📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন 📄 ভৌগলিক বিষয়াদি নিয়ে সংঘবদ্ধতা

📄 ভৌগলিক বিষয়াদি নিয়ে সংঘবদ্ধতা


ভৌগলিক বিষয়াদি নিয়ে সংঘবদ্ধতা যেমন, সাম্প্রদায়িকতা, জাতীয়তা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মত গোমরাহ বিষয়াদি। এগুলোর বাজার চালু হয়েছে এবং খুব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত আজকাল। আমরা শুনতে পাই, এগুলোর নাম দেওয়া হয় 'জাতীয় ঐক্য'। এ হচ্ছে ভৌগলিক ভিত্তির উপর প্রেম। যে ব্যক্তি আপনার দেশের, সে যেমনই হোক, আপনি তাকে ভালোবাসবেন। চাই মুসলিম হোক, ফাসেক হোক অথবা কাফের হোক। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সে আপনার সমদেশী। আপনি এই অনুভূতি লালন করেন না সেই মুসলমানের জন্য, যিনি আপনার সমদেশী নন। চাই তিনি সর্বাধিক মুত্তাকী হোন না কেন?

এই প্রেম ও সহমর্মিতা সমদেশিতার উপর নির্ভরশীল। এমন কি এই রকম লোকদের কেউ কেউ [তাদের মুখে ছাই পড়ুক।] বলে থাকে, 'দেশপ্রেম ছাড়া সব প্রেম ক্ষয় এবং বিলুপ্ত হয়।' অর্থাৎ মাটির প্রেম, ভূখণ্ডের প্রেম ছাড়া অন্যসব প্রেম ক্ষয়িষ্ণু। আল্লাহ তাদের উদর পূজ দ্বারা পূর্ণ করে দিন। এরকম কথাই তারা বলে থাকে, সমস্ত প্রেম বিলুপ্ত হবে, এমন কি আল্লাহ ও তাঁর রসুল ﷺ-র প্রেমও বিলুপ্ত হবে; শুধু বিলুপ্ত হবে না দেশের ভালোবাসা। এ হচ্ছে নতুন এক প্রকারের শির্ক।

এসব হতভাগা জানে না যে, আমরা সবসময় কুরআন মাজীদের মধ্যে তেলাওয়াত করে থাকি-

تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
[ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুটি হাত; হয়েও গেল ধ্বংস। [সুরা মাসাদ: ০১]

এই আয়াতটি নাযিল হয়েছে নবী ﷺ-র চাচা আবু লাহাবের ব্যাপারে। আমরা তার থেকে সম্পর্কমুক্ত এবং আমরা তাকে শত্রু জ্ঞান করি। আমরা সবসময় বেলাল হাবশী, সুহায়িব রূমী এবং সালমান ফারেসীর প্রশংসা করি। আমরা তাদের উপর সন্তুষ্ট। আল্লাহ ﷺ-র কাছে কামনা করি, তিনি আমাদেরকে তাদের সাথে হাশর করেন।

আমার এই বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে, আমরা দেশকে ভালোবাসি না। অবশ্যই ভালোবাসি। কারণ, এটা এমন একটা স্বভাবজাত বিষয়, মানুষের প্রকৃতির মধ্যে প্রথিত। তবে দেশের প্রেম হতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রেমের কাছে নমনীয়। রসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর মাতৃভূমি ও দুনিয়ার সর্বোৎৃষ্ট ভূখণ্ড মক্কা থেকে হিজরত করেছিলেন। কিন্তু কেন? একমাত্র আল্লাহ -এর সন্তুষ্টির জন্য। অন্যান্য মুহাজিরও একই উদ্দেশ্যে হিজরত করেছিলেন।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন 📄 মুসলমানদের একাংশের সংঘবদ্ধতা

