📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 আদর্শ আনুগত্য

📄 আদর্শ আনুগত্য


আমাদের আমল ও আকীদা-বিশ্বাস হতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের নির্দেশ মোতাবেক। আল্লাহ বলেন-

قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبُكُمُ اللَّهُ ﴾ বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তা হলে তোমরা আমার অনুসরণ করো, তা হলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন। [সুরা আলে ইমরান: ৩১]

আল্লাহ আরও বলেন-

وَمَا آتَكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ * وَمَا نَهَكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا রসুল তোমাদেরকে যাকিছু দেন, সেগুলো তোমরা গ্রহণ করো এবং তিনি যেসব বিষয়ে নিষেধ করেন, সেগুলো তোমরা বিরত থাকো। [সুরা হাশর: ৭]

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ
কোন মুমিন নরনারীর জন্য বৈধ নয় যে, যখন আল্লাহ এবং তাঁর রসুল কোন ফয়সালা করেন, তখন সে বিষয়ে তাদের কোন স্বাধীনতা থাকবে। [সুরা আহযাব : ৩৬]

এখন আমাদের প্রতিটি কাজকর্ম, আমল এবং পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহ -র বিধান অনুযায়ী চলি কি না, নিজেদেরকে প্রশ্ন করে দেখতে পারি।

আমাদের কেউ তার কাজকর্ম আঞ্জাম দেয় স্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী; কেউ তার নেতার চাহিদা অনুযায়ী; কেউ বংশের মাদবরদের চাহিদা অনুযায়ী, অথবা দলের চাহিদা অনুযায়ী। এ ক্ষেত্রে সে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরোধিতা হলে সে পরওয়া করে না।

যদি আপনি কাউকে পরীক্ষার উদ্দেশে বলেন, 'কেন ভাই! তুমি এই কাজটি করছ? সে উত্তর দিবে, 'আমার নেতা যিনি, তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন।' আপনি যদি তাকে বলেন, 'কিন্তু কাজটি তো হারাম!' তখন সে উত্তর দিবে, আমিও জানি, কাজটি হারাম; কিন্তু আমি কী করব। যদি আমি এই কাজটি না করি, তা হলে তিনি আমার পদোন্নতি আটকে দিবেন, অথবা তিনি আমাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে দিবেন...।' তা হলে এই লোকটি, যে নেতার সন্তুষ্টিকে প্রতিপালকের সন্তুষ্টির প্রাধান্য দিল, সে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করল কোথায়?

আমাদের জন্য আবশ্যক আমাদের আমলসমূহের জরিপ করা এবং রসুল -এর নিম্নোক্ত বাণীর প্রতিফলন যাচাই করা-

لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُوْنَ هَوَاهُ تَبْعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ. তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রবৃত্তির আমার আনীত বিষয়ের অনুগত না হবে। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

অপর সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে- مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدُّ. যে ব্যক্তি আমাদের এই ধর্মে এমন বিষয় যোগ করবে, যা এই ধর্মের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিহার্য। [সহিহ বুখারি]

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 আল্লাহ্-র যিকির

📄 আল্লাহ্-র যিকির


যিকির অন্তরের জং পরিষ্কার করে এবং অন্তরের উপর পাপ-পঙ্কিলতার যেসব আবরণ পড়ে সেগুলো দূর করে। মানুষের এবং প্রতিপালকের মাঝে নৈকট্য বৃদ্ধি করে- বিশেষত যখন মানুষ যিকিরের সাথে সংবেদনশীল হয় এবং প্রতিটি মুহূর্তে ও প্রতিটি পদক্ষেপে যিকিরকে সঙ্গী বানায়।

আল্লাহ বলেন- أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ মুমিনদের জন্য সে সময় কি ঘনিভূত হয়নি যে, তাদের অন্তরসমূহ আল্লাহর যিকির এবং তিনি যেই সত্য নাযিল করেছেন, তার জন্য বিনীত হবে? [সুরা হাদীদ : ১৬]

আল্লাহ আরও বলেন- وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ আমি কুরআন হিসেবে সেই বস্তু নাযিল করে থাকি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য এবং রহমত। [সুরা বনি ইসরাইল: ৮২]

যিকির কম করার কারণে আল্লাহ মুনাফিকদের নিন্দা করেছেন। তিনি আত্মার পরীক্ষা-নিরীক্ষার চূড়ান্ত চিকিৎসা উল্লেখ করে বলেছেন- أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ মনে রেখো, আল্লাহর যিকির দ্বারা অন্তর স্বস্তি লাভ করে। [সুরা রাদ: ২৮]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00