ছে মুনাফিকীর সূচনা। মনে রাখা দরকার, এটা মুনাফিকীর সর্বশেষ ধাপও হতে পারে।
০৫. অসুস্থ কলব নেককার লোকদেরকে ভয় করে এবং গুনাহগার ও অপরাধী লোকদেরকে ঘনিষ্ঠ অনুভব করে। কাজেই দেখবেন, অনেকে নেককারদের কাছে বসতে হিম্মত করে না এবং তাদের সাথে ঘনিষ্ঠও হয় না; তারা বরং তাদের সাথে ঠাট্টাবিদ্রূপ করে। এরকম লোকদের মন শুধু বদচরিত্র এবং খারাপ লোকদের সাথেই বসতে সায় দেয়। সন্দেহ নেই, এটা এসব লোকের কলবে রোগব্যাধি ও ফাসাদ থাকার স্পষ্ট দলিল।
০৬. অসুস্থ কলব সন্দেহপূর্ণ বিষয় গ্রহণ করে এবং তারা দ্বারা প্রভাবিত হয়। এরকম দিল ঝগড়াবিবাদ ভালোবাসে এবং কুরআন তেলাওয়াতের ব্যাপারে বিরক্তি বোধ করে।
০৭. অসুস্থ দিল গাইরুল্লাহকে ভয় পায়। এজন্য ইমাম আহমাদ বলেন, যদি তুমি তোমার দিলকে ঠিক করো, তা হলে কাউকে ভয় করবে না। দেখুন, আইজ্জ ইবনে আবদুস সালাম একবার এক স্বৈরাচারী শাসকের দরবারে উপস্থিত হলেন এবং তাকে খুব শক্ত কথা বললেন। যখন তিনি সেখান থেকে চলে এলেন, তখন লোকজন তাকে জিজ্ঞাস করল, জনাব! আপনার ভয় হল না? তিনি বললেন, আমি আল্লাহ -র বড়ত্বের কথা ভাবলাম, তখন তাকে একজন বিড়ালের মত মনে হল।
এখন আমরা অনেক লোককে দেখতে পাই, তারা অফিসার এবং নিয়ম-কানুনকে আল্লাহ -এর ভয়ের চেয়ে বেশি ভয় করে। এটা কিন্তু এরকম লোকদের অন্তর আচ্ছন্ন হওয়ার দলিল। বুদ্ধিমান লোক অন্তরের সাথে লড়াই করে।
০৮. অসুস্থ অন্তরে গাইরুল্লাহর প্রেম থাকে। শাইখুল ইসলাম বলেছেন, কোন লোকের মধ্যে গাইরুল্লাহর প্রেম স্থান গ্রহণ করলে তার ঈমান ও তাওহীদ হ্রাস পায়। তবে তওবাকারী কলবের মধ্যে দুটি প্রতিবন্ধক শক্তি থাকে, যেগুলো মানুষকে গাইরুল্লাহর প্রেম ও মহব্বত থেকে ফিরিয়ে রাখে এবং আল্লাহ, আল্লাহ -এর প্রেম এবং তাঁর ভয়ের দিকে পরিচালিত করে।
০৯. অসুস্থ হৃদয় ভালো কিছু উপলব্ধি করতে পারে না এবং কোন অশ্লীল বিষয় মোকাবেলা করতে পারে না; এমন কি তার ভয়াবহতাও উপলব্ধি করতে পারে না।
এখানে আল্লামা ইবনুল কায়্যিম কলবের রুগ্নতার অনেকগুলো আলামত উল্লেখ করেছেন। যেমন-
০১. রুগ্ন অন্তর অন্যায়ের ব্যথা অনুভব করে না।
এখন আমরা কি অন্তরের যখমের কারণে ব্যথা অনুভব করি; আমরা কি রাতদিন গুনাহখাতা করার পর তা উপলব্ধি করতে পারি? আমরা যখন গুনাহ করি, তখন কি অনুতপ্ত হই এবং তওবার সংকল্প করি? সমাজে যেসব অন্যায় অপরাধ হতে দেখি, সেগুলো দেখার পর কি ভিতরে ব্যথা অনুভূত হয়? আমরা কি সেগুলো রোধ করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করি। নিঃসন্দেহে এই কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যেই কলব নিজের এবং সমাজের কল্যাণকর এবং গর্হিত কাজ সনাক্ত করতে পারে না, সেটি এমন কলব, যার মালিকের উচিত সময় থাকতে প্রতিকার করা।
০২. এরকম কলব গুনাহ করে মজা পায় এবং গুনাহের কাজ শেষ করে পুলক অনুভব করে। অথচ মুমিনের অবস্থা হচ্ছে এই যে, যখন সে আল্লাহ -এর না-ফরমানী করে, তখন সে অনুতপ্ত হয়, এস্তেফার করে, ছুটে যাওয়া বিষয়ের আফসোস করে এবং দ্রুত আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা করে।
এই ক্ষেত্রে এমন কিছু লোক পাওয়া যায়, দুঃখের বিষয়, যাদের উপর আল্লামা ইবনুল কায়ি্যমের কথা খাপ খায়। কিছু কিছু ফিল্মদর্শক আছে, আমরা দেখি, তারা সেগুলো দেখে মজা পায়। এবং তাদের সেই মজা দীর্ঘ স্থায়ী।
অনুরূপভাবে কিছু কিছু খেলাপ্রিয় লোকদেরকে আমরা দেখি, তারা খেলা দেখে খুব মজা পায়। তাদের ঘোর কাটতে অনেক সময় লাগে। বিশেষত যখন তার সমর্থিত দল জয়লাভ করে। আমরা কি কখনও এই বিষয়ের ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তা করে থাকি?
০৩. রুগ্ন কলবওয়ালা ব্যক্তি উত্তম বস্তুর উপর মন্দ বস্তুকে প্রাধান্য দেয়; মূল্যবান বস্তুর পরিবর্তে তারা বাজে বস্তুর দিকে আকৃষ্ট হয়। এখানে কিছু কিছু মুসলমানের ব্যাপারে আমরা কী বলব, যারা মুসলমান ভাইয়ের এবং মুসলিম জাতির গুরুত্ব না দিয়ে, দীনী বিষয়াদি এবং মুসলিম আলেমসমাজ ও নেতৃবৃন্দের দিকে ভুক্ষেপ না করে, আজেবাজে বিষয়ের দিকে মনোযোগ ব্যয় করে থাকে?
মানুষ কতটা আফসোস করবে, আমাদের সমাজের বেশিরভাগ যুবকদের বিষয়সম্পত্তির উপর, হিসাববিজ্ঞান এবং শিল্পকলা যাদের মজ্জাগত প্রেমে পরিণত হয়েছে? ওগুলোর জন্যই তারা অস্থির, পেরেশান, দিশেহারা। এদের কাছে এগুলোর গুরুত্ব আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন এবং আরিত্রিয়ার মত অঞ্চলের মুসলমান ভাইদের বিষয় থেকেও বেশি। তা হলে বলা যায়, এদের কলব সুস্থ? না কি আমরা এদের জন্য বলব, তোমাদের কলবের ব্যাপারে সচেতন হও, না হলে তা কিন্তু একেবারে ধ্বংসের প্রান্তসীমায় অবস্থিত।
০৪. অসুস্থ অন্তর সত্যকে অপছন্দ করে এবং সে কারণে তার বুক সংকীর্ণ হয়ে আসে। এ হচ্ছে মুনাফিকীর সূচনা। মনে রাখা দরকার, এটা মুনাফিকীর সর্বশেষ ধাপও হতে পারে।
০৫. অসুস্থ কলব নেককার লোকদেরকে ভয় করে এবং গুনাহগার ও অপরাধী লোকদেরকে ঘনিষ্ঠ অনুভব করে। কাজেই দেখবেন, অনেকে নেককারদের কাছে বসতে হিম্মত করে না এবং তাদের সাথে ঘনিষ্ঠও হয় না; তারা বরং তাদের সাথে ঠাট্টাবিদ্রূপ করে। এরকম লোকদের মন শুধু বদচরিত্র এবং খারাপ লোকদের সাথেই বসতে সায় দেয়। সন্দেহ নেই, এটা এসব লোকের কলবে রোগব্যাধি ও ফাসাদ থাকার স্পষ্ট দলিল।
০৬. অসুস্থ কলব সন্দেহপূর্ণ বিষয় গ্রহণ করে এবং তারা দ্বারা প্রভাবিত হয়। এরকম দিল ঝগড়াবিবাদ ভালোবাসে এবং কুরআন তেলাওয়াতের ব্যাপারে বিরক্তি বোধ করে।
০৭. অসুস্থ দিল গাইরুল্লাহকে ভয় পায়। এজন্য ইমাম আহমাদ বলেন, যদি তুমি তোমার দিলকে ঠিক করো, তা হলে কাউকে ভয় করবে না। দেখুন, আইজ্জ ইবনে আবদুস সালাম একবার এক স্বৈরাচারী শাসকের দরবারে উপস্থিত হলেন এবং তাকে খুব শক্ত কথা বললেন। যখন তিনি সেখান থেকে চলে এলেন, তখন লোকজন তাকে জিজ্ঞাস করল, জনাব! আপনার ভয় হল না? তিনি বললেন, আমি আল্লাহ -র বড়ত্বের কথা ভাবলাম, তখন তাকে একজন বিড়ালের মত মনে হল।
এখন আমরা অনেক লোককে দেখতে পাই, তারা অফিসার এবং নিয়ম-কানুনকে আল্লাহ -এর ভয়ের চেয়ে বেশি ভয় করে। এটা কিন্তু এরকম লোকদের অন্তর আচ্ছন্ন হওয়ার দলিল। বুদ্ধিমান লোক অন্তরের সাথে লড়াই করে।
০৮. অসুস্থ অন্তরে গাইরুল্লাহর প্রেম থাকে। শাইখুল ইসলাম বলেছেন, কোন লোকের মধ্যে গাইরুল্লাহর প্রেম স্থান গ্রহণ করলে তার ঈমান ও তাওহীদ হ্রাস পায়। তবে তওবাকারী কলবের মধ্যে দুটি প্রতিবন্ধক শক্তি থাকে, যেগুলো মানুষকে গাইরুল্লাহর প্রেম ও মহব্বত থেকে ফিরিয়ে রাখে এবং আল্লাহ, আল্লাহ -এর প্রেম এবং তাঁর ভয়ের দিকে পরিচালিত করে।
০৯. অসুস্থ হৃদয় ভালো কিছু উপলব্ধি করতে পারে না এবং কোন অশ্লীল বিষয় মোকাবেলা করতে পারে না; এমন কি তার ভয়াবহতাও উপলব্ধি করতে পারে না।
📄 পরিশিষ্ট
হয়তো আমি প্রসঙ্গটিকে প্রয়োজনের চেয়ে অধিক দীর্ঘ করেছি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর বিভিন্ন দিকের পরিচয় তুলে ধরাও জরুরী। এজন্য অন্তরের বিষয়াদিতে আল্লাহ -কে ভয় করুন; আল্লাহ -কে ভয় করুন। অন্তরের সাথে দয়ার আচরণ করুন এবং তাকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করুন। কলবের যত্ন নিন এবং ক্ষতিকর বিষয়াদি থেকে তাকে রক্ষা করুন।
মানুষ যখন দৈহিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে অবগত হয়, তখন সে কতই না পেরেশান হয়ে পড়ে। পাপ-পঙ্কিলতার রোগব্যাধিতে আত্মা রুগ্ন এবং যখম হয়ে সকালসন্ধ্যা পরীক্ষায় নিপতিত হলে কি আমরা সেরকম পেরেশান হই?
সুতরাং অন্তরের ব্যাপারে আমরা যেন আল্লাহ ﷻ-কে ভয় করি। অন্তর ঠিক হওয়ার মধ্যেই মানুষের মুক্তি।
﴿يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ ﴿۸﴾ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ﴾
সে দিন সম্পদ ও সন্তানসন্তুতি কোন উপকার দিবে না; তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ অন্তর নিয়ে। [সুরা শুআরা : ৮৮-৮৯]
আজ অনেক গুনাহ মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। যেমন সুদ খাওয়া, সুদের জন্য সাহায্য করা, ঘুষ নেওয়া, দেওয়া, মানুষের গীবত-শেকায়েতে লিপ্ত হওয়া, ইত্যাদি। যেগুলো কোন গণনাকারীর পক্ষে গুণে শেষ করা সম্ভব নয়, এগুলো সম্পর্কে আমরা কি আল্লাহ ﷻ-কে ভয় করি?
আসুন, আমরা এই কলবের উপর একটু দয়া করি। একে আমরা আল্লাহ ﷻ-এর আনুগত্যে ব্যবহার করি। বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করি। কুরআনের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করি। নফল এবাদত বাড়াই। বেশি বেশি করে সদকা এবং আল্লাহ ﷻ-এর যিকির করি। তা হলে নিরাপদ, সুস্থ ও তওবাকারী দিল নিয়ে আমরা আল্লাহ ﷻ-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারব। যেসব লোকের কলব গাফেল, তাদের সংসর্গের ব্যাপারে ভয় জাগরিত করি; তাদের থেকে নাজাত কামনা করি।
হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে দীনের উপর অবিচল থাকার হিম্মত এবং হেদায়েতের উপর দৃঢ়তা কামনা করি। তোমার নেয়ামতের শুকর আদায় করার এবং সুন্দর করে এবাদত করার তৌফিক প্রার্থনা করি। তোমার চাই সেই কল্যাণ, যা শুধু তুমিই জানো। আশ্রয়ও চাই সেই অনিষ্ট থেকে, যার তথ্য আছে শুধু তোমার কাছে। আমাদের অজ্ঞানতার জন্য আমরা তোমার কাছে ক্ষমা চাই। হে আল্লাহ! আমাদেরকে দান করো সুস্থ কলব এবং সত্য বলার যবান।
وَصَلَّى اللَّهُ وَسَلَّمَ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.
সমাপ্তি
হয়তো আমি প্রসঙ্গটিকে প্রয়োজনের চেয়ে অধিক দীর্ঘ করেছি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর বিভিন্ন দিকের পরিচয় তুলে ধরাও জরুরী। এজন্য অন্তরের বিষয়াদিতে আল্লাহ -কে ভয় করুন; আল্লাহ -কে ভয় করুন। অন্তরের সাথে দয়ার আচরণ করুন এবং তাকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করুন। কলবের যত্ন নিন এবং ক্ষতিকর বিষয়াদি থেকে তাকে রক্ষা করুন।
মানুষ যখন দৈহিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে অবগত হয়, তখন সে কতই না পেরেশান হয়ে পড়ে। পাপ-পঙ্কিলতার রোগব্যাধিতে আত্মা রুগ্ন এবং যখম হয়ে সকালসন্ধ্যা পরীক্ষায় নিপতিত হলে কি আমরা সেরকম পেরেশান হই?
সুতরাং অন্তরের ব্যাপারে আমরা যেন আল্লাহ ﷻ-কে ভয় করি। অন্তর ঠিক হওয়ার মধ্যেই মানুষের মুক্তি।
﴿يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ ﴿۸﴾ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ﴾
সে দিন সম্পদ ও সন্তানসন্তুতি কোন উপকার দিবে না; তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ অন্তর নিয়ে। [সুরা শুআরা : ৮৮-৮৯]
আজ অনেক গুনাহ মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। যেমন সুদ খাওয়া, সুদের জন্য সাহায্য করা, ঘুষ নেওয়া, দেওয়া, মানুষের গীবত-শেকায়েতে লিপ্ত হওয়া, ইত্যাদি। যেগুলো কোন গণনাকারীর পক্ষে গুণে শেষ করা সম্ভব নয়, এগুলো সম্পর্কে আমরা কি আল্লাহ ﷻ-কে ভয় করি?
আসুন, আমরা এই কলবের উপর একটু দয়া করি। একে আমরা আল্লাহ ﷻ-এর আনুগত্যে ব্যবহার করি। বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করি। কুরআনের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করি। নফল এবাদত বাড়াই। বেশি বেশি করে সদকা এবং আল্লাহ ﷻ-এর যিকির করি। তা হলে নিরাপদ, সুস্থ ও তওবাকারী দিল নিয়ে আমরা আল্লাহ ﷻ-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারব। যেসব লোকের কলব গাফেল, তাদের সংসর্গের ব্যাপারে ভয় জাগরিত করি; তাদের থেকে নাজাত কামনা করি।
হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে দীনের উপর অবিচল থাকার হিম্মত এবং হেদায়েতের উপর দৃঢ়তা কামনা করি। তোমার নেয়ামতের শুকর আদায় করার এবং সুন্দর করে এবাদত করার তৌফিক প্রার্থনা করি। তোমার চাই সেই কল্যাণ, যা শুধু তুমিই জানো। আশ্রয়ও চাই সেই অনিষ্ট থেকে, যার তথ্য আছে শুধু তোমার কাছে। আমাদের অজ্ঞানতার জন্য আমরা তোমার কাছে ক্ষমা চাই। হে আল্লাহ! আমাদেরকে দান করো সুস্থ কলব এবং সত্য বলার যবান।
وَصَلَّى اللَّهُ وَسَلَّمَ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.
সমাপ্তি