📄 মুসলমানদের একাংশের সংঘবদ্ধতা


দাওয়াতের কাজে জড়িতদের একাংশকে আপনি দেখতে পাবেন অপরাংশের বিপক্ষে সংঘবদ্ধ। শিক্ষানবিসদের একাংশ দলবদ্ধ হয় আরেকাংশের বিরুদ্ধে। ফলে তারা ওর চেয়ে একে বেশি ভালোবাসে। কারণ, এ হচ্ছে নিজ দলের লোক। যদি ও অপর জন বেশি মুত্তাকী এবং বেশি সম্মানের উপযুক্ত। এটা বিরাট একটা ত্রুটি। কেননা, নিজদলের নেতা বা আমীর হওয়ার কারণে তাকে মহব্বত করতে দেখা যায়; আর অন্য দলের নেতা বা আমীর হওয়ার কারণে তার সাথে শত্রুতা পোষণ করতে দেখা যায়।

এখানে অবশ্য করণীয় হচ্ছে ঈমানের কারণে মুমিনদেরকে ভালোবাসা এবং কুফরের কারণে অমুসলমানদেরকে শত্রু জ্ঞান করা। না-হকের পক্ষে সংঘবদ্ধ হওয়া জায়েয নয়। কেননা, তা হলে উম্মতের ঐক্যে ফাটল বিভক্তি সৃষ্টি হয়।

وَلاَ تَكُونُواْ كَالَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَاخْتَلَفُواْ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
এবং তাদের মত হয়ো না, যারা তাদের কাছে প্রমাণাদি আসার পর বিভিন্ন দলে আলাদা বিভক্ত হয়ে গেছে। ওদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি। [সুরা আল ইমরান: ১০৫]

এখানে সংঘবদ্ধ হওয়া এবং প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া, এই দুইয়ের মধ্যে তফাত আছে। প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া কাম্য এবং প্রশংসার যোগ্য কাজ।

وَسَارِعُواْ إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ
প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের রবের মাগফেরাত এবং জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও। [সুরা আল ইমরান: ১৩৩]

(سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ ) প্রতিযোগিতা করে তোমাদের রবের মাগফেরাত এবং জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাও। [সূরা হাদীদ: ২১]

তবে সংঘবদ্ধতা নিন্দিত। কত জাতি, কত দল এবং কত লোক সংবদ্ধতার কারণে তাদের অবস্থা হয়েছে কবির এই কবিতাটির মত- وَهَلْ أَنَا إِلَّا مِنْ غَزِيَّةَ إِنْ غَوَتْ غَوَيْتُ وَإِنْ تَرْشُدُ غَزِيَّةُ أَرْشُدُ
[আমি শুধু জানি, আমি গাযিয়্যা বংশের লোক। যদি বংশটি পথভ্রষ্ট হয়ে যায়, তা হলে আমিও পথভ্রষ্ট হব (দ্বিধা নেই)। আর যদি গাযিয়্যা সুপথে চলে, তা হলে আমিও সুপথে চলব।]

সংঘবদ্ধতা রোগের চিকিৎসা হচ্ছে শুধু আল্লাহ -র জন্য নিবেদিত হওয়া, প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত থাকা এবং সঠিক রাস্তা অনুসন্ধান করা। আমরা মানুষ যাচাই করব হকের মানদণ্ডে; মানুষের কথায় হক নির্ণয় করতে চেষ্টা করব না।

আমি দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত বন্ধুদের একটি হাদীস মনে করিয়ে দিতে চাই। নবী বলেছেন- إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيْسَ أَنْ يَعْبُدَهُ الْمُصَلُّونَ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَلَكِنْ فِي التَّحْرِيشِ بَيْنَهُمْ.
নিশ্চয় শয়তান এ বিষয়ে নিরাশ হয়ে গেছে যে, আরব উপদ্বীপে মুসল্লীরা তার উপাসনা করবে। কিন্তু সে তাদের মাঝে বিবাদ সৃষ্টির ব্যাপারে নিরাশ হয়নি। [সহীহ মুসলিম: হাদীস নং- ৭২৮১]

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية