📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 প্রবৃত্তি অনুসরণ ও গাইরুল্লাহর প্রেম

📄 প্রবৃত্তি অনুসরণ ও গাইরুল্লাহর প্রেম


কোন দিন বান্দার ভালোবাসা, গাইরুল্লাহর জন্য হওয়া এবং তার বন্ধুত্ব, প্রেম প্রবৃত্তি ও সাধ দুনিয়ার জন্য সাব্যস্ত হওয়া- এ হচ্ছে মহাবিপদ এবং অন্তরের জন্য ঘাতক বিষ সমতুল্য। নিঃসন্দেহে এগুলো এরকম বান্দাকে ধ্বংস এবং বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। আসুন, আমার সঙ্গে এই আয়াতগুলো নিয়ে ভাবনায় শরীক হোন-

إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءُ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَنٍ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَّبِّهِمُ الْهُدَى
[সেগুলো কিছু নাম ছাড়া তো কিছু নয়, যেগুলো তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা স্থির করেছ; সেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলিল নাযিল করেননি। তারা শুধু অনুমান এবং মনের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে থাকে। অথচ তাদের কাছে এসেছে তাদের রবের পক্ষ থেকে নির্দেশনা। [সুরা আন-নাজম: ২৩]

كَالَّذِي اسْتَهْوَتُهُ الشَّيْطِينُ فِي الْأَرْضِ حَيْرَانَ
[ওই ব্যক্তির মত, যাকে শয়তান বনভূমিতে বিপথগামী করে ছেড়ে দিয়েছে। [সুরা আনআম: ৭১]

وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوْنَهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ
ওই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর নির্দেশনা বাদ দিয়ে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে? [সুরা আল-কাসাস: ৫০]

أَفَرَعَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ
[তুমি কি তার প্রতি লক্ষ করেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্য স্থির করেছে এবং আল্লাহ তাকে জেনেবুঝেই পথভ্রষ্ট করেছেন? [সুরা আল-জাসিয়া: ২৩]

أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ )
আল্লাহ এদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরা নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে। [সুরা মুহাম্মাদ: ১৬]

وَإِنَّ كَثِيرًا لَّيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ *
অনেক লোক নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে না জেনে পথভ্রষ্ট করে। [সুরা আনআম: ১১৯]

প্রবৃত্তি অন্তরের বড় একটি রোগ। চাই প্রবৃত্তির সাধারণ অর্থই নেওয়া হোক, অথবা বিশেষ অর্থ।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া 'প্রেম মানুষকে অন্ধ এবং বধির করে' শীর্ষক আলোচনার মধ্যে বলেন, এজন্যই কবি বলেছেন-
عَدُوٌّ لِمَنْ عَادَتْ، وَسِلْمٌ لِأَهْلِهَا وَمَنْ قَرَّبَتْ لَيْلَى أَحَبَّ وَأَقْرَبَا
লাইলি যাকে শত্রু জ্ঞান করেন, আমি তার শত্রু; তিনি যাকে কাছে টানেন, সে আমার প্রিয় এবং নিকটজন। [ رِسَالَةُ أَمْرَاضِ الْقُلُوْبِ وَشِفَاؤُهَا لِشَيْخِ الْإِسْلَامِ ]

এই ব্যক্তি বন্ধুতা ও শত্রুতার সূত্র ঠিক করেছে লাইলিকে; আল্লাহ- কে নয়।

শাইখুল ইসলাম আরও উল্লেখ এক ব্যক্তির গল্প করেছেন। সে একজন কালো মেয়েকে ভালোবাসত। তার ভালোবাসা আজব রকমের। মেয়েটি তার হৃদয়ের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তাই সে বলছে-
أُحِبُّ لِحَتِهَا السُّوْدَانَ حَتَّى أُحِبَّ لِحُتِهَا سُوْدَ الْكِلابِ.
[আমি তার কারণে ভালোবাসিকে নিগ্রোদেরকে; এমন কি তার ভালোবাসার উম্মাদনায় আমি কালো কুকুরকেও ভালোবাসি।]

আবশ্যক হল, আমাদের ভালোবাসা, আমাদের শত্রুতা, আমাদের দান, আমাদের বারণ, আমাদের কর্ম এবং আমাদের বর্জন- সব হবে লা-শরীফ আল্লাহ-র জন্য। রসুল -র এই হাদীসটির উপর আমল করার জন্য-

مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدْ اسْتَكْمَلَ الْإِيمَانَ যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্য দুশমনি করে, আল্লাহর জন্য দান করে এবং আল্লাহর জন্য বারণ করে, তার ঈমান পরিপূর্ণ হয়ে যায়। [সুনান আবু দাউদ: হাদীস নং- ৪৬৮৩]

সর্বনিকৃষ্ট কিসিমের ভালোবাসা হচ্ছে আল্লাহ -র দুশমনদেরকে ভালোবাসা।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 গাইরুল্লাহর ভয়ভীতি

📄 গাইরুল্লাহর ভয়ভীতি


আল্লাহ বলছেন-

فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ সুতরাং মানুষকে ভয় কোরো না; ভয় করো আমাকে। [সুরা মায়িদা: ৪৪]

আল্লাহ আরও বলছেন-

فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَوْهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (তোমরা কি তাদেরকে ভয় কর?) অথচ বেশি ভয়ের যোগ্য হলে আল্লাহ; যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। [সুরা তওবা: ১৩]

যাদের অন্তরে রোগ আছে, তাদের খাসলত হচ্ছে তারা বলে থাকে- يَقُولُونَ نَخْشَى أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ তারা বলে, আমাদের ভয় হয় যে, আমাদেরকে কোন ঘূর্ণিপাক পেয়ে বসবে। [সুরা মায়িদা: ৫২]

যারা ঈমানদার এবং যাদের অন্তর সুস্থ, তাদের বৈশিষ্ট্য- الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيْمَانًا * * وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ﴿١٣﴾
যাদেরকে কিছু লোক বলল, লোকজন তোমাদের মোকাবেলা করার জন্য একত্র হয়েছে; অতএব, তোমরা তাদেরকে ভয় করো। একথা শুনে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পেল এবং তারা বলল, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার তত্ত্বাবধায়ক। [সুরা আল-ইমরান: ১৭৩]

এখানে এক প্রকার স্বভাবজাত ভীতি আছে, যেটাকে দোষণীয় বলা যায় না। যেমন কোন ব্যক্তির মানব কিম্বা প্রাণী দুশমনকে ভয় করা। তবে ঈমানী ভয় শুধু হয় আল্লাহ থেকে।

গাইরুল্লাহর ভয় না থাকা অন্তরের শক্তি এবং বাহাদুরীর দলিল; যেরম সেটা দলিল ঈমানের। ইমাম আহমাদ বলেছেন, তুমি যদি সুস্থ হয়ে থাক, তা হলে কাউকে ভয় করবে না; অর্থাৎ কোন মাখলুককে ভয় করবে না।

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 কুমন্ত্রণা

📄 কুমন্ত্রণা


ব্যাধি ব্যাপক এবং সর্বগ্রাসী একটি ব্যাধি। বেশিরভাগ মানুষের সাথেই খেলতামাশা করে এবং তাদের ফরয-ওয়াজিব ও এবাদত-বন্দেগী ধ্বংস করে। শেখ সাদীকে এই কুমন্ত্রণার চিকিৎসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি জওয়াবে বলেছিলেন, আল্লাহ-র কাছে সুস্থতা চাওয়া, তাঁর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করা এবং একে প্রতিহত করার জন্য হিম্মত করা ছাড়া এর আর কোন চিকিৎসা নেই। এর সম্পর্কে অন্যমনস্ক হলে এবং এর সম্পর্কে চিন্তাভাবনা বর্জন করলে, এই রোগ দূর হয়ে যাবে। তার কারণ, মানুষের মধ্যে যখন কুমন্ত্রণা অব্যাহত থাকে, তখন সেটা কঠিন এবং সুদৃঢ় হয়। আর যখন সেটা রোধ করার জন্য হিম্মত করা হয় এবং সে সম্পর্কে অমনোযোগের পথ অবলম্বন করা হয়, তখন তা ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আল্লাহ সর্বজ্ঞাত।

আল্লাহ সুরা 'নাসে'র মধ্যে আমাদেরকে এই বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হুকুম করেছেন- قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿٢﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿۳﴾ إِلَهِ النَّاسِ ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٢﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ ﴾ বলো, আমি আশ্রয় কামনা করছি মানুষের রবের। মানুষের অধিপতির। মানুষের মাবুদের। কুমন্ত্রণা দানকারী আত্মগোপনকারী থেকে। যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। জ্বিন ও ইনসান থেকে। [সুরা নাস: ০১-০৬]

📘 যেভাবে আত্মা শুদ্ধ করবেন > 📄 অন্তরের পাষণ্ডতা

📄 অন্তরের পাষণ্ডতা


এটি এমন একটি রোগ, যা থেকে অসংখ্য রোগ জন্ম গ্রহণ করে। এর কারণে অন্তরের কার্যক্রমে অনেক বাধাবিপত্তি আসে। ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আল্লাহ-র ইচ্ছায় এই ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এই রোগের ভয়াবহতা প্রকাশ পায় এই আয়াতগুলোর মধ্যে- ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةٌ তারপর তোমাদের অন্তরসমূহ শক্ত হয়ে গেল। একেবারে পাথরের মত, অথবা তার চেয়েও বেশি শক্ত। [সুরা বাকারা: ৭৪]

فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا وَلكِنْ قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَنُ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾
[তারপর যখন তাদের কাছে আমার আযাব এল, তখন তারা কেন কাকুতি-মিনতি করল না; বস্তুত তাদের অন্তরসমূহ শক্ত হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কর্মকাণ্ডকে সৌন্দর্যময় করে দেখাল। [সুরা আনআম: ৪৩]

فَوَيْلٌ لِلْقُسِيَةِ قُلُوبُهُمْ مِّنْ ذِكْرِ اللَّهِ * যাদের অন্তর আল্লাহর যিকিরের বেলায় কঠোর, তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ। [সুরা যুমার: ২২]

فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْآمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ ﴾ [তারপর তাদের আয়ু দীর্ঘ হল এবং তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে গেল। [সুরা হাদীদ: ১৬]

পাষাণ হৃদয়ই আল্লাহ -র রহমত থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00