📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 গাইরুল্লাহর ভয়ভীতি

📄 গাইরুল্লাহর ভয়ভীতি


আল্লাহ বলছেন-

فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ সুতরাং মানুষকে ভয় কোরো না; ভয় করো আমাকে। [সুরা মায়িদা: ৪৪]

আল্লাহ আরও বলছেন-

فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَوْهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (তোমরা কি তাদেরকে ভয় কর?) অথচ বেশি ভয়ের যোগ্য হলে আল্লাহ; যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। [সুরা তওবা: ১৩]

যাদের অন্তরে রোগ আছে, তাদের খাসলত হচ্ছে তারা বলে থাকে- يَقُولُونَ نَخْشَى أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ তারা বলে, আমাদের ভয় হয় যে, আমাদেরকে কোন ঘূর্ণিপাক পেয়ে বসবে। [সুরা মায়িদা: ৫২]

যারা ঈমানদার এবং যাদের অন্তর সুস্থ, তাদের বৈশিষ্ট্য- الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيْمَانًا * * وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ﴿١٣﴾
যাদেরকে কিছু লোক বলল, লোকজন তোমাদের মোকাবেলা করার জন্য একত্র হয়েছে; অতএব, তোমরা তাদেরকে ভয় করো। একথা শুনে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পেল এবং তারা বলল, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার তত্ত্বাবধায়ক। [সুরা আল-ইমরান: ১৭৩]

এখানে এক প্রকার স্বভাবজাত ভীতি আছে, যেটাকে দোষণীয় বলা যায় না। যেমন কোন ব্যক্তির মানব কিম্বা প্রাণী দুশমনকে ভয় করা। তবে ঈমানী ভয় শুধু হয় আল্লাহ থেকে।

গাইরুল্লাহর ভয় না থাকা অন্তরের শক্তি এবং বাহাদুরীর দলিল; যেরম সেটা দলিল ঈমানের। ইমাম আহমাদ বলেছেন, তুমি যদি সুস্থ হয়ে থাক, তা হলে কাউকে ভয় করবে না; অর্থাৎ কোন মাখলুককে ভয় করবে না।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 কুমন্ত্রণা

📄 কুমন্ত্রণা


ব্যাধি ব্যাপক এবং সর্বগ্রাসী একটি ব্যাধি। বেশিরভাগ মানুষের সাথেই খেলতামাশা করে এবং তাদের ফরয-ওয়াজিব ও এবাদত-বন্দেগী ধ্বংস করে। শেখ সাদীকে এই কুমন্ত্রণার চিকিৎসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি জওয়াবে বলেছিলেন, আল্লাহ-র কাছে সুস্থতা চাওয়া, তাঁর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করা এবং একে প্রতিহত করার জন্য হিম্মত করা ছাড়া এর আর কোন চিকিৎসা নেই। এর সম্পর্কে অন্যমনস্ক হলে এবং এর সম্পর্কে চিন্তাভাবনা বর্জন করলে, এই রোগ দূর হয়ে যাবে। তার কারণ, মানুষের মধ্যে যখন কুমন্ত্রণা অব্যাহত থাকে, তখন সেটা কঠিন এবং সুদৃঢ় হয়। আর যখন সেটা রোধ করার জন্য হিম্মত করা হয় এবং সে সম্পর্কে অমনোযোগের পথ অবলম্বন করা হয়, তখন তা ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আল্লাহ সর্বজ্ঞাত।

আল্লাহ সুরা 'নাসে'র মধ্যে আমাদেরকে এই বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হুকুম করেছেন- قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿٢﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿۳﴾ إِلَهِ النَّاسِ ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٢﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ ﴾ বলো, আমি আশ্রয় কামনা করছি মানুষের রবের। মানুষের অধিপতির। মানুষের মাবুদের। কুমন্ত্রণা দানকারী আত্মগোপনকারী থেকে। যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। জ্বিন ও ইনসান থেকে। [সুরা নাস: ০১-০৬]

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 অন্তরের পাষণ্ডতা

📄 অন্তরের পাষণ্ডতা


এটি এমন একটি রোগ, যা থেকে অসংখ্য রোগ জন্ম গ্রহণ করে। এর কারণে অন্তরের কার্যক্রমে অনেক বাধাবিপত্তি আসে। ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আল্লাহ-র ইচ্ছায় এই ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এই রোগের ভয়াবহতা প্রকাশ পায় এই আয়াতগুলোর মধ্যে- ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةٌ তারপর তোমাদের অন্তরসমূহ শক্ত হয়ে গেল। একেবারে পাথরের মত, অথবা তার চেয়েও বেশি শক্ত। [সুরা বাকারা: ৭৪]

فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا وَلكِنْ قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَنُ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾
[তারপর যখন তাদের কাছে আমার আযাব এল, তখন তারা কেন কাকুতি-মিনতি করল না; বস্তুত তাদের অন্তরসমূহ শক্ত হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কর্মকাণ্ডকে সৌন্দর্যময় করে দেখাল। [সুরা আনআম: ৪৩]

فَوَيْلٌ لِلْقُسِيَةِ قُلُوبُهُمْ مِّنْ ذِكْرِ اللَّهِ * যাদের অন্তর আল্লাহর যিকিরের বেলায় কঠোর, তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ। [সুরা যুমার: ২২]

فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْآمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ ﴾ [তারপর তাদের আয়ু দীর্ঘ হল এবং তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে গেল। [সুরা হাদীদ: ১৬]

পাষাণ হৃদয়ই আল্লাহ -র রহমত থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 অন্যায়ের পক্ষে সংঘবদ্ধ হওয়া

📄 অন্যায়ের পক্ষে সংঘবদ্ধ হওয়া


একটি সঙ্গীন ব্যাধি। এমন একটি রোগ, যা সীমাহীন পর্যায়ে কওম ও উম্মাহকে ধ্বংস এবং খুন করে। এই রোগটি দুই প্রকারের-

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00